• Colors: Blue Color

ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় আজ বৃহস্পতিবার আবার মার্কিন হামলা পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি সৃষ্টি করা ইরানের চারটি ড্রোনও তাদের বাহিনী ভূপাতিত করেছে।

মার্কিন হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে (৭৩ দশমিক ১৫ পাউন্ড) পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল।

বিবিসি

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। খবর, সিএনএনের।

বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ইরান নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদন সত্য নয় এবং তারা যে এমওইউ প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যা প্রচার করছে তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। সত্য গুরুত্বপূর্ণ

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছিল, খসড়া সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশ থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রচারিত নথির অনেক তথ্য বাস্তব আলোচনার সঙ্গে মেলে না। যদিও ওয়াশিংটন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধুমাত্র এমন একটি চুক্তি করবেন যা আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো হবে এবং যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

উল্লেখ্য, চলমান আলোচনা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

খনিজ সম্পদ ও বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি কাঠামোগত সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

নয়াদিল্লিতে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। রুবিও বর্তমানে চার দিনের ভারত সফরে রয়েছেন।

নিরাপত্তা জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আগে রুবিও কয়েক দিন ভারতে অবস্থান করেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এই জোটের সদস্য। মঙ্গলবার কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও খনিজ সম্পদ নিয়ে আলাদা একটি কাঠামোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।

ঘোষিত এই কাঠামো এবং ভারতের খনিজ মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

অত্যাবশ্যকীয় খনিজ কী এবং এর গুরুত্ব কেন?

ব্যাটারি, ঘড়ি, সেমিকন্ডাক্টর ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে এসব খনিজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব উপাদান তাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে এসব খনিজের সরবরাহব্যবস্থা সহজেই ব্যাহত হতে পারে।

নিকেল, কোবাল্ট, লিথিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও জিংক—এ জাতীয় খনিজের মধ্যে অন্যতম। অন্তত ১২টি খনিজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া আরও ২৯টি খনিজের চাহিদার অন্তত অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে মেটায়।

অত্যাবশ্যকীয় খনিজের মধ্যে ১৭টি বিরল খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যায় সারণির ১৫টি ল্যান্থানাইডসহ স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদানের ১২টির মজুত চীনে রয়েছে। এসব বিরল খনিজের বিশেষ চৌম্বকীয় গুণ রয়েছে। স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এগুলো অপরিহার্য।

এই চুম্বক শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদক, ইলেকট্রনিকস এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির হার্ডওয়্যারের মূল যন্ত্রাংশ তৈরিতেও এসব বিরল খনিজ ব্যবহৃত হয়।

বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণের খরচ অনেক বেশি। এসব খনিজ উত্তোলনে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এতে বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হয়।

বর্তমানে বিশ্বের বিরল খনিজ সরবরাহের সিংহভাগই চীনের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বের ৬০ শতাংশ বিরল খনিজ চীনেই রয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে এসব খনিজ প্রক্রিয়াকরণের ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে দেশটি।

এসব খনিজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নির্ভরতা কমাতে চাইছে। তাই তারা আমদানির উৎস বৃদ্ধি করতে সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওডিশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ বা বিরল খনিজ অঞ্চল তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১ এপ্রিল থেকে এই অর্থবছর শুরু হয়েছে। এসব এলাকা হবে বিরল খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র।
 

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অত্যাবশ্যকীয় খনিজ কাঠামো চুক্তি কী

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই কাঠামোগত চুক্তির লক্ষ্য হলো খনিজ সম্পদ খাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এর আওতায় খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং এ–সংক্রান্ত বিনিয়োগ জোরদার করা হবে।

ভারতের এক বিবৃতিতে গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত একটি খনিজ সম্মেলনের কথা বলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সেই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। একই মাসে ভারত সেমিকন্ডাক্টর ও এআই সরবরাহব্যবস্থা–সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামের একটি উদ্যোগে যোগ দেয়।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা রক্ষা করতে কাজ করবে। বাজারে চাপ সৃষ্টি বা একক দেশের একচেটিয়া আধিপত্য কমানোই এর মূল লক্ষ্য।’

তবে বিবৃতিতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত বা এই সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ত্রী জ্যানেটকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২৩ মে, ২০২৬
ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ত্রী জ্যানেটকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২৩ মে, ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

ভারতের কাছে কোন কোন বিরল খনিজ রয়েছে

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারত সরকার ৩০টি খনিজকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে চিহ্নিত করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমনি, বেরিলিয়াম, বিসমাথ, কোবাল্ট, তামা, গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম, গ্রাফাইট, হাফনিয়াম, ইন্ডিয়াম, লিথিয়াম, মলিবডেনাম, নাইওবিয়াম, নিকেল, প্লাটিনাম গ্রুপ এলিমেন্ট, ফসফরাস, পটাশ, বিরল খনিজ, রেনিয়াম, সিলিকন, স্ট্রনশিয়াম, ট্যানটালাম, টেলুরিয়াম, টিন, টাইটানিয়াম, টাংস্টেন, ভ্যানাডিয়াম, জিরকোনিয়াম, সেলেনিয়াম ও ক্যাডমিয়াম।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টন মোনাজাইট রয়েছে। এটি বিরল খনিজের অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। ভারত সরকারের হিসাবে, এই মোনাজাইটে বিরল খনিজ অক্সাইডের (আরইও) পরিমাণ ৭২ লাখ ৩০ হাজার টন। বিপরীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, চীনের কাছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টন আরইও মজুত আছে। এটি বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক।

মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসন (আইটিএ) এ বছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে মাত্র চারটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উৎপাদন করে। এগুলো হলো তামা, গ্রাফাইট, ফসফরাস ও টাইটানিয়াম। আইটিএর মতে, খনিজ অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির অভাবে ভারত পিছিয়ে আছে।

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওডিশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১ এপ্রিল এই অর্থবছর শুরু হয়েছে। এসব এলাকা হবে বিরল খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র। এখানে গবেষণার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উচ্চমানের স্থায়ী চুম্বক তৈরি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে মাত্র চারটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উৎপাদন করে। এগুলো হলো তামা, গ্রাফাইট, ফসফরাস ও টাইটানিয়াম। আইটিএর মতে, খনিজ অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির অভাবে ভারত এ খাতে পিছিয়ে আছে।
 

কোয়াড বিরল খনিজ উদ্যোগ কী

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বহুপক্ষীয় নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে খনিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, কোয়াডভুক্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই উদ্যোগে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ঋণ, গ্যারান্টি, ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই তহবিল সংগ্রহ করা হবে। খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পে এই অর্থ খরচ করা হবে। মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোই এর মূল লক্ষ্য।

কোয়াড দেশগুলো খনিজ উত্তোলনের অনুমতি ও লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কারিগরি তথ্য বিনিময়েও একমত হয়েছে।

সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তারা খনিজ সম্পদ পুনরুৎপাদন ও পুনরুদ্ধারেও কাজ করবে। কোয়াডভুক্ত দেশ এবং সমমনা দেশগুলোর মধ্যে খনিজ পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র আর কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে

গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রিকো ডিকে খনিজ উত্তোলনে ১২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত খনিজ সম্পদবিষয়ক এক বৈঠকে ১১টি দেশের সঙ্গে কাঠামো চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, কুক আইল্যান্ডস, ইকুয়েডর, গিনি, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও উজবেকিস্তান।

এ ছাড়া গত এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ফালাবোরওয়া রেয়ার আর্থ প্রজেক্ট’-এ ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আল–জাজিরা

গাজা উপত্যকায় গতকাল মঙ্গলবার এক হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার নতুন কমান্ডার মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। এর কিছুদিন আগে একই ধরনের আরেক হামলায় তাঁর পূর্বসূরি নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গাজা নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ত বাজার এলাকাগুলোর একটিতে এক আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। এতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, কয়েক মাস ধরে ওদেহ–এর গতিবিধির ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। ওদেহ যেসব ভবনে আত্মগোপন করে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, হামলায় ওদেহ, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হয়েছেন।

অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই সহিংসতা চলছে।

মঙ্গলবার গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-কায়ালি ভবনের ওপরের তিনটি তলা হামলার শিকার হয়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তখন আশপাশের রাস্তাগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে প্রায় একই সময়ে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, হামলার আগে তিনি আকাশে একটি হেলিকপ্টারের চক্কর দেওয়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন আর আশপাশে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছেন।

ইসরায়েলের উগ্রপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ ও নিরাপত্তা বাহিনী শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ওদেহকে হত্যা করতে চালানো যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে থাকা কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। সেগুলো তাঁর আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাঁর এবং সংগঠনে থাকা সহযোগীদের চলাচল শনাক্ত করতে কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছিল।

পরে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে ওদেহ ও তাঁর স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ওদেহর ছেলে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজ বুধবার সকালে তিনি মারা যান।

এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওদেহ–এর পূর্বসূরি ইজ আদ–দীন আল–হাদ্দাদ নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একটি সূত্রের মতে, সেই হামলাও একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং এতে অন্তত তিনজন নিহত হন।

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা। তবে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি–সংক্রান্ত আলোচনা অটল আছে বলে মনে হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক কর্মকাণ্ড’ ও ‘যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, এই ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেওয়া হবে। তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে এখনো সরে আসেনি ইরান।

ওয়াশিংটন, তেহরান ও জেরুজালেমের কট্টরপন্থীরা এখন আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁরা নিজ নিজ দেশের আলোচকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছেন। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও তেমনই একজন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করা উচিত হবে না।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সর্বশেষ এ হামলায় ইরানের চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী হামলার জবাব দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, পাল্টা হামলার কারণে চুক্তির শেষ মুহূর্তের আলোচনায় কোনো বিঘ্ন ঘটুক, তা তারা চায় না। তবে নতুন করে সংঘাতের খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএএফপি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মেরিল্যান্ডের অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘ক্যাম্প ডেভিড’-এ মন্ত্রিসভার বিরল বৈঠক ডেকেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর এটি ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের দ্বিতীয় সফর।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল মঙ্গলবার দোহায় দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা এবং সেগুলো ইরানি অ্যাকাউন্টে ফেরত আনার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে আলাদাভাবে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেল বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বিনিময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের মতো করে নৌ চলাচলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাটাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে আলাদাভাবে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেলবন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বিনিময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের মতো করে নৌ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাটাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

এই স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হয়তো যুদ্ধের অবসান ঘটাবে, তবে তা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে না। তা ছাড়া এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ, সব পক্ষই এ চুক্তির মধ্য দিয়ে নিজ নিজ দেশের জনগণকে দেখাতে চাইবে, যুদ্ধের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি।

ওয়াশিংটন, তেহরান ও জেরুজালেমের কট্টরপন্থীরা এখন আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁরা নিজ নিজ দেশের আলোচকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছেন। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও তেমনই একজন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করা উচিত হবে না।

তবে চলতি সপ্তাহে বিপুল ভোটে আবারও স্পিকার নির্বাচিত হওয়া গালিবাফ আপাতত বিরোধীদের পাশ কাটিয়ে চলছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর মূল মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়ার ওপর। এটিই আপাতত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ বড় বিরোধ।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার চরম অভাব রয়েছে। গালিবাফের সহযোগীরা সাফ বলে দিয়েছেন, জব্দ করা অর্থ আগে ফেরত পেতে হবে। তা না হলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ বা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি,ফাইল ছবি: এএফপি
 

কাতারে অনুষ্ঠিত আলোচনায় জব্দকৃত অর্থের বিষয়টির বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আহমদ বাখশাইশ আরদেস্তানি দাবি করেছেন, কাতার থেকে রাশিয়ার একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ইরানে পাঠানোর একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তা ভন্ডুল করে দেয়।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছেন আরদেস্তানি। তিনি বলেন, ট্রাম্পের প্রধান আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ দোহা ও দুবাইয়ের যেসব হোটেলে থাকেন, সেগুলোর অবস্থান ইরান জানে। আবার যুদ্ধ শুরু হলে তাঁদের নিশানা করা হতে পারে।

লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জব্দ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাইছে তেহরান। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে লেবাননের উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। এতে যুদ্ধ থামার বদলে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

পবিত্র হজের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেন, ইতিহাস এখন ইরানের পক্ষে মোড় নিচ্ছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কাতারে আলোচনার শুরুর প্রাক্কালে ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে কাতারে গেছে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর হুমকি রুখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। তবে সেন্টকম এই হামলার বিস্তারিত তথ্য বা সুনির্দিষ্ট স্থানের কথা জানায়নি।

অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের এই শহর হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪২ মাইল) দূরে অবস্থিত।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্যেই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির বিষয়ে এখনো আশা থাকলেও এটি সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে।

গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া মতবিরোধের ‘বড় একটি অংশ’ তারা সমাধান করেছেন। তবে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না।

সর্বশেষ হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে

সোমবার রাতের শেষ ভাগে আল–জাজিরাকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স। এতে তিনি দাবি করেছেন, ‘হামলার নিশানার মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র। পাশাপাশি মাইন বসানোর চেষ্টায় থাকা ইরানি নৌকাগুলোও আমাদের নিশানায় ছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি তারা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারত সফরে আছেন। তিনিও জানিয়েছেন, মাইন বসানোর চেষ্টায় থাকা নৌকা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে এই হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে মাইন বসানোর জন্য ইরানের সামরিক বাহিনীকে দুষছে ওয়াশিংটন। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পারাপার হয়।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জয়পুরে বিমানে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। তিনি বলেন, বিশ্বের জ্বালানি চলাচলের অন্যতম প্রধান এই পথটি বর্তমানে ইরানের অঘোষিত অবরোধের মুখে রয়েছে। ‘যেভাবেই হোক’ এই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।

কূটনৈতিক দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘আরও কয়েক দিন লাগতে পারে’। তার এই কথায় দ্রুত সংঘাত অবসানের আশা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এতে লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবেই’ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হতে হবে। তা না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’

মাত্র কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দামও আকাশ ছুঁয়েছে। তাই ট্রাম্পের ওই ঘোষণায় দ্রুত যুদ্ধ শেষের আশা তৈরি হয়েছিল। এর পরপরই নতুন করে এই উত্তেজনা বাড়ল।

হামলা নিয়ে ইরান কী বলছে

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমান ও আরেকটি ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তবে এ ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ‘বৈধ এবং নিশ্চিত’ অধিকার ইরানের রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলের হরমুজগড় প্রদেশে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই আক্রমণাত্মক ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট সব পরিণতির জন্য মার্কিন প্রশাসন দায়ী থাকবে।

মঙ্গলবার হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনিও হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঢাল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য আর কাজে আসবে না। অশুভ শক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।

সারি সারি দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ভালিআসর স্কয়ার, তেহরান, ইরান। ২৬ মে, ২০২৬
সারি সারি দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ভালিআসর স্কয়ার, তেহরান, ইরান। ২৬ মে, ২০২৬, ছবি: এএফপি
 

সোমবার ইরানের বার্তা সংস্থাগুলো একটি খবর প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাহায্যে ‘শত্রুপক্ষের’ একটি স্টিলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল, তা তারা উল্লেখ করেনি।

ইরানি কয়েকটি সূত্র আল–জাজিরাকে একটি তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ হামলার আগেই সমুদ্রে একটি নৌযানকে নিশানা করেছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সূত্রগুলোর মতে, ওই হামলায় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনায় বেশ অগ্রগতি লাভ করেছে। তবে খুব শিগগির বড় কোনো সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তারা।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, ‘আলোচনায় থাকা বিষয়গুলোর বড় একটি অংশে আমরা একমত হয়েছি। এটি বলা একেবারেই সঠিক হবে। তবে এর মানে এই নয়, একটি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এমনটা কেউ দাবি করতে পারবে না।’

তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই আরও জানান, ‘এই মুহূর্তে’ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো পক্ষই আলোচনা করছে না। আপাতত যুদ্ধ থামানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

কূটনীতির মাঠে কী ঘটছে

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা এখনো চলছে।

চার দিনের চীন সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে রাজি করানো জরুরি। এ জন্য চীনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ দিচ্ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই শীর্ষ বৈঠকের আগেই তারা জানায়, বেইজিংয়ের সাহায্যের আর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই।

এর আগে সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছায়। স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে থাকা বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা সেখানে গেছেন। জানা গেছে, এই প্রতিনিধিদলে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আরও আছেন পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে একটি পোক্ত চুক্তি ছাড়া তিনি অন্য কিছু মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। দোহা সফররত এই প্রতিনিধিদলে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতিও রয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হতে হবে। তা না হলে কোনো চুক্তিই হবে না। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরব, গোলাগুলি চলবে। এবারের আক্রমণ হবে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী। আর কেউই এমনটা চায় না।’

শান্তি আলোচনার সঙ্গে আরেকটি বিষয়জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তিনি চাইছেন, সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান আব্রাহাম চুক্তিতে সই করার প্রতিশ্রুতি দিক। মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেই এই চুক্তির শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এমন হতে পারে, এক বা দুটি দেশের এটি না করার পেছনে হয়তো কোনো কারণ আছে। সেটি মেনে নেওয়া হবে। তবে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিকে একটি ঐতিহাসিক রূপ দিতে বেশির ভাগ দেশেরই প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম হওয়া উচিত।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তি সই হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তবে আরব দেশগুলো জানিয়েছে, ‘দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান’-এর আওতায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই কেবল তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে।

শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ তাহলে কী

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল–জাজিরার অ্যালান ফিশার খবর পাঠিয়েছেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছাতে উদগ্রীব। তবে এই হামলার কারণে যুদ্ধ শেষের চলমান আলোচনা লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফিশার বলেন, ‘এমন ছোটখাটো আরও বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ঠিক পরেই। তবে ট্রাম্প তখন জানিয়েছিলেন, এগুলোকে তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে ধরছেন না।’

ফিশার আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব সামান্যই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই অভিযানের মাত্রা ঠিক কতটা, তা আমরা জানি না। তাই, এই হামলা আসলেই কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা কি না, তা বলা কঠিন।’

আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব