• Colors: Blue Color

ঢাকায় আসছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বা সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকায় পা রাখার কথা রয়েছে তার।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবা‌সের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাইয়ের পাঠা‌নো এক বিবৃ‌তি‌তে এই তথ্য নিশ্চিত করা হ‌য়ে‌ছে।

বিবৃ‌তি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, এই সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে মা‌র্কিন দূতাবা‌সের বিবৃতিতে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ৩ থেকে ৫ মার্চ ঢাকা সফর করবেন পল কাপুর। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে তার এ সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি সরকারের বাণিজ্য, অর্থ, জ্বালানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পল কাপুরের সফরটি রাজনৈতিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে, এই সফরে তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে ওয়াশিংটন। সফরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আঞ্চলিক ইস্যু- বিশেষ করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর আগে, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। সেই বৈঠকেই পল কাপুরের ঢাকা সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি।

এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র কাতারেও চলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ড্রোন জোরালো আঘাত হেনেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির দুটি স্থাপনায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতারএনার্জি।

সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিটি।

বিবৃতিতে কাতারএনার্জি বলেছে, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির পরিচালনা কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলা হয়েছে। যে কারণে কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হেনেছে এবং অন্যটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি আজ সোমবার রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিমানবাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের দূত রেজা নাজাফি আজ সোমবার এ কথা বলেছেন। 

আজ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৩৫ সদস্য দেশের বোর্ড অব গভর্নরস–এর বৈঠক হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের নাজাফি বলেন, গতকাল তারা আবারও ইরানের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা করেছে।’

এ সময় রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোন পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘নাতাঞ্জ’।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ইরানে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে। আজ সোমবার ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের এক বিবৃতিতে নিহতের এ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জায়নবাদী ও মার্কিনদের যৌথ সন্ত্রাসী হামলার কারণে এখন পর্যন্ত ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে ৫৫৫ জন দেশবাসী নিহত হয়েছে।’

ইরান রেড ক্রিসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার যৌথ হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। দ্রুত পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরানও। তেহরান বলেছে, তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোসহ ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতে ইরান কী কী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বা তাদের হাতে কী কী অস্ত্র আছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

এ যুদ্ধে ইরানের মূল অস্ত্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা–বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ও সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রের বহর রয়েছে ইরানের হাতে। ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বহরটি এমনভাবে তৈরি যে দেশটির হাতে অত্যাধুনিক বিমানবাহিনী না থাকলেও তেহরানকে দূর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়।

ইরানি কর্মকর্তারা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তাঁদের প্রতিরোধব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এর একটি কারণ দেশটির দুর্বল বিমানবাহিনী। ইরানের বিমানবাহিনীর হাতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলো বেশ পুরোনো।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর অর্থ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এবং তার বাইরেও পৌঁছাতে সক্ষম।

[caption id="attachment_268652" align="alignnone" width="470"] ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার[/caption]

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের হাতে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

শত্রুর ওপর শুরুতেই দ্রুত আঘাত হানতে স্বল্পপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দারুণ কার্যকর। এগুলোর নকশাই করা হয়েছে কাছের সামরিক নিশানায় আঘাত করার এবং দ্রুত আঞ্চলিক হামলা চালাতে।

ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ফাতেহ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র: জলফাগর, কিয়াম-১ ও পুরোনো শাহাব-১/২।

সংকটকালে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলো দিয়ে একযোগে হামলা চালানো যায়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষ সতর্ক হওয়ার সময় কম পায়, ফলে সেগুলো আগাম প্রতিহত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

যদি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রাথমিক অস্ত্র হয়, তবে মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রতিশোধকে’ আঞ্চলিক মাত্রায় দেয়। ইরানের মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

ইরানের হাতে থাকা মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হলো শাহাব-৩, এমাদ, ঘাদর-১, খোররামশাহর সিরিজ এবং সেজিলের মতো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এগুলো ইরানের দূরবর্তী লক্ষ্যে আঘাত করার সক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করে।

পাশাপাশি আধুনিক নকশার খেইবার শেকান এবং হজ কাসেমও এই সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

একসঙ্গে বিবেচনা করলে ইরানের মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন অবকাঠামোতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায়। ফলে সেগুলো ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে যেতে পারে। এ সুবিধার কারণে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা এবং সেটিকে অনুসরণ করা প্রায়ই কঠিন হয়ে যায়—বিশেষত যখন এগুলো ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে একযোগে ছোড়া হয়, তখন আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়ে যায়। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা মূলত আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতেই করা হয়েছে।

বিস্তৃত সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরান ভূমি ও জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম। ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সুমার, ইয়াআলি, কুদস সিরিজ, হোভেইজেহ, পাভেহ ও রা’আদ।

সুমার ক্ষেপণাস্ত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে।

ড্রোন

ইরানের হাতে থাকা আরেকটি বড় অস্ত্র ড্রোন। এটি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ধীরগতির, কিন্তু দামে সস্তা এবং একবারে অনেকগুলোকে উৎক্ষেপণ করা যায়। একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ঢেউয়ের মতো আঘাত হানতে ব্যবহার করা যায়।

একটার পর একটা ড্রোন যখন আসতে থাকে, তখন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিমানবন্দর, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রাখা যায়। ক্ষেপণাস্ত্রের বেলায় যেটা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ গভীর হয়, তবে ড্রোন ব্যবহার করে হামলার কৌশল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

[caption id="attachment_268653" align="alignnone" width="470"] ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিভাবে কাজ করে[/caption]

ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’

যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে মূল প্রশ্ন হলো—ইরান কতক্ষণ পর্যন্ত আঘাত সহ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম থাকবে।

তেহরান দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কয়েকটি অংশকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছে। তারা দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, লুকানো ঘাঁটি এবং সুরক্ষিত উৎক্ষেপণকেন্দ্র তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে দ্রুত দুর্বল করা কঠিন হবে।

হরমুজ প্রণালি: আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ ছাড়াই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সম্ভব

ইরানের প্রতিরক্ষা যুদ্ধ কেবল ভূমিতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত যুদ্ধে এক বড় হাতিয়ার। নৌপথে বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে তেহরান চাইলে দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

জাহাজ–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, জলজ মাইন, ড্রোন এবং দ্রুত আক্রমণে সক্ষম নৌযান পাঠিয়ে ইরান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে পারে।

এ ছাড়া ইরান নিজেদের ‘হাইপারসনিক’ সিস্টেম হিসেবে পরিচিত কিছু প্রযুক্তি, যেমন ফাত্তাহ সিরিজ প্রদর্শন করেছে, যা খুব উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে; যদিও সেগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য স্বাধীনভাবে তেমন একটা পাওয়া যায় না।

হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ ছাড়াও ইরান বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নামে যদি রেডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, তাহলেই তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, এতে খরচ বাড়বে। পাশাপাশি যুদ্ধের ঝুঁকিবিমার খরচ বাড়াবে। সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

বিপ্লবী গার্ড বলেছে, তারা তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেলের ট্যাংকারে হামলা করেছে।

তেহরানের বার্তা: সীমাহীন যুদ্ধ

ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তা একটি সীমিত অভিযান হিসেবে নয়, বরং বিস্তৃত যুদ্ধের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হবে। খামেনিকে হত্যার পর থেকে এ বার্তা আরও কঠোর হয়ে গেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড আরও প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইরান একবারে বড় আঘাতের পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনার সংকেত দিচ্ছে। ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন বাহিনীও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব