• Colors: Blue Color

স্পেন সরকার দেশটিতে নথিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এর ফলে দেশটিতে অবস্থান করা প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার গতকাল মঙ্গলবার এ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। স্থানীয় সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মানুষের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্পেন সরকারের এমন উদ্যোগ দেশটিকে ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সানচেজ সরকারের এ উদ্যোগ স্পেনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরোধিতা উসকে দিয়েছে। এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, তাঁরা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে সানচেজ সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নেয়। এর ফলে দেশটির বামপন্থী সরকারের আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইনসভায় স্পেনের বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে দেশটির আইনসভায় ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার একটি বিল পাসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

নতুন কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, নথিহীন অভিবাসীদের মধ্যে যাঁরা সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তাঁরা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

স্পেনের অভিভাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর ২০ এপ্রিল থেকে সশরীর আবেদন করা যাবে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আবেদনের জন্য বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাস করার প্রমাণ দেখাতে হবে। আবেদনকারীর নামে অপরাধের কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না। যাঁদের এই সাময়িক আবেদন মঞ্জুর হবে, তাঁরা এক বছর পর গিয়ে স্পেনে স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

স্পেনের জনমিতিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তির দিকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ সমস্যার মোকাবিলায় অভিবাসীদের কাজে লাগাতে চাইছেন। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ কাজ।

তবে স্পেনের বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এটিকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও মধ্য ডানপন্থী পিপলস পার্টি চলতি শতকের গোড়ার দিকে ক্ষমতায় থাকার সময় দুবার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছিল।

সানচেজ সরকারের হিসাবে, নতুন এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।

স্পেন সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে বার্সেলোনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের উল্লাস করতে দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি করায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।

মুরুল ওয়াইদ নামের বাংলাদেশি একজন অভিবাসী আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।

আল–জাজিরা

ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন, তার জবাবে গতকাল মঙ্গলবার চীন ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে চায়, তবে চীন অবশ্যই এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

মুখপাত্র আরও বলেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে যে খবর রটেছে, তা ‘পুরোপুরি বানোয়াট’।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

ইরানের বন্দরগুলো ছেড়ে আসা এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টাকারী অন্তত আটটি তেলবাহী জাহাজকে গতিরোধ করে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া হরমুজ প্রণালি অবরোধের এ মার্কিন অভিযানে জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ পাওয়ামাত্র সবকয়টি ট্যাংকার বা তেলবাহী জাহাজ তা মেনে নিয়েছে। ফলে কোনো জাহাজেই তল্লাশি চালানোর জন্য ওঠার (বোর্ডিং) প্রয়োজন পড়েনি।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের একটি অংশে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মনে হয়, এটি (যুদ্ধ) শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, হ্যাঁ।’

নিজের বক্তব্যের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি শেষ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের সিক সাক্তি জেলায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১১ জন কর্মচারী এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাক্তি জেলার সিংঘিতারাই অঞ্চলে অবস্থিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটির মালিক বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০২৫ সাল থেকে।

সাক্তি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর মঙ্গলবার রাতে বলেন, চার জন কর্মচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন, আর বাকি সাত জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত ২২ জন কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারাখানাটির বয়লার ইউনিট তারা সরাসরি পরিচালনা করতে না। এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (এনজিএসএল) নামে অপর একটি কোম্পনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বয়লার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।

তবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হলো নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই বিস্ফোরণকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত হবে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

 

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১টি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৮টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ শিশু, আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জনের।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তার বাড়ি চট্টগ্রামে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া আট শিশুর ছয়টি ঢাকা বিভাগের, একটি চট্টগ্রামের এবং একটি রাজশাহীর। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। আর তিনজন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে। এর মধ্যে ৪৮৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ জন, যার মধ্যে ২৯০ জনই ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছে রংপুর (৮) ও ময়মনসিংহে (১৬)।

এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৯৩৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১১ জন এবং ঢাকা বিভাগে ২৫৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২৯ দিনে হামে মোট ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ শিশুর।

এ ছাড়া গত ২৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৫ হাজার ৬৫৩ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ জন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৯ হাজার ৩০৪ জন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব