• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আবারও বলেছেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ থেকে শুরু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান যদি তাঁর শর্ত মেনে না নেয়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের খুব কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ট্রাম্প এমন সময়ে নতুন হুমকি দিলেন, যখন কিনা ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি ওমানের সুলতান হাইতাম বিন তারিক আল সাইদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা দুজন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়গুলোয় ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বারবার বলেছেন। তিনি ইরানের কাছাকাছি অবস্থিত জরসীমায় বড় নৌবহর পাঠিয়েছেন। এ নৌবহরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী জাহাজও আছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কথাও ভাবছেন। এমন অবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। সমালোচকেরা বলছেন, এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে।

গত সোমবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনাধীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকে।

গত জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছে।

ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

আল–জাজিরা

এ বছর জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ডেনমার্কের কাছে এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক দাবি তুলতে শুরু করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে। শুধু দাবি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল স্পষ্ট হুমকি। প্রয়োজনে সামরিক শক্তিও ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। তারা চাক বা না চাক, আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করব।

ট্রাম্পের যুক্তি ছিল একটাই। চীন। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের দখল না নেয়, তাহলে রাশিয়া বা চীন তা দখল করে নেবে। যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে মেনে নেবে না। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তাঁর প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোর উচিত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়া। তাঁর মতে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না গেলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রুশ ও চীনা যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছু না করলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। কিন্তু এখানেই ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাস্তবে চীনের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক হুমকিই নেই। বিষয়টি মূলত কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

নরওয়ের আর্কটিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং চীনের আর্কটিক কৌশল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মার্ক ল্যান্টিন স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে কোনো চীনা বা রুশ যুদ্ধজাহাজ নেই। সেখানে চীনের কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতিও নেই। খনিশিল্পে চীনের অবস্থান প্রায় শূন্য। চীনের উপস্থিতি বলতে মূলত গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক খাবার কেনা এবং সীমিত পর্যটন কার্যক্রমকেই বোঝায়।

বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের কোনো চীনা বিনিয়োগ নেই। অবকাঠামো কিংবা খনিশিল্পে চীনা কোম্পানিগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। বিরল খনিজ নিয়ে আলোচিত কুয়ানারসুইট প্রকল্পে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অংশীদারত্ব ছিল। সেটিও ২০২১ সালে গ্রিনল্যান্ড সরকার ইউরেনিয়াম খনন নিষিদ্ধ করার পর বন্ধ হয়ে যায়।

একসময় অবশ্য গ্রিনল্যান্ড নিজেই চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছিল। ২০০৯ সালে স্বায়ত্তশাসন আইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব চীনকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে দেখেছিল। স্বাধীনতার পথে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন অর্জনের আশায় তাঁরা নিয়মিত চীনের খনি সম্মেলনে অংশ নিতেন। কিন্তু সেটি ছিল ২০১০–এর দশকের শুরুতে। সময়ের সঙ্গে চীন বদলেছে, আর বদলেছে গ্রিনল্যান্ডের দৃষ্টিভঙ্গিও।

গত কয়েক বছরে চীনের অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক আচরণ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ডও বুঝতে পেরেছে, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে এখন তারা অনেক বেশি সতর্ক।

চীন অবশ্য আর্কটিক অঞ্চলে আগ্রহ হারায়নি। তারা নিজেদের নিকট আর্কটিক রাষ্ট্র বলে পরিচয় দেয় এবং ২০১৮ সালে পোলার সিল্ক রোডের ঘোষণা দেয়। বরফ গলে যাওয়ার ফলে নতুন নৌপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা তাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু বাস্তবে এই কৌশলের বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি।

ডেনমার্কও এই বিষয়টি গভীরভাবে নজরে রেখেছে। ২০১৮ সালে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে বিমানবন্দর নির্মাণের একটি চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। এর আগেই একটি পরিত্যক্ত নৌঘাঁটি চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি বন্ধ করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি উপেক্ষা করেনি।

গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। খনিশিল্পে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ করা হয়। ইউরেনিয়াম খনন আবার নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে চীনের সবচেয়ে আলোচিত খনি প্রকল্প কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে চীনের জন্য গ্রিনল্যান্ডে কাজ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতাও চীনের আগ্রহ কমিয়েছে। বরফাচ্ছন্ন পরিবেশ, অবকাঠামোর অভাব এবং বছরের অর্ধেক সময় জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা গ্রিনল্যান্ডে খনিশিল্পকে লাভজনক করে তোলে না। ফলে অনেক চীনা কোম্পানি লাইসেন্স নিয়েও প্রকৃত বিনিয়োগ করেনি এবং পরে সেই লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেছে।

চীন অবশ্য আর্কটিক অঞ্চলে আগ্রহ হারায়নি। তারা নিজেদের নিকট আর্কটিক রাষ্ট্র বলে পরিচয় দেয় এবং ২০১৮ সালে পোলার সিল্ক রোডের ঘোষণা দেয়। বরফ গলে যাওয়ার ফলে নতুন নৌপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা তাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু বাস্তবে এই কৌশলের বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে আর্কটিকে চীনের প্রধান অংশীদার কেবল রাশিয়া এবং সেখানেও তাদের ভূমিকা সীমিত।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি উল্টো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ১৯৫১ সাল থেকেই ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তাকাঠামো কার্যকর রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে কোনো আগ্রাসন মানেই ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি। এ কারণেই রাশিয়া বা চীন কখনোই সেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবেনি।

কিন্তু ট্রাম্প যখন ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধেই সামরিক শক্তির ইঙ্গিত দেন, তখন জোটের ভেতর ফাটল তৈরি হয়। এই বিভক্তি যদি গভীর হয়, তাহলে সেটিই চীন বা রাশিয়ার জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ যে পরিস্থিতি ট্রাম্প এড়াতে চান, তাঁর আচরণই সেটির সম্ভাবনা তৈরি করছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প একটি কথিত সমঝোতার কথা জানান। সেখানে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো, গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম ব্যবস্থার ব্যবহার, খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এবং ন্যাটোর বাইরে থাকা দেশগুলোর প্রবেশ ঠেকানোর বিষয় থাকার কথা বলা হয়। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। এটি কেবল আলোচনার সূচনা।

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব তাদের কাছে অচল সীমারেখা। ট্রাম্পের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে আবারও ফিরে আসতে পারে।

আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অন্য দেশগুলোর কাছে জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুতর সংকট হলেও ট্রাম্প বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। এর ফলে আর্কটিক কাউন্সিল কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতায় চীন বিকল্প কাঠামো দাঁড় করানোর সুযোগ পেতে পারে এবং নিজেকে বিজ্ঞান ও জলবায়ু সচেতন শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান কোনো বাস্তব চীনা হুমকির প্রতিক্রিয়া নয়। বরং এটি এমন এক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সত্যিকারের চীনা উপস্থিতির পথ খুলে দেবে। যে আশঙ্কা তিনি দেখাচ্ছেন, তাঁর নীতিই হয়তো শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাস্তবে রূপ দেবে।

*দ্য ডিপ্লোম্যাটের ভিডিও বিশ্লেষণ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি হাইস্কুলে ভয়াবহ এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ স্কুলে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন এক বন্দুকধারী। 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন অনেকে।

কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে এ হামলা ঘটনাটি ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই হাইস্কুলটির নাম টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে নিহত এবং আরও প্রায় ৩০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আরসিএমপি। 

আহতদের উদ্ধারের পর হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, ২ জনের জীবন সংকটাপন্ন। বাকি ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামলাকারীকেও ঘটনাস্থল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারী নিজেই নিজেকে ‘শেষ করে দিয়েছেন’ বলে ধারণা করছে আরসিএমপি।

 

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হলে শোভা পাচ্ছে প্রতিকৃতিটি। এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো পাকিস্তানির প্রতিকৃতি সেখানে স্থান পেল। মার্গারেট হলে এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছিল।

মালালার প্রতিকৃতিটি এঁকেছেন চিত্রশিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিং। শুক্রবার অক্সফোর্ডে প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এবং মালালার পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্বামী আসার মালিকও। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথা বলেন মালালা।

ভাষণে মালালা বলেন, ‘পাকিস্তানের সাংলা থেকে তানজানিয়ার মিয়নকংগো স্কুল অথবা উত্তর লন্ডনের হ্যারো হাইস্কুল—যেখানেরই মেয়ে হোক না কেন, আমি আশা করি এই স্বীকৃতি সব জায়গার শিক্ষার্থীদের একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। বার্তাটি হলো তারা এখানকারই অংশ এবং এই হলগুলোর ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নিজেদেরই দেখতে পাবে।’

পরে জিও নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় মালালা বলেন, পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তাঁর জন্য একটি অনুপ্রেরণা। বেনজিরের মতো তাঁর প্রতিকৃতিও মার্গারেট হলে স্থান পাওয়াটা সম্মানের। বেনজির শুধু পাকিস্তান নয় বরং পুরো বিশ্বের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি বেনজিরকে সব সময় শ্রদ্ধা করে এসেছেন।

অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা তালহা জে পিরজাদা বলেন, ‘মালালা ইউসুফজাই শুরু থেকেই অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের দৃঢ় সমর্থক। শিক্ষা ও সমতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের মাধ্যমে পাঁচজন অসাধারণ পাকিস্তানি নারীর জন্য অক্সফোর্ডের দরজা খুলে দিতে সহায়তা করেছেন তিনি। ওই নারীদের সবাই লেডি মার্গারেট হলে পড়াশোনা করেছেন।’

মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই—উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায়। পশতুন জাতিগোষ্ঠীর এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তালেবানের বাধার পরও নারী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাওয়ায় ২০১২ সালে তাঁকে গুলি করা হয়; কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

নারীশিক্ষা বিস্তারের পক্ষে কাজ করার জন্য মালালা ইউসুফজাই সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পান মালালা। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ তাঁকে শান্তির দূত হিসেবে নিয়োগ করে। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই তাঁর ১৬তম জন্মদিনে ‘মালালা দিবস’ ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

জিও নিউজ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য গতকাল সোমবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল দেশটি।

ইরান অতীতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়ে। এ ছাড়া ইরান বিভিন্ন সময় ওই পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, এসব জাহাজ চোরাচালানে জড়িত।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গতকাল তাদের নির্দেশনায় মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে যতটা সম্ভব ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে দূরে থাকতে বলেছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ইরানি বাহিনী যদি জাহাজে ওঠার অনুমতি চায়, তবে তা মৌখিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের ওয়েবসাইটে এ নির্দেশনা পোস্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে যতটা সম্ভব ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ইরানি বাহিনী যদি জাহাজে ওঠে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা ক্রুদের উচিত হবে না বলেও বলা হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বে একটি মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

তবে অতিসম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা এক পরোক্ষ আলোচনা করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের পারমাণবিক আলোচনা ভালোভাবে শুরু হয়েছে এবং তা চলবে।

ওমানে ওই আলোচনায় উভয় পক্ষই তেহরানের দীর্ঘস্থায়ী পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে পশ্চিমের সঙ্গে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ওয়াশিংটন বলেছে, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন এবং মানবাধিকার–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

ওমানে ওই আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে ট্রাম্প ইরান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পণ্য আমদানি করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব