• Colors: Blue Color

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর বন্দর আব্বাসে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে আটতলা একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে শহরের মোয়াল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত এই বহুতল ভবনে বিস্ফোরণটি ঘটে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ভবনটির অন্তত দুটি তলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আশেপাশের বেশ কিছু দোকান এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল এবং অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা বা বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে, এই বিস্ফোরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কোনো কোনো পক্ষ দাবি করছে যে এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বন্দর আব্বাস ইরানের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল।

আইআরজিসি সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে পরিচালিত হয় এবং দেশটির আকাশ, স্থল ও জলসীমার নিরাপত্তায় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। বন্দর আব্বাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরণের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা নাকি কোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের করাচির গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল থেকে বের করে আনা হয় আরও বহু মরদেহ। পুড়ে যাওয়া একটি দোকান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৩০টির মতো মরদেহ। খবর দ্য ডন।

দোকানটি ক্রোকারি পণ্যের দোকান ছিল বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও প্রায় অর্ধশত মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতরে রয়েছে।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে করাচির জিন্নাহ রোডের গুল প্লাজা নামক শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ভেতরে আটকা পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বহু মানুষ। আগুন প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগ ওঠে অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রাথমিক তদন্তে জানানো হয় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে চীনে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩% সেলস ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। তবে, শিশু পরিচর্যা সেবা (চাইল্ডকেয়ার) করমুক্ত থাকবে। দেশটি জন্মহার বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ।

গত বছরের শেষের দিকে ঘোষিত কর ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে ১৯৯৪ সাল থেকে বিদ্যমান অনেক কর অব্যাহতি তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় চীনে এক সন্তান নীতি কার্যকর ছিল। 

নতুন নিয়মে বিয়েসংক্রান্ত পরিষেবা এবং প্রবীণদের সুরক্ষা দেওয়ার কার্যক্রমকেও ভ্যাটমুক্ত সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। চীনা সরকারের লক্ষ্য একটি বিস্তৃত উদ্যোগের অংশ হিসেবে পারিবারিক ছুটি বাড়ানো এবং নগদ অনুদান প্রদানের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সহায়তা করা।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে চীনের জনসংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৯৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। এটি প্রায় এক দশক আগে রেকর্ড হওয়া জন্মসংখ্যার অর্ধেক। 

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর কর আরোপ নিয়ে দেশজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে উদ্বিগ্ন যে, কনডম ও যাবতীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বা এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন খবর নিয়ে নানা রকম সমালোচনা দেখা গেছে।

দেশটির অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও জন্মহার বৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। চীনে সন্তান পালন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে স্কুল ফি ও কর্মজীবনের সঙ্গে সন্তান পরিচালনার চ্যালেঞ্জ পাহাড় সমান বলে দাবি করেছেন অনেক চীনা দম্পতি। 

সম্প্রতি, দেশটির অর্থনীতির ধীরগতি, সম্পদ ও আবাসন সংকট তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ৩৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লু বলেন, 'আমার একটি সন্তান আছে, আমি আর সন্তান নিতে ইচ্ছুক নই। কনডোমের দাম বাড়লেও আমি সন্তান নেব না।' 

কর সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়েও রয়েছে মতভেদ। বিশেষজ্ঞ ইয়ি ফুক্সিয়ান বলেন, কনডমের ওপর কর বাড়ানোর কারণে জন্মহারের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

তবে, চীনে জন্মহার বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখনো দ্বিমত পোষণ করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানের নিরাপত্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যেকোন হাত কেটে ফেলা হবে'। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।

অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। খুব দ্রুতই এই আন্দোলনে সাড়া দেয় সাধারণ মানুষ। দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল সহিংস রূপ নেয়। 

টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ইরান। একদিনে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ছয়জনের। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে অর্ধশত। এমন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির পরই মুখ খুলেছেন উপদেষ্টা আলি শামখানি। বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কোনভাবেই কাম্য নয়।

পেরুর বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র মাচু পিচুর কাছে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ।
 
মঙ্গলবারের এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ট্রেনের একজন চালক। আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে বিদেশি পর্যটকও। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।
 
সংঘর্ষের পর তাদেরকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় স্থানীয় হাসপাতালে। অনেককে ঘটনাস্থলেই দেয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।
 
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও জানা যায়নি দুর্ঘটনার কারণ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
 
দুর্ঘটনার শিকার দুটি ট্রেনই পর্যটকদের আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এই শোক জানান তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন,  বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের পথচলায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। খালেদা জিয়ার পরিবার, সমর্থক ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায়  জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজার নামাজ পড়াবেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব