• Colors: Blue Color

আরটি

কয়েক সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডের শহর ও গ্রামগুলোতে বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’র কমলা রঙের প্রচার বাসগুলো সবার নজর কেড়েছে। ‘ভবিষ্যৎকে বেছে নিন’ শিরোনামে এ সফরে অংশ নিয়েছেন দলটির সংস্কারপন্থী রাজনীতিকেরা।

দলটির নির্বাচনী জনসভাগুলোয় পরিবর্তনের অঙ্গীকার শুনতে ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী দলের প্রার্থীদের ভিডিওগুলোও লাখ লাখবার দেখা হচ্ছে।

আজ রোববারের (৮ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের এ ব্যাপক জনসমর্থন অনেকের মনেই আশার সঞ্চার করেছে। তাঁরা মনে করছেন, পিপলস পার্টি যে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা হয়তো এবার হাতের নাগালে আসতে পারে।

আমাদের সৈনিকদের সংখ্যা (বিরোধী দলের প্রতি জনসমর্থন) হয়তো বেড়েছে, কিন্তু রক্ষণশীলদের অস্ত্রভান্ডার এখনো বিধ্বংসী রকমের শক্তিশালী

তবে থাইল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জয়ী হওয়া মানেই রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার পাওয়া নয়।

নিজেদের পরিচিতিমূলক রঙের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কমলা দল’ হিসেবে পরিচিত পিপলস পার্টি মূলত একটি প্রগতিশীল আন্দোলনের সর্বশেষ রূপ। থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রপন্থী রক্ষণশীল শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে এ আন্দোলন বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে। দলটির পূর্বসূরি ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৫০০ আসনের প্রতিনিধি সভায় ১৫১ আসন পেয়ে জয়ী হয়েছিল। তবে সামরিক বাহিনীর নিয়োগ দেওয়া সিনেট তাদের ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়। পরে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করার আহ্বানের দায়ে দেশটির সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলছবি: রয়টার্স

‘ব্রেকিং দ্য সাইকেল’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের সহপরিচালক থানক্রিত দুয়াংমানিপর্ন বলেন, ‘আমাদের সৈনিকদের সংখ্যা (বিরোধী দলের প্রতি জনসমর্থন) হয়তো বেড়েছে, কিন্তু রক্ষণশীলদের অস্ত্রভান্ডার এখনো বিধ্বংসী রকমের শক্তিশালী।’ তিনি আরও বলেন, এ প্রামাণ্যচিত্রটি মূলত ‘কমলা আন্দোলন’ (অরেঞ্জ মুভমেন্ট) নিয়ে তৈরি। তবে থানক্রিত আশা প্রকাশ করেন, ভোটে বিপুল জনসমর্থন দেখিয়ে দলটি হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাধর ওই গোষ্ঠীকে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করতে পারবে।

থানক্রিত বলেন, ‘আমরা রোববারের ব্যালট যুদ্ধে লড়াই করব। আমাদের পক্ষে শুধু এটাই করা সম্ভব।’

পাল্টে দেওয়া জনমত

প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশ থাইল্যান্ড গত দুই দশকের বেশি সময় (সিকি শতাব্দী) ধরে এক হতাশাজনক বৃত্তে আটকা পড়ে আছে। দেশটিতে বারবারই দেখা গেছে, সংস্কারপন্থী দলগুলো নির্বাচনে জয়লাভ করে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত, অভ্যুত্থান কিংবা রাজতন্ত্রের অনুগত বিচারক, জেনারেল ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অনেকের আশঙ্কা, এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।

জনমত জরিপগুলোর আভাস অনুযায়ী, রোববারের নির্বাচনে আবারও সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে ‘পিপলস পার্টি’। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল ‘ভুমজাইথাই পার্টি’।

পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা
পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাফাইল ছবি: রয়টার্স

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গত ৩০ জানুয়ারির এক জরিপ বলছে, প্রধানমন্ত্রী পদে পছন্দের তালিকায় ২৯ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত। ২২ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তাঁর পরেই রয়েছেন অনুতিন। অন্যদিকে দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে এগিয়ে আছে পিপলস পার্টি এবং ২২ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুমজাইথাই। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফিউ থাই’ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

থাইল্যান্ডে শীর্ষ পদের (প্রধানমন্ত্রী) জন্য একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ২৫১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, পিপলস পার্টি যদি এককভাবে এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারে; তবে রক্ষণশীল শক্তি, ফিউ থাই ও ছোট দলগুলোর সহায়তায় তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর ভুমজাইথাই পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে।

পিপলস পার্টির যাত্রার মূলে রয়েছে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি’। অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কমানোর অঙ্গীকার নিয়ে দলটি যাত্রা শুরু করেছিল। থাইল্যান্ডের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অভিজাত শ্রেণির আধিপত্যের বিরুদ্ধে এটি ছিল এক প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ। ২০১৯ সালে নিজেদের প্রথম নির্বাচনেই দলটি ৮১টি আসন জিতেছিল।

তবে থাইল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জয়ী হওয়া মানেই রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার পাওয়া নয়।

কিন্তু পরের বছরই আদালতের নির্দেশে দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ নামে নতুনভাবে গঠিত হয়ে ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরের বছর আবারও আদালতের আদেশে বিলুপ্তির শিকার হয় তারা।

‘আমরা টাকা দিয়ে ক্ষমতা কিনি না’

পুনর্গঠিত পিপলস পার্টির (২০২৪ সাল) ৩২ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা রুকচানোক শ্রিনর্ক মনে করেন, অতীতের পরাজয়গুলো যেন মানুষের আশা কেড়ে না নেয়। থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চিয়াং মাইয়ে এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর দল এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের রাজনীতি বদলে দিয়েছে।

রুকচানোক শ্রিনর্ক রাজনৈতিক মহলে ‘আইস’ নামে পরিচিত। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল; যারা ভোট কেনায় একটি বাথও (থাইল্যান্ডের মুদ্রা) খরচ না করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছি।’ থাইল্যান্ডের বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ভোট কেনাবেচার যে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা
থাকসিন সিনাওয়াত্রাছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

রুকচানোক জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা কেনার জন্য টাকা ব্যবহার করি না।’

রুকচানোকের রাজনীতিতে উঠে আসার গল্পও দলের জনসমর্থনের প্রতিফলন। একসময় অনলাইনে পণ্য বিক্রেতা রুকচানোক দুর্নীতি ও সামরিক বাহিনীর বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। সেই জনসমর্থনে ভর করেই তিনি জাতীয় পরিষদে পা রাখেন। তিনি মনে করেন, তাঁর এ যাত্রা প্রমাণ করে, একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব।

রুকচানোক বলেন, ‘জনগণ যখন বুঝতে পারবে যে রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ; তখন তারা রাজনীতির ওপর আশা হারাবে না।’

থাইল্যান্ড দুই দশকের বেশি সময় ধরে এক হতাশাজনক বৃত্তে আটকা পড়ে আছে। দেশটিতে বারবারই দেখা গেছে, সংস্কারপন্থী দলগুলো নির্বাচনে জয়লাভ করে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত, অভ্যুত্থান কিংবা রাজতন্ত্রের অনুগত বিচারক, জেনারেল ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এ আদর্শবাদই হয়তো শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হবে না। থম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিশেষজ্ঞ প্রিনিয়া থায়ওয়ানারুমিতকুল সতর্ক করে বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনো ‘টাকার রাজনীতি’ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে; যদিও বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে তারা ‘টাকা নিলেও ভোট দেয় নিজের পছন্দ অনুযায়ী’।

প্রিনিয়া আরও বলেন, পিপলস পার্টির জন্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা তখনই বাস্তব হয়ে উঠবে, যদি তারা অন্তত ২০০ বা এর বেশি আসন নিশ্চিত করতে পারবে।

রক্ষণশীলদের পাল্টা প্রতিরোধ

জরিপগুলোতে যখন পিপলস পার্টির জয়জয়কার, ঠিক তখনই রাজতন্ত্রপন্থী রক্ষণশীল গোষ্ঠীর পছন্দের প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।

নির্মাণ খাতের এক বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী এবং থাইল্যান্ডে গাঁজা বৈধকরণের অন্যতম কারিগর অনুতিন গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তসংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে দেশটির সাংবিধানিক আদালত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদ থেকে সরিয়ে দিলে তিনি এ সুযোগ পান।

(বিরোধী দল) পিপলস পার্টির জন্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা তখনই বাস্তব হয়ে উঠবে, যদি তারা অন্তত ২০০ বা এর বেশি আসন নিশ্চিত করতে পারবে
প্রিনিয়া থায়ওয়ানারুমিতকুল, থম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞ

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনুতিন সুকৌশলে সীমান্ত সংঘাত ঘিরে দেশপ্রেমের আবেগ কাজে লাগাচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতির আগে ওই সংঘাতে দুই দেশের অন্তত ১৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

এ সপ্তাহে কম্বোডিয়া সীমান্তের কাছে এক জনসভায় অনুতিন বলেন, ‘যে কেউ বলতে পারেন, “আমাকে বেছে নিন এবং আপনারা পস্তাবেন না”। কিন্তু ভুমজাইথাই বলছে, সামরিক বাহিনী আমাদের পাশে আছে, আমরা কখনো পরাজিত হব না।’

 

অনুতিন তাঁর দলে ব্যবসায়ী ও কূটনীতিক মহলের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর সমর্থনও আদায় করেছেন; যারা সাধারণত মন্ত্রিসভায় পদ পাওয়ার বিনিময়ে সমর্থন দিয়ে থাকে। তাঁর দল কিছু জনবান্ধব নীতিও হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যের অর্ধেক খরচ ভর্তুকি দেওয়ার কর্মসূচি সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট ভবন
থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট ভবনফাইল ছবি: রয়টার্স

ব্যাংককে ভুমজাইথাইয়ের এক জনসভায় ৫৬ বছর বয়সী বুয়াপান আনুসাক বলেন, ‘আমি অন্য নীতিগুলো তেমন জানি না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একজন দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রী হওয়া জরুরি।’

ভুমজাইথাই এখন ‘ফিউ থাই’ দলের আধিপত্য থাকা এলাকাগুলোতেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সালে পিপলস পার্টির উত্থানের আগপর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ফিউ থাই জয়ী হয়েছিল।

ফিউ থাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ৭৬ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখনো থাইল্যান্ডে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো জনহিতকর কাজের জন্য অনেকের কাছে নায়ক। তবে গত নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়ার পর সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠন করায় সংস্কারপন্থীদের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছে দলটি (এখন সংস্কারপন্থীদের প্রধান কণ্ঠস্বরবিরোধী পিপলস পার্টি)। এর পর থেকে ফিউ থাইয়ের দুটি সরকার পতন হয়েছে এবং থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্নসহ দুজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের আদেশে পদ হারিয়েছেন।

থাকসিন বর্তমানে কারাগারে আছেন। মে মাসে তাঁর প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে। ওই সময়ে থাইল্যান্ডে নতুন সরকার গঠন হতে পারে।

থম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্রিনিয়া বলেন, ‘থাকসিন এখনো রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে ওস্তাদ।’ তিনি মনে করেন, থাকসিনের আইনি জটিলতা এবং তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কারণে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বজায় রাখতে তিনি বড় ধরনের চাপে রয়েছেন।

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারলে আমি বলতে পারি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত ইতিবাচক এক কাঠামোতে পৌঁছাতে পারব।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরাগচি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো দুই দেশের রাজধানীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো যেমন জানানো হয়েছে, তেমনি আমাদের স্বার্থ এবং ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের মতামতও শোনা হয়েছে।’

আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েক শ কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।

বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে বিদায় করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি নিউজরুম বা সংবাদকক্ষের সাংবাদিক ও কর্মী রয়েছেন। খবর সিএনএনের।

ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজোস বর্তমানে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা বিভাগকে বার্ষিক লোকসান কমিয়ে এটিকে লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার টেকসই পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বুধবারের এই বড় ছাঁটাইকে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে একটি ‘নতুন দিনের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারে বলেন, জেফ বেজোস এখনো প্রকাশনাটির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি চান প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ও আধুনিক হয়ে উঠুক।

তবে মারে বেজোসের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও সংবাদমাধ্যমটির অধিকাংশ সাংবাদিক এই দর্শনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করে বা খরচ কমিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনেক সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চেয়েছেন, বেজোস কি শেষ পর্যন্ত পত্রিকাটি বিক্রি করে দেবেন? কেউ কেউ পত্রিকাটির ঐতিহ্যের স্বার্থে একজন নতুন অভিভাবক বা মালিকের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।

দ্য পোস্ট গিল্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি জেফ বেজোস এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক না হন, তবে নতুন অভিভাবক খোঁজা প্রয়োজন। কারণ প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট লাখ লাখ মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

২০১৩ সালে ২৫ কোটি ডলারে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফরি পি বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা কিনেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক লোকসান ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব