যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আবারও বলেছেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ থেকে শুরু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান যদি তাঁর শর্ত মেনে না নেয়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের খুব কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ট্রাম্প এমন সময়ে নতুন হুমকি দিলেন, যখন কিনা ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি ওমানের সুলতান হাইতাম বিন তারিক আল সাইদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা দুজন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছেন।
সাম্প্রতিক সময়গুলোয় ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বারবার বলেছেন। তিনি ইরানের কাছাকাছি অবস্থিত জরসীমায় বড় নৌবহর পাঠিয়েছেন। এ নৌবহরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী জাহাজও আছে।
ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কথাও ভাবছেন। এমন অবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। সমালোচকেরা বলছেন, এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে।
গত সোমবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনাধীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকে।
গত জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছে।
ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
আল–জাজিরা