• Colors: Blue Color

ওমানের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির মুসানদাম এলাকা থেকে প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘স্কাইলাইট’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরার।

কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পালাউয়ের পতাকাবাহী ওই জাহাজ লক্ষ্য করে এ আক্রমণ চালানো হয়।

হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রুর সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির দুকম বন্দরে দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে। এ হামলায় একজন বিদেশি শ্রমিক আহত হন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এরপর অভিজ্ঞ রাজনীতিক আলী লারিজানি আজ রোববার জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে।

গত এক বছরে লারিজানি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে লারিজানি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারক

ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি শুরু থেকেই শাসনব্যবস্থার ভেতরের মানুষ। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আলোচনা তদারকি করছিলেন।

আজ রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন।

খামেনির বিশ্বস্ত সহযোগী

গত আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি)-এর সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে লারিজানি খামেনির একজন বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি পান। গত মাসেও তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন।

পারমাণবিক ইস্যুতে লারিজানি কিছুটা নমনীয় বা বাস্তববাদী অবস্থান দেখিয়েছেন। তিনি ওমানি টেলিভিশনকে বলেছিলেন, ‘আমার মতে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যদি কেবল ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে হয়, তবে সেই বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।’

* নিরাপত্তাপ্রধান লারিজানি ছিলেন খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত অনুসারী।
* লারিজানি কট্টরপন্থী ব্যবস্থার ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখেন।
* সাবেক এই পরমাণু আলোচক একসময় গণমাধ্যমপ্রধান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।
* নিরাপত্তাবিষয়ক এই অভিজ্ঞ নেতা সম্প্রতি মিত্রদেশ রাশিয়ায় বেশ কয়েকবার সফর করেছেন।

বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা

বাস্তববাদী ভাবমূর্তি থাকলেও গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে চলা বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লারিজানির ভূমিকা ছিল কঠোর। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, লারিজানিই প্রথম সারির নেতাদের একজন, যিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ডাক দিয়েছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, সেই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

লারিজানি অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে হওয়া আন্দোলনকে ‘জনগণের প্রতিবাদ’ বললেও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘শহুরে আধা সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

সাবেক রেভোল্যুশনারি গার্ড: লারিজানি একসময় রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য ছিলেন।

পরমাণু আলোচক (২০০৫-২০০৭): তিনি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কট্টর সমর্থক ছিলেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাবকে তিনি ‘একটি মুক্তার বদলে ক্যান্ডি বার নেওয়া’–এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

পার্লামেন্ট স্পিকার (২০০৮-২০২০): দীর্ঘ ১২ বছর তিনি পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। তাঁর সময়েই ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পারিবারিক পরিচয়: ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি এক বিখ্যাত আলেম পরিবারের সন্তান। তাঁর ভাইয়েরাও বিচার বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও ইরানের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। তবে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হওয়ার এই চরম সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে একজন দক্ষ ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রয়টার্স

ইরান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ নিহত হয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইধি ফাউন্ডেশনে বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, ছয়টি মরদেহ করাচির সিভিল হাসপাতাল করাচিতে আনা হয়েছে। ইধি জানায়, তাদের অ্যাম্বুলেন্স মরদেহ ও আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে।

সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার করাচির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আযাদ খানের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানতে চান। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।’ সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া যানজট নিরসনে বিকল্প রুট নির্ধারণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। লাঞ্জার সতর্ক করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

এদিন সকাল ১১টার দিকে করাচি ট্রাফিক পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের কারণে সুলতানাবাদ ট্রাফিক সেকশন থেকে মাই কোলাচির দিকে উভয় পাশের সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। নাগরিকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর করাচিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনিসহ প্রায় দুই শতাধিক ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন; এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নামেন বিক্ষোভকারীরা।

 

তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা পর্ষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল–জাজিরার।

ইরনার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন।

ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের পর্ষদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশটিকে নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের একটি পর্ষদ। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর আল–জাজিরার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি তিন সদস্যের পর্ষদ অস্থায়ীভাবে দেশের সবকিছুর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। এ তিন সদস্যের পর্ষদে থাকছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি।

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা (ইসরায়েল) ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ফেলেছে। খবর আল–জাজিরার।

ইরানের যেসব স্থানে গতকাল হামলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। আহত বহু মানুষ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলা জবাব দেওয়া হবে।

ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। খবর আল–জাজিরার।

গতকাল শনিবার এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। হামলার সময় ওই বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা বলেছে,  ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তাঁর জন্য শোকাহত’। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস–এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমনটা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও মানবতার হত্যাকারীদের হাতে খামেনির শাহাদাত বরণের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে এই মহান নেতার বৈধতা এবং তাঁর আন্তরিক সেবাগুলো স্বীকৃত।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।’
দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি অটল থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।’

রয়টার্সের খবর বলছে,  আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।

বিবিসি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব