• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়েছেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকধারীর গোলাগুলি চলে। এ ঘটনায় বন্দুকধারী ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বরাতে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গুলির সময় একজন পথচারীও আহত হন। তবে তাঁর অবস্থা কেমন, তা জানা যায়নি।

[caption id="attachment_274758" align="alignnone" width="747"] হোয়াইট হাউসের কাছে আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন অস্ত্রধারী সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬, ছবি: এএফপি[/caption]

হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তাচৌকিতে ওই বন্দুকধারী গুলি ছোড়েন। বিবৃতিতে বলা হয়, সিক্রেট সার্ভিসের পুলিশ কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি ছোড়েন। বন্দুকধারী গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সিএনএনের খবরে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ও সেভেন্টিনথ স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের মোড়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, এক ব্যক্তি গুলি ছুড়ছেন—এমন খবর পায় সিক্রেট সার্ভিস। এরপর তাদের কর্মকর্তারা সেখানে গেলে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

হোয়াইট হাউসের কাছে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান সিএনএনের সাংবাদিকেরা। এরপরই সেখানে লকডাউন জারি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা।

এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। ঘটনার সময় নর্থ লন এলাকায় থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁরা হোয়াইট হাউসের ভেতরের সাংবাদিকদের যে যাঁর জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন।

ঘটনার পরপরই রাইফেল হাতে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা নর্থ লন এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁরা হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম আটকে দেন। পরে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার পরপরই লকডাউন তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।

হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬
হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬ছবি: এএফপি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হোয়াইট হাউসের বাসভবনেই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস, ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। সেখানে তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গুলি চলার পর আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। তাঁরা সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সাধারণ মানুষকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে থাকব।’

এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াং। ভিডিওটিতে গুলি চলার মুহূর্তটি দেখা যায়। এ সময় তিনি মাথা নিচু করে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন।

ওই পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, ‘আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আইফোনে ভিডিও করছিলাম। ঠিক তখনই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল, একসঙ্গে অনেক গুলি ছোড়া হচ্ছে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলেন। আমরা এখন সেখানেই আছি।’

এর আগে ৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের কাছে সশস্ত্র এক ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়।

ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গুলিতে তিনি আহত হন।

গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময় এর আগে গুলির ঘটনা ঘটে। এক মাস পার না হতেই নতুন করে এই ঘটনা ঘটল। আগের ওই ঘটনার সময়ও গুলি চললে সাংবাদিক ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা করেছিলেন।

আগের ওই গোলাগুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন কোল টমাস অ্যালেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি হাতে শটগান নিয়ে দৌড়ে একটি নিরাপত্তাচৌকি পার হন। এ সময় পেছন থেকে ধাওয়া করা সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সঙ্গে তাঁর গুলি বিনিময় হয়। ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে তিনি অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

সিএনএন

পশ্চিমবঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কমিয়ে দু-দিন থেকে একদিন করা হয়েছে। নতুন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একইসঙ্গে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ছুটির তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সদরদপ্তর নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপনের দিন পরিবর্তন হওয়ায় ছুটির দিনও বদলানো হয়েছে। তবে পূর্বের দুই দিনের ছুটি কমিয়ে এবার তা এক দিনে নামিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহকারী মুখ্যসচিব পিকে মিশ্রের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ নভেম্বরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ছুটিসংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, তাতে ২০২৬ সালের ২৬ ও ২৭ মে (মঙ্গলবার ও বুধবার) কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ বছর ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তাই আগের বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধন এনে কেবল ২৮ মে ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। পূর্বের ঘোষিত ২৬ ও ২৭ মের ছুটি বাতিল করা হলো। ওই দুই দিন সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা দুদিন ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভার ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।
সূত্র: আনন্দবাজার

 

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করছেন যা কয়েক মাসের মধ্যেই মানবদেহে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ভ্যাকসিনটি তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোভিড মহামারির সময় উদ্ভাবন করা হয়েছিল। খবর, বিবিসি'র।

ভ্যাকসিন তৈরির এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরই নতুন ভ্যাকসিনটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যবহারের জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে, এটি কার্যকর হবে কি না— তা জানতে প্রাণীদের ওপর গবেষণা ও মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

প্রাদুর্ভাবটি হঠাৎ যদি তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরীক্ষামূলক টিকার প্রয়োজন হয়, সেই আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্য বলছে, এই ভ্যাকসিনটি আগের তুলনায় দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। কারণ এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটি উপাদান, যা খুব অল্প সময়ে নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানিয়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষের দিকেই বড় আকারের ট্রায়াল শুরু করা হতে পারে।

মূলত, ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাস যা রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়। দ্রুত কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।

ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি রয়েছে। তবে, এদের মধ্যে মাত্র তিনটি মানুষের মধ্যে বড় আকারে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। এর একটি হলো বুন্দিবুগিও। ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে দুই দফায় বড় পরিসরে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। সবশেষ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এর দেখা মেলেনি। ইবোলার সাধারণ প্রজাতি জায়ারের জন্য টিকা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বুন্দিবুগিও’র জন্য কোনো টিকা নেই।

ইতোমধ্যেই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবে ৭৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোভিড মহামারির সময়ের মতো ইবোলার টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে, এগুলো রিং ভ্যাকসিনেশন নামক একটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এক্ষেত্রে যাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাদেরই টিকা দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ডিএনআই) প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করেছেন।

শুক্রবার (২২ মে) এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জনানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলসী গ্যাবার্ডের স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসারে (বোন ক্যানসার) আক্রান্ত হয়েছেন। মূলত এই কঠিন সময়ে অসুস্থ স্বামীর পাশে থেকে তার চিকিৎসা ও সেবা করার জন্যই তিনি সরকারি উচ্চপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৩০ জুন থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।

পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন এবং দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আমাকে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতিতে আমাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হচ্ছে।’

আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোয় তার স্বামী চিকিৎসাজনিত কারণে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন উল্লেখ করে গ্যাবার্ড আরও লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে জনসেবামূলক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, যাতে আমি সার্বক্ষণিকভাবে আমার স্বামীর পাশে থাকতে পারি এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারি। তিনি সবসময়ই আমার শক্তির জায়গা ছিলেন।’

উল্লেখ্য, সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড পরবর্তী সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে যোগ দেন। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ পদে গ্যাবার্ডকে বেছে নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তুলসী গ্যাবার্ডের এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বর্তমান বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো, গ্রিন কার্ডের আবেদনগুলো যেন অভিবাসনের স্বাভাবিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সম্পন্ন হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ‘আইনি ফাঁকফোকর’ ব্যবহার করে স্থায়ী মর্যাদার আবেদন করার সময় বিদেশি নাগরিকেরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

গতকাল মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেছে, ‘যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।’

[caption id="attachment_274658" align="alignnone" width="1047"] যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড[/caption]

গতকাল শুক্রবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থা সাধারণত এমনভাবে তৈরি, যেখানে সাময়িক ভিসাধারীদের সফরের উদ্দেশ্য শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (কেস বাই কেস) মূল্যায়ন করবেন। এর অর্থ, গ্রিন কার্ডের নতুন নিয়ম সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর করা হবে না। প্রত্যেক আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও কাগজপত্র একজন অভিবাসন কর্মকর্তা আলাদা ও স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেমা ন্যাশনাল রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সিল
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেমা ন্যাশনাল রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সিল, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন মূল্যায়নকালে কিছু বিষয় কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান, অনুমতি ছাড়া চাকরি করা, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ও আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দেওয়া শর্তগুলো ঠিকমতো মেনে চলেছেন কি না ইত্যাদি।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। অর্থাৎ কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। তা ছাড়া সফরের উদ্দেশ্য শেষ হলে বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে—কংগ্রেসের এই প্রত্যাশাকেও এটি পরিবর্তন করে না।

যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।
 

সংস্থাটি আরও জানায়, এ নতুন ও পরিমার্জিত নির্দেশনার ফলে অন্যান্য অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ পাওয়া যাবে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা

অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ নিয়মের কারণে অনেক অসহায় মানুষ তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ বলেছে, এ নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়ার কিছু অংশ সম্পন্ন করার জন্য তাদেরও এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। এর অর্থ, কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।
 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে বড় ধরনের চেষ্টা চলছে, এ নির্দেশনা তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিদর্শক ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছিল। গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করে যে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

আল–জাজিরা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলায় জড়িতদের আজ শুক্রবার রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স (সহিংসতা) বেছে নেন, তাহলে আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ার করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে। আমাদের রক্ত গরম এবং বয়স কম হলেও আমরা বুঝি যে কখন কী করতে হবে, কখন দেশ গড়ার দিকে কাজ করতে হবে। কিন্তু যদি সরকারি দল ভায়োলেন্স চায়, সেটাকেই একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা যে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না- সেটা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপল’স বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) ঢাকার দুই মহানগরের ২২৯ জন নেতা–কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু তারা প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোকাবিলার একধরনের কৌশল নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।’

[caption id="attachment_274635" align="alignnone" width="701"] শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে[/caption]

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দল বারবার সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দল এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ। এরপর একসঙ্গে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও বিরোধী দল জানাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার এই সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে।’

সংঘাতের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি এটা করতে চান, এই লড়াইটা কোনো রাজনৈতিক দল, নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা আদর্শের সঙ্গে হবে না; এই লড়াইটা হবে পুরো একটা প্রজন্মের সঙ্গে। এই প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করার ভুলটা শেখ হাসিনা করেছিল। আশা করি, এই ভুলটা তারেক রহমান করবে না। আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর যারা হামলা করেছে, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সবার পরিচয় এসেছে। আজকে রাতের মধ্যে তাদের সবাইকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ করেন জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিকের নিরাপত্তা সংকট চরমভাবে বেড়েছে। আজকে আমাদের মা–বোনেরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি বলে মনে হয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না কিংবা করতে তাঁর মধ্যে একধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে থাকলে বাংলাদেশের জনগণ সামনের দিনে বাধ্য হবে এই সরকার ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসতে।’

‘দমনের চেষ্টা করলে তাদেরও খারাপভাবে পতন হবে’

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঝিনাইদহের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে জুমার নামাজের পরে মতবিনিময় করবেন। তখন তাঁর ওপর ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ চালায়। সেখানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক থেকে শুরু করে সেখানকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের আহ্বায়কেরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সাংবাদিক ভাইদের পিটিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই হামলার কোনো ধরনের বিচার হয়নি।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে এনসিপি নেতা সারজিস বলেন, ‘আমাদের বোনকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যার পর গতকাল আমরা দেখলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এই সহমর্মিতা যদি শুধু একদিনের ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার খেলা হয়, পরের ছয় মাসেও বিচারের কোনো দিশা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে এই সহমর্মিতার কার্ড আগামীর বাংলাদেশের জনগণ আর মেনে নেবে না।’

বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনার ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা অভ্যুত্থানে আমাদের সহযোদ্ধা ছিল। তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা–সম্মান দেখাতে চাই। কিন্তু তারা যদি আগের মতো ছাত্রলীগ–যুবলীগের কায়দায় আবার সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করে, তাহলে তার চেয়ে খারাপভাবে তাদের পতন হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো দল–মতের ওপর দমন–পীড়ন আর মেনে নেওয়া হবে না।’

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। সঞ্চালক ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব