সামরিক স্থাপনা
ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর সামরিক স্থাপনাগুলোয় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এসবের বেশির ভাগই প্রতিহত করেছে। তবু অন্তত ১১টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই অঞ্চলে থাকা এমন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেক।
সংঘাতের প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি।
স্যাটেলাইট ছবিতে কয়েকটি স্থানে ভবন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় মোট কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে দেওয়া পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একক হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে সামরিক সদস্যদের থাকার একটি স্থাপনায় ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।
একই দিনে সৌদি আরবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক ইরানি হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা সাতজনে দাঁড়ায় বলে গত রোববার পেন্টাগন জানিয়েছে।
যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনের তুলনায় ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমেছে, তবে হামলা চলছে। আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি, আল ধাফরা বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প বুয়েরিং ও নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একাধিকবার হামলা হয়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। ৪ মার্চ ন্যাটো তুরস্কের ইনজিরলিক বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বড় একটি দল অবস্থান করছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা অস্বীকার করেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, আরেকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটো সেটিও ভূপাতিত করে।