• Colors: Blue Color

ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘চূড়ান্ত ও অনুশোচনাযোগ্য’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।

এক বিবৃতিতে আমির হাতামি বলেন, ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ) সেক্রেটারিকে হত্যার ঘটনায় ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত ও অনুশোচনাযোগ্য।’

এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস আজ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শহীদ আলী লারিজানি ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যার রক্তের প্রতিশোধ নিতে’ মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

জো কেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘ আমার বিবেক ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে সাড়া দেয় না।’

ওই চিঠি এক্স–এ পোস্ট করা হয়েছে। কেন্ট আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি। এটি স্পষ্ট যে আমরা ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী আমেরিকান লবির চাপে এই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি।’

সূত্র: আল–জাজিরা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য মস্কোতে অবস্থান করছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

কুয়েতের দৈনিক আল-জারিদা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় আহত হয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। চিকিৎসার জন্য তাকে রাশিয়ার রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অবস্থান প্রকাশ করেনি ক্রেমলিন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নতুন নেতা আহত হয়েছেন, তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। তার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার প্রথম দিনে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তবে প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে ও বর্তমান নেতা মুজতবা খামেনি।

গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মুজতবা খামেনি। সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান তিনি। ওই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হন।

 

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে গতি আনতে নতুন করে আরও দুটি জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভান’ নামের এই জাহাজ দুটি যথাক্রমে বুধবার ও আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) জেটিতে ভিড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ জাহাজটি গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং-এ অবস্থান করছে। জাহাজটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন কার্গো খালাস সম্পন্ন করেছে এবং আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ খালাস প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, জাহাজটি বুধবার মূল বন্দরে ভিড়বে।

জ্বালানি সরবরাহের তালিকায় থাকা দ্বিতীয় জাহাজ ‘এলপিজি সেভেন’ ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে গত ৮ মার্চ কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছায়। ইতিমধ্যে জাহাজটি থেকে প্রায় ৭,০২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। জাহাজটির সম্পূর্ণ খালাস প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মার্চ।

বর্তমানে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা অধিকাংশ জাহাজ সফলভাবে কার্গো খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের একটি বড় অংশ এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল ও গ্যাস অয়েল সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড থেকে আসা আরও বেশ কিছু জাহাজ ‘প্যাসেজ’ বা বন্দরের পথে রয়েছে।

দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি খালাস কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, ‘জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি।’

 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। লারিজানি ইরানের বেঁচে থাকা সর্বজ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল কাৎজ এই তথ্য জানান।

তবে এই খবরের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লারিজানি নিহত হওয়ার খবরটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

তেহরানে কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানি (মাঝে)
তেহরানে কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানি (মাঝে), ছবি: আইআরএনএ

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর শান্ত ও বাস্তববাদী মুখ। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর বই লিখেছেন ও পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে গত ১ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের ৬৭ বছর বয়সী এই সেক্রেটারির কথার ধরন বদলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে লারিজানি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ইরানের রাজধানী তেহরানে গত ১৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১২ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান।

গভর্নর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের জন্য পৌরসভা কার্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব