• Colors: Blue Color

যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়েছেন লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন। দেশটির সাবেক এই মন্ত্রী বলেছেন, আলোচিত ও সমালোচিত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়ে যাতে আর কোনো ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।

এপস্টেইন–কাণ্ডে পদ ছাড়ার মতো পরিণতি ভোগ করার ঘটনা লর্ড ম্যান্ডেলসনের জন্য এবারই প্রথম নয়। গত বছর একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করার পর বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। নতুন এসব নথিতে ৭২ বছর বয়সী লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম এসেছে।

এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টেইন।

এ তথ্য প্রকাশের পর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে দলের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই রাজনীতিক। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের সঙ্গে আমি আরও যুক্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত বোধ করছি।’

লর্ড ম্যান্ডেলসন আরও লেখেন, ‘২০ বছর আগে তিনি (জেফরি এপস্টেইন) আমাকে অর্থ দিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ আমি মিথ্যা বলেই মনে করি। এর কোনো নথি কিংবা স্মৃতি এখন আমার কাছে নেই। এসব আমাকে যাচাই করতে হবে।’

‘এই যাচাই প্রক্রিয়া চলার সময়টায় আমি লেবার পার্টিকে আরও বিব্রত করতে চাই না। এ কারণে আমি দলের সদস্যপদ ছাড়ছি’—চিঠিতে যোগ করেন লর্ড ম্যান্ডেলসন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডনব্রাউনের প্রশাসনে মন্ত্রী ছিলেন লর্ড ম্যান্ডেলসন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন।

পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।

এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।

উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বন্দোবস্ত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধের কৃত্রিম আবহের বিপরীতে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।’ তবে প্রস্তাবিত সেই আলোচনার রূপরেখা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ইরান সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা দেখি কিছু করা যায় কি না। অন্যথায় কী ঘটে, তা আমাদের দেখতে হবে…আমাদের একটি বিশাল নৌবহর সেদিকে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আলোচনা করছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আলী লারিজানি। বৈরুত, লেবানন, ১৫ নভেম্বর ২০২৪
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আলী লারিজানি। বৈরুত, লেবানন, ১৫ নভেম্বর ২০২৪ছবি: রয়টার্স

সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপের মুখে ট্রাম্প বারবার হামলার হুমকি দেওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নেতৃত্বে এক বড় নৌবহর ইরান অভিমুখে পাঠিয়েছে, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপের মুখে ট্রাম্প বারবার হামলার হুমকি দেওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এর আগে ট্রাম্পকে দেশটিতে হামলার হুমকি বন্ধ করতে হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে, তবে সেখানে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ‘প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ’ করতে প্রস্তুত।

এরই মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করলে গত শুক্রবার তাদের সতর্ক করে দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক সহযোগী বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি যেকোনো অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।’

গতকাল এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের উপকূলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে যে তারা নিজেদের আঙিনায় কীভাবে অনুশীলন করবে।’

আরাগচি আরও লেখেন, ‘সেন্টকম এমন একটি জাতীয় বাহিনীর কাছে “পেশাদারত্ব” দাবি করছে, যাদের মার্কিন সরকার “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে; আবার সেই একই “সন্ত্রাসী সংগঠন” যে সামরিক মহড়া চালানোর অধিকার রাখে, তা–ও তারা স্বীকার করছে!’

তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা দেখি কিছু করা যায় কি না। অন্যথায় কী ঘটে, তা আমাদের দেখতে হবে…আমাদের একটি বিশাল নৌবহর সেদিকে যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আরাগচি বলেন, এ অঞ্চলে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি সব সময়ই ঘোষিত লক্ষ্যের উল্টো ফল বয়ে এনেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের বদলে তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে
রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেছবি: এপি

এরই মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করলে গত শুক্রবার তাদের সতর্ক করে দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে ‘বেশ নাজুক ও সংবেদনশীল’ অবস্থায় রয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে লারিজানির বক্তব্যকে তিনি একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। আসাদি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ইরানি কর্মকর্তারা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।

আল–জাজিরা

আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে কোলটান খনি ধসে দুই শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

গতকাল শুক্রবার দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সরকারের মুখপাত্র লুমুম্বা কামবেরে মুইসা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রুবায়া খনিতে বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

এই ধাতু প্রক্রিয়াজাত করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাই এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়রা সামান্য অর্থের বিনিময়ে সনাতন পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন করেন।

এলাকাটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বুধবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র বলেন, ভূমিধসে দুই শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে খনিতে কাজ করা শ্রমিক, নারী ও শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে কঙ্গো সরকারের একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুর্ঘটনায় অন্তত ২২৭ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর বন্দর আব্বাসে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে আটতলা একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে শহরের মোয়াল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত এই বহুতল ভবনে বিস্ফোরণটি ঘটে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ভবনটির অন্তত দুটি তলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আশেপাশের বেশ কিছু দোকান এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল এবং অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা বা বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে, এই বিস্ফোরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কোনো কোনো পক্ষ দাবি করছে যে এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বন্দর আব্বাস ইরানের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল।

আইআরজিসি সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে পরিচালিত হয় এবং দেশটির আকাশ, স্থল ও জলসীমার নিরাপত্তায় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। বন্দর আব্বাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরণের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা নাকি কোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের করাচির গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল থেকে বের করে আনা হয় আরও বহু মরদেহ। পুড়ে যাওয়া একটি দোকান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৩০টির মতো মরদেহ। খবর দ্য ডন।

দোকানটি ক্রোকারি পণ্যের দোকান ছিল বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও প্রায় অর্ধশত মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতরে রয়েছে।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে করাচির জিন্নাহ রোডের গুল প্লাজা নামক শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ভেতরে আটকা পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বহু মানুষ। আগুন প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগ ওঠে অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রাথমিক তদন্তে জানানো হয় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব