• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া জবাব গতকাল রোববার প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের জবাব দিয়েছিল তেহরান।

কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত “প্রতিনিধিদের” পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরানের দেওয়া জবাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কীভাবে বা কখন আবার খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিবদমান আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে লড়াই বন্ধের বিষয়ে তেহরান এ জবাব দিল।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং ইরানি তেল বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রাসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে।

পাকিস্তান ইরানের এ জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রয়টার্স

যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। রোববার (১০ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে ইরান তাদের জবাব ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ পাঠিয়েছে। তবে সেই জবাবে ঠিক কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের তরফ থেকে এই মুহূর্তে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে। এদিকে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি কাতারি ট্যাংকারকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা পরেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, চুক্তি না হলে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস’ অপারেশন চালু করবেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ওই অভিযান শুরু করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহেই প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে অভিযানটি শুরু করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া। তবে শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ করে তা স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, নৌ অভিযান চালানো হলেওইরান কয়েক মাস পর্যন্ত তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগরপথে ইরানে জন্য ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাস্পিয়ান সাগর এখন রাশিয়া ও ইরানের গোপন ও প্রকাশ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে এই রুট ইরানকেব ‘ব্যাপকভাবে সহায়তা’ করছে।

তাদের দাবি, রাশিয়া থেকে ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ যদি এমন গতিতে সরবরাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে খুব দ্রুতই ইরান তাদের ড্রোন ভাণ্ডার পুনর্গঠন করতে পারবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের প্রায় ৬০% ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুদ্ধে তেহরান যে পরিমাণ ড্রোন ব্যবহার করেছে, তা মোট মজুদের থেকে অতি ‘নগণ্য’।

আরও তিন থেকে চার মাস টানা বিরতিহীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে ইরান বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগর দুই দেশকে সংযুক্ত করেছে। এই জলপথ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এনওয়াইটির তথ্যমতে, যেসব পণ্য সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো, সেগুলোর একটি অংশ এখন কাস্পিয়ান সাগর হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শস্য, পশুখাদ্য, সূর্যমুখী তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য।

প্যারিসের গবেষক অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য কাস্পিয়ান সাগর আদর্শ জায়গা।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো লুক কফি বলেন, ‘মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে কাস্পিয়ান অঞ্চল এক ধরনের ভূরাজনৈতিক ব্ল্যাক হোলের মতো; যেন এর অস্তিত্বই নেই। ইরান ও রাশিয়া মার্কিনিদের এই মতাদর্শেরই ফায়দা নিচ্ছে।’

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানকে এখনো ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি করাতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (১০ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভেনেজুয়েলার একটি পুরোনো গবেষণা রিঅ্যাক্টর থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি বা প্রায় ৩০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এ অভিযানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) সহযোগিতা করেছে।

 

চেন্নাই

হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল শনিবার শপথ গ্রহণ করেছেন পিটার মাজিয়ার। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশটিতে রুশপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটল।

মাজিয়ার ইউরোপপন্থী। অন্যদিকে অরবান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর সখ্য ছিল।

শনিবারের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে মাজিয়ার হাঙ্গেরির সাধারণ মানুষকে রাজধানী বুদাপেস্টে এসে ‘হাঙ্গেরির নতুন ইতিহাস লেখার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মাজিয়ারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন হাজার হাজার মানুষ দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনের পথ খুবই দীর্ঘ এবং অনেক সময় বেশ কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাঙ্গেরির জনগণ জিতে যায়।

মাজিয়ার আরও বলেন, ‘আজ, বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ একটু হলেও হাঙ্গেরীয় হতে চায়। আপনারা দেশ ও বিশ্বকে শিখিয়েছেন যে সবচেয়ে সাধারণ, রক্ত-মাংসে গড়া মানুষরাই সবচেয়ে নৃশংস স্বৈরশাসককে পরাজিত করতে পারে।’

এর আগে পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরির জনগণ তাঁর দলকে দেশের ইতিহাসে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করার ম্যান্ডেট দিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট হলো—শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং পুরো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পথে যাত্রা শুরু করা।

অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাজিয়ার।

হাঙ্গেরিতে এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজের ভরাডুবি হয়, বড় ব্যবধানে জয় পায় পিটার মাজিয়ারের মধ্য ডানপন্থী তিসজা পার্টি। ২০১০ সাল থেকে অরবান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

দ্য গার্ডিয়ান

হরমুজ প্রণালি দুই দিক থেকে অবরুদ্ধ হওয়া যুগান্তকারী ঘটনা, যার প্রভাব দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এটি দুর্ভোগ ডেকে আনছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্যও তা সংকট তৈরি করেছে।

বিষয়টি হলো, উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তেল বিক্রি করে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়েছে, কিন্তু এখন তাদের রপ্তানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিপরীতে, এই অঞ্চলের বাইরের জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য তা বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। বলে রাখা দরকার, তেল ও গ্যাস, অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি জ্বালানির সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এল পাইসের

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে তেল বিক্রি করতে পারছে। এই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এখন যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ করা প্রয়োজন, পৃথিবীতে বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদন প্রথম শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, সেই ১৮৫৯ সালে। পরবর্তী সময় তেল বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওপেকের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনও কমে যায়। কিন্তু এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দেশটি জ্বালানি ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার করেছে। সেই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল এখন তাদের হাতে। চলমান ইরান যুদ্ধের কল্যাণে তেল বাণিজ্যে তাদের এই আধিপত্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।

জিব্রাল্টার প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের পালে হাওয়া লেগেছে। ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহকারী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই প্রথম নিট অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে তারা উৎপাদনের কেবল একটি অংশ পরিবহন করতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইন বিশ্ববাজারে এক ব্যারেল তেলও বিক্রি করতে পারছে না। ফলে মার্কিন তেলের ক্রেতা পাওয়া এখন অনেক সহজ।

এল পায়াসের সংবাদে বলা হয়েছে, এশিয়া ও ইউরোপে মার্কিন তেলের রপ্তানি হঠাৎই অনেকটা বেড়ে গেছে। এই দুই মহাদেশ এখন পারস্য উপসাগরের বিকল্প খুঁজতে মরিয়া। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, ডিজেল ও কেরোসিনের চাহিদাও বেড়েছে, এসবের ঘাটতি এখন তীব্র। আর এ সবই বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপরেও পড়ছে। বিশ্বের অন্য দেশের মানুষের মতো তারাও এখন পেট্রলপাম্প থেকে গাড়িতে জ্বালানি ভরতে বা উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫০ ডলার, অর্থাৎ প্রতি লিটারে এক ইউরোর কিছু বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির তেল রপ্তানি দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, নতুন রেকর্ড। তেহরানে তারা যখন হামলা শুরু করল, তার আগের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। এরপরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এখন সেটি কার্যত পরিত্যক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি যুক্ত করলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, এটিও নতুন রেকর্ড। বিশেষ করে ইউরোপে ডিজেল রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় এই উল্লম্ফন। অথচ ২০১৪ সালের আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনো তেল রপ্তানিই করত না। এরপর ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির বিস্তার শুরু হয়। তখন বিশেষজ্ঞ মহলের বাইরের মানুষ এই প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানত না।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক আইরা জোসেফ এল পাইসকে বলেন, স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র যে লাভবান হচ্ছে, তা স্পষ্ট। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা কঠোর অবরোধের মুখে পড়েছে, ফলে তেলের দাম বেড়েছে। বিষয়টি মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারীদের জন্য বিশাল সৌভাগ্য।

তবে জোসেফ মনে করেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিস্তারের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবহন খাতে তেলের ব্যবহার কমে যাবে। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্যাটারির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কাতার কোণঠাসা

এদিকে গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। শিল্প ও গৃহস্থালির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এই গ্যাসের রপ্তানি বৃদ্ধির বড় কারণ, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতারের বাধ্য হয়ে পিছিয়ে পড়া। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশটি কার্যত রপ্তানি করতে পারছে না। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো এই পরিস্থিতির পুরো সুবিধা নিচ্ছে।

বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক কাতার যে শুধু রপ্তানি করতে পারছে না তা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় হামলা করেছে। এতে কাতারের ভবিষ্যৎ উৎপাদনসক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র রাস লাফান কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতার এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশটির রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারকই নয়; ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের রপ্তানিসক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। বিষয়টি হবে একধরনের জ্বালানি–বিপ্লব, এর প্রভাব অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই গভীর। অর্থনৈতিকভাবে মার্কিন শিল্প খাত বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম দামে প্রাকৃতিক গ্যাস পাচ্ছে। ভূরাজনৈতিকভাবে দেখলে, এ ঘটনায় তারা যে কৌশলগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেয়েছে, তা কল্পনাতীত।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের এই আমূল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে মূলত ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির কারণে। এই প্রক্রিয়ায় পানি, বালু ও রাসায়নিকের মিশ্রণ পাথরের স্তরে প্রবেশ করিয়ে শেল থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়।

ভবিষ্যতে মার্কিন এলএনজি রপ্তানি বাড়বে। কারণ হিসেবে এল পাইসের সংবাদে বলা হয়েছে, নতুন পাঁচটি বড় প্রকল্প চালু হবে, অর্থাৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। সমুদ্রপথের পাশাপাশি পাইপলাইনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে মেক্সিকোর সঙ্গে। মেক্সিকোও এখন এই প্রবণতা থেকে লাভবান হতে চায়।

মার্কিন প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটির নিট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি ১৮ শতাংশ বাড়বে। তবে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এবং কাতার আরও বেশি সময় কোণঠাসা থাকলে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে নিট রপ্তানি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারে পরাশক্তি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি তাঁর আছে প্রবল বিরূপ মনোভাব। সে কারণেই নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছেন, ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’— এখনকার যে ঘটনাপ্রবাহ, তার সঙ্গে এই স্লোগান সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর শূন্যতা পূরণে মার্কিন রপ্তানির এই উত্থান যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একটাই, ট্রাম্প-যুগের যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়; সে কথা যেমন ইউরোপের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি এশিয়ার জন্যও।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই পুরোদমে সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করে দিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)।

আজ রোববার শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশে সই করেছেন থালাপতি বিজয়। সেই অনুযায়ী, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তামিলনাড়ুর নতুন রাজ্য সরকার আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ বিনা মূল্যে দেবে।

সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করার আদেশ দিয়েছেন।

আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথ নেন নতুন সরকারের নয়জন মন্ত্রীও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।

তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে ছিল। এ কারণে গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি।

কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে ১২০ আসন নিশ্চিত করে জোট সরকার গড়েছে টিভিকে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন থালাপতি। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম কয়েকটি দল মিলে জোট সরকার গঠন করল।

হিন্দুস্তান টাইমস

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব