• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এবার নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহার করা জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। টোল থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই ইরান এ পথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। 

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর টহল
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর টহলছবি: ইরানের আধা–সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের এক্স পোস্ট

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা যে কত সহজ ও সস্তা, তা ইরান এবার ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন একে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।’

তবে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। 

অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের সুযোগ ইরান কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

সিএনএনের এক হিসাব বলছে, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।  

অবশ্য, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে এরই মধ্যে কিছু জাহাজ নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানকে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, যা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘অতিরিক্ত আশাবাদী’ অবস্থানের বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন ভ্যান্স। এক মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, এ কাজটি (সরকার পরিবর্তন) খুবই সহজ হবে। সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছিলেন তিনি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর (নেতানিয়াহুর) বক্তব্যগুলোকে সতর্ক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছেন।’

ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে ভ্যান্সের কাজকে বিঘ্নিত করছে। ভ্যান্স ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মুখ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি তিনি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

একই মার্কিন কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এমন সব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যা পড়ে মনে হয়েছিল যে ইরান ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় বেশি আগ্রহী। কারণ, তাদের ধারণা, তিনি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পক্ষপাতী হবেন।

ওই কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘এটা ভ্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একধরনের অপপ্রচার।’

আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে ভ্যান্সকেই সম্ভাব্য পথ বলে মনে করেন তাঁরা। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি ইরানিরা ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তারা কোনো চুক্তি পাবে না। তিনিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’

ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বলেছে, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতে যাওয়া এই যুদ্ধে ইয়েমেন থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা
লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা, ছবি: হুথি মিলিটারি মিডিয়া/রয়টার্স

আজ শনিবার ভোরের এই বিবৃতির আগে গতকাল শুক্রবার আরও কিছু খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ইরান প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তেল আবিবে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল ও সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়ে নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত ট্রিস্টান রবার্ট (১৮) গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে (৪৫) হত্যা করে।

বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ট্রিস্টান রবার্টকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানান, সে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। শুরুতে এআই এ বিষয়ে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরে নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে তাকে হাতুড়ির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস আদালতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেয় এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। রেকর্ড করা অডিওতে হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া গেলেও, তার নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিবেচনায় তা আদালতে বাজানো হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে প্রথমে নিজ বাড়িতেই মায়ের ওপর হামলা চালায় ট্রিস্টান। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়।

এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে একটি স্লেজহ্যামার বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ টেনে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখে সে।

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আরও জানা যায়, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকায় তার জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

নিজের ফোনে লেখা একটি নোটেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল: কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট। তিনি বলেন,মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নেই।

বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করত। এখন তা কমে হাতে গোনা কয়েকটিতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে খাদ্য থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ও ওষুধ পর্যন্ত অসংখ্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

নিচে সম্ভাব্য প্রভাবের বিবরণ দেওয়া হলো—

সার (খাদ্য)
পেট্রোকেমিক্যাল তেল ও গ্যাস থেকে তৈরি হয়। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এগুলো বিপুল পরিমাণে উৎপাদন ও রপ্তানি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য হচ্ছে সার, যা বৈশ্বিক কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ সার, যেমন ইউরিয়া, পটাশ, অ্যামোনিয়া ও ফসফেট সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে সারসংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, মার্চ ও এপ্রিল উত্তর গোলার্ধে বপন মৌসুম। এ সময়ে সারের ঘাটতি কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এখন সার কম ব্যবহার করলে বছরের পরের দিকে ফলন কমে যাবে।

জার্মানির গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিল ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালি বন্ধ থাকলেও পুরো একটি চাষাবাদ মৌসুম ব্যাহত হতে পারে; যার প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর পড়বে।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক গমের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফল ও সবজির দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া খাদ্যের দাম বাড়তে পারে জাম্বিয়ায় ৩১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৫ শতাংশ, তাইওয়ানে ১২ শতাংশ ও পাকিস্তানে ১১ শতাংশ।

রাশিয়া সাধারণত বৈশ্বিক সার রপ্তানির প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে। বিশ্লেষকদের মতে, তারা এই ঘাটতি পূরণে উৎপাদন বাড়াতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, সারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে রাশিয়া ‘ভালো অবস্থানে রয়েছে’।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

হিলিয়াম (মাইক্রোচিপ)
বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম গ্যাসের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ সরবরাহ কাতার থেকে আসে। এই গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের একটি উপজাত। সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা পরে কম্পিউটার, যানবাহন ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপে রূপান্তরিত হয়। হিলিয়াম হাসপাতালের এমআরআই স্ক্যানারের চুম্বক ঠান্ডা রাখতেও ব্যবহৃত হয়।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কাতারের বিশাল রাস লাফান প্ল্যান্ট উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কাতার সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের ফলে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার পর্যন্ত নানা আধুনিক প্রযুক্তির দাম বাড়তে পারে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত যাদব সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি হিলিয়াম সংকটে এমআরআইয়ের খরচও বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, একটি এমআরআই মেশিন চালাতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার লিটার হিলিয়াম লাগে। প্রতিবার স্ক্যান করার সময় এর কিছু অংশ বাষ্প হয়ে যায়।

পেট্রোকেমিক্যাল ডেরিভেটিভ (ওষুধ)
মিথানল ও ইথিলিনের মতো পেট্রোকেমিক্যাল থেকে উৎপন্ন উপাদানগুলো ওষুধ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন বৈশ্বিক পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই দেশগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এসব রাসায়নিক রপ্তানি করে, যার প্রায় অর্ধেক যায় এশিয়ায়।

ভারত বিশ্বের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানির প্রায় এক–পঞ্চমাংশ উৎপাদন করে, যার অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যায়। এই ওষুধগুলোর বড় অংশ সাধারণত দুবাইসহ উপসাগরীয় বিমানবন্দর দিয়ে সরবরাহ করা হয়, যা সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সালফার (ধাতু বা ব্যাটারি)
সালফার তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি উপজাত। উপসাগরীয় দেশগুলো এই উপজাত ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়।

সালফারের প্রধান ব্যবহার সার তৈরিতে হলেও এটি ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সালফার থেকে সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা কিনা তামা, কোবাল্ট ও নিকেল প্রক্রিয়াজাত ও লিথিয়াম উত্তোলনে ব্যবহৃত হয়। এই ধাতুগুলো ব্যাটারি তৈরিতে প্রয়োজন হয়। এমনকি গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম, যেমন ড্রোনে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সালফারের সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যাটারিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিবিসি

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটিতে থাকা অন্তত একটি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত সেনাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটপূর্ণ। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০৩ সেনা আহত হলেন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব