• Colors: Blue Color

জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা। তাঁদের অনেকেই ভবিষ্যতে দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চান। শেষ পর্যন্ত তাঁদের কারও গন্তব্য যদি হোয়াইট হাউস হয়ও, তারপরও একটি উপাধি দাবি করতে পারবেন না—‘মুক্ত বিশ্বের নেতা’। বিগত এক বছরে তাঁদের জন্য মুক্তি বিশ্বের নেতা হওয়ার হিসাব–নিকাশ অনেক বদলে গেছে।

সম্মেলনে যোগ দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সিএনএনকে বলেন, সম্মেলনে যেসব নেতার সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন, তাঁরা মনে করেন আটলান্টিক পারের দেশগুলোর জোটের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষতির পেছনে দায় কার? বলাই বাহুল্য যে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে অবনতির জন্য অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তাঁর বক্তব্য ইউরোপের নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে। তা হলো, এখন ‘যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী’ শতাব্দী চলছে। তিনি বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। ইউরোপের পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত হলো—যুক্তরাষ্ট্র সব সময় মিত্রদের পাশে দাঁড়াবে, এমন বিশ্বাস আর ইউরোপের নেই।

দুর্বল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র

সপ্তাহান্তের মিউনিখ সম্মেলনের দৃশ্য ছিল প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের সময়ের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। ম্যাককেইন এই সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে পরিণত করেছিলেন। ২০১৭ সালে মিউনিখে বায়ারিশার হফ হোটেলে ৫৩তম সম্মেলনের প্রথম দিন বক্তব্য দিয়েছিলেন ম্যাককেইন। এখনো সম্মেলনের প্রথম রাতে ওই হোটেলে ম্যাককেইনের নামে নৈশভোজ হয়।

এবার নৈশভোজে ম্যাককেইনের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস। তবে মূল মঞ্চে ম্যাককেইন নামের কেউ ছিলেন না। জার্মান চ্যান্সেলরের দেওয়া সংবর্ধনায়ও কংগ্রেস সদস্যদের উপস্থিতি ছিল কম। এর অর্থ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এরপরও বিশ্ব জনমতের বিরুদ্ধে যেতে তোয়াক্কা করছেন না রিপাবলিকানরা।

যেমন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ তিনি। গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ইরানে পদক্ষেপ নিতে বলছেন। না হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাহস বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা না বদলায়, তা হবে ভয়াবহ। এর মানে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না।

দেশের ভেতরে পরিবর্তন

ট্রাম্পের একের পর এক কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা উন্নতি করছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমেছে। এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউসম সিএনএনকে বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়বেন। আমার মনে হয় বিশ্বও ধীরে ধীরে এই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বেশির ভাগ সদস্য এবার মিউনিখ সম্মেলনে যেতে পারেননি। কারণ, রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল বাতিল করে দেন। এরপরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নিজ উদ্যোগে সম্মেলনে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলোরাডোর প্রতিনিধি জেসন ক্রো। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ক্রো।

সম্মেলনে ক্রো ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন যে ট্রাম্পের হাত থেকে অন্তত কিছু ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তুত। তিনি এই সতর্কবার্তাও দেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে পিছিয়ে দিচ্ছে। ক্রো বলেন, যদিও এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ সমাজের প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপের নেতারাও মার্কিন জনগণের মতোই একই ধাক্কার মুখে পড়েছেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াকে একটি ব্যতিক্রম মনে করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ট্রাম্পের আবার নির্বাচিত হওয়া এবং বিশ্বমঞ্চে তাঁর আরও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ইউরোপের সে ভুল ভাঙিয়েছে। ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। এটি এখন আগের রূপে নেই।

সিএনএন

উত্তর কোরিয়া সম্ভবত একটি উত্তেজনাপূর্ণ পারিবারিক দ্বন্দ্বের দিকে এগোচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শিগগিরই দেশটির সম্ভাব্য উত্তরসূরি বা পরবর্তী নেতা হিসেবে কিম জং–উনের কিশোরী মেয়ে কিম জু আয়ের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

যদি তা–ই হয়, তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতার লড়াইয়ে আয়েকে তার প্রভাবশালী ফুফু কিম ইয়ো জংয়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের বলেছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিম জু আয়ের নাম ঘোষণা হতে চলেছে। কিশোরী আয়ের বয়স ১৩ বছরের আশপাশে।

এ মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জু আয়ে ওই কংগ্রেসে উপস্থিত হয় কি না, তার ওপর নজর রাখছে এনআইএস। উত্তর কোরিয়ায় এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সেখানে দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণত দলীয় কংগ্রেসে পিয়ংইয়ং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নিজেদের বৈদেশিক নীতি, যুদ্ধ পরিকল্পনা, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এর পর থেকে বাবা কিম জং–উনের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আয়েকে দেখা গেছে। এমনকি গত বছর সেপ্টেম্বরে কিম জং–উনের চীন সফরের সময়ও সঙ্গী হয়েছিল আয়ে।

রক্ষণশীল ও পুরুষপ্রধান নেতৃত্বের দেশ উত্তর কোরিয়ার একজন মেয়ে নেতা হতে পারেন কি না, তা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বহুদিন ধরেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিম জু আয়ের ঘন ঘন প্রকাশ্যে আসা তাঁদের সেই ধারণাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

এর আগে এনআইএস তাদের একটি মূল্যায়নে বলেছিল, কিম জু আয়েকে চীনে নিয়ে যাওয়া সম্ভবত উত্তরসূরি হিসেবে জনমনে তার গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

গত বছর জুনে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন, পাশে মেয়ে কিম জু আয়ে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবার পাশে আয়েকে দেখা যাচ্ছে
গত বছর জুনে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন, পাশে মেয়ে কিম জু আয়ে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবার পাশে আয়েকে দেখা যাচ্ছে, ছবি: রয়টার্স

যে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে

কিম জু আয়েকে উত্তরসূরি করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ আসতে পারে কিম জং–উনের বোন কিম ইয়ো জংয়ের পক্ষ থেকে। ৩৮ বছর বয়সী কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন। রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে তাঁর পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

কিম ইয়ো জং বর্তমানে কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে একটি উচ্চ পদে আছেন এবং ভাইয়ের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার ‘সম্ভাব্য’ লড়াই নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্ট তাঁর বরাত দিয়ে বলেছিল, যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন তাঁর সুযোগ আছে, তিনি শীর্ষ পদ দখলের চেষ্টা করবেন।

রাহ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছিলেন, ‘এটা সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমার বিশ্বাস, যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন যে শীর্ষ নেতা হওয়ার সুযোগ তাঁর আছে, তবে তিনি সে সুযোগ নেবেন। তাঁর জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই।’

উত্তর কোরিয়ার ভেতরে ও বাইরে কিম ইয়ো জংয়ের কঠোর ও আপসহীন একটি ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করার জন্য তিনি পরিচিত এবং মাঝেমধ্যেই নিজের নামে বিবৃতি দেন।

উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ‘৩৮ নর্থ’–এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ‘অস্থিরতায়’ কিম জং উনের হঠাৎ মৃত্যুর ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনটিতে গুরুত্ব দিয়ে আরও বলা হয়েছিল, কিম জং–উন ও তাঁর সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কিম জং–উনের হঠাৎ মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কিম ইয়ো জংয়ের মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

বিপরীতে অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীর মধ্যে কিম জু আয়ে ও তাঁর দুই ভাই (ধরা হচ্ছে) আছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। তবে সে সঙ্গে এটাও বলা হয়েছিল, তারা এখনো খুবই ছোট এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই আগামী ৫ থেকে ১৫ বছর বাস্তবসম্মতভাবে উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের বিবেচিত হওয়া সম্ভব নয়।

একসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভাই কিম জং–উনের পাশে নিয়মিত দেখা যেত কিম ইয়ো জংকে
একসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভাই কিম জং–উনের পাশে নিয়মিত দেখা যেত কিম ইয়ো জংকে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

রক্তাক্ত পারিবারিক ইতিহাস

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিবারের ভেতর রক্তপাতের ইতিহাস পুরোনো। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিম জং–উন তাঁর চাচা ও একসময়ের পরামর্শদাতা (মেন্টর) জাং সং থাকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন। ২০১৩ সালে তাঁকে ‘পার্টিবিরোধী, বিপ্লববিরোধী ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

কিম জং–উনের সৎভাই কিম জং–নমকেও হত্যা করা হয়েছে। একসময় কিম জং–নমকে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী বিবেচনা করা হতো। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই নারী কিম জং–নমের মুখে মারাত্মক বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট ‘ভিএক্স’ মেখে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং সেখানে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনের অধিকৃত জমি কেনা সহজ করার লক্ষ্যে নতুন কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় পদক্ষেপগুলো অনুমোদন করা হয়। ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে ‘কার্যত একীভূতকরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

পশ্চিম তীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। অঞ্চলটির বড় অংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে শাসনকাজ পরিচালনা করে।

চলতি বছরের শেষ দিকে নেতানিয়াহুকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ইসরায়েলি বসতি এলাকায় তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। জোটের অনেক সদস্যই পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা এই ভূমির সঙ্গে কথিত বাইবেলীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা দাবি করে থাকে ইসরায়েল।

গতকাল ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম এ বিতর্কিত প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর এক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম তীরে বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছিল ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। ওই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘আমরা বসতি স্থাপনের বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের ভূমির প্রতিটি অংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছি।’

জমি নিবন্ধনের নতুন পদক্ষেপটিকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অবৈধ জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথাযথ জবাব’ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, জমি নিবন্ধন একটি অত্যাবশ্যক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে।

 

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করে, এ পদক্ষেপটি আসলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা। তাদের মতে, অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দখল আরও স্থায়ী করতে ইসরায়েলের নেওয়া পরিকল্পনার সূচনাপর্ব এটি।

ইসরায়েলি বসতি–বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাউ বলেছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিম তীরের প্রায় অর্ধেক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিরা জমি হারাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন। তবে তাঁর প্রশাসন ইসরায়েলের দ্রুত বসতি নির্মাণ ঠেকাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং যত দ্রুত সম্ভব তা বন্ধ করা উচিত। তবে ইসরায়েল এই মত মেনে নেয়নি।

রয়টার্স

দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ রোবববার গোপনে দেশত্যাগ করার সময় সাবেক ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারর আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে।

গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া, ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এবার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হলো তাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গেরমান গালুশচেঙ্কোও তাদের মধ্যে অন্যতম।

দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের বড় একটি সমস্যা। মূলত, এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন শান্তি পর্ষদের সদস্য দেশগুলো আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি  ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেবে।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে স্থানীয় পুলিশ গড়ার জন্য জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে হাজারো কর্মী দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী বৃহস্পতিবার শান্তি পর্ষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক হবে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিসে। সম্প্রতি এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ করেছে। রাষ্ট্রপ্রধানসহ ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল শান্তি পর্ষদের সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই পর্ষদ গঠনের বিষয়টি অনুমোদন করেছিল।

গত বছর ইসরায়েল ও হামাস এই পরিকল্পনায় সম্মত হয় এবং অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে উভয় পক্ষই বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৫৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।

তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতার ও ইসরায়েলের মতো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ এই পর্ষদে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

রয়টার্স

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাইজার রাজ্যে শনিবার ভোরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে চড়ে তিনটি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করেছে। হামলায় বহু বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন দেওয়া হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

ভোরে এই হামলার লক্ষ্য ছিল টুঙ্গা-মাকেরি, কঙ্কোসো ও পিসা গ্রাম।

বেনিন সীমান্ত–সংলগ্ন বরগু এলাকায় এসব হামলা হচ্ছে। যাকে স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তাণ্ডব হিসেবে দেখা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলজুড়ে এসব গোষ্ঠী প্রাণঘাতী হামলা, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও বহু মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার জন্য দায়ী।

নাইজার স্টেট পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অসংখ্য মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে এর সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা যায়নি।

কঙ্কোসো গ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি আবিওদুন। তিনি বলেন, ‘যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

নাইজেরিয়াজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে।

উত্তর নাইজেরিয়ায় একদিকে ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী, অন্যদিকে সশস্ত্র অপহরণকারী চক্র—এই দুইয়ের সমন্বয়ে জটিল নিরাপত্তা–সংকট চলছে।

চলতি মাসের শুরুতে পাশের কাওরা রাজ্যে ভয়াবহ এক হামলায় ১৬২ জন নিহত হন। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবারের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টানদের সুরক্ষা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যদিও হামলার শিকার হচ্ছেন খ্রিষ্টান ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই। এ অভিযোগের পর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটিতে মার্কিন সামরিক দলের উপস্থিতি দেখা গেছে।

কঙ্কোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়া টিমোথি, যিনি হামলার পর পাশের এলাকায় পালিয়ে যান, বলেন—শনিবার ভোরে এলোপাতাড়ি গুলির শব্দে হামলা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়ার পর গ্রামে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৬টার দিকে হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে।

জেরেমিয়া টিমোথি আরও জানান, হামলার সময় আকাশে সামরিক যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০০টির বেশি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা এলাকায় ঢুকে একের পর এক গ্রামে তাণ্ডব চালায়।

টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামের বাসিন্দা আওয়াল ইব্রাহিম জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় তিনটার দিকে তাঁদের গ্রামে হামলা হয়।

ইব্রাহিম বলেন, ‘অসংখ্য মোটরসাইকেলে চড়ে তারা আমাদের গ্রামে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, ছয়জনের শিরশ্ছেদ করে এবং আরও কয়েকজনকে হত্যা করে। দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে পুরো গ্রামকে পালাতে বাধ্য করে।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব