• Colors: Blue Color

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে ভোরের দিকে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারকাপুরাম জেলার কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস ও পাথরবোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর আগুন ধরে যাওয়ায় অন্তত ১৩ যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার(২৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলসের একটি প্রাইভেট বাস তেলেঙ্গানার নির্মল থেকে নেলোর জেলার বিঞ্জামুরু যাচ্ছিল, সেই সময় কানিগিরি থেকে আসা লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরে উভয় যানবাহনে আগুন লাগে, যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। বাসে তখন প্রায় ৩৫–৪০ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। মারকাপুরাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর অবস্থার ৫ জনকে গুন্টুর জিজিএইচএ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে।
পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে জানানো এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তল্লাশি চলার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

কিয়েভ

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা বেশ কিছু বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মধ্য তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া তেল আবিবের উত্তরে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

আজ বৃহস্পতিবার রাত ১টা ১০ মিনিটে (গতকাল বুধবার দিবাগত রাত) এ হামলা চালানো হয় বলে হিজবুল্লাহ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

কিরিয়া এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

হিজবুল্লাহর এ হামলার দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের লড়াই চলছে। ইসরায়েলও জানিয়েছে, গতকাল সেখানে তাদের আরও এক সেনা ‘গুরুতর আহত’ হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বা ‘নিষ্কৃতি মৃত্যুর’ (প্যাসিভ ইউথানেশিয়া) অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশের মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে তাঁর ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন। মৃত্যু কার্যকরের জন্য ১৪ মার্চ ৩১ বছর বয়সী হরিশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ১১ দিনের মাথায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর পর কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করে হরিশের মা–বাবা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১৩ বছর কোমায়

২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান হরিশ। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবন থমকে যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী হরিশের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্রাকোস্টমি টিউব এবং কৃত্রিমভাবে খাবার দেওয়ার জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউব ব্যবহার করা হতো। ছেলের সুস্থ হওয়ার আশা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসার পর তাঁর মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর মা–বাবা।

ঐতিহাসিক রায়

১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে হরিশ রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। ভারতে এটিই ছিল প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি। আদালত বলেন, ১৩ বছরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যখন কোনো রোগীর ফিরে আসার আশা থাকে না, তখন তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকের ওপর থাকে না। একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ নিয়ে সরকারকে দ্রুত আইন করারও আহ্বান জানান শীর্ষ আদালত।

আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে এইমসের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সীমা মিশ্রর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হরিশের কৃত্রিম খাবার ও লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। তবে অরুণার ক্ষেত্রে হাসপাতালের কর্মীদের আপত্তির কারণে সে সময় আবেদনটি নাকচ হয়েছিল। ফলে হরিশ রানাই হলেন ভারতের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর ক্ষেত্রে আইনত এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হলো।

থাইল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পর একটি থাই তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ব্যাংচাক করপোরেশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অনুরোধ করেছিলাম যে থাই জাহাজগুলোর যদি এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তারা নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে কি না?’

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা (ইরান) ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি দেখবে। পাশাপাশি কোন কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করবে, আমাদের কাছে সেগুলোর নাম চেয়েছে।’

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে ইরানের সম্মতি নিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চিত করতে পারি যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া একটি নথি তারা ইরানিদের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন। এখন তাঁরা এর জবাবের অপেক্ষায় আছেন।”

এ ছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক হতে পারে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করে আসছেন। তবে ইরান বলছে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব