• Colors: Blue Color

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের পাঁচজন মন্ত্রীও।

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার বসেছিল শপথ অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা। তাঁরা হলেন—বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন।

ক্ষুদিরাম টুডু সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডাকে শপথ মঞ্চে দেখা গেছে।

শপথ অনুষ্ঠানের পুরোটাজুড়ে বাঙালি আবহ দেখা গেছে। আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী। বিশ্বকবির জন্মদিনে শপথ মঞ্চসহ পুরো ময়দানে বাজানো হয় রবীন্দ্রসংগীত। প্রধানমন্ত্রী মোদি মঞ্চে উঠেই কবিগুরুর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬
শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬, ছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে

ময়দানের ভিড়ে ছিল আদিবাসী, রায়বেশি, ছৌ নাচ। গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুর আর নাচে মাতিয়ে রাখেন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিল্পীরা। ছিল রসগোল্লা, লাড্ডু ও দইসহ বাংলার নানা মিষ্টিতে আপ্যায়ন। সঙ্গে ঝালমুড়ি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ।

আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি। দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ মে। তার বিদায়ের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানির নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টার পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এই পদে আছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারতের উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি। তারও আগে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন চিফ (জিওসি-ইন-সি) ছিলেন।

১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে পদাতিক রেজিমেন্ট 'দ্য গারওয়াল রাইফেলস'-এ কমিশন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এন এস রাজা সুব্রামানির সামরিক জীবন শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তার দীর্ঘ ৪১ বছরের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি দেশটির বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা, স্টাফ এবং প্রশিক্ষক পদেও নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষাগত জীবনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (আইএমএ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও পড়াশোনা করেছেন।

সুদীর্ঘ ও গৌরবময় পেশাগত জীবনে এন এস রাজা সুব্রামানি ৪টি বিশেষ পদক অর্জন করেছেন। পদকগুলো হলো—বিশিষ্ট সেবা পদক, সেনা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক।

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি। শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রীরা।

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার একটু পর রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে অভিবাদন জানান। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও এপিবি আনন্দের।

শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে
 

অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছাদ খোলা গাড়িতে মোদির পাশেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁরা তিনজন হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।

রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ দিনে শপথ মঞ্চে উঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

আগেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। শপথ মঞ্চে দেখা গেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান, জেপি নাড্ডাকে।

শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬।
শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬।ছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে
 

বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ।

আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সবগুলো জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তখন শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬ ছবি: এএনআই
 

তার আগে গতকালই কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ।

শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো হয়েছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলা হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে ইরানও বলেছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তাঁরা শুক্রবারের মধ্যে ইরানের জবাব পাওয়ার আশা করছেন। সেই জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’ যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর অর্থ হলো, এ অভিযান পরিচালনার জন্য দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।

হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকাতেও বিমান হামলা হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কেশম দ্বীপ, বন্দর খামির এবং সিরিক এলাকায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের একটি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হামলায় ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন এবং ৫ জন এখনো নিখোঁজ।

ইরানের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তাদের সেনারা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরান তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট নৌযান ব্যবহার করেছিল। তবে এসব হামলায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট ৭০টির বেশি জাহাজকে বাধা দিয়েছে। এসব বাণিজ্যিক জাহাজের মাধ্যমে ইরানের প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব ছিল, যার বাজারমূল্য ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ট্রাম্পের হুমকি ও বক্তব্য

সেন্টকমের অনুসরণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের হামলায় তাদের তিনটি ডেস্ট্রয়ার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী দ্রুত জবাব দিয়ে হামলাকারী নৌযান ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সহজে ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত আলোচনায় বসে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তেহরানের ভানাক স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালির ছবি রয়েছে
তেহরানের ভানাক স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালির ছবি রয়েছে, ছবি: রয়টার্স
 

যখনই কোনো ‘কূটনৈতিক সমাধান আলোচনার টেবিলে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘এটা কি কেবল চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল? নাকি কোনো ষড়যন্ত্রকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরেকটি জটিল সংকটে জড়িয়ে ফেলছে?’

প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার ইতালির রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবারের মধ্যে ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের জবাব পাবে বলে আশা করছে। যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা দেখব জবাবে কী আছে। আমাদের আশা, এতে এমন কিছু থাকবে, যা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে।
হরমুজ প্রণালিতে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা যেকোনো ‘আগ্রাসন ও দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাব দিতে প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ১৪ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তাদের অন্তত ১২ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, ইরানের আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলার সম্পদ মুক্ত করে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রাজনীতিবিশেষজ্ঞ নেগার মরতাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, সংঘাত শেষ হলে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবারও শুরু হচ্ছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্ট ফ্রিডম আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অভিযানের মাধ্যমে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনী।

গত সোমবার এ অভিযান শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পর স্থগিত করা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ চলবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এখন প্রজেক্ট ফ্রিডম আবার শুরুর পরিকল্পনা করছেন। কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এ সপ্তাহেই অভিযানটি আবার শুরু হতে পারে।

রয়টার্স এএফপি

কলকাতা

ওয়াশিংটন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব