• Colors: Blue Color

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই চরম পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য। খরব প্রেস টিভির। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই কড়া বার্তা দেন। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে, তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বাহরাইনের মতো রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ; তাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না যাতে ইরান এটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। গত মাসেই একই ধরনের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তেহরানও ওই অঞ্চলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরান ইতোমধ্যেই তার শত্রু দেশগুলোর জন্য এই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে।

তেহরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন 'আইনি শাসন' চালুর পরিকল্পনা করছে ইরানের সংসদ। 

ইব্রাহিম আজিজি জানান, এই সংক্রান্ত একটি বিল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়া মাত্রই এটি স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হবে।

এদিকে ইরানের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত এই নতুন আইন অনুযায়ী ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী কোনো জাহাজকে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশের ক্ষেত্রেও একই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য দেশের জাহাজকে নির্দিষ্ট পরিমাণ 'টোল' বা মাশুল দিতে হবে। এই অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। এই হুঁশিয়ারির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মিয়ানমারের মোগোক অঞ্চল রত্নপাথরের জন্য আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এবার যা পাওয়া গেল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। দেশটির মান্দালয় অঞ্চলের সেই বিখ্যাত মোগোক উপত্যকায় পাওয়া গেছে ১১ হাজার ক্যারেটের বিশালাকৃতির একটি রুবি। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম রত্নপাথর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে। রঙের গুণমানের দিক থেকে এটি উচ্চমানের রত্ন হিসেবে স্বীকৃত।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার–এর একটি প্রতিবেদনে গত শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় দেখা গেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং তাঁর দপ্তরে বসে বিশাল এই পাথর খুঁটিয়ে দেখছেন। প্রায় ২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রত্নপাথরটিকে ‘ব্যতিক্রমী বড় ও বিরল’ বলে বর্ণনা করেছে জান্তা সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে। রঙের গুণমানের দিক থেকে এটি উচ্চমানের রত্ন হিসেবে স্বীকৃত। যদিও ১৯৯৬ সালে এ এলাকাতেই ২১ হাজার ৪৫০ ক্যারেটের আরও বড় একটি রুবি পাওয়া গিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পাওয়া পাথরটির স্বচ্ছতা ও রঙের গভীরতা আগেরটির চেয়ে অনেক বেশি। ফলে এর আর্থিক মূল্য হবে আকাশচুম্বী।

মোগোক উপত্যকার রুবিগুলো বিশ্বে ‘পিজিয়ন ব্লাড’ বা কবুতরের রক্তবর্ণের রুবি হিসেবে পরিচিত, যা রত্নবাজারে সবচেয়ে দামি। সম্রাট, রাজা থেকে শুরু করে যুদ্ধবাজ শাসকেরা যুগে যুগে এ উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছেন। কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মনীতি না থাকায় এসব খনির রত্ন অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে লাখো–কোটি ডলারে বিক্রি হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক জান্তার অধীনে থাকলেও, সম্প্রতি এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর মেয়াদের শুরুতেই এমন মহামূল্যবান রত্ন উদ্ধারকে দেশটির সরকারের জন্য বড় ধরনের ‘লটারি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এএফপি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রী বহনকারী একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ। এমভি হোন্ডিয়াস নামের প্রমোদতরিটি আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় এক মাস আগে যাত্রা শুরু করেছিল। হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ওই প্রমোদতরির তিনজন যাত্রী মারা গেছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এখন ওই প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে আর কেউ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ যাত্রীরা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইটে করে ফিরে গেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল শুক্রবার বলেছে, প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ছয়জনের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু (মৃত্যুহার ৩৮ শতাংশ) হয়েছে। ৮ মে পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফরাসি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, যাঁরা হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলোর সব কটিই ভাইরাসটির ‘আন্দেস’ ধরন। এ ধরনটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

অবশ্য স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই কম। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের আসলে এ ভাইরাস নিয়ে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?

এটি কোভিড নয়

বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ত্ববিদ মারিয়া ভ্যান কারকোভ আশ্বস্ত করে বলেন, এটি কোনো মহামারির সূচনাপর্ব নয়।

মারিয়া আরও বলেন, ‘এটি কোভিড নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়ায়।’

যদিও হামের মতো রোগগুলো খুব সহজে ও দ্রুত ছড়ায়, সে তুলনায় হান্টাভাইরাসের ‘আন্দেস ধরনটি’ ততটা সংক্রামক নয়। মানুষ থেকে মানুষে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কীভাবে শুরু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ায়। ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালার কণা মিশ্রিত বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

প্রমোদতরিটি দূরে বন্য প্রাণীর বসবাসের এলাকায় গিয়েছিল। তখন হয়তো কোনো যাত্রী ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন এবং জাহাজে উঠেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দেস ধরনের এই ভাইরাস আগের কিছু ঘটনায় খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়িয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এমভি হোন্ডিয়াসের ভেতরেও কিছু সংক্রমণ হয়তো মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আগের কিছু ঘটনার ভিত্তিতে দেখেছেন, খুব কাছাকাছি ও দীর্ঘ সময়ের সংস্পর্শে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের মধ্যে আন্দেস ধরনের হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিলাসবহুল প্রমোদতরিতেও অনেক সময় জায়গা সীমিত থাকে। যাত্রীদের অনেক সময় একই কেবিন ও ডাইনিং এলাকা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

কেউ যদি দীর্ঘ সময় খুব কাছাকাছি শারীরিক সংস্পর্শে থাকে, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

এমভি হোন্ডিয়াস প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের এক নারীও আছেন। গত ২৪ এপ্রিল এমভি হোন্ডিয়াস সেন্ট হেলেনা দ্বীপে পৌঁছালে তিনি জাহাজ থেকে নেমে যান। তিনি আগে তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই কেবিনে ছিলেন, যিনি ১১ এপ্রিল জাহাজের ভেতরেই মারা যান। তবে স্বামী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বলেছে, হান্টাভাইরাস সাধারণ সামাজিক মেলামেশা—যেমন বাইরে হাঁটা, দোকানে যাওয়া, কর্মস্থল বা স্কুলে যাওয়া–আসার মাধ্যমে ছড়ায় না।

হান্টাভাইরাসের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এক মাসের বেশি সময় পরেও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। জাহাজে, হাসপাতালে বা যাত্রীদের নেওয়া কোনো ফ্লাইটে থাকা মানুষ যদি সংক্রমণের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ইউকেএইচএসএ বলেছে, এমভি হোন্ডিয়াস থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের সব যাত্রীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫ দিন স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকতে বলা হবে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক রবিন মেই বলেন, এই প্রমোদতরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি ‘খুবই নগণ্য’ বা প্রায় নেই বললেই চলে।

আন্দেস ধরনের হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো হতে পারে। যেমন জ্বর, ক্লান্তি, শরীর ব্যথা। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। এই সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসহায়তা পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী দেওয়া হয়।

হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে (এইচপিএস) আক্রান্ত এক রোগীর যকৃতের টিস্যুর আণুবীক্ষণিক চিত্র
হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে (এইচপিএস) আক্রান্ত এক রোগীর যকৃতের টিস্যুর আণুবীক্ষণিক চিত্রছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা সংস্থার (ইউকেএইচএসএ) সংক্রমণ বিভাগের উপপরিচালক মীরা চাঁদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো খুবই কম। এ বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা জরুরি।’

এমভি হোন্ডিয়াসকে তিন দিন কেপভার্দের (পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের একটি দ্বীপপুঞ্জ) কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। এখন এটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের পথে আছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজে থাকা বাকি যাত্রী ও ক্রুরা নিজ নিজ দেশে উড়োজাহাজে করে ফিরবেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জাহাজে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

প্রমোদতরিতে থাকা যাত্রীদের জাহাজের ভেতরেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পুরো জাহাজটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।

ভ্রমণ সংস্থা ওশেনওয়াইড এক্সপিডিশনস গত বৃহস্পতিবার বলেছে, বর্তমানে জাহাজে থাকা কোনো যাত্রীর মধ্যেই কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। তারা আরও বলেছে, গত ২৪ এপ্রিল জাহাজটি সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নোঙর করেছিল। তখন যুক্তরাজ্যের সাতজন নাগরিকসহ ৩০ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমে গেছেন। তাঁদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বলেছে, সেন্ট হেলেনায় এমভি হোন্ডিয়াস থেকে নেমে যাওয়া যুক্তরাজ্যের দুই নাগরিক জোহানেসবার্গ থেকে ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তাঁরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দুজন এখন যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন এবং বর্তমানে তাঁদের কোনো উপসর্গ নেই।

ইউকেএইচএসএ আরও বলেছে, সেন্ট হেলেনায় নেমে যাওয়া যুক্তরাজ্যের অন্য পাঁচ নাগরিক এখনো দেশে ফেরেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ও অ্যারিজোনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, ওই প্রমোদতরি থেকে নেমে দেশে ফেরা তিনজন যাত্রীকে তাঁরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাঁদের কারও মধ্যেই এখন পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

এএফপি
বিবিসি

বাড়ি থেকে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়াতে বিশেষ আচার পালনের খবরে তদন্তে নেমে দীর্ঘ ৩৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি)। ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়া ফারজানা দোশু রাধানপুরী ওরফে শবনমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি বাড়ির ১৪ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল আমদাবাদের ভাটভা এলাকার কুতুবনগরের একটি বাড়ি থেকে ফারজানা ওরফে শবনমের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিবার তাদের বাড়িতে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়ানোর জন্য বিশেষ আচার পালন করছে, এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এরপর একটি পুরনো ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ২৯ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক দলের উপস্থিতিতে কুতুবনগরের ওই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে মানুষের হাড়, দাঁত ও চুল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পুলিশ মুম্বাই ও ধোলকা থেকে ফারজানার ভাই ও বোনকে খুঁজে বের করে। তাদের রক্তের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হাড়ের ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর গত ৮ মে ফরেনসিক বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি নিখোঁজ ফারজানারই দেহ। এরপরই পুলিশ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে।

পুলিশ এই ঘটনায় মোট চারজনকে অভিযুক্ত করেছে, তাদের মধ্যে দুইজন জীবিত এবং দুইজন মৃত। শামসুদ্দিন মুসাজি খেদাওয়ালা ও ইকবাল মুসাজি খেদাওয়ালা, এই দুই ভাই বর্তমানে জীবিত এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, আবদুল করিম ইয়াকুবজি জাওরাওয়ালা, যিনি অভিযুক্তদের বন্ধু বলে পরিচিত তিনি বর্তমানে মৃত। আরেকজনের নাম সালিয়া বিবি সামাতখান পাঠান, যিনি ওই বাড়ির মালিক তিনিও বর্তমানে মৃত।

তদন্তে জানা গেছে, সালিয়া বিবি মৃত্যুর আগে বাড়িটি দুই ভাগে ভাগ করে তার ছেলে ও মেয়েকে দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ফারজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিরে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি) জীবিত দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, আলামত নষ্ট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মৃতদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ রিপোর্ট দাখিল করা হবে জানিয়েছে ডিসিবি।

ওয়াশিংটন

ওয়াশিংটন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব