• Colors: Blue Color

নিজেদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে হঠাৎ আফগানিস্তানের ভেতরে ঢুকে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে হামলার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

আল-জাজিরাকে আফগান সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোববার আফগানিস্তানের দুটি সীমান্তবর্তী প্রদেশ পাকতিকা ও নানগারহারে এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুলেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, হামলাগুলোতে ‘সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানা’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আস্তানাগুলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে।

আর পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি শিবিরে ‘নির্বাচিত অভিযান’ চালানো হয়েছে। টিটিপি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার দায়ে অভিযুক্ত। সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

আল-জাজিরা বলছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই আফগানিস্তানে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালালো ইসলামাবাদ। বান্নু জেলার ওই হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুজন সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার বন্দুকধারীদের সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি বাজায়ুরের একটি নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এতে ১১ জন সৈনিক ও এক শিশু নিহত হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিল।

আর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

পাকিস্তান বলছে, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে চালানো হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। ইসলামাবাদ বহুবার অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে, তালেবান সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানের এই বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনায় জরুরি বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

আফগান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের এটির জবাব দেওয়ার অধিকার আছে। কোন সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে সেটি তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে চালানো সর্বশেষ এ হামলায় এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ডজনখানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়েছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। ওই সংঘাতে দুই দেশই বহু সৈন্য হারিয়েছে। পরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে, পাকিস্তানের সবশেষ হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও বেজে উঠেছে।

 

রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির সেনারা মস্কোর পূর্বে ভটকিনস্কে অবস্থিত রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাটিতে হামলা চালিয়েছে। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ভটকিনস্ক ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিমি দূরে অবস্থিত।

ইউক্রেনের সেনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশীয়ভাবে তৈরি ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ফলে কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায়।

রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ আগেই জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি স্থাপনায় রাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আলেকজান্দার ব্রেচালভ বলেন, ‘হামলার ফলে ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশেপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া

রাশিয়া তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। শীতের মাসগুলোতে লাখ লাখ ইউক্রেনীয়ের জন্য বিদ্যুৎ এবং তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনও ক্রমেই রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে সামারা অঞ্চলের রাশিয়ার কর্মকর্তারা এমন কোনো হামলার খবর প্রকাশ করেননি।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেওয়ার পর খুব দ্রুতই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার রাতে সারা বিশ্ব থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।

এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
 

এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ কারণে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের রায়ে আগের শুল্কব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্য এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।

আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে।
স্কট বেসেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং বলেন, ‘কানাডার উচিত আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও নতুন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপে তারা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন তিনি। শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বিরাট এক ধাক্কা হয়ে আসে। ওই শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ (অর্থনৈতিক) বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তা বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একটি চুক্তিতে সম্মত হতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এমনটা ভাবা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সন্দেহ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাঁর দেশ ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেনেভায় আলোচনা চলার সময়ও ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে দেখা গেছে। মোতায়েন করা সরঞ্জামের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও আছে। এটি অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর কিছু ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি রয়েছে।

ইতিমধ্যে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পোস্ট করে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি লিখেছেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র; কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা এটিকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প সপ্তাহে কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কখনো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় যুক্ত হন, আবার কখনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে করে ভ্রমণের সময় কথা বলেন।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো যে সব সময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়, তা নয়। অনেক সময় সেগুলো একটি অপরটির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়।

ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ যেন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ভাবনাগুলো নিজের ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে সীমিত রাখতে পছন্দ করেন।

গত বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এক প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব না। আমরা কোনো না কোনোভাবে একটি চুক্তি করব অথবা চুক্তি আদায় করব।’

বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আজ শুক্রবার দেওয়া এ রায়ের ফলে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ট্রাম্প শুল্ককে যেভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, তা আটকে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে ছয়জন এ রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন তিন বিচারপতি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সমর্থিত বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) রয়েছে, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই শুল্ক আরোপকে আইনবহির্ভূত বললেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত যে ১৩০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র আদায় করেছে, তার কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পাল্টা শুল্ক’। এ ছাড়া মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

রায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন কনজারভেটিভ বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থী তিন বিচারপতি। তাঁদের এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। এর আগে দেশটির নিম্ন আদালত বলেছিলেন, আইইইপিএর অধীনে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক অবৈধ ছিল। আজকের রায়ের বিপক্ষে ছিলেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।

আদালতের এই রায় নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই–পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রগরি ডাকো এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গড় শুল্ক হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এই কমাটা সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে। কারণ, নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে শুল্ক নীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ‘প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশিমতো সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করবে’। তবু প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করার সুযোগ রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই এক শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় সোলজারবাজার এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের করাচি শাখার প্রধান হাসান খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে যখন ভবনের বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন অনেকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক।

করাচিতে এই ধরনের ভবন ধসের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে শহরের উপশহর লিয়ারিতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বারবার এমন দুর্ঘটনায় শহরের ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর প্রশাসন ইতিমধ্যে করাচির প্রায় ৬০০টি ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভবনগুলো অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মিত এবং যে কোনো সময় এগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব