• Colors: Blue Color

প্যারিস

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রাণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে ইরানকে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়তে হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এ হুমকি দেন। হরমুজে কোনো জাহাজে হামলা না চালানোর জন্য তেহরানকে সতর্ক করে দেন তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম চলাকালে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে ইরানে ভারী হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রতি সরাসরি উপহার হিসেবে, আমরা হরমুজ প্রণালীতে একটি শক্তিশালী লাল, সাদা, এবং নীল গম্বুজ স্থাপন করেছি। কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে ইরানকে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে। ’ 

সূত্র: আল–জাজিরা।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ছয়টি দ্রুতগামী গানবোট লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের ছয়টি গানবোটই ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

মূলত, পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ পার করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, 'আমরা মোট ছয়টি 'ফাস্ট বোট' ধ্বংস করেছি। তাদের কাছে সম্বল হিসেবে এই কয়টি বোটই ছিল, তবে এখন আর নেই। 

মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। 

তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য বাংলাদেশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গতকাল সোমবার আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পল কাপুর এই ধন্যবাদ জানান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয়।

ওয়াশিংটন ডিসি সফররত বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজক ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল।

ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ঐতিহ্যবাহী ভবনের ছাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন পল কাপুর। তিনি যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) নিয়ে কথা বলেন। পল কাপুর বলেন, চুক্তিটি মার্কিন পণ্য প্রবেশসহ ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশল ঠিক করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বক্তব্য দেন। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

‘সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ২৫ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এখন ওয়াশিংটন ডিসি সফর করছে। সামিট হচ্ছে ৩ থেকে ৬ মে। সামিটে ১০০টির বেশি দেশের প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী ২ হাজার ৭০০ জন।

কেরালার রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি হয়েছে বামপন্থিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে জয় পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের প্রার্থী ফাতেমা তাহলিয়া। তিনি সিপিআই(এম) এর প্রবীণ নেতা রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জয়ী হন।

৩৪ বছর বয়সী ফাতেমা তাহলিয়া মোট ৬৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে ৪ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন নজির স্থাপন করেছেন।

কোজিকোড জেলার পেরুভায়ালে জন্ম নেওয়া তাহলিয়া ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কোজিকোড করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

পেশায় আইনজীবী ফাতেমা তাহলিয়া কোজিকোড সরকারি আইন কলেজ থেকে এলএলবি এবং ত্রিশুর সরকারি আইন কলেজ থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কালিকট জেলা আদালতে আইন পেশায় যুক্ত আছেন।

তবে নির্বাচনী লড়াই তার জন্য সহজ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি সাইবার হামলা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত একজন মুসলিম তরুণী হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানো হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও তিনি শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামপন্থিদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এই ফলাফল কেরালার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব