• Colors: Blue Color

এক মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শুমার বলেন, ‘এক মাস আগেও দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার। আজ তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেবল একজন মানুষই দায়ী, আর তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ডেমোক্রেটিক দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা শুরু থেকেই ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগের এক পোস্টে শুমার উল্লেখ করেন যে, এই অনর্থক যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি ডলার ‘অপচয়’ করা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাবেই বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আল–জাজিরা

যমুনা টেলিভিশনে ৮ম শ্রেণি পাস ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রোপচারের সংবাদ প্রচারের পর রাজধানীর শ্যামলীর কলেজ গেটের ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি।

হাসপাতালে গিয়ে সেখানে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীও মন্ত্রী আসার খবরে হাসপাতালে জড়ো হন। তারাও ডক্টরস কেয়ার হাসপাতালে এসে প্রতারিত হবার অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুরো হাসপাতাল একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে চলে বলে মন্তব্য করেন। পরে হাসপাতাল সিলগালা করার নির্দেশনাও দেন তিনি। এর পরপরই সেখানে থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টারের সঙ্গেও কথা বলেন। শোনেন রিপোর্ট করতে গিয়ে কতটা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

এরআগে, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে যমুনা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, নাম সর্বস্ব ক্লিনিকটিতে যারা অপারেশন করতেন, তাদের কেউ ছিলেন সরকারি হাসপাতালের দালাল। কেউ আবার ছিলেন ডাক্তারের চেম্বারের কর্মচারী। তারাই এখন নিয়মিত অস্ত্রোপচার করছেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীর কলেজ গেটের ওই হাসপাতালের মালিকও তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ট্রাম্প জানান, রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’

ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।

ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে ট্রাম্প জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

ট্রাম্প যোগ করেন, তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। সে অনুযায়ী তাঁর দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (তেহরান সময় মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৪ মিনিট) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের হুমকির পরদিন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলো ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হতে পারে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যদি তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেন ‘বিদ্যুৎকে বিদায় জানায়’।

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গতকাল রোববার জানান, ‘ইরানের শত্রু’ দেশগুলোর জাহাজ বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে দিনের শেষ ভাগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

আজ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো হামলার একই ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা তেহরান অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই দাবিকে জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে।

সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার গভীর রাতের এ ঘটনার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ওই ট্রাক পুলিশ সদস্যরা পরিচালনা করছিলেন। এর আগে জানানো হয়েছিল, একজন সার্জেন্ট ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং তাঁরা হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জ্যাজ এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত এয়ার কানাডার সিআরজে-৯০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজ ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিয়েল থেকে আসছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’ জানিয়েছে, রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ মাইল বেগে ফায়ার ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়।

রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি ওপরের দিকে হেলে আছে।

দুর্ঘটনার পর মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, আজ সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এর মধ্যে ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা
নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা, ছবি: রয়টার্স

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকটি রানওয়েতে অন্য একটি ঘটনায় জরুরি ডাকে যাওয়ার সময় ৪ নম্বর রানওয়েতে উড়োজাহাজটির সঙ্গে ওই সংঘর্ষ হয়।

এ দুর্ঘটনার কারণে নিউইয়র্ক সিটির জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর এলাকায় ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়, সড়ক বন্ধ ও যানজট তৈরি হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ান সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর ধরে অভিবাসন হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী লেকা করদিয়া। গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আবার ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আটক করা হয়।

২০২৪ সালের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বাইরে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লেকাকেও আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০২৫ সালের মার্চে নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের সময় আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ২০২২ সালেই ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, বিদেশে অর্থ পাঠানো নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে করদিয়া দাবি করেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অভিবাসন বিচারক করদিয়ার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় জামিন শুনানিতে বিচারক সরকারের যুক্তিকে অসৎ আখ্যা দিয়ে ১ লাখ ডলার জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) টেক্সাসের ডালাসের কাছে একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের করদিয়া বলেন, আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমি মুক্ত! আমি মুক্ত! অবশেষে, এক বছর পর।

ডিএইচএস অভিযোগ করেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, তিনি কেবল আত্মীয়স্বজনদের কাছেই অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


সূত্র: বিবিসি

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব