• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আজ রোববার আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন তত্ত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হেবারমাস মারা গেছেন। তিনি জনপরিসর তত্ত্বের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত। শনিবার জার্মানির স্টার্নবার্গে ৯৬ বছর বয়সে হেবারমাসের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জুহকাম্প।

যুদ্ধোত্তর জার্মানির জনপরিসরে যেকোনো জনপ্রিয় বুদ্ধিজীবীর চেয়ে তাঁর চিন্তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সাত দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান জার্মানিকে বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে পথ দেখিয়েছে।

পঞ্চাশের দশকে ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার তীব্র সমালোচনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে পুনরুত্থান ঘটা সামরিকবাদ ও জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর জোরালো সতর্কবার্তা—সবকিছুই দেশটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।

শুধু তাঁর দীর্ঘায়ু নয়, বরং যে দেশে যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদ ক্রমে ম্লান হয়ে আসছে এবং কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে, সেখানে তাঁর চিন্তাধারার নতুন প্রাসঙ্গিকতাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

‘জনতার দিশারি’

১৯২৯ সালের ১৮ জুন ডুসেলডর্ফের এক বুর্জোয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হেবারমাস। জন্মের পর এবং শৈশবের শুরুর দিকে ঠোঁটকাটা সমস্যার কারণে তাঁর দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট কথা বলার জড়তা তাঁর ‘যোগাযোগ’ বা ‘কমিউনিকেশন’ সংক্রান্ত তত্ত্বের ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলে প্রায়ই বলা হয়।

হেবারমাস একটি কট্টর প্রোটেস্ট্যান্ট পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ, যিনি ১৯৩৩ সালে নাৎসি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে হেবারমাসের ভাষ্যমতে, তাঁর বাবা ছিলেন কেবল একজন ‘নিষ্ক্রিয় সমর্থক’।

তৎকালীন জার্মানির অধিকাংশ কিশোরের মতো হেবারমাসও ‘হিটলার ইয়ুথ’-এ যোগ দিয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষ দিকে ১৫ বছর বয়সে সামরিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি নাৎসি বাহিনীতে নিয়োগ এড়াতে সক্ষম হন।

বন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হেবারমাস তাঁর সহপাঠী উটে ভেসেলহফ্টের প্রতি আকৃষ্ট হন। আধুনিক শিল্পকলা, চলচ্চিত্র এবং সাহিত্যের প্রতি তাঁদের দুজনেরই ছিল গভীর অনুরাগ। ১৯৫৫ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছর ভেসেলহফ্ট মারা যান। তাঁদের সন্তান তিলমান ও জুডিথ জীবিত আছেন। তাঁদের তৃতীয় সন্তান রেবেকা ছিলেন একজন আধুনিক যুগের ইতিহাসবিদ। তিনি ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৫০-এর দশকে একজন সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন হেবারমাস। তিনি ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল এবং থিওডোর অ্যাডর্নো ও ম্যাক্স হরখাইমারের মতো মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

নিজের গবেষণাপত্রে হেবারমাস ‘পাবলিক স্ফিয়ার’ বা জনপরিসরের বিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। এতে আঠারো শতকের ইউরোপীয় বুর্জোয়া শ্রেণির বৈঠকখানা থেকে শুরু করে বিশ শতকে গণমাধ্যম-নিয়ন্ত্রিত জনপরিসরে এর রূপান্তরের বিষয়টি উঠে আসে।

হেবারমাসের এই বার্তা যুদ্ধোত্তর পশ্চিম জার্মানদের হৃদয়ে গভীরভাবে সাড়া জাগিয়েছিল। নাৎসি একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তির পর সেই সময়ের পশ্চিম জার্মানরা তখন সবে স্বাধীনভাবে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে শিখছিল। এমন এক রক্ষণশীল সরকারের প্রেক্ষাপটে তারা এই শিক্ষা নিচ্ছিল, যাদের ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ছিল খুবই সামান্য।

হেবারমাসের জীবনীগ্রন্থ ‘দ্য ফিলোসফার’–এর লেখক ফিলিপ ফেলশ বলেছেন, হেবারমাস যুদ্ধোত্তর জার্মানদের জন্য একধরনের ‘জনতার দিশারি’ হয়ে উঠেছিলেন। একটি উদারনৈতিক গণতন্ত্র বজায় রাখার ক্ষেত্রে জার্মানদের সক্ষমতা নিয়ে তিনি একই সঙ্গে আশাবাদী এবং সন্দিহান ছিলেন।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি দল মোতায়েন করা হচ্ছে।

জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত নিজেদের ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন যাত্রাপথে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’।

[caption id="attachment_269488" align="alignnone" width="637"] জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত নিজেদের ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন যাত্রাপথে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ছবি: ইউএস এভিয়েশনের ইউটিউব ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট[/caption]

এ যুদ্ধজাহাজ থেকেই মেরিন সেনারা সরাসরি রণক্ষেত্রে নামবেন। কোনো সংকট মোকাবিলা কিংবা ইরানের কোনো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনে তাঁদের ব্যবহার করা হতে পারে।

মূলত এ মেরিন সেনারাই হতে যাচ্ছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে মোতায়েন হওয়া প্রথম মার্কিন স্থলসেনা।

এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ধীরে ধীরে তাদের সামরিক শক্তিবৃদ্ধি করছে এবং খুব দ্রুত এ যুদ্ধ শেষ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ইরানের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রকাশিত একটি ব্যানারে এসব ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানায়।

ব্যানারে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন মুজতাবা খামেনি, তার নিহত বাবার উপপ্রধান স্টাফ আলি আসগর হেজাজি, এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি।

তালিকায় আরও আছেন সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি এবং গোয়েন্দামন্ত্রী এস্মাইল খাতিব।

ব্যানারে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সেগুলোর সঙ্গে কোনো নাম দেওয়া হয়নি। এগুলো হলো:

* সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব

* সর্বোচ্চ নেতার সামরিক দপ্তরের প্রধান

* ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান কমান্ডার

* ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা

ব্যানারে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা আইআরজিসির বিভিন্ন শাখাকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেন এবং সংস্থাটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিকল্পনা, সংগঠন ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।

মার্কিন রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, উল্লেখ্য ব্যক্তিদের বা আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে যাদের কাছে তথ্য আছে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা টর নেটওয়ার্কভিত্তিক যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য দিতে পারবেন।

ব্যানারে এও উল্লেখ করা হয়েছে, উপযুক্ত তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

 

এক মাসের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেলো রাশিয়া। তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝেই মস্কো থেকে তেল কিনতে পারবে সবাই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে বিষয়টি।

১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কেনা যাবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত। রাশিয়ার জ্বালানির ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে তুলে নেয়া হলো নিষেধাজ্ঞা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ব্যারেলের মতো তেল বোঝাই করা রয়েছে জাহাজে, যা বিশ্বের ৩০টি স্থানে পৌঁছাবে। বিপুল পরিমাণ এই জ্বালানি মাত্র ৫-৬ দিনের সরবরাহ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম পৌঁছায় সর্বোচ্চ ১২০ ডলারে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর জবাবে দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইরাক এ সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পাঠায়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে করে জ্বালানির সংকটে পড়ার শঙ্কায় পড়ে বিশ্ব।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব