• Colors: Blue Color

ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ এবং এর আরোহীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।

আজ মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

এর আগে গত রোববার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইরানি পতাকাবাহী ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তা জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত সামরিক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং পরে হেলিকপ্টার থেকে মেরিন সেনারা দড়ি বেয়ে জাহাজে নামছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করবে। এ ঘটনার ফলে পরিস্থিতির যেকোনো অবনতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।’

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসন্ন শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসলামাবাদের নিকটবর্তী এই কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানগুলোর আগমনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এটি হতে পারে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ। যদিও বিমানগুলোর নির্দিষ্ট মিশন বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনা অঞ্চলজুড়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আলোচনা সফল হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অনিশ্চয়তাই এখন প্রধান বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। সূত্র: মানি-কন্ট্রোল

 

টোকিও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রতিনিধিরা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন।

এর কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও থাকবেন। তাঁরা আগের দফার আলোচনাতেও উপস্থিত ছিলেন।

তেহরান এখনো আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেবেন না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে…পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।’

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলে। তবে কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান তখনো অনেক দূরে ছিল।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

প্যারিস

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব