• Colors: Blue Color

আঁচ করা হচ্ছিল আগে থেকে, ফলাফলও মিলে যাচ্ছে। নেপালে প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি), প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ।

নেপালের এই নির্বাচনে জেন-জি প্রজন্মের জয় বাংলাদেশে ভোটে একই প্রজন্মের ব্যর্থতাও সামনে আনছে। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর এক বছর এক মাস পর একই ধরনের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

এরপর গত মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন, তাতে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা নতুন দল গড়ে অংশ নিলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। কিন্তু নেপালে হয়েছে বিপরীত। জেন-জিদের পছন্দের প্রার্থী বালেন্দ্র শাহর দল ভোটে জিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সাধারণ ভোটাররা পুরোনো প্রতিষ্ঠিত দল ও রাজনীতিকদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল আরএসপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পার্লামেন্টে বসতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে ১৬৫টি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ১১০টি আসনের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হওয়ার কথা।

নেপালের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সরিয়ে দিয়ে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার প্রচারণার সূচনা হয়েছিল পশ্চিম কাঠমান্ডুর একটি ছয়তলা ভবন থেকে।

বালেন্দ্র শাহর প্রচার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে রয়টার্স আরএসপির ছয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছে। তাতে জানা যাচ্ছে, প্রচারণার বড় অংশই সমন্বয় করা হয় বালাজু এলাকায় অবস্থিত দলটির সদর দপ্তরের ওপরের তিনটি তলা থেকে। আর প্রচারণার খরচের বড় অংশের জোগান এসেছিল প্রবাসী নেপালিদের কাছ থেকে।

আরএসপির জাতীয় প্রচারণা দলের সদস্য বিজ্ঞান গৌতম রয়টার্সকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমরা অভিভূত।’

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রতি আট দিনে একটি ভাষণ

আরএসপির রাজনৈতিক প্রচার কৌশলের কেন্দ্রে ছিল রিসার্চ, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন বিভাগ। ১১ সদস্যের একটি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ জন দলীয় কর্মী তিনটি দলে ভাগ হয়ে কাজটি করেন।

তিনজন নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের এসব দল নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, সমাবেশ আয়োজন, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবস্থাপনা এবং সারা দেশ থেকে প্রচারণা ও জনমতের তথ্য সংগ্রহের কাজ করে।

ভোটের আগে দলটি অত্যন্ত হিসাবি একটি গণমাধ্যম কৌশলও অনুসরণ করে। বালেন্দ্র শাহ প্রতি আট দিনে একটি করে বড় ভাষণ দেন, যাতে প্রতিটি সমাবেশের বার্তা ৬৬০ সদস্যের সোশাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

এ ছাড়া আরএসপি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি জেলায় রোড শো করে। একই দিনে নেপালের সাতটি প্রদেশের কোনো একটিতে শাহ ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে হাজির হতেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক নেতা বলেন, ‘আপনি যদি বারবার ভাষণ দিতেই থাকেন, মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরা বিরোধী দলগুলোকে আগে কিছু বিষয় তুলতে দিই, তারপর একবারেই জবাব দিই। এতে আমাদের বার্তাটা পরিষ্কার থাকে।’

এই কেন্দ্রীয় প্রচার কর্মসূচি এবং বড় সমাবেশগুলোর আয়োজনের খরচ দল থেকেই করা হয়। নেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী নেপালিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান পেয়েছেন তাঁরা।

তবে প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজ নিজ প্রচার কর্মসূচি আয়োজন এবং অর্থায়নের দায়িত্ব নিতে হয় বলে জানিয়েছেন আরএসপির কোষাধ্যক্ষ লিমা অধিকারী।

জাতীয় পতাকা হাতে নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে সমবেত বিক্ষোভকারীরা। কাঠমান্ডু, নেপাল, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জাতীয় পতাকা হাতে নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে সমবেত বিক্ষোভকারীরা। কাঠমান্ডু, নেপাল, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ফাইল ছবি: এএফপি

সমতল থেকে পাহাড়ে

নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে আরএসপিতে যোগ দেওয়ার আগে বালেন্দ্র শাহ ছিলেন রাজধানী শহর কাঠমান্ডুর মেয়র। ২০২২ সালে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় র‍্যাপ তারকা হিসেবে তাঁর লাখ লাখ অনুসারী ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগান তিনি।

গত ১৯ জানুয়ারি নেপালের মাধেশ প্রদেশের রাজধানীতে এক সমাবেশে আরএসপির প্রতিষ্ঠাতা ও টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিক হওয়া রবি লামিছানের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বালেন্দ্র শাহ হাজারো মানুষের সামনে বলেছিলেন, ‘একজন মাধেশি ছেলে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে।’

মাধেশ ও আশপাশের তেরাই সমতল অঞ্চল নেপালের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা হলেও দেশটির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে কাঠমান্ডু ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকার রাজনৈতিক অভিজাতেরা।

বালেন্দ্র শাহর জানুয়ারির ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। দলটির তিন নেতা জানান, এর মাধ্যমে সেই ধারণাটি জোরদার হয় যে বালেন্দ্র শাহই হতে পারেন সমতল থেকে উঠে আসা প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

আরএসপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীরেন্দ্র কুমার মেহতা বলেন, ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল যে দেশটি পুরোনো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছে এবং মানুষ বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানের মতো তরুণ নেতাদের মধ্যে আশা দেখছে। দল এটাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছে।’

নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রচারে বালেন্দ্র শাহকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল
নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রচারে বালেন্দ্র শাহকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিলছবি: রয়টার্স

বালেন্দ্র শাহ নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ঝাপা-৫ আসনে। এটি তেরাই অঞ্চলের একটি আসন, যা দীর্ঘদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের নেতা কে পি শর্মা অলির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। গত সেপ্টেম্বরে গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়ার আগে তিনি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন।

নেপালের এই গ্রামীণ এলাকায় শাহ তাঁর প্রচারণার অপ্রচলিত কৌশলই বজায় রেখেছেন। সংবাদমাধ্যমের স্টুডিওতে বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার চেয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ থেমে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলাকে গুরুত্ব দেন তিনি। পুরো আসনে গড়ে তোলা হয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্ক।

কাঠমান্ডুতে আরএসপির প্রচারণা দলের সহায়তায় ভোটারদের মতামত ও অভিযোগও সংগ্রহ করা হয়, বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প ও শাসনব্যবস্থার নানা বিষয় নিয়ে।

আরএসপির ভাইস চেয়ারম্যান ডি পি আরিয়াল বলেন, ‘নেপালের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ অনুভব করবে যে সরকার তাদেরই এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার তাদের জন্যই কাজ করছে।’

বালেন্দ্র শাহর সম্ভাব্য সরকার প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করতে চায় বলে জানান আরিয়াল। আর যে তরুণ প্রজন্ম বালেন্দ্র শাহকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে, তাঁদের বিষয়গুলোও অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান তিনি।

‘তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারও আমাদের অগ্রাধিকারগুলোর একটি হবে,’ বলেন তিনি।

রয়টার্স

ইরান বর্তমান আকার ও মাত্রার যুদ্ধ আরও ‘অন্তত’ ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন কর্মকর্তা।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইনির এ বক্তব্য সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো ‘‘শয়তানি সাম্রাজ্য’’ গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’

আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী একটি সংস্থা। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এ বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যা পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রুপান্তরিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নারীর আর্থ সামাজিক ক্ষমতায়নে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তার দল বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।

‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহরাইনে জুফায়র ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, কেশমের একটি পানির প্ল্যান্টের ওপর মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে বলেছিলেন, ওই মার্কিন হামলায় ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলছে, হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠেছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকিয়েছে কাতার

কাতার লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, কাতারের সশস্ত্র বাহিনী সেই হামলা ঠেকিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরান নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫ তম দফার হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান।

আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানায়। এতে বলা হয়, আইআরজিসি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসোনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। ঘণ্টায় এর গতি ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল।

সূত্র: আল জাজিরা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি আরটিএক্স করপোরেশনের ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও ‘থাড’–এর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ’–এর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ৩ মার্চ। দুটি হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, ‘যদি ধ্বংসের বিষয়টি সত্যি হয়ে থাকে, তবে থাড রাডারের ওপর এই হামলা হবে ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ।’

তবে ব্রবস্ট আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্রদের কাছে আরও রাডার রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা দিতে পারে। ফলে একক কোনো রাডার হারালে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

মার্কিন ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’–এর (থাড) কাজ হলো বায়ুমণ্ডলের একেবারে শেষ সীমানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে তারা প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও জটিল হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। বর্তমানে এই ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডারটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দায়িত্ব পড়বে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর। এটির ‘পিএসি–৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ইতিমধ্যেই অনেক কমে গেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়ামসহ সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডারটির দামই ৩০ কোটি ডলার।

সিএসআইএস–এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কৌশলগত সম্পদ এবং এটি হারানো এক বিরাট ধাক্কা।’

টমক কারাকো আরও বলেন, ২০১২ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর নয়টি থাড ব্যাটারি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র আটটি। তাই হাতের কাছে বাড়তি কোনো ‘টিপিওয়াই–২’ রাডার নেই।

প্রতিটি ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যাটারিতে ৯০ জন সেনা, ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর (প্রতি লঞ্চারে ৮টি), একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্ক বলেন, ‘আপনি যদি সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চান, তাহলে এটি এমন একটি সরঞ্জাম, যা আপনাকে অবশ্যই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখতে হবে।’

ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে মোতায়েন ‘এএন/এফপিএস–১৩২’ রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। থাড সিস্টেমের মতো এটি স্থানান্তরযোগ্য নয়, বরং একটি স্থায়ী স্থাপনা। এই রাডারটি মূলত অনেক দূর থেকে আগত হুমকি শনাক্ত করতে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি নিশানায় নিখুঁতভাবে অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য উপযুক্ত নয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা হামলায় চাপের মুখে রয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে থাড এবং প্যাট্রিয়টের (পিএসি–৩) মতো উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড ও আরটিএক্স-এর মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক বৈঠকে বসেছে। পেন্টাগন এখন তাদের অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে চাপ দিচ্ছে।

সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব