লাগাতার বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তপ্ত ভারতের আসাম রাজ্যের ওয়েস্ট কার্বি আংলং জেলা। কয়েক দিনের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দুইজনের প্রাণ গেছে।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
এদিকে, অঞ্চলটির খেরোনি বাজার ও আশপাশের বহু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দেয়া হয় একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেলে। কারফিউ উপেক্ষা করেই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে আদিবাসী ও স্থানীয়রা।
সহিংসতার কারণে অঞ্চলটিতে বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।
পৈতৃক জমি সংক্রান্ত দাবি ঘিরে কদিন ধরেই আদিবাসী ও স্থানীয় বাঙালি-বিহারীদের মধ্যে চলছে সংঘাত।
আদিবাসীদের অভিযোগ, তাদের সম্প্রদায়ভিত্তিক জমিতে বাইরে থেকে এসে লোকজন বাস করছেন।
অন্যদিকে বাঙালি-বিহারীদের দাবি, বাংলাদেশি বলে প্রচার করে সম্প্রতি তাদের ওপর হামলার তীব্রতা বেড়েছে।
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ইডির দাখিল করা চার্জশিট আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া এই আদেশে আদালত বলেন, আইনের দৃষ্টিতে এই চার্জশিটের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।
এই রায়ের পর বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির কঠোর সমালোচনা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বলেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে চড় মারার মতো। ভবিষ্যতে জনগণকে হয়রানি করবেন না— এই মর্মে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানায়।
খাড়গে অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারকে হয়রানি করতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা করা হয়েছে। তার ভাষায়, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইডি-র মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় গান্ধী পরিবারের লোকজন ছাড়াও সুমন দুবে, সাম পিত্রোদা, ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডোটেক্স মার্কানডিসে, সুনীল ভাণ্ডারী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র নিয়ে ২০১৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলো বিজেপি। এরপর ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড নামে যে সংস্থার হাতে সংবাদপত্রটির মালিকানা ছিলো, বাজারে মোট ৯০ কোটি টাকা দেনা ছিল তাদের। যার বেশির ভাগটাই কংগ্রেসের কাছ থেকে নেয়া।
দীর্ঘ চার বছর পর ফের ভারত সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফরের উপলক্ষ হলো ২৩তম ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন। এ কারণে বর্ণিল সাজে সেজেছে দেশটি। রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ থেকে ওড়িশা কিংবা পাঞ্জাব, সবখানেই যেন রঙ ও শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে আরতি, হাতে আঁকা ছবি ও বালুর শিল্প বেশ উল্লেখযোগ্য। এসব আয়োজন জানান দিচ্ছে 'ভারতের বন্ধু' আসছেন দেশটিতে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পুতিনকে স্বাগত জানাতে বারাণসীতে আয়োজিত হয় 'ভারত-রাশিয়া মৈত্রী পদযাত্রা'। এটি সুভাষ ভবন থেকে শুরু হয়ে মুন্সি প্রেমচাঁদ স্মৃতি গেটে এসে শেষ হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে মোদি ও পুতিনের পোস্টার দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বার্তাও শোনা যায় পদযাত্রায়।
পুতিনের ভারত সফর উপলক্ষে আয়োজন করা হয় 'আরতি'র।
পাঞ্জাবের অমৃতসরে দেশটির স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী জগজোত সিং অ্যাক্রিলিক রঙ ব্যবহার করে পুতিনের একটি দৃষ্টিনন্দন প্রতিকৃতি এঁকেছেন। পাশাপাশি, ওড়িশার পুরিতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বালু শিল্পী মানস কুমার সাহু পুতিনের ভারত সফর উপলক্ষে একটি বালির অ্যানিমেশন চিত্র তৈরি করেছেন।
বালির অ্যানিমেশন চিত্রে পুতিনের মুখাবয়ব।
পুতিনের এই সফরের মূল এজেন্ডাগুলির মধ্যে রয়েছে— প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সম্পর্ক এবং তেল বাণিজ্যের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব।
এদিকে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার পুতিনের জন্য একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। পরদিন একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের সম্মাননায়।
হায়দ্রাবাদ হাউসের বাইরে লাগানো একটি হোর্ডিংয়ে মোদি-পুতিনের ছবি।
সফরে রাজঘাট স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজনে একটি ভোজসভায় যোগ দেয়ার কথাও রয়েছে পুতিনের।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের ওপর বিশ্বব্যাপী মনোযোগ এবং ভারতের সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বানের মধ্যে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং শ্রম চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের দুই শহর—পোকরোভস্ক ও ভোভচানস্ক দখল করেছে। গত রোববার (৩০ নভেম্বর) একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে দুটি শহর দখলের খবর শোনেন। তবে, পুতিনের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাবির উদ্দেশ্য আসন্ন বৈঠকে চাপ সৃষ্টি করা। তবে ইউক্রেনের ৭ম র্যাপিড রেসপন্স কোরসের এয়ার অ্যাসল্ট ফোর্সেস সোমবার (১ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, পোকরোভস্কে রাশিয়ার অগ্রগতি 'থামিয়ে দেয়া হয়েছে'। পোকরোভস্ক ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, যা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তবে, শহরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইউক্রেনীয় সেনারা এখনও শহরের কিছু অংশ ধরে রেখেছে বলে জানায় ইউক্রেনের ৭ম র্যাপিড রেসপন্স কোরসের এয়ার অ্যাসল্ট ফোর্সেস।
এদিকে, ভোভচানস্কের অবস্থাও একই ধরনের। শহরের দক্ষিণ অংশে ইউক্রেনীয় সেনারা অবস্থান ধরে রেখেছেন। শহরটি 'পূর্ণভাবে দখল করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় যৌথ বাহিনীর প্রধান কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ভিক্টর ট্রেগুবভ জানান। তবে শহরটির বেশিরভাগ অংশই বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (৩০ নভেম্বর) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোকরোভস্কে রুশ পতাকা উত্তোলনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
পেরুর আমাজন অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। এছাড়াও আহত হয়েছে ২০জন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সোমবার (৩০ নভেম্বর) জানান, দুই জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে সাহায্যের জন্য পুলিশ এবং নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। এক প্রতিবেদনে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এ তথ্য জানায়।
নৌকাডুবিতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২৮ জন। দেশটির সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী থেকে প্রায় ৪১৫ কিমি উত্তরপুর্বে ইপারিয়ার বন্দর একালায় এ দুর্ঘটনা হয়।
নদীর তীরবর্তী শহরে যাওয়ার পথে ভূমিধসে ধাক্কা লাগে নৌযান দুটিতে। এ সময় পুরোপুরি ডুবে যায় একটা নৌকা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় অন্যটি। নদীর তীরবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নৌবাহিনী ক্যাপ্টেন জনাথন নোভোয়া এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানান, নদীতে উদ্ধার কাজ চলছে। তবে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা কঠিন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে মোট ৩৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেয়া তথ্যে বলা হয়, বেলগোরোদ অঞ্চলে ১৩টি, ভোরোনেজে ১০টি, লিপেত্সকে ৪টি, ব্রিয়ান্সকে ১টি এবং কৃষ্ণসাগরের আকাশে ৫টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার আগে, ইউক্রেনের আঘাতে দখলকৃত জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বলে জানান মস্কো–নিযুক্ত কর্মকর্তা ইয়েভগেনি বালিৎসকি।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে ইচ্ছুক রাশিয়া। সেজন্যই মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিশেষ দূতকে পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প।