• Colors: Blue Color

এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলসীমা থেকে ইরানের অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছ থেকে জব্দ করা ট্যাংকারগুলো তাদের গন্তব্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরসমূহে, অর্থাৎ সমুদ্রপথে তেহরানের বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটন অবরোধ আরোপ করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে তেহরান তিনটি জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি কার্গো জাহাজ এবং একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ইরানের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।

মার্কিন ও ভারতীয় শিপিং সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা তিন ইরানি ট্যাংকারের একটি ‘ডিপ সি’ নামের সুপারট্যাংকার। এটি মালয়েশিয়া উপকূল থেকে এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হয়েছিল। এ ছাড়া ‘সেভিন’ ও ‘ডোরেনা’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। ডোরেনা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারত উপকূলের কাছে ছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দর অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় ডোরেনা বর্তমানে একটি মার্কিন রণতরীর পাহারায় ভারত মহাসাগরে রয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে তারা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং ভাসমান মাইন এড়াতে মার্কিন বাহিনী এখন উন্মুক্ত সাগরে ইরানি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সবাই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এই তথ্য জানিয়েছেন।

‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-এ অতিথি হিসেবে আলাপের সময় জন কেরি বলেন, ‘ওবামা না বলেছিলেন। বুশ না বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছিলেন। আমি সেইসব আলোচনার অংশ ছিলাম।’

সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে রাজি হননি। কারণ, তাঁরা ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ের সব পথ যাচাই করে দেখেননি।’

জন কেরি যুক্তি দেন, ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধ—দুই যুদ্ধ থেকেই একটি সাধারণ শিক্ষা পাওয়া যায়। একজন ভিয়েতনাম যোদ্ধা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানেন, মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।

সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিয়েতনামের একজন যোদ্ধা হিসেবে বলছি, যেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সেখানে আমাদের কাছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা বলা হয়েছিল। ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা হলো, মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলবেন না। তারপর তাঁদের ছেলেমেয়েদের যুদ্ধে পাঠাতে বলবেন না।’

জন কেরির এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ লিখেছে, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ওবামা, বুশ এবং বাইডেনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সবাই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, সেখানে (ইরানে) শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং মানুষ জেগে উঠবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, তার কিছুই ঘটেনি।’

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি,ছবি: রয়টার্স
 

নেতানিয়াহুর ‘কঠিন অপপ্রচার’

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে—কীভাবে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু জোরালোভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন, ইরান এখন শাসন পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শেষ পর্যন্ত ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটাতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে।’ পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ আগ্রাসনের সবুজসংকেত দেন।

জন কেরি বলেন, নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাটি ছিল কেবল একটি ‘ভবিষ্যদ্বাণী’। দেশটির দখল নেওয়া বা শাসন পরিবর্তনের যে দাবি তিনি করেছিলেন, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভ্যান্সের উত্তপ্ত ফোনালাপ

আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। ফোনে আলাপকালে ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আশাবাদী বক্তব্যের জন্য তাঁকে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে ভ্যান্স তাঁকে চেপে ধরেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টিকে খুব সহজ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সেসব বক্তব্যের ব্যাপারে অনেক বেশি বাস্তববাদী ও সতর্ক ছিলেন।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় এক নারী সাংবাদিকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এই তথ্য জানিয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

গতকাল বুধবার এনএনএর খবরে বলা হয়, ইসরায়েল প্রথমে দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়িতে হামলা চালায়, এতে ভেতরে থাকা দুজনই নিহত হন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে দুটি যানবাহনে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি সামরিক স্থাপনা থেকে ওই গাড়ি দুটি বের হয়েছিল বলে দাবি তাদের।

এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ওই সাংবাদিকদের ‘অনুসরণ’ করেছে এবং তাঁরা যে ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই ভবনকে হামলার ‘লক্ষ্যবস্তু’ করা হয়েছে।

এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর একই গ্রামের একটি ভবনে ইসরায়েল বিমান হামলা চালালে দুজন সাংবাদিক আহত হন এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবারে কর্মরত সাংবাদিক আমাল খলিলকে পরে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর কর্মস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের টায়ার থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পিট জানান, আত-তিরি গ্রামে প্রথম হামলার পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবারের দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

পিট তাঁর প্রতিবেদনে আরও লেখেন, ‘আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার পর আমাল খলিল ও জয়নাব ফারাজ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওই হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।’

কিছুক্ষণ পর সেখানে একটি ভবনে হামলায় ওই দুই সাংবাদিক আহত হন এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপ নিচে চাপা পড়েন।

লেবানন-ইসরায়েল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে ২১ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ির সামনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পড়ে আছে
লেবানন-ইসরায়েল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে ২১ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ির সামনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পড়ে আছে, ছবি: রয়টার্স
 

পিট জানান, ‘কয়েক ঘণ্টা ধরে রেডক্রস ও উদ্ধারকর্মীরা ওই দুই সাংবাদিকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেখানে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার কারণে উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি।’

পরে জয়নাব ফারাজকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ বলে জানানো হয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন পিট।

এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ওই সাংবাদিকদের ‘অনুসরণ’ করেছে এবং তাঁরা যে ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই ভবনকে হামলার ‘লক্ষ্যবস্তু’ করা হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স যেন দুই আহত সাংবাদিকের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েল আত-তিরির সঙ্গে হাদ্দাথার সংযোগকারী প্রধান সড়ক লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে বলে জানান পিট।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না এবং তাদের ক্ষতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়।’ একই সঙ্গে তারা আত-তিরি হামলার ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীদের পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

অথচ গত মাসেও দক্ষিণ লেবাননে স্পষ্টভাবে ‘প্রেস’ লেখা একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হন।

এনএনএর খবরে বলা হয়, বুধবার দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর আল-শাকিফ শহরে ইসরায়েলের আরেকটি হামলায় দুজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। বাংলাদেশ সময় ১৭ এপ্রিল থেকে লেবাননে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

আল–জাজিরা

ইরান ও রাশিয়ার জাহাজে থাকা তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ ৩০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেল সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন সিনেটের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্স উপকমিটির বাজেট বিষয়ক শুনানিতে বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা তাঁকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এর মাধ্যমে গত সপ্তাহে দেওয়া বেসেন্টের করা মন্তব্য থেকে সরে এল মার্কিন প্রশাসন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে ইরানকে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ উপস্থাপনের জন্য সীমিত সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএন-কে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে চায় না এবং তারা ইরানকে আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগও দিতে চায় না।

সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, বুধবারের সময়সীমার পরও চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সতর্ক ছিলেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে চান এবং আশা করেছিলেন, সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার চাপ যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করবে।

তবে সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা মনে করেন যে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা আলোচকদের দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা একমত হতে পারেননি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষায় তেহরানকে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ উপস্থাপনের জন্য আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ অবসানের প্রতি প্রশাসনের আগ্রহকেই প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে এটি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তাদের অনিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, আলোচনা চলার সময় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ইরানিদের চাপে রাখবে। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে এই স্বীকারোক্তিও রয়েছে যে, অবরোধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্ব অর্থনীতির তত বেশি ক্ষতি হবে।

দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। ইরানের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সংঘাত বন্ধে বড় ধরনের ছাড় পেতে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর যে কৌশল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানি প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’ তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক ক্রোধ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ‘‘হঠকারিতা ও তাদের সহযোগীদের অর্থের উৎস’’ বন্ধ করা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আজ বুধবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ওই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে তেহরান এ পর্যন্ত এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি আছেন তিনি। দুই সপ্তাহের জন্য করা এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্প আগে এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বললেও গতকাল তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব