• Colors: Blue Color

বাংলাদেশিসহ যেসব বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেছেন।

ব্রিফিং চলাকালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক সংবাদকর্মী বাংলাদেশ–সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ঢাকা। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ভারতে যদি বাংলাদেশিসহ কোনো বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশে আইন রয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, এসব মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা চালু আছে। সে অনুযায়ী প্রথমে মামলাগুলো বাংলাদেশি পক্ষের কাছে পাঠানো হয়, যেন তারা ওই ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে। যাচাই–বাছাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

জয়সোয়ালের মতে, এ ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশি পক্ষের কাছে ঝুলে আছে। এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার মধ্য দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে থাকা মানুষদের ফেরত পাঠানোর কাজটি সহজ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

আজভ সাগর ও রুশ অধিকৃত উপকূলীয় এলাকায় পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, জাহাজগুলোতে অবৈধ পণ্য বহন করা হচ্ছিল। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় শস্য ‘চুরির’ পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তৃতা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার এক দিন আগে যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এদিকে ইউক্রেন নিশ্চিত করেছে যে শুক্রবার রোমানিয়া উপকূলের কাছে তাদের একটি নৌ-ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এই বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলেনস্কি চিঠিতে তাঁর শান্তি প্রস্তাবের পাশাপাশি লিখেছেন, রাশিয়ার নাগরিকেরা ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই যুদ্ধ চার বছর ধরে চলছে।

রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা কমাতে ইউক্রেন বারবার দেশটির ভেতরের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর এক দিন আগেই শহরটির উপকণ্ঠে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ।

আজভ সাগরে দুটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তাদের পাঁচ নাগরিক নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে আজারবাইজান এই হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি। দেশটি জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলো আজারবাইজানের নয়।

এর আগে ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার রবার্ট ব্রভদি জানান, মারিউপোল ও বেরদিয়ানস্ক বন্দরে গত রাতে পাঁচটি ‘অবৈধ’ জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রুশ নিয়ন্ত্রিত অধিকৃত উপকূলীয় এলাকায় এসব জাহাজ অবস্থান করছিল।

ব্রভদি জানান, আক্রান্ত জাহাজের তালিকায় পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার ছিল। গোপনে ইউক্রেনীয় শস্য চুরির উদ্দেশ্যে জাহাজগুলোর নাম মুছে ফেলা হয়েছিল এবং রাডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত দুটি জাহাজের নাম ‘নাস্ত্রা’ ও ‘সারকন’।

বিবিসি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। গৃহীত শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। এ বিষয়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার অধিবেশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ওই অধিবেশনের কার্যবিবরণীর সংশ্লিষ্ট অংশের অনুলিপি চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়, শোকপ্রস্তাবসংবলিত ওই অনুলিপি যেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, অধিবেশনে স্পিকার খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করেন। এরপর তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন বিধানসভার সদস্যরা।

প্রায় চার মাস পর, ২ জুন ওই শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।

শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান তুলে ধরা হয়। শোকপ্রস্তাবে তাকে দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতির এক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

সিউল

ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হতে হলে একটি চেনা বাধা টপকাতে হবে। আর সেই বাধা হলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য আলোচনায় এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অস্থির মিত্রতাকে আরও একবার পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবার যে চাপের মুখে পড়েছেন, তা আগের মতো নয়। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর সামরিক অভিযান সফল হয়েছে।

গত সোমবার নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকে উৎখাত করতে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বোমা হামলার হুমকি দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানায়, এই সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ রাখবে। চুক্তি খুব কাছাকাছি—ট্রাম্পের এমন দাবির পর আলোচনা ভেস্তে গেলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা অনেক বেশি কথা বলে ফেলেছি।’

এই সংকট শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে গড়ায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি এসব কী ছাইপাঁশ করছেন?’ ট্রাম্পের মন্তব্যের সূত্র দিয়ে আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি বলেছেন, ‘আমি না থাকলে তুমি কারাগারে থাকতে।’

তবে ফোনালাপের এই বর্ণনা নিয়ে ভিন্নমত আছে। ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ বলেছে, দুই নেতার মধ্যে মূলত ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। ওই চ্যানেলের প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিত সেগাল নেতানিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বরাত দিয়ে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের মনে হয়েছিল নেতানিয়াহু পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন ট্রাম্প পুরোপুরি একটি যুদ্ধবিরতির কথা বলছেন।’

ট্রাম্প পরে এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আজ ছোটখাটো একটা সমস্যা হয়েছিল। তবে আপনারা হয়তো আগেই খেয়াল করেছেন যে আমি খুব দ্রুতই বিষয়টি সামলে নিয়েছি।’

১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রেসিডেন্টের সময়কাল দেখেছেন নেতানিয়াহু। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল আলোচিত। ১৯৯৬ সালে দুজনের প্রথম বৈঠকের পর বিল ক্লিনটন নাকি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘এখানে আসলে পরাশক্তিটা কে?’

তবে নেতানিয়াহুর জন্য সময়টি এখন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। গত সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার বিল প্রথম চেষ্টাতেই ১০৬-০ ভোটে পাস হয়েছে। এর ফলে আগামী শরতে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানি নেতৃত্বের ওপর সফল হামলার পর জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন বাড়লেও গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা এখন পড়তির দিকে।

তবে নেতানিয়াহুর জন্য সময়টি এখন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। গত সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার বিল প্রথম চেষ্টাতেই ১০৬-০ ভোটে পাস হয়েছে। এর ফলে আগামী শরতে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানি নেতৃত্বের ওপর সফল হামলার পর জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন বাড়লেও গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা এখন পড়তির দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইরান-বিষয়ক বিশেষ কৌশলগত সেলের সাবেক প্রধান ইলান গোল্ডেনবার্গ বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটারদের সামনে বলার মতো জোরালো কোনো সাফল্যের গল্প তাঁর হাতে নেই। তাই তাঁকে হয় লেবাননে যেকোনোভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে অথবা অন্তত এই গল্পটা বলতে হবে যে তিনি এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।’ গোল্ডেনবার্গ বর্তমানে লবিং ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘জে স্ট্রিট’-এর প্রধান নীতি কর্মকর্তা। এই সংস্থা নিজেদের ‘ইসরায়েলের পক্ষে ও শান্তির পক্ষে’ বলে পরিচয় দেয়।

গোল্ডেনবার্গ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর এখন এমন একটি গল্পের প্রয়োজন যাতে তিনি বলতে পারেন—আমি এখনো “চূড়ান্ত বিজয়ের” লক্ষ্যেই লড়ছি। “সব শেষ হয়ে গেছে এবং ইসরায়েলের ওপর আসা হুমকি সরাতে ব্যর্থ হয়েছি”—এমনটা বলার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার গল্প শোনানো তাঁর জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক।’

প্রতারণা ও ঘুষের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলার শুনানি চলতি সপ্তাহেই আবার শুরু হয়েছে। দেশ হুমকির মুখে আছে—এমন অজুহাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বরাবরই এই বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। এই বিলম্বের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নটি সম্ভবত এড়িয়ে গেছেন।

নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানে একসঙ্গে হামলা চালানোর জন্য রাজি করাতে সফল হয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের কাছে এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণই বেশি অগ্রাধিকার পেতে পারে।

জনসমক্ষে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই বলে দাবি করলেও নিজের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি নিয়মিত অর্থনীতির তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে আসছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সরব তিনি। অথচ মেমোরিয়াল ডের ছুটির দিনে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের গড় দাম ছিল করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ।

[caption id="attachment_275646" align="alignnone" width="848"] লেবাননের টায়ার উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ১ জুন ২০২৬ ছবি: এএফপি[/caption]

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের তথ্য ফাঁস করার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে ইসরায়েলের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। ‘নেতানিয়াহুর ইশারাতেই ট্রাম্প চলছেন’—এমন অপবাদ ঘোচাতে চায় তারা।

ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু জানান, হিজবুল্লাহ আগে হামলা না করলে বৈরুতে অভিযান চালাবে না ইসরায়েল। কিন্তু সংঘাত কমানোর বিষয়ে দুই নেতা একমত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন।

সমীকরণের অপর পিঠে রয়েছে ইরান। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ এখন আটকে দিয়েছে। তাদের বাজি হলো তেলসংকটের এই অর্থনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে। তবে মার্কিন অবরোধ আবার ইরানের অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিয়েছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে তাদের তেলশিল্পের ভবিষ্যৎ এবং খোদ ইরান সরকারের আয়ের উৎস এখন হুমকির মুখে।

নেতানিয়াহুর দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হলো লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। তবে ইরানের কাছে এটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে তেহরানের জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়ার মতো সুবিধা দেওয়া হতে পারে। তবে ট্রাম্প নিজে এ পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক। কারণ, ওবামা আমলে পারমাণবিক চুক্তির আওতায় জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ায় তাঁর কড়া সমালোচনা করেছিলেন খোদ ট্রাম্প।

একই সঙ্গে ট্রাম্প বলে বলেছেন, তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছেন। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাকে আরও কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যা প্রয়োজন, আমরা তা আদায় করে ছাড়ব।’

দ্য গার্ডিয়ান

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব