ক্যাচ ধরলে ম্যাচ জেতা যায়—কথাটা বারবারই আসে ক্রিকেটে।

কিন্তু আসলে তা কেমন? কাল টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচটাকেই দেখিয়ে দেওয়া যেতে পারে উদাহরণ হিসেবে। সঞ্জু স্যামসনের সহজ একটা ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক; ভারতের অক্ষর প্যাটেল দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন পরে। এই তিন ঘটনাই আসলে মুম্বাইয়ে ম্যাচের গল্পটা লিখে দিয়েছে। তাতে বৃথা গেছে জ্যাকব বেথেলের অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরির ইনিংস।

পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমেও যে শেষ দুই ওভার পর্যন্তও জয়ের সম্ভাবনাটা টিকিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড, তা আসলে শুধু বেথেলের ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংসের সৌজন্যেই। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ম্যাচটা হারতে হয়েছে ৭ রানে। ৮ মার্চের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।

ম্যাচের ভাগ্য আসলে লেখা হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। ১৫ রানে হ্যারি ব্রুক সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর সঞ্জু স্যামসন এমন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুর তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন, যা ভারতের সংগ্রহটাকে নিয়ে গিয়েছিল ৭ উইকেটে ২৫৩ রানে। সেটি তাড়া করতে বহু রেকর্ডই নতুন করে লিখতে হতো ইংল্যান্ডকে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনো এত রান তাড়ার ঘটনাই যে নেই।

তবু লড়াইটা ভালোভাবেই টিকিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। পুরো ইংল্যান্ড না বলে আসলে বেথেলের কথা বলাই ভালো। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাটিংয়ে এসে পুরোটা সময়ই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন; দুর্দান্ত সব শটে মেরেছেন চার–ছক্কা।

আড়াই শ পেরিয়ে যাওয়া রান করতে ভারত এক শ পেরিয়েছিল ৮.৩ ওভারে, বেথেলের কল্যাণে তাদের চেয়ে ২ বল আগেই তা করে ফেলে ইংল্যান্ড। কিছুক্ষণ পর ১৯ বলে ফিফটিও পেয়ে যান বেথেল।
উইল জ্যাকস তাঁর সঙ্গী হওয়ার পর থেকে সম্ভাবনাটা আরও বেড়েছিল ইংল্যান্ডের। দুজনের ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি জয়ের স্বপ্নটাকে নিয়ে আসে কাছে। কিন্তু এই জুটি ভেঙেছে অক্ষরের দুর্দান্ত এক ক্যাচে।

ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক হয়েছেন স্যামসন
ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক হয়েছেন স্যামসন, এএফপি

অবশ্য স্কোরকার্ড দেখলে একটু বিভ্রান্তই হওয়ার কথা। কারণ, ক্যাচটা লেখা আছে শিবম দুবের নামে!
তবে ক্যাচটা আসলে একরকম অক্ষরেরই। অনেকটুকু দৌড়ে এসে বাউন্ডারির ঠিক সামনে থেকে বলটা ধরে তিনিই তুলে দিয়েছিলেন দুবের হাতে। এর আগে পাওয়ারপ্লের সময় ব্রুকের ক্যাচটা তিনি নিয়েছিলেন ৩০ গজের বৃত্ত থেকে দৌড়ে প্রায় বাউন্ডারির কাছে গিয়ে।

এমন অবিশ্বাস্য ক্যাচ আর ভারতের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ভালোভাবেই টিকে ছিল। শেষ ৩ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। কিন্তু যশপ্রীত বুমরা ১৮তম ওভারে এসে দিলেন কেবল ৬ রান। ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় তখন। যেটুকু ছিল, সেটা কেবল অঙ্কের হিসাবেই। এতে ভূমিকা ছিল স্যাম কারেনেরও। ১৪ বলে খেলে তিনি করেন মাত্র ১৮ রান। বেথেলের ১০৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসটাও তাই জয়ের দেখা পেল না।

ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক খুঁজতে গেলে সঞ্জু স্যামসনের নামটাই আসবে। ১৫ রানে ব্রুক সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর ৪২ বলে ৮৯ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শিবম দুবে, তিলক বর্মা আর হার্দিক পান্ডিয়াদের ঝড় ভারতের রানটা নিয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বেথেল বুকে কাঁপন ধরালেও সেই রানই শেষ পর্যন্ত ভারতকে নিয়ে গেছে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চতুর্থ ফাইনালে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব