• Colors: Purple Color

বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করা যানবাহনের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ সোমবার ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক যানবাহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেকে নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ বিআরটিএর নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু রং দিয়ে গাড়ির নম্বর লিখে যানবাহন চালাচ্ছেন।

সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের অর্থ পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। এ ছাড়া অনেক যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে। এতে মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ডিএমপি যানবাহনের মালিক ও চালকদের বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নকশা, রং ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে থাকা আরএফআইডি ট্যাগ কার্যকর আছে কি না, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহ থেকে বিআরটিএর সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।

ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব বিষয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে লবণচাষীদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে অস্থিরতার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সেখানকার পুরনো কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বেড়া নির্মাণের জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের কথাও জানান তিনি।

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে লবনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি লবনচাষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ভাবছে সরকার।

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও পুরোনো বই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষাবিষয়ক বইয়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সূত্র আরও জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় বিদ্যমান নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়।

সরকার প্রতিবছর প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য আগামী বছর ৩০ কোটির মতো বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সব পাঠ্যবই চলতি বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।

 

বাংলাদেশের স্বনামধন্য অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের মর্যাদাপূর্ণ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। সেঁজুতি সাহা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশের টিকাব্যবস্থা, জিনোম গবেষণা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, মহামারির প্রস্তুতি ও দেশে টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মোস্তফা ইউসুফ

প্রশ্নঃ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ কী, কারা এ স্বীকৃতি পায়?

সেঁজুতি সাহা: স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট অনেক বছর ধরে একটি ‘গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ দেয়, যেটাকে অনেকটা লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বলা যায়। অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী এই সম্মাননা পেয়েছেন। তবে ২০২০ সাল থেকে তারা আরেকটি পুরস্কার দিচ্ছে, সেটি হলো ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। ৪০ বছরের নিচের বিজ্ঞানীরা এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

আমি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বৈঠকে ছিলাম। হঠাৎ স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহীর ফোন আসে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বোর্ড কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুরস্কারের জন্য আমার নাম চূড়ান্ত করেছে। স্যাবিন মূলত ভ্যাকসিন ও ভ্যাকসিনেশন নিয়ে কাজ করা মানুষদের স্বীকৃতি দেয়। কেউ গবেষণায় কাজ করেছেন, কেউ হয়তো টিকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন—এই পুরো ক্ষেত্রের অবদানের জন্যই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়।

প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন।

প্রশ্নঃ আপনাকে কোন কাজের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?

সেঁজুতি সাহা: মূলত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবে গবেষণার জন্য। গত বছরের ১২ অক্টোবর বাংলাদেশে একটি বড় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল
প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীও ছিল। আমার কাজটা ছিল তার আগের ধাপে। কোনো টিকা দেশে আনতে হলে তো প্রমাণ লাগবে কেন সেটি দরকার, কী ধরনের ঝুঁকি আছে, অর্থায়নের যৌক্তিকতা কী। সেই উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করাই ছিল আমাদের কাজ।

আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে আপনার কাজ কীভাবে শুরু হয়েছিল?

সেঁজুতি সাহা: যদিও সিএইচআরএফ অনেক আগে থেকে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছে, আমরা ২০১৬ সালে টাইফয়েড জিনমিক্স নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী কিছু টাইফয়েড কেস দেখতে পাই। এটা খুবই উদ্বেগজনক ছিল। কারণ, এই অ্যান্টিবায়োটিকটি সাধারণভাবে বহুল ব্যবহৃত। এর আগে বিশ্বের কোথাও এ ধরনের প্রতিরোধের রিপোর্ট ছিল না।

আমরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে কিছু নির্দিষ্ট মিউটেশন খুঁজে পাই। পরে আমরা আরেকটি ল্যাবরেটরি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সেই মিউটেশন প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করি। বাংলাদেশে তখন সেই সক্ষমতা ছিল না, তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় সহকর্মীদের ল্যাবে কাজটি করা হয়। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।

একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সেঁজুতি সাহা: একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।

আমরা যখন জিনোম সিকোয়েন্সিং করি, তখন বুঝতে পারি কোন জিন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ তৈরি করছে, কোন পরিবর্তনের কারণে জীবাণু আরও সংক্রামক হচ্ছে বা কোন অংশকে লক্ষ্য করে ভ্যাকসিন তৈরি করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কি জিনোমভিত্তিক রোগ নজরদারিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি?

সেঁজুতি সাহা: অবশ্যই। ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় জিনোমিক সার্ভেইল্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, পরবর্তী মহামারি আবারও কোনো শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস থেকেই আসতে পারে। কোভিডের সময় দ্রুত জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে পেরেছিল বলেই বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল এটি সার্স-কোভ-২

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এর জন্য প্রথমেই দরকার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, চিকিৎসক, রিপোর্টিং সিস্টেম—সবকিছুকে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাজ্যে যেভাবে কোনো ল্যাবে টাইফয়েড জীবাণু শনাক্ত হলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কিছু জিনমিক্স ল্যাবে পাঠানো হয় সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য, আমাদেরও সে ধরনের ব্যবস্থা দরকার।

আমরা টাইফয়েড সৃষ্টিকারী জীবাণু সালমোনেলা টাইফির জিনোম সিকোয়েন্সিং স্টাডিগুলোর একটি করেছি বাংলাদেশে বসে। এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা নীতিনির্ধারকদের দেখাতে পেরেছি জীবাণুগুলো কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, কী ধরনের মিউটেশন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এখনো বাংলাদেশের অনেক টাইফয়েড রোগী ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু যদি এমন সময় আসে, যখন এসব অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, তখন সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন দিতে হবে। সেটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা আগেভাগেই সেই ঝুঁকি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, কেউ বিশ্বাস করত না বাংলাদেশে বসে আমরা এটা করতে পারব। বিদেশি ল্যাব বা সহকর্মীদের অনেকেই বলতেন, স্যাম্পল পাঠিয়ে দাও, আমরা কম খরচে করে দেব। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্যাম্পল বাইরে পাঠাব না। দেশে বসেই করব। খরচ বেশি হবে, কষ্ট বেশি হবে, তবু নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলব।

আজ এই স্বীকৃতি আসলে শুধু আমার নয়, এটা বাংলাদেশের। এটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের। কারণ, একসময় কেউ আমাদের বিশ্বাস করেনি, কিন্তু এখন বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—আমরাও পারি।

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রশ্নঃ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সেঁজুতি সাহা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় জোর দিতে হবে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনে এগিয়ে না গেলে প্রতিযোগিতারপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কিছু করা সম্ভব। মেধা পাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার।

এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার কার্যকর বাস্তবায়তে সরকার আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

 

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধ চীনের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, চীন এই যুদ্ধ থেকে তা শিখতে পারে। স্মরণে রাখা ভালো—যেকোনো যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে প্রতিপক্ষের ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

পারস্য উপসাগর এবং এর আশপাশে গত দুই মাসের লড়াই থেকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কী কী ধারণা পাওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে চীন, তাইওয়ান এবং অন্যান্য অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে সিএনএন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চীনের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করা ঠিক হবে না। দেশটির উচিত, নিজেদের অভিজ্ঞতার অভাবকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া এবং এই সংঘাতের ফলাফলকে ছোট করে না দেখা।

আগামী দিনে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে চীনকে প্রতিরক্ষার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
ফু কিয়ানশাও, সাবেক কর্নেল, চীনের বিমানবাহিনী

চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও সিএনএনকে বলেন, এই লড়াই থেকে এ পর্যন্ত তাঁর প্রধান উপলব্ধি হলো—পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যেন তাদের প্রতিরক্ষার কথা ভুলে না যায়। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পেরেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজে বের করেছে ইরান, তা জানা দরকার।

ফু আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে আমাদের প্রতিরক্ষার দিকের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

গত কয়েক বছরে পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। তারা নিজেদের অস্ত্রভান্ডারে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল–সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র (যুক্তরাষ্ট্রের) ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩
চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩ফাইল ছবি: রয়টার্স

ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাংক আরইউএসআইয়ের তথ্যমতে, চীন তাদের বিমানবাহিনীতে দ্রুত পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার যুক্ত করছে। দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য তারা প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫–এর সমতুল্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বা বি-২১–এর মতো দূরপাল্লার স্টেলথ বোমারু বিমান তৈরির কাজও চালাচ্ছে চীন।

দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য চীন প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা আমেরিকার এফ-৩৫–এর সমতুল্য।

তবে চীনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সস্তা শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পমূল্যের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো তুলনামূলক আদিম বা সাধারণ প্রযুক্তি দিয়ে পারস্য উপসাগরে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানে এফ-৩৫ এবং বি-২–এর মতো যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বি-১, বি-৫২ ও এফ-১৫–এর মতো যুদ্ধবিমান থেকে সস্তা ও কম উন্নত গাইডেড গোলাবারুদও ফেলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার থেকে শুরু করে নৌযান ও সেতু—সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে।

চীনের সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও মনে করেন, বেইজিংকে অবশ্যই এই মিশ্র কৌশলের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানঘাঁটি ও বন্দরগুলোকে এ ধরনের আক্রমণ ও অভিযান থেকে কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য আরও গভীরভাবে কাজ করতে হবে।’

তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চিহ চুং, সহযোগী গবেষক, ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ
 

তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য সংঘাতের কথা উঠলে তাইওয়ানকে প্রায় সময় সেই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হয়।

স্বশাসিত গণতন্ত্রিক তাইওয়ান দ্বীপকে নিজের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ‘একীভূত’ করার শপথ নিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এখন পর্যন্ত তারা কখনো তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করেনি। চীনের নেতা সি চিন পিং এই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

তাইওয়ানের বিশ্লেষকেরা চীনের সক্ষমতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখেন। তাঁদের মতে, চীন এমন এক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা একদিকে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। অন্যদিকে কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইরানের মতো পারদর্শী।

তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের সহযোগী গবেষক চিহ চুং সিএনএনকে বলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কিন্তু তাইওয়ান প্রণালির সম্ভাব্য যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য এসব সামরিক সক্ষমতাই কি যথেষ্ট?

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬,ছবি: রয়টার্স
 

বিশ্লেষকদের মতে, চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ড্রোন প্রস্তুতকারক। তাদের উৎপাদিত ড্রোন বা মানুষবিহীন অস্ত্রব্যবস্থার সংখ্যা বিস্ময়কর।

বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার অন দ্য রকস’–এ ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।

কেউ কেউ সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান এই বিশাল পরিসরে চীনের হামলা মোকাবিলা করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। সরকারি নজরদারি সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা ‘অকার্যকর’। এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য ‘বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি’ তৈরি করছে।

চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।
 

বসে নেই তাইওয়ান

তবে তাইওয়ানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তাইওয়ানের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান থান্ডার টাইগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিন সু ড্রোনের ব্যাপক উৎপাদনসক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শত্রুকে মোকাবিলা করতে আমাদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে

উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সংঘাত শুরু হলে ওয়াশিংটন নিজেকে আক্রমণকারীর চেয়ে রক্ষণকারীর ভূমিকায় বেশি দেখতে চাইবে। এমন একটি ধারণা ক্রমশ বাড়ছে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক শুনানিতে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো বলেন, ড্রোন হামলাকারী পক্ষের জন্য যুদ্ধ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

তাইওয়ান নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি কী হতে পারে? এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বা যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন ব্যবহার করে চীনের সেই সব জাহাজ বা বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যেসব জাহাজ বা বিমান লাখ লাখ পিএলএ সেনা নিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিটি জাহাজ বা বিমান এবং তার ভেতরে থাকা সেনাদের মূল্য সেই সব ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি, যা তাদের ধ্বংস করতে সক্ষম।

ইরান যুদ্ধে এই ‘প্রতিরোধক ফ্যাক্টর’ বা ডিটারেন্স স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। ইরানের অসম যুদ্ধের কৌশলে সতর্ক হয়ে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে খুব কম জাহাজ পাঠিয়েছে।

অ্যাডমিরাল পাপারো তাইওয়ান প্রণালির আকাশ, জলপথ ও সমুদ্রের তলদেশ হাজার হাজার ড্রোন দিয়ে ভরে ফেলার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিশ্চয় চীনের চোখ এড়ায়নি। এর মূল লক্ষ্য হবে চীনা বাহিনীকে আটকে দেওয়া, যাতে করে পিএলএর সেনাদের জন্য তাইওয়ান অভিমুখে জলপথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব