• Colors: Purple Color

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীতে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাটে পশু কেনা-বেচা হবে।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে জানান ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান।

তিনি বলেন, এর মধ্যে এবার সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হবে না। এটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মোবাশ্বের হাসান জানান, প্রথমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, সেখানে সারুলিয়া ছিল। পরে যখন তারা আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র দেখিয়েছে তখন সংশোধিত ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে এই হাটটি বাদ দেওয়া হয়। ফলে এবার ঢাকা দক্ষিণে ১১টি স্থানে পশুর হাট বসছে।

এই কর্মকর্তা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বাকি দুটি হাটের সন্তোষজনক দর পাওয়া যায়নি। এগুলোতে হয়ত আবারও দরপত্র আহ্বান করা লাগতে পারে।

ডিএসসিসি এলাকার অস্থায়ী হাটগুলো বসবে—পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ের খালি জায়গায়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায়, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় এবং শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়। এ ছাড়া আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিকেল-সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায়, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প-সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গায়, মোস্তমাঝি মোড়-সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায়ও কোরবানির পশুর হাট বসবে।

অন্যদিকে, গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে আরও ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট।

ডিএনসিসির অস্থায়ী হাটগুলো বসবে—মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজারুসংলগ্ন খালি জায়গায় এবং পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা-সংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খাল-সংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালি টিএন্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপার্টিও খালি জায়গা এবং বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সাতটি হাটের সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বাকি দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ঘোষিত ঈদুল আজহার দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনা-বেচা চলবে। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক হাটে পশু বেচাকেনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা পশু আনা ও বিক্রি শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পশু পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবারও দুই সিটি করপোরেশনকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, বর্জ্য অপসারণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাতে আয় বাড়াতে হলে এখানে বিদেশি পর্যটকদের আনতে হবে। একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রাই পারে এই খাতকে এগিয়ে নিতে। পর্যটকদের ভ্রমণ যাতে নিরাপদ হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাতবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। শহরের বার্গি লেকভ্যালি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সভায় পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটক না আসার কারণ খুঁজতে হবে। অনেকে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আসে না। এটাও ঠিক, নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে পর্যটন খাতকে অবহেলা করলে হবে না। এসব বিষয় আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা চাই বিদেশিরা এখানে আসুক। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরুক।’ এসব বিষয়ে গণমাধ্যমও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তনয় দেওয়ানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারে ৫.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে কম্পন টের পান মানুষ।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে এর কেন্দ্রস্থল নির্ণয় করা হয়েছে ২০.৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাতের এ আকস্মিক কম্পনে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে, শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে ভূমিকম্পটির মাত্রা ও কেন্দ্রস্থল নিয়ে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪.৫ বলে জানায়। অন্যদিকে ইউএসজিএস এর মাত্রা ৪.৪ উল্লেখ করেছে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্যমতে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।

 

নিরাপদ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যমান বিতরণব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটির নাম ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’। বর্তমানে নির্মাণাধীন বড় বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার চালুর আগ পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণ ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে এটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবিত প্রকল্পটি আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা)।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এরই মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, সর্বশেষ একনেক বৈঠকে ঢাকা ওয়াসাকে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা, পানি পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো হলো: ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরের বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা; দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ এমএলডি পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এই পানি ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মোট পানি উৎপাদনের ৬৬ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩৪ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কারণে মাথাপিছু পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে রাজধানীর পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর চাপও বাড়ছে। ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকায় পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে।

এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৫০০ এমএলডি সক্ষমতার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) এবং ৪৫০ এমএলডি সক্ষমতার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) নির্মাণাধীন রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ২০২৬ ও ২০২৮ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব শোধনাগার চালু না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রকল্পটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পানি উৎপাদন সচল রাখা এবং নগরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন। এ ছাড়া পাম্পের কার্যকারিতা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং পানি সরবরাহের তাৎক্ষণিক তদারকি উন্নত করতে ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি) এবং ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হবে।

পাশাপাশি ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার এবং ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে। পানির মান উন্নয়নে ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে নির্মাণ করা হবে ২৫০টি পাম্প হাউস।

সঞ্চালন ও পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা জোরদারে প্রকল্পের আওতায় ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো ও পরিচালন সুবিধা সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও পরিচালনগত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে।

২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠকে প্রকল্প প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ মেনে চলার শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র: বাসস

 

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ৬টি শিশু মারা গেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে কারও হাম শনাক্ত হয়নি।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬৫ শিশু। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৪১৫ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩১ হাজার ৯৯২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ৯৩৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নাটোরে চলতি মৌসুমে গাছ থেকে আম ও লিচু সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে ১৫ মে থেকে আম এবং ১৭ মে থেকে লিচু সংগ্রহ করা যাবে। আজ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এ তথ্য জানান।

বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনসংক্রান্ত প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ১৫ মে থেকে গুটি, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, আগামী ১৫ জুন থেকে ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে মোহনভোগ ও হাড়িভাঙা, ৩০ জুন থেকে ফজলি, ৫ জুলাই থেকে মল্লিকা, ১৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ২০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট থেকে গৌড়মতি আম গাছ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এ ছাড়া ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু সংগ্রহ করা যাবে।

সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ফল সংগ্রহ, বিপণন ও পরিবহনে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং ক্রেতাপর্যায়ে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি চাষি ও ব্যবসায়ীদের আম ও লিচুতে রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, পরিপক্ব ফল সংগ্রহ ও কষজনিত পচন ঠেকাতে বোঁটাসহ আম পাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ফল উৎপাদনে ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নাটোরে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর আমবাগান থেকে ৬৮ হাজার ৩১৬ টন আম এবং ৪ হাজার ৮৮৭ হেক্টর লিচুবাগান থেকে ৭ হাজার ৫৪০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় আমচাষি, ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব