• Colors: Purple Color

‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিল নয়, পর্যালোচনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহের উর রহমান। তিনি বলেছেন, চুক্তির দ্বিতীয় সুযোগ অনুযায়ী পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘নেগোসিয়েশনে’ যেতে চান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড—এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। এ নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া চলছে।

আজকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ চুক্তির বিষয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহের উর রহমান বলেন, ‘এই চুক্তি যদি দেখেন, দেখবেন বাতিল করার অপশন (সুযোগ) আছে। এক নম্বর, ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। দুই নম্বর হচ্ছে, এই চুক্তির মধ্যে আরেকটি কন্ডিশন (শর্ত) আছে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি যে অন্তত পরে যে অপশনটা বললাম, পর্যালোচনা করা। আগে আমাদের সরকারি পর্যালোচনা করা।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘...প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে (বিষয়ে) কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও এই চুক্তিটা নিয়ে কিছু পর্যালোচনা এবং চুক্তি এটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) কী হতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি, কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটাও আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু ওই যে বললাম, ওই সুযোগটা তো আমরা নিতে পারি যে এই চুক্তি রিকনসিডার (পুনর্বিবেচনা) করা কিছু কিছু জায়গায়। যে যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করি, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে মনে করছি, সেগুলো নিয়ে আমরা আগে আমাদের প্রাথমিক বিবেচনা করব। আমি আশা করি যে আমরা সে রকম একটা নেগোসিয়েশনে (দর–কষাকষি) তাদের সঙ্গে যেতে চাই। বাতিল করাটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যে সংকট আছে, সেটা আবার চলে আসার সম্ভাবনা আছে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

খায়রুল হকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ জামিন দেন।

এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

দুই মামলায় আজ জামিন হওয়ায় খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মামলা দুটির একটির এজাহারে খায়রুল হকের নাম নেই। পাঁচ মামলায় জামিনের পর তাঁকে এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুল দিয়ে খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্যমতে, পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে গত রোববার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেন খায়রুল হক, যা শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই পাঁচ মামলার মধ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুদকের করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আবেদনগুলো গত ৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।

এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল আছে।

মৃত্যুদণ্ড এড়াতে ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কালাম মিয়া (৪৬)। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটিকে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশের বড় অর্জন বলে দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে একই গ্রামের সমবয়সী সোহেল মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন কালাম। এ ঘটনায় সোহেলের বাবা জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১০ সালে আদালত ওই মামলায় কালামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে কালামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশ র‍্যাবের সহযোগিতায় গতকাল রাত তিনটার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাবনার রূপপুরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে আজ পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি প্রবেশ করানো হয়েছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের ওপরের অংশ স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অসংখ্যবার পরীক্ষা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুব শিগগির চুল্লিপাত্রকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়ার পর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ও পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দোকান, বিপণিবিতান খোলা রাখার সময় বাড়াল সরকার। আজ মঙ্গলবার থেকে রাতে ৩ ঘণ্টা বাড়তি সময় খোলা রাখা যাবে। ফলে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে দোকান–বিপণিবিতান। তবে কোনো আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।

আজ রাত সোয়া ৯টায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, শপিং মল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি কার্যকর করতে সব বিভাগীয় কমিশনার ও দেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা জারির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

৪ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল দোকান মালিক সমিতি। আসন্ন ঈদুল আজহার আগপর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানায় তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা হামলা করে ইরানও। তারপর যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানো হয়। একই সঙ্গে দোকানপাট ও শপিং মল (বিপণিবিতান) সন্ধ্যায় ছয়টায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়, যা পরদিন কার্যকর হয়। যদিও পরে দোকান ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধে সে সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

বিদেশে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নথিতে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড সংযুক্ত করতে হবে। এসব নথির সত্যতা দ্রুত ও সহজে যাচাই নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিপিডি-১) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। 

সার্কুলারে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে নানা ধরনের ব্যাংক নথি জমা দিতে হয়। তবে তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো প্রায়ই জটিলতায় পড়ছে। এতে ভিসা প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময় লাগছে এবং প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে দূতাবাসগুলো সহজেই নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নথিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে গ্রাহকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৃশ্যমান হবে। এর মধ্যে থাকবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্টের শুরুর ও শেষের স্থিতি এবং নথি তৈরির সুনির্দিষ্ট তারিখ। ব্যাংকগুলোকে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রদর্শিত তথ্যগুলো অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে এবং যাচাইযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব বিধি মেনে চলতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে। এর ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব