• Colors: Green Color

পরশু প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ‘সি’ গ্রুপের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠে ‘এ’ গ্রুপের ভারত। কাল শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কারও। সুপার এইটের অন্য তিনটি দল কারা হবে, কোন দলের কেমন সম্ভাবনা, কোন দলকে কী করতে হবে—

গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
ভারত ৩.০৫০
যুক্তরাষ্ট্র ০.৭৮৮
পাকিস্তান -০.৪০৩
নেদারল্যান্ডস -১.৩৫২
নামিবিয়া -২.৪৪৩

ভারত

হাতে থাকা ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (১৮ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

পাকিস্তান

হাতে থাকা ম্যাচ: নামিবিয়া (১৮ ফেব্রুয়ারি)

নামিবিয়াকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। হেরে গেলে বাদ পড়তে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র

হাতে কোনো ম্যাচ নেই।

পাকিস্তান শেষ ম্যাচে হারলেই টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দলটি।

নেদারল্যান্ডস

হাতে থাকা ম্যাচ: ভারত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

ভারতকে হারাতেই হবে। এরপর আসবে অন্য হিসাব। নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনা কম।

নামিবিয়া

হাতে থাকা ম্যাচ: পাকিস্তান (১৮ ফেব্রুয়ারি)

প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

গ্রুপ ‘বি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
শ্রীলঙ্কা ২.৪৬২
জিম্বাবুয়ে ১.৯৮৪
অস্ট্রেলিয়া ০.৪১৪
আয়ারল্যান্ড ০.১৫০
ওমান -৪.৫৪৬

শ্রীলঙ্কা

হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (১৯ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

জিম্বাবুয়ে

হাতে থাকা ম্যাচ: আয়ারল্যান্ড (আজ), শ্রীলঙ্কা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া

হাতে থাকা ম্যাচ: ওমান (২০ ফেব্রুয়ারি)

ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই বাদ অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচ হারলে, শেষ ম্যাচে নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।

আয়ারল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (আজ)

শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।

ওমান

হাতে থাকা ম্যাচ: অস্ট্রেলিয়া (২০ ফেব্রুয়ারি)

কোনো সুযোগ নেই ওমানের।

গ্রুপ ‘সি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১.৮২০
ইংল্যান্ড ০.২০১
স্কটল্যান্ড ০.৩৫৯
ইতালি -০.৫৮৮
নেপাল -১.৯৪২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৯ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ইংল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৬ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

স্কটল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)

বাদ পড়ে গেছে।

ইতালি

হাতে থাকা ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯ ফেব্রুয়ারি)

বাদ পড়ে গেছে।

নেপাল

হাতে থাকা ম্যাচ: স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)

নেপাল বাদ পড়ে গেছে।

গ্রুপ ‘ডি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
দক্ষিণ আফ্রিকা ১.৪৭৭
নিউজিল্যান্ড ০.৭০১
আফগানিস্তান -০.২১৫
আরব আমিরাত -০.৭৯৭
কানাডা -১.৫২৬

দক্ষিণ আফ্রিকা

হাতে থাকা ম্যাচ: সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইটে উঠে গেছে।

নিউজিল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৭ ফেব্রুয়ারি)

আজ শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারালেই সুপার এইটে কিউইরা। না পারলে যদি-কিন্তুর মধ্যে পড়ে যাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

হাতে থাকা ম্যাচ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮ ফেব্রুয়ারি)

নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আমিরাত।

আফগানিস্তান

হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আফগানরা।

কানাডা

হাতে থাকা ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি), আফগানিস্তান (১৯ ফেব্রুয়ারি)

শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে আমিরাতের ফলের দিকে।

সেঞ্চুরিটা করে উদ্‌যাপনের আগে কিছুটা সময় নিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। ততক্ষণে সতীর্থ আর দর্শকদের করতালি ভেসে এসেছে কানে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে হেলমেটটা খুলে নিশাঙ্কা দু হাত প্রসারিত করে সারলেন উদ্‌যাপন। দলের জয়ের জন্য পরে লাগল আর একটি বল।

১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের সুপার ফোর। আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে— ২০০৯ সালের পর বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটি দলকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১ (মার্শ ৫৪, হেড ৫৬, ইংলিশ ২৭; হেমন্ত ৩/৩৭, চামিরা ২/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ১৮ ওভারে ১৮৪/২ (নিশাঙ্কা ১০০,মেন্ডিস ৫১, রত্নায়েকে ২৮;স্টয়নিস ২/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাতুম নিশাঙ্কা।

২০তম ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান।

আগের ১৯ ওভারের কোনোটিতে ১০ রানও ওঠেনি। জয়ের পাল্লা তাই থাইল্যান্ডের দিকেই হেলে ছিল। তবে শেষ বেলায় খেলা পাল্টে দিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। শরীফা খাতুন প্রথম বলে সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইকে যান ফারজানা।

দ্বিতীয় বলে চার, তৃতীয় বলে ছক্কা। নিমিষেই ম্যাচ সমতায়। চতুর্থ বলে অবশ্য আউট হয়ে যান ফারজানা। তবে পঞ্চম বলে জান্নাতুল ফেরদৌস সিঙ্গেল নিলে লক্ষ্যপূরণ হয়ে যায় এক বল আগেই।

নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে আজ এমন সমাপ্তির ম্যাচেই থাইল্যান্ড নারী জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল।

ব্যাংককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রান তাড়ায় বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১০৪। প্রথম চার ওভারে ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে শামীমা সুলতানা ও লতা মণ্ডল ৪৩ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলে তোলেন।

তবে এরপরও শেষ দিকে রান–বল তাল মেলাতে হিমশিত খেতে হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত ৬ বলে ১২ রানের সমীকরণে দাঁড়ায়। ১৫ বলের ইনিংসে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ২৩ রান করে এই চ্যালেঞ্জ পার করে দেন ফারজানা।

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে হারিয়েছিল ফাহিমা খাতুনের দল। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া নারী জাতীয় দল, ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

থাইল্যান্ড নারী জাতীয় দল: ২০ ওভারে ১০৩/৯ (কোচারোএনকাই ৩৪, চানথাম ২৪; শরীফা ২/১৪, ফাহিমা ২/১৬)।
বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল: ১৯.৫ ওভারে ১০৪/৭ (লতা ৩০, শামীমা ২৬, ফারজানা ২৩; পুথাওং ৩/২৫, মায়া ২/২১)।
ফল: বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল ৩ উইকেটে জয়ী।

কলম্বোয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। এই জয়ে সূর্যকুমার যাদবের দল শুধু সুপার এইটেই জায়গা করেনি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সাফল্যের পাল্লাও আরও ভারী করেছে। ম্যাচে হয়েছে বেশ কিছু দলীয় ও ব্যক্তিগত রেকর্ডও। সে সবই এক নজরে দেখা যাক।
৮-১

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয় এখন ৮টি, পাকিস্তানের মাত্র ১। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্য কোনো দল কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি।

৬টি করে জয় আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

১৬

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার পর থেকে আইসিসির সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টে (ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) টানা ১৬ ম্যাচ জিতল ভারত। ছেলেদের আইসিসি টুর্নামেন্টে এটিই টানা সবচেয়ে বেশি জেতার রেকর্ড।

ভারত ছাড়িয়ে গেছে এক সময়ের অজেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে শুরু করে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া টানা ১৫টি ম্যাচ জিতেছিল।

অবশ্য মেয়েদের ক্রিকেটে রেকর্ডটা এখনো অস্ট্রেলিয়ার, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টানা ২৪টি ম্যাচ জিতেছিল দলটি।

৬১

ভারতের ১৭৫ রান তাড়ায় পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ১১৪ রানে। ৬১ রানের জয়টি টি-টুয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড়। এর আগে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ম্যাচ জিতেছিল যথাক্রমে ১১, ৬ ও ৫ রানের ব্যবধানে।

১১

কলম্বোর ম্যাচটিতে দুই দল মিলিয়ে মোট ১১ জন স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করিয়েছে। যা বিশ্বকাপ ইতিহাস তো বটেই, ছেলেদের যে কোনো টি-টুয়েন্টি ম্যাচেই সর্বোচ্চ। এগারোজনের মধ্যে পাকিস্তান খেলিয়েছে ৬ জনকে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ।

অধিনায়ক সালমান আগা, উসমান তারিক, সাইম আইয়ুব, শাদাব খানসহ মোট ৬ স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করিয়েছে পাকিস্তান
অধিনায়ক সালমান আগা, উসমান তারিক, সাইম আইয়ুব, শাদাব খানসহ মোট ৬ স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করিয়েছে পাকিস্তান, এএফপি
১৮

পাকিস্তানের স্পিনাররা মোট ১৮ ওভার বল করেছেন, যা ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে যেকোনো দলের পক্ষে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালে একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান ১৮ ওভার স্পিন করেছিল।

যে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের পুরুষ টি-টুয়েন্টিতেও এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ওভার—২০১০ সালে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ১৮ ওভার স্পিন করেছিল।

প্রথমবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও শূন্য রানে আউট হয়েছেন অভিষেক শর্মা। নিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া প্রথম ভারতীয় তিনি। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে তিনি ৭ ইনিংসের ৪টিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন, যার মধ্যে তিনবারই প্রথম বলে।

আজকাল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে যা হয়, কলম্বোতে সেটিই হলো। ৬ হাজার কোটি টাকার ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারল না পাকিস্তান। ঈশান কিষানের ৭৭ রানের তাণ্ডবে ১৭৫ রান করেছিল ভারত। এরপর পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করে ৬১ রানে ম্যাচটি জিতল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। টানা তৃতীয় জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুপার এইটে উঠে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল।

এই হারে পাকিস্তানের সুপার এইটের অপেক্ষা বাড়ল। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে না হারলেই শেষ আটে উঠবে পাকিস্তান। তবে হেরে গেলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব খেলেই দেশে ফিরতে হবে পাকিস্তানকে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করা যুক্তরাষ্ট্র নেট রান রেটে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

১৮তম ওভারের শেষ বলে উসমান তারিককে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসের যতি টেনেছেন হার্দিক পান্ডিয়া।

এই জয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওভারে যশপ্রীত বুমরা ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটাকে ১৩/৩ বানিয়ে দেন। ৩৪ রানে বাবর আজমের বিদায়ের পর যা একটু চেষ্টা করেছিলেন উসমান খান। ৪৪ রান করে উসমান যখন ফিরলেন ৭৩ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। এরপর শুধু ব্যাবধানই কমাতে পেরেছে দলটি।

বল হাতে নেওয়া ভারতের সাত বোলারের ছয়জনই উইকেট পেয়েছেন। দুই পেসার পান্ডিয়া ও বুমরা এবং দুই স্পিনার অক্ষর ও বরুণ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)
পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)।
ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।

কলম্বোর হোটেলে জায়গা নেই। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ৩৫ হাজার আসনের সব টিকিটও শেষ। কালোবাজারে মিললেও দাম চার গুণ বেশি। ভারত থেকে কলম্বো যাওয়ার ফ্লাইটে টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া। শ্রীলঙ্কার ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট থেকে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে শ্রীলঙ্কায় আসা ১ লাখ পর্যটকের প্রায় ২০ শতাংশই এসেছেন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি দেখতে।

আজ সেই ম্যাচ—যে ম্যাচ হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল ক্রিকেটটাই। শেষ পর্যন্ত আইসিসির কূটনৈতিক তৎপরতায় এ ম্যাচ ও ক্রিকেট পুনরুদ্ধার হলেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ এমনিতেই ক্রিকেটে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই, এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে ম্যাচটি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াই কি মানুষের আগ্রহের পারদ চূড়ায় ওঠার কারণ? নইলে বার্তা সংস্থা এএফপি কীভাবে ধারণা করে ‘শোডাউন ইন কলম্বো’য় ভাঙতে পারে দর্শকের রেকর্ড!

অথচ কিছুদিন আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনই ভেঙে যেতে বসেছিল। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে পাঠাতে রাজি হয়নি বিসিবি। কিন্তু বিসিবির শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ আইসিসি যেমন মানেনি, তেমনি বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের ছাড়াই হচ্ছে এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ।

সেই দৃশ্য, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ভারতের অদৃশ্য ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন
সেই দৃশ্য, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ভারতের অদৃশ্য ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপনএএফপি

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরুর জ্বালামুখ ছিল বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনাই। কারণ, পাকিস্তান এরপরই কলম্বোর আজকের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন—বাংলাদেশের পাশে থাকতেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত।

পাকিস্তানে সিদ্ধান্ত অটল থাকলে বিশ্ব ক্রিকেটই বড় আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ত। আইসিসি তাই উদ্যোগী হয়ে লাহোরে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে যৌথ সভা করে সংকট নিরসনের জন্য। সেই সভায় আইসিসি বেশ কিছু শর্ত পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পরই পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে ম্যাচটি খেলার অনুমতি দেয়।

খেলাটা ক্রিকেটের চিরাচরিত চেতনার মধ্যেই হওয়া উচিত। আমি কী আশা করি সেটা বিষয় নয়। ক্রিকেট শুরুর পর থেকে যেভাবে খেলাটা হয়ে আসছে, সেভাবেই এটা খেলা উচিত। বাকি সিদ্ধান্ত তাদের (ভারত), তারা যা খুশি করতে পারে।সালমান আগা, অধিনায়ক, পাকিস্তান

তবে এখন আর এটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচই নয়; ভারত–পাকিস্তান মহারণের বাইরেও এই ম্যাচের একটি পরিচিতি দাাঁড়িয়ে গেছে। এটি এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে উপমহাদেশীয় ক্রিকেটের বরফ গলানোর কূটনীতির উপলক্ষও। আজকের ম্যাচে তাই আইসিসি আমন্ত্রণ জানিয়েছে এশিয়ার বড় পাঁচটি বোর্ডের প্রধানদের।

পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা, এএফপি

ক্রিকেট মাঠে ভারত–পাকিস্তান বৈরিতা বহু বছরের পুরোনো। নতুন করে সেটি সামনে আসে গত বছর সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে দুই দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের হাত না মেলানোর ঘটনায়। এমনকি এশিয়া কাপের ট্রফিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি ভারতকে। দুই দেশের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনারই প্রভাব পড়েছিল আসলে এশিয়া কাপে। টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচেই হারা পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান অবশ্য গতকাল কলম্বোর সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়ি চেতনাকে সামনে টেনে বল ঠেলেছেন ভারতের কোর্টে।

‘খেলাটা ক্রিকেটের চিরাচরিত চেতনার মধ্যেই হওয়া উচিত। আমি কী আশা করি সেটা বিষয় নয়। ক্রিকেট শুরুর পর থেকে যেভাবে খেলাটা হয়ে আসছে, সেভাবেই এটা খেলা উচিত। বাকি সিদ্ধান্ত তাদের (ভারত), তারা যা খুশি করতে পারে’—বলেছেন সালমান।

দুই দলের অধিনায়কই জানিয়েছেন, অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও তাঁরা খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। সূর্যকুমার আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘এই ম্যাচের জন্য আমাদের ফ্লাইট বুক করা ছিল। মনোযোগ ছিল শুধু প্রস্তুতিতে।’

তবে সূর্যের মেজাজ গতকাল তেমন গনগনে ছিল না। ওপেনার অভিষেক শর্মা খেলতে পারবেন কি না— প্রশ্নে খুঁচিয়েছেন সালমানকে। ‘সালমান চাইলে অভিষেক খেলবে’—বলেন হালকা মেজাজে থাকা সূর্য। পরে অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা অভিষেক খেলবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিন্তু নিশ্চিত করতে কিছু বলেননি পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাবেন কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে, ‘টসের সময় দেখা যাবে, ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।’

ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব
ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবএএফপি

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮ বার ভারতের মুখোমুখি হয়ে একবারই জিতেছে পাকিস্তান। কিন্তু তাদের দ্বৈরথে অতীত পরিসংখ্যানের প্রভাব থাকে সামান্যই। আগে কী হয়েছে না হয়েছে, সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সামনে থাকা ম্যাচটি জেতা। সে লক্ষ্যে আজ পাকিস্তানের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন অফ স্পিনার উসমান তারিক। বোলিং অ্যাকশনের জন্য তাঁকে অন্য স্পিনারদের চেয়ে একটু আলাদাই লাগে। প্রশ্ন আছে তাঁর অ্যাকশন নিয়েও। যদিও সূর্য উসমানকে কীভাবে খেলবেন, শুধু সেটা নিয়েই বলেছেন, ‘সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন হলেও সেটা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সে একটু অন্য রকম, তাই বলে আমরা তার কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারি না।’

অবশ্য না চাইলেও ভারত, পাকিস্তান দুই দলকেই তৃতীয় এক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হতে পারে—প্রকৃতি! শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, সন্ধ্যায় ম্যাচ শুরুর আগে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে কলম্বোতে। বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ থেকে ৭০ ভাগ। দুটি করে ম্যাচ জেতায় এটা দুই দলের জন্য সুপার এইটে ওঠার ম্যাচও। যে জিতবে তাঁরাই উঠে যাবে। আর বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হলে ভাগাভাগি হবে পয়েন্ট, কারণ রিজার্ভ ডে নেই। তবে আগুনে লড়াইয়ের সবকিছুই যে ম্যাচের আগে মজুত আছে, সে ম্যাচে বৃষ্টি কাম্য নয় কারোরই।

২০২২ সালের পর ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান
২০২২ সালের পর ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তানরয়টার্স

কেউ কেউ বলছেন, আজকের ম্যাচটা আসলে পাকিস্তানের তিন স্পিনার বনাম ভারতের ব্যাটসম্যানদের লড়াই। আবার বরুণ চক্রবর্তী–অক্ষর প্যাটেলদের কারণে উল্টোটাও বলা যায়। প্রেমাদাসার উইকেট একটু মন্থর হলেও স্পিনবান্ধব বলা যাবে না। এ মাঠে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে পেসাররা পেয়েছেন ৩২৩ উইকেট, স্পিনাররা ২৮২। টি–টুয়েন্টি সংস্করণে এ মাঠে ১৫ ম্যাচের ১১টিতেই জিতেছে ভারত। পাকিস্তান ৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৫টি।

এসব সংখ্যায় সম্ভাব্য সমীকরণ মেলানোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আজকের ম্যাচ দিয়ে উপমহাদেশের ক্রিকেট থেকে বৈরিতার বাতাস দূর করে দেওয়া। কঠিন সেই কাজটা পারবে তো আইসিসি?

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব