• Colors: Green Color

২০০৬ সালের ৯ জুলাই। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের। ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এরপর?

না, এই ম্যাচের পরিসংখ্যান কিংবা বিশ্লেষণ তো নয়-ই। বরং সেই ফাইনালে 'ম্যাচের' চেয়েও বেশি আলোচিত জিদান বনাম মার্কো মাতেরাজ্জির 'ঢিসুম' কাহিনীও আলোচ্য বিষয় নয়। মূল ব্যাপার বৈশ্বিক আসরের একটি অংশে ইতালির উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যেখানে ইতালি 'দ্বিতীয় দফায়' আজ পর্যন্তও অনুপস্থিত।

বার্লিনের সেই ফাইনালের পর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি বিদায় নেয় আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ তারা।

বিশ্বকাপে আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার ঘটনা নতুন না। এই পরম্পরা যেন একবিংশ শতাব্দীতে আরও পোক্ত হয়েছে। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ২০০৬ এর ইতালি যে একই কাণ্ড করেছিল পরের আসরে, সেই আলাপ পুরোনো। এই আলোচনার গল্প ভিন্ন। এর অংশ আবার দুইটি। আগে 'দ্বিতীয় দফা' আলোচনা করা যাক।

২০০৬ ফাইনালের পর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। বার্লিনের সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের নকআউট কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি ইতালির। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচ খেলার মাঝে এত দীর্ঘ বিরতি নেই অন্য কোনো দলের, যা আছে ইউরোপের এই দেশটির।

৩১ মার্চ, ২০২৬। আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ইতালির। এবার প্লে অফে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ফের ব্যর্থ দলটি।

২০৩০ বিশ্বকাপে তারা যদি সুযোগও পায় এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তবে সেটির ব্যবধান হয়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই দশক।

তবে বর্তমান শতাব্দীর এই রেকর্ড ইতালির নিজেদেরই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কাছে কিছুই না। যদি ভেবে থাকা যায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আরেকটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান অনেক বেশি, তবে এর আরেকটি বড় ভার্সন খোদ ইতালিয়ানদেরই তৈরি। সেটিই হলো গল্পের 'প্রথম বা আদি দফা'। সেখানে কী করেছিল রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরিরা?

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই আসরের ফাইনালের পর আরেকটি নকআউট ম্যাচ খেলতে ইতালির অপেক্ষা করতে হয়েছে কতদিন? এর উত্তর হলো— ৩২ বছর। এতটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।

হ্যাঁ, আগের শতাব্দীতেও এমনভাবেই দীর্ঘ তিন দশকের বিরতি দিয়েছিল ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৩৮) হিসেবে অংশ নিয়ে তারা ব্যর্থ হয় ফাইনাল রাউন্ড তথা সেই আসরের প্রথম নকআউট স্টেজে উঠতে। ১৯৫৪ সালের আসরে ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাড়ির পথ ধরতে হয় তাদের। ১৯৫৮ সালের আসরে তারা মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারেনি।

ইতালির এই গ্রুপ পর্বের গোলকধাঁধা লম্বা হয় আরও এক যুগ। ১৯৬২ সালের আসরে পশ্চিম জার্মানি, চিলি ও সুইজারল্যান্ডের গ্রুপে ফের তৃতীয় হয়ে নকআউট স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ১৯৬৬ সালের গল্প যেন আরও পীড়াদায়ক ইতালি ভক্তদের জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিলি ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে থেকেও ফের গ্রুপ পর্বে বিদায় তাদের।

অবশেষে দীর্ঘ তিন দশক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৮ ফাইনালের পর ১৯৭০ সালের আসরে নকআউটে ওঠে তারা। উরুগুয়ে, সুইডেন ও ইসরায়েলের গ্রুপে টপার হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইতালি। সেবারের আসরে অবশ্য রানার্সআপ হয় তারা। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরে যায় ইতালি। সেই ফাইনাল জিতেই জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ব্রাজিল দলতো বটেই, কালো মানিক পেলে জেতেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

ইতালির ভক্তরা হয়ত বিশ্ব আসরের একটা নির্দিষ্ট অংশে নিজেদের প্রিয় দলকে মিস করেন। এমনকি তারা বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে প্রায় ১১ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে তো বিশ্বকাপে অনুপস্থিতই ইতালিয়ানরা।

তারা নিজেরাও একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালের ম্যাচে ইতালি বলে কোনো দেশের পতাকা ওঠেনি অনেক দিন-বছর-দশক। এরকম বিরতি গত শতাব্দিতেও হয়েছিল, ৩২ বছর।

 

মেহেদী হাসান রোমান

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল। রোনানকে আটকানোর সে চেষ্টায় তারা সফল হলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে মার্ক কক্সের দল।

এ নিয়ে সাফের অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০২২ সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ফাইনাল হেরেছিল যুবারা। তবে ২০২৪ সালে নেপালকে তাদের মাটিতে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

আজ রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ভুটান। সে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে ৩ এপ্রিল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল।

মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। পোস্টের দুই প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের তৈরি করা ক্রসগুলো সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে নেপাল। ১১ মিনিটে একটা ক্রসই আজ হয়েছে নেপালের জন্য! ডান প্রান্ত থেকে মোরশেদ আলীর ক্রসটি বক্সের মধ্যে পেয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মানিক।

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল
রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল, বাফুফে
 

এক মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন রোনান সুলিভান। তবে তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল ম্যাচে ফেরার উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য কঠিনই ছিল।

এক গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলও লড়াইয়ে ঢিলেমি দেয়নি। দ্বিতীয় গোলের সন্ধানে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ৩৬ মিনিটে নাজমুল হুদার রক্ষণ চেরা পাস থেকে রোনান শট নেওয়ার আগেই নেপালের গোলকিপার পেম্বা বল গ্লাভসবন্দী করে ফেলেন।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক, বাফুফে
 

দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। নিজেদের পায়ে বল রেখে মাঝেমধ্যেই আক্রমণ শানিয়েছে। ৫২ মিনিটে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়া মানিকের বদলে মাঠে নামেন জয় আহমেদ। ৫৬ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি নাজমুল। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলে অভিষেক হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনানের ভাই ডেক্লান সুলিভানের।

শেষ ১৫ মিনিট বাংলাদেশের গোলমুখে ভালোই চাপ তৈরি করেছে নেপাল; কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের খোঁজ  পায়নি তারা। এর মধ্যেই ৯৬ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের যুবারা। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও ডেক্লানের পাস কাজে লাগাতে পারেননি সুমন সরেন।

২০ বছর আগে শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে যে দলটার আন্তর্জাতিক ম্যাচে পদার্পণ হয়েছিল, তাদের ‘আসল’ পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে আজ অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপ দিয়ে। টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায়।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল এত দিন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই বন্দী ছিল, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে অনূর্ধ্ব–১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে রীতিমতো দাপটই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ছয়বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছে পাঁচবার। কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ের লড়াইটা কতখানি কঠিন, সেটা এত দিনেও টের পায়নি তারা। আজ থেকে এশিয়ান চ্যালেঞ্জটাও নেওয়া শুরু।

মূল চ্যালেঞ্জের আগে বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল। গত আগস্টে লাওসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয়ে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফঈদা–সাগরিকারা।

কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ
কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ, বাফুফে
 

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ। কাল থাইল্যান্ডে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক টুর্নামেন্টও হবে। যা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে তারা।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে দেশটি। এশিয়ান কাপে খেলাটাও প্রায় নিয়মিত। এ নিয়ে অষ্টমবার এ প্রতিযোগিতায় খেলবে থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশ কোচও স্বাগতিকদের নিয়ে সতর্ক। তাদের ফুটবল–দর্শনটাও বোধ হয় পড়ে রেখেছেন বাটলার। ম্যাচের আগে সেটাই মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘থাইল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ। তারা নারী দলের প্রতি খুবই মনোযোগী। আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল, বাফুফে
 

সাম্প্রতিক ফলাফলে চোখ রেখে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের আশা করতেই পারেন কোচ। অনূর্ধ্ব–২০ দল নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটিতে, গত আগস্টে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে থাইল্যান্ডের হার দুটি।

এটাও ঠিক, ফুটবলকে সব সময় রেকর্ডসের ছকেও বেঁধে রাখা যায় না। ধারেভারে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দিন শেষে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা থাকবেই। বাটলারও লড়াকু ম্যাচেরই আভাস দিলেন, ‘মেয়েরা বাছাইপর্বে যেমন লড়াই করেছে, আমার বিশ্বাস, এখানেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।’

চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে কাজটা আরও দুরূহ হওয়ার কথা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য যোজন যোজন। চীন অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দুবারের রানার্সআপ। এশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০৬ সালে। তাদের সঙ্গে ননতাবুড়ি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে শনিবার।

ভিয়েতনাম আসিয়ান অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যায়ে চারবার ফাইনাল খেলেছে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিয়ে ২০০৪ সালে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাদের বিপক্ষে ৭ এপ্রিল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া বড়দের এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপটা হতাশাজনকই কেটেছে তহুরা–ঋতুপর্ণাদের। প্রথমবার অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে মেয়েদের জাতীয় দল। বড়দের সেই হতাশা কি কমাতে পারবেন ছোটরা?

ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং স্টেডিয়ামে শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলল ব্রাজিল। তাতে ফল সন্তোষজনক। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। তাতে ব্রাজিলের খেলায় ধার ফিরতে শুরু করে। যদিও প্রথম গোলটি ব্রাজিল পেয়েছে একটু দেরিতে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন দানিলো।

ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, দানিলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিত। আজ তাঁর পারফরম্যান্সে ‍খুশিই হওয়ার কথা আনচেলত্তির। ম্যাচের ৮৪ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে হয়েছে আরও ৩ গোল।

৮৪ মিনিটে ফ্রুকের পাস থেকে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি করেন লাভরো মেজর। এর ৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন ইগর থিয়াগো। যোগ করা (৯২ মিনিট ) সময়ে করা গোলটি গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির। অর্থাৎ, ৫ মিনিটের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার জালে দুই গোল করেছে ব্রাজিল।

কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই
কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই, রয়টার্স
 

রদানিলোর গোলে বড় অবদান ভিনির। ম্যাথিয়াস কুনেহার পাস থেকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল বানান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ক্রোয়েশিয়া বিরতির পর একটু দাপট বিস্তার করে খেলেছে, গোলটি তারই ফল। তবে গোল হজম করার পর ব্রাজিল আবারও খেলার ধার বাড়ায়। ক্রোয়াটদের বক্সে এনদ্রিক ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কুনেহা ও জোয়াও পেদ্রো একাধিকবার ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের পরীক্ষা নেন।

বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ ম্যাচ বলেই হয়তো এ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটু বেশিই করেন আনচেলত্তি। আটজন বদলি নামান।

ফ্রান্স ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে নেইমারের নামে দর্শকদের স্লোগান। প্রথমার্ধে একটু কম হলেও বিরতির পর নেইমারের নামে স্লোগানে আওয়াজ বেড়েছে।

গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি
গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি, রয়টার্স

মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী ৩১ মে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে খেলবে শেষ প্রীতি ম্যাচ। এ দুটি ম্যাচে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা স্কোয়াড থেকে একাদশ গড়বেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে।

সেই লিওনেল মেসিই ‘এক্স ফ্যাক্টর’।

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন না মেসি। বিরতির পর মাঠে নামেন। ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতলেও ভালো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। আজ জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসিকে একাদশে খেলানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সে অনুযায়ী মেসি যেমন শুরু থেকেই খেললেন পুরো সময়, তেমনি আর্জেন্টিনার খেলায়ও ফিরেছে ছন্দে। আফ্রিকান দলটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্কালোনির দল।

দুই অর্ধে দুটি করে গোল করেছে আর্জেন্টিনা। অন্য গোলটি আত্মঘাতী। প্রথমার্ধে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও মেসি। বিরতির পর ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এর ১৮ মিনিট পর আত্মঘাতী গোল জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দা। যোগ করা সময়ে (৯৩) ভ্যালেন্টিন বারকো করেন ম্যাচের শেষ গোল।

বুয়েনস এইরেসে লা বোমবোনেরো স্টেডিয়ামে মার্চের দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেই জয় পেল আর্জেন্টিনা। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এ দুটোই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রীতি ম্যাচ।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি, এক্স

অন্য অর্থে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। সম্ভবত এ কারণেই আটজন বদলি নামান স্কালোনি। এমনকি ম্যাচের ৭৪ মিনিটে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে তুলে সুযোগ দেন হুয়ান মুসোকে।

৪ মিনিটে আলভারেজের প্রথম গোলটির উৎস মেসি। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের কাছ থেকে দূরপাল্লার পাস পেয়ে জাম্বিয়ার বক্সে ফেলেন বল। ডান পায়ের জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আতলেতিকো মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে গোল পান মেসি। জাম্বিয়ার বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে নিচু শটে গোল করেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের মাটিতে এটাই হতে পারে মেসির শেষ গোল। ৪০টি আলাদা জাতীয় দলের বিপক্ষেও গোল হয়ে গেল মেসির, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

৫০ মিনিটে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি পাওয়ার নেপথ্যে থিয়াগো আলমাদা। জাম্বিয়ার বক্সে ফাউলের শিকার হন তিনি। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোয় স্পটকিক ওতামেন্দিকে দিয়ে নেওয়ান মেসি। দেশের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই শেষ ম্যাচ ওতামেন্দির। আর্জেন্টিনা চতুর্থ গোলটি আদায় করেছে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে। শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে চান্দার পায়ে লেগে বল জালে ঢোকে।

বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনার কথা এর আগে জানিয়েছিল দেশটির সংবাদমাধ্যম। একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে সার্বিয়া নিশ্চিত হলেও অন্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ ‍যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এএফসি এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি লাল-সবুজদের।

ম্যাচের চিত্র:

খেলার ৩১ মিনিটে সিঙ্গাপুরের হরিশ স্টুয়ার্ট গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। গোল হজম করার পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগ দারুণভাবে নিজেদের গোলবার আগলে রাখলেও, প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন হামজা-জামালরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের।

এবারের বাছাইপর্বে ছয়টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র এবং তিনটিতে হার জুটেছে কপালে। সব মিলিয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের টেবিলের তিন নম্বরে থেকে মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুর। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও হংকং ও ভারত মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যান্য ম্যাচের খবর:

গ্রুপের অন্য একটি ম্যাচে আজ ভারত ও হংকং মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

সাফ অঞ্চলের আরেক দল শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে তাদের মিশন শেষ করেছে। আজ তারা চায়নিজ তাইপেকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ৬ ম্যাচ থেকে লঙ্কানদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩টি জয়।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব