• Colors: Green Color

মাঠের লড়াই শুরু হতে আরও মাস তিনেক বাকি। কিন্তু তার আগেই ব্রাজিল ফুটবলে চলছে তুমুল বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের বিষয়—নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের দল থেকে নেইমারকে বাদ দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর তাতেই যেন সেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে। ব্রাজিল কোচের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রোমারিও ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। ২০২৩ সালের শেষ দিকে হাঁটুর মারাত্মক চোটের পর থেকে জাতীয় দলে আর ডাক পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। আনচেলত্তি স্পষ্টতই খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর জোর দিচ্ছেন। কিন্তু রোমারিওর সোজা কথা—আনচেলত্তি বড্ড আগেভাগেই দলের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্রটা ছুড়ে ফেলছেন।

শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালোরোমারিও
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও, এক্স


ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘জার্নাল ও দিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমারিও যা বলেছেন তার সারমর্ম হচ্ছে, প্রতিভার কদর সবার আগে হওয়া উচিত। তাঁর কথা, ‘একজন তারকাকে খেলতেই হবে। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় পাওয়া যায়, যা একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবাই জানে, তবু বারবার বলতে হয়—শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালো।’

১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। সে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম।
রোনালদো

১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও আরও বলেছেন, ‘প্রতিভা নষ্ট করা যাবে না। কোনো কোচই প্রতিভা ছাড়া দল চালাতে পারবেন না। আমি আশা করি, নেইমার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রমাণ করবে যে সে চূড়ান্ত দলে থাকার যোগ্য এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ে অংশ নেবে।’ পাশাপাশি রোমারিও এটাও জানিয়ে রাখলেন, ‘নেইমার গেলে আমি খুশি। কিন্তু না গেলেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখা থামাব না।’

কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার
কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার, এক্স
 

সবশেষে রোমারিও আনচেলত্তিকে বলেছেন, ‘মিস্টার, (নেইমারের দিক) একটু খেয়াল রাখবেন!’

রোমারিওর সুরে সুর মিলিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও-ও। তবে তাঁর কণ্ঠ একটু মাপা। ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সিএনএন ব্রাজিলকে বলেছেন, ‘১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। সে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আমি আশা করি সে ফিট থাকবে। আনচেলত্তিও তাকে নেবেন, আমি নিশ্চিত। সে সব ম্যাচ না–ও খেলতে পারে, কিন্তু সে যেখানেই গেছে, নিজেকে প্রমাণ করেছে। ইদানীং চোটে ভুগেছে, কিন্তু তাকে বিশ্বকাপে নিতে হলে নতুন করে যাচাই করার দরকার নেই।’

‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও
‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও, আইএমডিবি
 

মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল। এর আগে আনচেলত্তির মন জয় করার একটাই পথ নেইমারের সামনে—ফিটনেস প্রমাণ করা। প্রতিভা নিয়ে তো কোনো কালেই প্রশ্ন ছিল না, এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। সান্তোসের হয়ে এই মৌসুমে এরই মধ্যে পাঁচটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। তবে যতটুকু খেলেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই ৩টি গোল করেছেন, সঙ্গে ১টি গোলে সহায়তা করে জানান দিয়েছেন, ‘এখনো ফুরিয়ে যাইনি!’

মালদ্বীপে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। তার নৈপুণ্যে কোচ মার্ক কক্সের দল সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে বিরতিতে যেতে হয় গোলশূন্য সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনান।

এরপর ৬৭তম মিনিটে শেখ সংগ্রামের লং পাস থেকে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে।

ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি গোল করলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।

দ্বিতীয় গোলের পর পুরো ম্যাচেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গ্রুপে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

উল্লেখ্য, বয়সভিত্তিক এই আসরে বাংলাদেশ এর আগে ২০২৪ সালে একবার শিরোপা জিতেছে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে। এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল।

 

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়েছে বেশ আগে। এবার এটা গড়াল আদালত পর্যন্ত। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া  টিকিটের মূল্যকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের জোট ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। এফএসই এবং ইউরোকনজ্যুমারস গ্রুপের সোজা কথা, টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত। তাদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রিতে ফিফা নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

এফএসইর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, ফিফা
 

এফএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা), যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি! তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৯৫ ইউরো।

এমনকি ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতেও গড় টিকিটের দাম ১ হাজার ৪০৮ ডলার ধরা হয়েছিল। বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে।
একজন দর্শক এক ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টের ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।

উত্তর আমেরিকার আয়োজক কমিটি প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে যোজন দূরে। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম গ্ল্যামারাস’ লড়াইয়ের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। বড় দলগুলোর ম্যাচের টিকিটের ন্যূনতম দাম তো ২০০ ডলারের নিচে নামছেই না।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোফিফা

আবার ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত এবং তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।’

সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব রিসেল বা পুনর্বিক্রয় সাইটে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের একটি ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! মূল দাম যেখানে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে পুনর্বিক্রয় বাজারে দাম বেড়েছে ৪১ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় একটি টিকিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা!

সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
 

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। মেক্সিকোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।

টিকিটের এই অগ্নিমূল্য নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি—চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তাঁর কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী তারা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল দামের নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়বে বা কমবে।
তবে সমর্থকদের দাবি, এই পদ্ধতির কোনো স্বচ্ছতা নেই। এফএসই বলছে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার সময় টিকিটের দাম হুট করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে একজন সমর্থক জানতেই পারছেন না তাঁকে শেষ পর্যন্ত কত ডলার গুনতে হবে।
সব মিলিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই উৎসব আসলে কার জন্য?

এএফপি

৮ মার্চ শেষ হওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নতুন এক রেকর্ড গড়েছে। না, কোনো ক্রিকেটার নন, দর্শকেরাই গড়েছেন সেই ইতিহাস! আজ এক বার্তায় আইসিসির পক্ষ থেকে তেমনটাই জানানো হয়। ইতিহাসটি হলো, শুধু ভারতেই বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেখেছেন ৭২.৫ মিলিয়ন (৭ কোটি ২৫ লাখ) মানুষ, যা আগে কখনো হয়নি।

ক্রিকেটের প্রতি মানুষের এতটা আগ্রহ দেখে রোমাঞ্চিত আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘এ আসরটি দেখিয়েছে, ক্রিকেটের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ বাজারে ক্রিকেট কতটা ভালোবাসা পায়।’

[caption id="attachment_270100" align="alignnone" width="852"] ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতএএফপি[/caption]

এ তো শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের হিসাব। সম্প্রচারমাধ্যমে নিশ্চয়ই বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল আরও বেশি।

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ছিল ভারত। ৮ মার্চের ফাইনালে তারা নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে। সেই ম্যাচের দর্শক–চাহিদাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

ভারতীয় স্ট্রিমিং পার্টনার জিওহটস্টারের তথ্য অনুযায়ী গুপ্ত নিজেই রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচটিতে ৭২.৫ মিলিয়ন ডিজিটাল ইউজারের চোখ ছিল, যা বৈশ্বিক স্ট্রিমিংয়ে নতুন রেকর্ড।’

মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালেও মানুষের উন্মাদনা কম ছিল না। সেই ম্যাচে ভারত ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারায়। জিওহটস্টারের জানিয়েছে, ওই ম্যাচে ৬১৯ মিলিয়ন (৬১ কোটি ৯০ লাখ) ভিউ হয়েছিল এবং একই সময়ে সর্বোচ্চ ৬৫ মিলিয়ন (৬ কোটি ৫০ লাখ) দর্শক ছিল।

যদিও ফাইনালের মোট ভিউয়ের সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি আইসিসি।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন এই প্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।

৫৩ বছর বয়সী হাবিবুল বাশারের নির্বাচক হিসেবে অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী—উভয় দলেরই জাতীয় নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের এই প্যানেলে সদস্য হিসেবে থাকছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গাজী আশরাফ হোসেনের অধীনে আগের প্যানেলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম
নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম, বিসিবি
 

নির্বাচক প্যানেলের নতুন দুই মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের দুই দশকের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি রান করা নাঈমের দখলে রয়েছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে  সর্বোচ্চ ৩৪টি সেঞ্চুরির জাতীয় রেকর্ড। আইসিসির মাসসেরা সাহিবজাদা ফারহান ও অরুন্ধতী রেড্ডি

অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীও ২০ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার অবসর গ্রহণের পর বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছিলেন।

নাদিফ চৌধুরী
নাদিফ চৌধুরী, শামসুল হক

বিসিবি জানিয়েছে, নবনিযুক্ত এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ থাকবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মূলত বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড।

প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকেও বাদ পড়েছে সিটিজেনরা। শেষ ভরসা ছিল ইএফএল কাপ। যেখানে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা।

রোববার (২৩ মার্চ) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে সিটিজেনরা। এই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন নিকো ও’রাইলি।

২০২০-২১ মৌসুমে শেষবার ইএফএল কাপের শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ ৫ বছর পর আবারও লিগ কাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল পেপ গার্দিওলার দল।

এদিন শুরুর চাপ সামলে বল দখলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের পরীক্ষা নেওয়ার মতো কিছু করতে পারছিল না তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গিয়ে গোলের জন্য দুটি শট নিতে পারে দলটি, যদিও এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

বিরতির পর খেলায় গতি বাড়ায় সিটি। আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা; কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারছিল না দলটি। অবশেষে ৬০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে সিটি এবং গোলরক্ষকের ভুলে সেটা থেকেই এগিয়ে যায় তারা।

বের্নার্দো সিলভার পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শট নেন হায়ান শেহকি। নাগালের মধ্যে থাকলেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি কেপা আরিসাবালাগা, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে হেডে জালে পাঠান ও’রাইলি। চার মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণও করে ফেলে সিটি।

এবার ডান দিক থেকে মাথেউস নুনেসের ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডেই গোলটি করেন তরুণ ইংলিশ লেফট-ব্যাক। শেষ দিকে দুইবার দুর্ভাগ্যের বাধার মুখে পড়ে আর্সেনাল।

৭৮তম মিনিটে রিকার্দো কালাফিওরির শট পোস্টে বাধা পাওয়ার ১০ মিনিট পর, গাব্রিয়েল হেসুসের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। এতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব