• Colors: Green Color

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল প্যাশন এবং চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আমিনুল হক জানান, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে থাকাকালীন ফুটবল খেলতেন। সেই সূত্র ধরেই চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে তার খেলার সুযোগ এসেছিল। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক বলেন, জাইমা রহমানের স্কুলে গোলকিপিং করার কথা তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলে থাকাকালীন চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ এলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।

নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাইমা রহমান যখন মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন গোলকিপিং নিয়ে তাদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক কথা হয়।

সেদিনের স্মৃতি টেনে আমিনুল হক বলেন, জাইমা রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।’ মূলত জাইমা স্কুল পর্যায়ে কিপিং করতেন এবং লম্বা হওয়ায় এই পজিশনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।

তিনি বলেন, ইউরোপে স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। জাইমা রহমানেরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল, তবে পরিবারের ইচ্ছায় তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্যটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।

 

বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ মানেই যেন গোল–উৎসব! কয়েক বছর ধরে প্রতি মৌসুমেই তারা প্রতিপক্ষকে গোলের বন্যায় ভাসাচ্ছে। আগের তিন মৌসুমেই লিগে ৯০–এর বেশি গোল করেছে দলটি। এবার ২৭ ম্যাচ খেলেই নতুন রেকর্ড গড়ার পথে বাভারিয়ানরা।

১৯৭১–৭২ মৌসুমে লিগে ১০১ গোল করেছিল বায়ার্ন, যা এখনো এক মৌসুমে লিগে কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ৫৪ বছর পর নিজেদের সেই রেকর্ডই এবার ভাঙার পথে দলটি। লিগে এখনো সাত ম্যাচ বাকি বায়ার্নের। এরই মধ্যে বায়ার্ন গোল করেছে ৯৭টি। বাকি সাত ম্যাচে অন্তত পাঁচ গোল করলেই ১৯৭১–৭২ মৌসুমে করা সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ভেঙে যাবে।

বায়ার্ন এবার তাদের ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পথে
বায়ার্ন এবার তাদের ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পথে, এএফপি
 

হয়তো এত দিন অপেক্ষাও করতে হবে না বায়ার্ন সমর্থকদের। তার আগেই মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলবে জার্মান ক্লাবটি। আগামী শনিবার লিগে নিজেদের ২৮তম ম্যাচে ফ্রাইবুর্গের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। হয়তো সেই ম্যাচেই বায়ার্নের গোলের সংখ্যা ১০১ পেরিয়ে যাবে। গত বছরের নভেম্বরে ফ্রাইবার্গের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেই ৬ গোল দিয়েছিল জার্মান জায়ান্টরা।

শুধু এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করাই নয়, আরও দুই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ বায়ার্নের সামনে। ঘরের মাঠে এবং প্রতিপক্ষের মাঠে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও নতুন করে লিখতে পারে বায়ার্ন। এ মৌসুমে ২৭ ম্যাচ খেলা বায়ার্ন ঘরের মাঠেই গোল করেছে ৫৬টি, প্রতিপক্ষের মাঠে ৪১টি। এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠে এক মৌসুমে বায়ার্নের সর্বোচ্চ গোল ৬৯; ১৯৭১–৭২ মৌসুমে করেছিল তারা। অ্যাওয়তে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ৪৭, যা ২০১৯–২০ মৌসুমে করেছিল বায়ার্ন।

চলতি মৌসুমে বায়ার্নের এই ৯০ পেরোনো গোলে সবচেয়ে বেশি অবদান হ্যারি কেইনের। লিগে ২৬ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাচ, সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি! সেটাও মাত্র ৫৯ বলে। এখানেই শেষ নয়, যিনি সেঞ্চুরি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন!

অবিশ্বাস্য এই কীর্তি গড়েছেন রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। গতকাল নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এই বিস্ময় বালিকা। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে কম বয়সী নারী ক্রিকেটার এখন উতাগুশিমানিন্দে।

৬৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের এই দুর্দান্ত ইনিংসে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে উতাগুশিমানিন্দে রুয়ান্ডাকে এনে দিয়েছেন ১২২ রানের বিশাল জয়ও। সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৫৯ বল!
এর আগে নারীদের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকো। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে যখন তিনি সেঞ্চুরি করেন, তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩৩ দিন।

শুধু তা–ই নয়, নারী টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও এখন উতাগুশিমানিন্দের দখলে। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোলটনের ৯৬ রানের রেকর্ডটি প্রায় দুই দশক পর ভেঙে দিলেন এই আফ্রিকান কিশোরী। ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ২৮০ দিন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এখন কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান উতাগুশিমানিন্দে।

উতাগুশিমানিন্দের এই উঠে আসার গল্পটাও দারুণ। লর্ডসের বিখ্যাত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ফাউন্ডেশনের একটি স্কুল প্রোগ্রামের হাত ধরে তাঁর হাতে ক্রিকেটের খড়ি। রূপকথার মতো এই অভিষেক শেষে বিবিসি স্পোর্টসকে ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ১৫ বছর বয়সে অভিষেকেই এমন কিছু পাব ভাবিনি। এই অর্জন আমার কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফল।’

রুয়ান্ডার কোচ লিওনার্ড নাম্বুরোও বেশ উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথা, ‘এই পারফরম্যান্স তার কঠোর পরিশ্রম আর নিবেদনের প্রমাণ। বছরের পর বছর ত্যাগ আর একাগ্রতার ফল এটা। রুয়ান্ডায় উন্নয়নমূলক ক্রিকেট কীভাবে এগোচ্ছে, সেটারও বড় উদাহরণ।’

উগান্ডা

সিডনি শহরের সব স্রোত যেন আজ মিশে গিয়েছিল স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের সেই ঐতিহাসিক ভেন্যু আরেকবার জেগে উঠল নতুন উন্মাদনায়। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ২১তম নারী এশিয়ান কাপের প্রতীক্ষার ফাইনাল ঘিরে যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল পুরো অলিম্পিক পার্ক। কিন্তু স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার হলুদ সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে জাপান হাসল শেষ হাসি। জয়ের ব্যবধান ১-০।

৮০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। বিকেল থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল অলিম্পিক পার্কে। শহরের আবাসিক এলাকা মিন্টো থেকে ট্রেন ধরতেই বোঝা যাচ্ছিল আজকের দিনটা আলাদা। গ্ল্যানফিল্ড স্টেশনে ট্রেন বদলানোর পর নানা স্টেশন পেরোতে পেরোতে কামরাগুলো যেন হলুদ জার্সির দখলে চলে যায়। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতির চোখে–মুখে উচ্ছ্বাস আলাদাভাবে চোখ কাড়ে।

দ্বিতীয়বার ট্রেন বদলে লিডকম্ব স্টেশন থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে অলিম্পিক পার্কে পৌঁছাতেই চারদিকে মানুষের ঢল। গ্যালারিতে ঢোকার আগেই আবহ বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, বড় উৎসবের উপলক্ষও। প্রায় ৯৫ শতাংশ দর্শক অস্ট্রেলিয়ার হলেও নীল জার্সিতে কিছু জাপানি সমর্থকের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। প্রেসবক্সে বসে মনে হচ্ছিল, যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা। গগনবিদারী চিৎকার, ম্যাচ শুরুর আগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেক দিন মনে রাখার মতোই। সব মিলিয়ে পরিবেশ পৌঁছে গিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়।

ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা
ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা, এএফপি
 

একদিকে জাপান ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালের রানার্সআপ। ২০১৪ ও ২০১৮ নারী এশিয়ান কাপ জয়ী। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট, ২০১০ এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। ইতিহাসের দিক থেকে জাপান এগিয়ে থাকলেও শক্তিতে দুই দল ছিল প্রায় সমানে সমান। এই ফাইনাল ছিল দুই ফুটবল–দর্শনের লড়াইও। জাপানের নিখুঁত পাসিং বনাম অস্ট্রেলিয়ার শক্তি ও গতিনির্ভর খেলা।

অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ফুটবল দলকে যেমন সকারুস বলা হয়, তেমনি নারী দলের ডাকনাম ‘মাটিল্ডাস’। গ্যালারির সমর্থনে শুরু থেকেই চাঙা হয়ে উঠেছিল সেই মাটিল্ডাসরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩৫টির বেশি ম্যাচ খেলা ৩২ বছরের অধিনায়ক স্যাম কার সামনে থেকে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, যিনি ইংলিশ ক্লাব চেলসির বড় তারকা। আর রক্ষণে দৃঢ় ছিলেন হলুদ জার্সিতে ১৪৫টি ম্যাচ খেলা অ্যালানা কেনেডি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই।

কিন্তু ১৭ মিনিটে গ্যালারি নিস্তব্ধ। জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে পরাস্ত করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে। এ বছর ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে ধারে খেলা হামানোর শট গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। স্টেডিয়াম নীল জার্সির খেলোয়াড়েরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর  জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো
ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো, এএফপি
 

এই এক গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। তৃতীয়বার এশিয়ান কাপ শিরোপা জেতে জাপান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও জাপানের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরেছিল ১-০ গোলে। ভিয়েতনাম ও জর্ডানের মাটিতে জাপানের কাছে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া হেরে গিয়েছিল বলে এবারের ফাইনালকে প্রতিশোধের ফাইনাল মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০ বছর পর ঘরের মাঠে নারী এশিয়ান কাপ আয়োজন করে চ্যাম্পিয়নশিপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ হলো না অস্ট্রেলিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধে মরণকামড় দিয়েও জাপানের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। গোল হতে হতেও হয়নি দু-তিনবার। জাপানের গোলকিপার আয়াকা ইয়ামাশিতা ছিলেন দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁর দৃঢ়তা এবং গোটা রক্ষণের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সিডনি থেকে মুকুট নিয়ে ফিরছে জাপান। সর্বশেষ ৪টি নারী এশিয়ান কাপের তিনটিই জিতে নিল তারা।

অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ কিন্তু কম ছিল না। কেইটলিন ফোর্ড একবার জাপানের গোলকিপারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি। আরেকবার আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডের শট যায় বাইরে। এই মিসগুলোই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় স্বাগতিকদের জন্য।

শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া
শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
 

জাপান পুরো টুর্নামেন্টে ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, তিন ম্যাচে করেছে ১৭ গোল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় ৪-১ ব্যবধানে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ফাইনালের নিজেদের উজাড় করে দিয়েও জাপানের কাছে আটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

জাপানের ড্যানিশ কোচ নিলস নিলসেন ইতিহাস গড়েছেন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর দল ছিল অপরাজিত। পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর টেকনিক্যাল দক্ষতায় এগিয়ে থেকেই জাপান ছিনিয়ে নিয়েছে শিরোপা। মাঝমাঠে ইউই হাসেগাওয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে হামানোর নৈপুণ্য ছিল জাপানের মূল শক্তি। গোলরক্ষকের কিছু সেভ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল।

জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল। দুবারই জাপান ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও সেই একই স্কোরলাইন। ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি হলো। ১২ বছরের মধ্যে তিনটি ফাইনালে একই পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে আক্ষেপ হয়ে থাকবে অনেক দিন।

ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা
ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা, এএফপি
 

দক্ষিণ কোরিয়ার রেফারি কিম ইউর শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে শুয়ে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। আশাভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। অন্যদিকে নীল জার্সিধারীদের উল্লাস। তবে অলিম্পিক পার্কের এই রাত মনে করিয়ে দিল, শিরোপা এক দলের হলেও জয় আসলে ফুটবলেরই।

ম্যাচটা কি বাংলাদেশের মেয়েরা দেখেছেন? জানা নেই। তবে সিডনিতে ঈদের আবহও মিশে গিয়েছিল এই ফুটবল উৎসবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন ম্যাচটি। যদিও বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তবু প্রথমবার এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে এসে আফঈদাদের খেলার অভিজ্ঞতা বড় প্রাপ্তি আর শিক্ষাও।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব