• Colors: Green Color

আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইমেন্স এশিয়ান কাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে আছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ‎‎প্রথম প্রবাসী নারী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জাপানে জন্ম নেওয়া মাতসুশিমা সুমাইয়া। এবার আনিকাও এ তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি। গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক। ইউরোপের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চাইবেন ২০ বছর বয়সী আনিকা।

আনিকা ছাড়া এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে আরও দুই নতুন মুখ আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন। এই দুজন প্রথমবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও। ‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

মেয়েদের এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল চীন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৪ বার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ৩ মার্চ প্রথম ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে খেলতে হবে পিটার বাটলারের দলকে।

২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে
২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলেবাফুফে

৬ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। ১৯৮৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার এশিয়ান কাপ খেলা দেশটি ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে শিরোপা জিতেছে। আর পাঁচবার এই টুর্নামেন্টে খেলা উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ দৌড় গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত। ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।‎

১২ দলের টুর্নামেন্টে ৩ গ্রুপে থাকা চারটি করে দল লড়বে নকআউটের জন্য। তিন গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট ছয় দল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুই দলও পাবে শেষ আটে খেলার সুযোগ।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার।

নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল

গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী। ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন। মিডফিল্ডার: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন। ফরোয়ার্ড: আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ‎স্ট্যান্ডবাই: অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি, তনিমা বিশ্বাস।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে এই ফুটবল উৎসবে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ভেন্যুও ছড়িয়ে আছে তিন দেশের বিশাল মানচিত্রজুড়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম ‘লজিস্টিকস’। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘাঁটি বা ‘বেস ক্যাম্প’ কোথায় করা হবে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হচ্ছে দলগুলোকে।

সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাটি নিজেদের দখলে নিতে ফিফার কাছে দৌড়ঝাঁপ করছে দলগুলো। যদিও এখনো সব দলের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত হয়নি, তবে অনেক বড় দলই এরই মধ্যে ঠিকানা ঠিক করে ফেলেছে।

‘বেস ক্যাম্প’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলগুলো অনেক কিছু মাথায় রাখে। হোটেলের মান, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, অনুশীলন ভেন্যুতে যাতায়াতের সহজ পথ থেকে শুরু করে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—সবকিছুই হতে হয় নিখুঁত।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত কোন দেশগুলো তাদের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত করেছে, তা জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।

ক্রোয়েশিয়া: আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া

ক্রোয়েশিয়া তাদের আস্তানা গাড়ছে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায়। তাদের থাকার জন্য ঠিক করা হয়েছে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেল। আর অনুশীলনের জন্য তারা বেছে নিয়েছে শহরের এপিসকোপাল হাইস্কুলকে। দলটির কোচ জ্লাতকো দালিচ জানিয়েছেন, অনুশীলনের সুযোগ, হোটেল এবং যাতায়াতের সুবিধা—সবকিছুর বিচারে আলেকজান্দ্রিয়াই তাদের জন্য সেরা।

এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়া
এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়াফিফা

জার্মানি: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলাইনা

জার্মানরা ডেরা বাঁধছে নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেমে। ওয়েইক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি হবে তাদের মূল কেন্দ্র। এই ইউনিভার্সিটির ফুটবল–ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালে তারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল এবং ছয়বার সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। জার্মান ফুটবলাররা থাকবেন ‘গ্রেইলিন এস্টেট’-এ।

স্পেন: চ্যাটানুগা, টেনেসি

সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বেছে নিয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের চ্যাটানুগা শহরকে। টেনেসি নদীর তীরে ১ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরের এম্বেসি সুইটস হোটেলে থাকবে স্প্যানিশরা। আর তাদের প্র্যাকটিস চলবে বেলর স্কুলে। গত ক্লাব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি দলটিও এখানেই অনুশীলন করেছিল।

ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়
ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়এএফপি

উরুগুয়ে: প্লেয়া দেল কারমেন, মেক্সিকো

বিশ্বকাপের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বেস ক্যাম্পটি সম্ভবত হতে যাচ্ছে উরুগুয়ের। পর্যটকদের স্বপ্নের গন্তব্য মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনে থাকবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সাদা বালু আর নীল সমুদ্রের এই পর্যটনকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন দারুণ, তেমনি এখান থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার সময়ও কম লাগবে।

ব্রাজিল: মরিসটাউন, নিউজার্সি

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেছে নিয়েছে একদম ঝকঝকে নতুন এক স্থাপনাকে। এমএলএস দল নিউইয়র্ক রেড বুলসের নতুন ঘাঁটি ‘রেড বুল পারফরম্যান্স সেন্টার’-এ (বিশ্বকাপের সময় যার নাম হবে কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি) অনুশীলন করবে সেলেসাওরা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই সেন্টারে ৮টি পূর্ণ মাপের ফুটবল মাঠ রয়েছে।

ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কে
ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কেছবি: রয়টার্স

ফ্রান্স: বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স আস্তানা গাড়ছে ঐতিহাসিক বোস্টন শহরে। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা থাকবেন ফোর সিজনস হোটেলে। আর বাবলসন কলেজের মাঠে চলবে তাঁদের অনুশীলন। ফ্রান্স তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে, জিলেট স্টেডিয়ামে।

আর্জেন্টিনা: কানসাস সিটি, মিসৌরি

মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে
মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে, এএফপি
 

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আস্তানা গড়ছে কানসাস সিটিতে। তারা এমএলএস দল স্পোর্টিং কেসির প্র্যাকটিস মাঠ ব্যবহার করবে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দূরত্বের কথা চিন্তা করলে কানসাস সিটিই টুর্নামেন্টে তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে কানসাস সিটি চিফস-এর অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে মুকুট ধরে রাখা হলো না বাংলাদেশের। নেপালের পোখারায় আজ ফাইনালে ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজের মেয়েদের। দলগতভাবে দিনটি আক্ষেপের হলেও ব্যক্তিগত অর্জনে টুর্নামেন্ট রাঙিয়েছেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার। চার দেশের এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন পঞ্চগড়ের এই উদীয়মান ফরোয়ার্ড।

ফাইনালে আজ গোল পাননি আলপি। কিন্তু লিগ পর্বে ছিলেন দুর্দান্ত। ওই পর্বে বাংলাদেশের করা ১৮ গোলের মধ্যে একাই করেছেন ৭ গোল। ভুটান ও নেপালের বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক। নেপালের বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকই বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলেছিল। টুর্নামেন্টে তাঁর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়টা একরকম নিশ্চিতই ছিল।

সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পাওয়াটা আলপির জন্য ছিল বিশেষ চমক। বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। মাঠে চমৎকার বল নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতায় আলপি মুগ্ধ করেছেন বিচারকদের। শিরোপা হারানোর বিষাদে তাঁর মুখটা কিছুটা গুমড়ো হয়ে থাকলেও দেশের জন্য এই ‘ডাবল’ অর্জন মোটেও কম গৌরবের নয়। মঞ্চে তাঁকে অভিনন্দন জানান সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও আলপি
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও আলপি, বাফুফে

আলপির এই কীর্তি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ আসরকে। সেবার বাংলাদেশের সাগরিকা ৪ গোল করে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। আলপি যেন সেই গৌরব আবার ফিরিয়ে আনলেন।

আলপির এই ধারালো পারফরম্যান্স অবশ্য হঠাৎ করে আসা কিছু নয়। সর্বশেষ নারী লিগে সিরাজ স্মৃতি সংসদের হয়ে ১১ গোল করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ঘরোয়া লিগেও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। রাজশাহী স্টারসের জার্সিতে ৮ ম্যাচে ৩ হ্যাটট্রিকসহ ২৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিনি সবার আগে।

টুর্নামেন্টে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের মুন্নি। এ ছাড়া ফেয়ার প্লে ট্রফিও গেছে ভারতের ঘরে।

বাংলাদেশ ০:৪ ভারত

নেপালের পোখারায় আক্ষেপের গল্প লিখল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। যে নেপাল বরাবরই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ‘পয়মন্ত’ হিসেবে পরিচিত, সেই নেপালেই আজ ধরাশায়ী হতে হলো লাল-সবুজের মেয়েদের। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতেছে ভরত।

কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ ফুটবল লড়াইয়ে একক আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। নভেম্বরে পুরুষ ফুটবল এবং গত মাসে নারী ফুটসালে জয়ের পর এই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের লিগ পর্বেও জয় এসেছিল। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে এসে ফল পাল্টে দিয়েছে ভারতের মেয়েরা।

পোখারার এবড়োখেবড়ো মাঠে রক্ষণ ও গোলকিপারের ভুলই বাংলাদেশের হারের বড় কারণ। লিগ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফাইনালে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখা দূরের কথা, রক্ষণের মারাত্মক সব ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে একের পর এক। ম্যাচের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে চলে যায় প্রথমার্ধেই।

৪০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আসা একটি ক্রসে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা পজিশন হারিয়ে ফেললে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান ভারতের এক ফরোয়ার্ড। তিনি আলতো করে বল ঠেলেন অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমকে। খুব কাছ থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি মনিপুরের মেয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে ৬০ মিনিটে পিছিয়ে থাকার ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বক্সে ভারতের ফরোয়ার্ড আলভা দেবী বাংলাদেশের গোলকিপার ইয়ারজান বেগম ও এক ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে যান। ভুটানি রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর লক্ষ্যভেদ করেন এলিজাবেদ লাকড়া।

৬৮ মিনিটে গোলকিপার ইয়ারজানের ভুলে শেষ হয়ে যায় সব আশা। বদলি খেলোয়াড় প্রতীমার ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভারতের পার্ল ফার্নান্দেজের গায়ে বল মারেন ইয়ারজান। ফিরতি শটে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দিতে ভুল করেননি ফার্নান্দেজ। আগেভাগেই হেরে বসা বাংলাদেশ ৮৩ মিনিটে হজম করে চতুর্থ গোল (গোলদাতা অন্বিতা রঘুরামন)।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন বিভাগের সর্বশেষ ৬টি আসরের ৫টিতেই চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে হওয়া ২০২৪ আসরে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ ও ভারত। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশের মেয়েরা ফাইনালের আগপর্যন্ত ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফাইনালের আগে পিটার বাটলারের মেয়েরা তিন ম্যাচে ১৮ গোল করে কোনো গোল হজম করেনি। ভারত তিন ম্যাচে করে ৯ গোল, হজম করেছিল ২ গোল।

এই টুর্নামেন্টটি মূলত আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছিলেন কোচ পিটার বাটলার। যদিও সিনিয়র ফুটবলাররা নেই এই দলে। তবে ফাইনালের এমন হার কোচ এবং খেলোয়াড়দের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়েই থাকল।
টুর্নামেন্টে দুটি হ্যাটট্রিকসহ  ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা বাংলাদেশের আলপি আক্তার। মুনকি আক্তার করেছেন ৪টি গোল।

ঢাকা

প্রথম ইনিংস শেষেই কি ফাইনালের ভাগ্য লেখা হয়েছে?

আজ হারারেতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত আগে ব্যাটিং করে তুলেছে ৪১১ রান। যা জাতীয় দল ও ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এমন কিছুর পর ইংল্যান্ড যুবাদের শিরোপা জিততে হলে আরেকটি রেকর্ডই গড়তে হতো। তবে সেটা তারা পারেনি।

ইংল্যান্ডকে ৩১১ রানে অলআউট করে ১০০ রানের জয়ে ২০২৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতায় ভারত অনূর্ধ্ব–১৯ দলের এটি ষষ্ঠ শিরোপা।

জিম্বাবুয়ের মাটিতে ভারতের যুবাদের এই জয়ের মূল নায়ক বৈভব সূর্যবংশী। ১৪ বছর বয়সী এই ওপেনার ৮০ বলে খেলেছেন ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। যা যুব ওয়ানডের কোনো ফাইনাল বা নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সামির মিনহাসের ১৭২ রান।

ছেলে ও মেয়েদের সিনিয়র ও জুনিয়র এবং যে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনাল মিলিয়ে সূর্যবংশীর ইনিংসটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।

সেঞ্চুরির পর সূর্যবংশী
সেঞ্চুরির পর সূর্যবংশী, আইসিসি

যদি সূর্যবংশীর ইনিংসের শুরুটা ছিল তুলনামূলকভাবে ধীর গতির। প্রথম ২৪ বলে করেছিলেন ২৪ রান। তবে পরের ১৫১ রান তুলতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ৫৬ বল। চার ও ছক্কা মেরেছেন ১৫টি করে। যুব ওয়ানডেতে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সবচেয়ে বেশি রানেরও রেকর্ড এটি।

১২৬ মিনিটের এই মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান ঘটে ২৬তম ওভারে। ইংল্যান্ডের পেসার ম্যানি লামসডেনের গতি কমিয়ে দেওয়া একটি বলে শ্লগ সুইপ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক টমাস রোর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সূর্যবংশী যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন ভারতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৫১ রান। এরপর ভারত যোগ করতে পেরেছে ১৬০ রান।

সেঞ্চুরি করেছেন ইংল্যান্ডের ফালকনোরও
সেঞ্চুরি করেছেন ইংল্যান্ডের ফালকনোরওআইসিসি

রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন কালেব ফালকনোর। ৬৭ বলে ১১৫ রান করে ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরির কারণেই ১৭৭ রানে ৭ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড ৩১১ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ৫০ ওভারে ৪১১/৯ (সূর্যবংশী ১৭৫, আয়ুশ ৫৩; মিন্টো ৩/৬৩, গ্রিন ২/৪৯) ইংল্যান্ড: ৪০.২ ওভারে ৩১১ (ফালকনোর ১১৫, ডকিন্স ৬৬; অ্যামব্রিশ ৩/৫৬, চৌহান ২/৬৩) ফল: ভারত ১০০ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বৈভব সূর্যবংশী। টুর্নামেন্টসেরা: বৈভব সূর্যবংশী

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব