• Colors: Green Color

সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। লা লিগায় শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে হেরে এখন শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় আছে দলটি। বিশেষ করে গতকাল রাতে মায়োর্কার কাছে হারের পর পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। লিগে ৮ ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সেলোনা এখন এগিয়ে আছে ৭ পয়েন্টে। ৩০ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭৬ আর রিয়ালের ৬৯।

লিগ বিবেচনায় এই ব্যবধান অনেক বড়। নাটকীয় কিছু না হলে রিয়ালের জন্য ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। শুধু লা লিগাতেই নয়, রিয়ালের দুশ্চিন্তা আছে বায়ার্নের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ঘিরেও। এই ম্যাচের আগে দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অফ ফর্মও এখন রিয়ালের ভাবনা বাড়িয়েছে।

লা লিগায় এমবাপ্পে সর্বশেষ গোল করেছেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর রিয়াল লিগে ম্যাচ খেলেছে ৭টি, যার মধ্যে ৪টিতে এমবাপ্পে মাঠে নামেননি। হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন তিন ম্যাচে, আর অন্য ম্যাচটিতে ছিলেন বেঞ্চে।

আর যে তিন ম্যাচে খেলেছেন, সেগুলোতেও গোলের দেখা পাননি তিনি। আর এই ৭ ম্যাচের ৩টিতেই হার দেখেছে রিয়াল। এই হারগুলোই এখন লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে রিয়ালের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে
মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে, রয়টার্স

লা লিগার হিসাব বাদ দিলে এমবাপ্পে এখন সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে গোল পাননি। ফুটবলের তথ্যভিত্তিক পোর্টার স্ট্যাটস ফুট বলছে, এটাই রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পের দীর্ঘতম গোলখরা। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এমনটা ঘটেছিল।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচের মধ্যে দুটিতে চোটের কারণে খেলা হয়নি এমবাপ্পের। অন্য দুই ম্যাচে খেললেও পাননি গোলের দেখা। ফলে বায়ার্ন ম্যাচের আগে এমবাপ্পের গোলে ফেরার দিকেই এখন সবার চোখ। কারণ, তাঁর ছন্দহীনতার প্রভাব সামগ্রিকভাবে রিয়ালকে চাপে রেখেছে। এখন এমবাপ্পের গোলই পারে এই চাপ থেকে রিয়ালকে এবং তাঁকে বের করে আনতে।

খাগড়াছড়ির দরিদ্র পরিবার থেকে ফুটবলে এসেছিলেন দুই যমজ বোন আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি। সংসারে দুই বেলা খাবার জোগাড় হতো না। কিন্তু অদম্য দুই বোন থেমে থাকেননি। ২০১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে যোগ দেন তাঁরা। ২০২১ সালে সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন দুই বোনই। একমাত্র জয়সূচক গোল করেন আনাই মগিনি। অভিমান নিয়ে জাতীয় দল ছেড়েছেন দুই বোনই। আর আনাই মগিনি ফুটবলই ছেড়ে দিয়েছেন পুরোপুরি। ১০ হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন তিনি। বোন আনুচিং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচ। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে সময় নিলেন মাত্র ১০ মিনিট। নিজের নামাঙ্কিত ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এর সামনেই ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

যদিও জয়ের হাসি নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে পারেনি তাঁর দল। ঘরের মাঠে অস্টিন এফসির বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

মায়ামির প্রথম গোলটা মেসির পা থেকে এলেও ন্যু স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছেন অস্টিন ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর। ৬ মিনিটেই সফরকারীদের এগিয়ে দেন তিনি। এর চার মিনিট পরই দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০৩ নম্বর গোল।

সমতায় ফেরার পর মায়ামি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও অস্টিনের রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উল্টো ৫৩ মিনিটে পাল্টা–আক্রমণে জেইডেন নেলসনের গোলে আবারও লিড নেয় অস্টিন।

ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন ৭৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেজকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। মাঠে নামার ৮ মিনিট পরে গোল করে দলের হার বাঁচান এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে জর্মান বার্টারেম হেড করার পর খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ।

গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি
গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি, এএফপি

ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শেষ দিকে মেসি দারুণ একটা সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বলে জড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে সেটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চার ম্যাচ জয়হীন থাকল অস্টিন।

গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম হোম ম্যাচ। এ ছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ফোর্ট লডারডেলকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের পর এবারই প্রথম নিজেদের শহরের নামে গড়া স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেল তারা।

২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন ক্লাবের সহমালিক ডেভিড বেকহাম ও জর্জ মাস। খেলা শুরুর আগে আবেগপ্রবণ হয়ে বেকহাম বলেন, ‘মায়ামিতে এই স্টেডিয়াম চালু করার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করার পর আজ এটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ২০ বছর আগে এমএলএসে আসার সময় অনেক কথা দিয়েছিলাম। ১৩ বছর আগে মায়ামিতে আসার সময়ও সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিলাম। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।’

গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ও বেকহামের রিয়াল মাদ্রিদ–সতীর্থ রোনালদো নাজারিও।

ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘এটি দর্শনীয় স্টেডিয়াম, নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য; পুরো গ্যালারি একদম ঠাসা ছিল।’

আগামী সপ্তাহে নিজেদের এই নতুন মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি ধরে রাখা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয় রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।

বিলম্বিত বরণ

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে পৌঁছায় রাত পৌনে ১০টায়। খেলোয়াড়েরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চোটের কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়ে মঞ্চে আসেন এক খেলোয়াড়, এরপর আসেন সাফের সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। একে একে সব খেলোয়াড়কে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। ডেকলান সুলিভানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবার শেষে মঞ্চে আসেন রোনান সুলিভান। উপস্থাপক ট্রফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সেটি এনে মঞ্চের সামনে রাখা হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান ওঠে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, যিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। সাফের ফাইনালে গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকারে একটা শট সেভের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০০৩ সালে। যখন ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনিও একটি শট আটকান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
 

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশাল পর্দায় বাংলাদেশের সাফ জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো প্রদর্শিত হয়। পরপর দুবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর অধিনায়ক মিঠুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই দলই বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

মার্ক কক্স , কোচ, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দল

কোচের লক্ষ্য ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ছেলেরা চেষ্টা না করলে এই ট্রফি আসত না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।’ মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি এই ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্স
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্সশামসুল হক

আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা

শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির প্রধান ও বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদিকে খেলোয়াড়েরা সম্মান জানান। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোচ যেভাবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্নের কথা বলেছেন, আমাদের সেভাবেই এগোতে হবে এবং পাইপলাইন তৈরির কাজ করতে হবে।’

নাসের শাহরিয়ার জাহেদি রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং দলের অন্য সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা আজ রাতেই সবার হাতে পৌঁছানোর কথা। এ ছাড়া সমর্থকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম  খান প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আলাদা কোনো পুরস্কারের ঘোষণা দেননি। এর আগেও হাতিরঝিলে হওয়া মেয়েদের দুটি সংবর্ধনায় কোনো পুরস্কার ঘোষণা করেনি বাফুফে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। ৬ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সাফজয়ী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)
জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)শামসুল হক

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও জনসমাগম

এই সাফল্য উদ্‌যাপনে জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও আমজনতার উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম; গ্যালারির তিন ভাগের এক ভাগও পূর্ণ হয়নি। তবে আয়োজন ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। প্রবেশপথে ট্রফি জয়ের বড় বিলবোর্ড ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত বোর্ড ছিল। মঞ্চের পেছনে পর্দায় ছেলেদের সাফ জয়ের পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে নারী ফুটসাল জয়ের ছবিও দেখানো হয়, যা অনেকের কাছে কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মঞ্চের সামনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘CHAMPIONS’। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং ৩৪টি চেয়ারে সজ্জিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোর বিচ্ছুরণ পুরো পরিবেশকে বর্ণিল করে তুলেছিল।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চেষ্টা, দেশপ্রেম আর ঐক্য থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এখন বলতে পারি—উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন। তবে এটাই শেষ নয়, কোচ মার্ক কক্সের কথামতো ২০৩৬ (আসলে হবে ২০৩৪) সালে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রেনান-সুলিভানদের জন্য ছাদখোলা বাসে বর্ণিল সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফুটবলারদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে সাফজয়ী ফুটবলারদের বরণ করে নেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এরপর ছাদখোলা বাসে শুরু হবে ফুটবলারদের শোভাযাত্রা। বাফুফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই শোভাযাত্রা বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার গিয়ে শেষ হবে।

সেখানে সাড়ে ৭টার দিকে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাই সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

এদিকে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে টাকার অংক এখনও জানানো হয়নি।

এর আগে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ানো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে। গোলকিপার মাহিন ভাগ্য পরীক্ষার সেই মুহূর্তে একটি শট রুখে দেন। আর শেষ শটে পানেনকা কিকে গোল করে রোনান বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বিজয়ীদের বরণ করে নেবে বাফুফে। আজ সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন দলকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে একটি বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে শহরে নিয়ে আসা হবে। দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম এই অর্জনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রাটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে গিয়ে শেষ হবে।

বাফুফে জানিয়েছে, আজ রাত ৭টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানাবেন।
দেশের ফুটবলে সাফল্য উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

বাংলাদেশে ছাদখোলা বাসে ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়া এখন জনপ্রিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার থেকে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটে ফেরার পর নারী ফুটবল দলকে একইভাবে ভোররাতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড থেকে সাফ নারী ফুটসালের শিরোপা জিতে ফেরার পর সাবিনা-কৃষ্ণাদেরও বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব