• Colors: Green Color

অসাধারণ স্যামসন, নাকি আরও বেশি কিছু

এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।

অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার।

স্যামসনকে সাপোর্ট দিয়েছেন অন্যরাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭, পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তাঁর কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ ( চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭*, পাওয়েল ৩৪*; বুমরা ২/৩৬, পান্ডিয়া ১/৪০)। ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (স্যামসন ৯৭*, তিলক ২৭; হোল্ডার ২/৩৮, শামার ২/৪২)। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন

চ্যাম্পিয়ন হলে অপরাজিতই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইটেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দল।

এই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তাদের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান ১৩ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কারও ব্যাটই সেভাবে ভরসা জোগাতে পারেনি। রাজা আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল দেড় শও হয়তো করতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তবে ক্লাইভ মাদান্দের ২০ বলে করা ২৬ রানের ইনিংসে তা করেছে জিম্বাবুয়ে।

পরে আর কাজটা কঠিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ২৪ বলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ২১ ও জর্জ লিন্ডা ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সুপার এইটে এলেও কোনো ম্যাচ না জিতেই তারা বিদায় নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে দুই দলেরই মন খারাপ। দাসুন শানাকা হাঁটু ধরে নুইয়ে পড়লেন হতাশায়। ম্যাচটা জেতায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কারও নেই কোনো উচ্ছ্বাস। কারণ, ম্যাচটা তাদের শুধু জিতলেই হতো না, সেমিফাইনালে যেতে মেলাতে হতো আরও সমীকরণ।

পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের জয়ে রান রেটে তারা টপকে যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিফাইনালে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার সামনে ২১৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা এর কম রানে আটকে রাখতে পারলে সেমিফাইনালে যেত তারা। কিন্তু পুরো ২০ ওভার খেলে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে করেছে ২০৭ রান।

শ্রীলঙ্কাকে সমীকরণের ভেতর আটকে রাখার সম্ভাবনা যে পাকিস্তান তৈরি করেনি, তা নয়। কিন্তু তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রবান রত্নায়েকে। ১০০ রানের ভেতর ৫ উইকেট হারালেও ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়ে যান তিনি।

পরে তো দাসুন শানাকা ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কাকে। ইনিংসের শুরু থেকেই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে থাকেন। তবে শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের জন্য করতে হতো ২৮ রান।

ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা
ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা, এএফপি
 

প্রথম বলে চারের পর টানা তিন বলে ছক্কা মারেন। ২ বলে দরকার হয় ৬ রান। কিন্তু অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করা শাহিন শাহ আফ্রিদির শেষ দুই বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি শানাকা। বিশেষ করে ওভারের শেষ বলটা সাদাচোখে ওয়াইড মনে হলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি, ম্যাচ শেষে যা নিয়ে হতাশ মনে হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটারদের।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে যেন বড় ব্যবধানে হারানো যায়, সেই চেষ্টা ভালোভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তাঁদের দুজনের ৯৫ বলে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি তো রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটেই এখন এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।

৯ চার ও ৪ ছক্কায় ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে দুশমন্ত চামিরার বলে বোল্ড হন। তবে সাহিবজাদা পেয়ে যান সেঞ্চুরি। এই পথেই তিনি এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। ৬০ বলে ১০০ রান করে আউট হন তিনি, ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৫ ছক্কা। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮টি ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন ফারহান। এই বিশ্বকাপে ৬ ইনিংস খেলে ৩৮৩ রান করেছেন ফারহান।

এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পাকিস্তান বেশি দূর যেতে পারেনি বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। শেষ ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ব্যক্তিগত সংগ্রহটা নিতে পারেননি দুই অঙ্কেও। পাকিস্তানের রানটা তাই জয়ের জন্য যথেষ্ট হলেও তাদের তুলতে পারেনি সেমিফাইনালে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*; মাদুশঙ্কা ৩.৩৩, শানাকা ২/৪২)। শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬; আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১)। ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।

একটা কথা আছে, প্রিয় নায়কদের কখনো খুব কাছ থেকে দেখতে নেই; তাতে মোহভঙ্গ হতে পারে।

কথাটা ব্রাজিলিয়ান কিশোর ‘দেল’কে বলতে যাবেন না। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ দল আর বাহিয়া ক্লাবের এই স্ট্রাইকারের কাছে ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড বিশাল এক অনুপ্রেরণা। এখন পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধ্যানজ্ঞানই হচ্ছে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে কাছ থেকে দেখা।

শৈশব থেকে যাঁকে ‘দ্রোনাচার্য’ ভেবে বড় হয়েছেন, সেই আর্লিং হলান্ডের কাছ থেকে যখন হঠাৎ ভিডিও বার্তা পেলেন,  দেলের রোমাঞ্চের পারদটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল, তা বোধ হয় অনুমান করাই যায়।

ঘটনাটা হচ্ছে, তাঁর প্রতি দেলের এমন অগাধ ভালোবাসার কথা কোনো না কোনোভাবে হলান্ডও জানতে পেরেছেন। তারপর সিটির সতীর্থ সাভিনিওর কাছ থেকে একটু তালিম নিয়ে হলান্ড ভাঙা ভাঙা পর্তুগিজে একটা ভিডিও বার্তাও পাঠালেন দেলকে। সেই বার্তায় বললেন, ‘দেল, ইতিহাদে খেলা দেখার জন্য তোমাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব–১৭ দলের হয়ে দারুণ খেলেন দেল
ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব–১৭ দলের হয়ে দারুণ খেলেন দেলদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

দেলের চোখেমুখে তখন রাজ্যের বিস্ময় আর আনন্দ। ফিরতি বার্তা পাঠালেন, ‘হলান্ড, তুমি ডাকলে আমি আসবই। তোমার গোল করা দেখতে আর তোমার কাছ থেকে শিখতে তর সইছে না।’ ভিডিওর শেষে হলান্ডের সেই বিখ্যাত ‘লোটাস’ বা পদ্মাসন ভঙ্গিটাও নকল করে দেখালেন দেল।

আরও অনেক ব্রাজিলিয়ানের মতো দেলের আসল নামটাও বড়সড়। ওয়েন্দেমন ওয়ান্দারলেই সান্তোস দি মেলো। ২০০৮ সালের জুনে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের সারজিপে রাজ্যে জন্ম তার। ঝোপঝাড়ে ঘেরা ধূসর প্রান্তরের এই এলাকাটি ব্রাজিলে ‘সেরতাও’ বা মরুভূমিসদৃশ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেই দেলের উঠে আসা, আর তাই ব্রাজিলের ফুটবলে তার নাম হয়ে গেছে ‘হলান্ড দো সেরতাও’ বা মরুভূমির হলান্ড।

ব্রাজিলের আধা পেশাদার লিগ থেকে উঠে এসে মাত্র ১২ বছর বয়সে দেল যোগ দেন বাহিয়া ক্লাবে। যে ক্লাব থেকে একসময় দানি আলভেসের মতো কিংবদন্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাহিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ৩৪ ম্যাচে ৪০ গোল করে হইচই ফেলে দেন তিনি। ইউরোপে তখন হলান্ডও গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করছিলেন। ব্রাজিলের ফুটবল হয়তো তখনই টের পেয়েছিল, তাদের দেশে নরওয়েজীয় গোলমেশিনের এক প্রতিচ্ছবি তৈরি হচ্ছে।

২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে দেল নিজেকে মেলে ধরলেন আরও দারুণভাবে। সেমিফাইনালে চিলির বিপক্ষে একমাত্র গোলটি তাঁরই। ফাইনালে স্বাগতিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিটাও নিলেন ঠান্ডা মাথায়। এই বয়সেই তাঁর স্নায়ু যেন ইস্পাত দিয়ে গড়া!

বাহিয়ার হয়ে সময়টাও মাঠে উপভোগ করলেন দেল
বাহিয়ার হয়ে সময়টাও মাঠে উপভোগ করলেন দেলদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

এরপর কাতার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। হন্ডুরাসের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে শুরু, এরপর জাম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক হেডে দলের মান বাঁচানো গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে যখন খেলা ১-১ সমতায়, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দেল দেখালেন তাঁর কারিশমা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে পাঠালেন শূন্য জালে। সত্যিকারের এক ‘নাম্বার নাইন’ গোল! যদিও সেমিফাইনাল আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিল টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়, কিন্তু টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে দেল তত দিনে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে দিয়েছেন।

কাতার থেকে ফিরে বাহিয়ার মূল দলে জায়গা করে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি দেলের। বাহিয়ার মূল দলের হয়ে ৯ ম্যাচে ৪ গোল করে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে বড় ভূমিকা রাখেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভিতোরিয়ার বিপক্ষে ডার্বিতে জয়সূচক গোলটিও তাঁর। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখতে হয়েছে দেলকে। সিরি-আ লিগে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের মুখে অনিচ্ছাকৃত আঘাত করে বসা—মাঠের আগ্রাসনটা বোধ হয় হলান্ডের চেয়ে একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল সেদিন!

দেল প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন তো
দেল প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন তোদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

তবে এই হোঁচট হয়তো দেলকে থামাতে পারবে না। সামনেই কোপা লিবার্তোদোরেস, এরপর লিগের লম্বা মৌসুম। এর ফাঁকে সময় পেলে হয়তো হলান্ডের খেলা দেখতে ইতিহাদেও যাবেন। তবে তাঁর স্বপ্নটা এখন নিশ্চয়ই আরও বড় হয়েছে। শুধু ইতিহাদের গ্যালারিতে বসে হলান্ডের খেলা দেখা কেন, মাঠে হলান্ডের সতীর্থ হয়ে গোল উৎসব করতে পারলে মন্দ কী!

মরুভূমির হলান্ড এটুকু তো চাইতেই পারেন!

পাকিস্তানের প্রার্থনাই কাজে এল কি না কে জানে। ম্যাচটা নয়তো নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়ই ছিল প্রায় পুরো সময়। হঠাৎ উইল জ্যাকস এমন একটা ঝড় তুললেন, যা শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ভাগ্য।    

প্রেমাদাসায় ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে কারও ফিফটি ছাড়াও তাই ৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের এই জয় বিশ্বকাপে টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তানকেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলে তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ হবে, নয়তো শেষ চারে খেলবে নিউজিল্যান্ড।  

রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ৮ বলেই দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তবু তাদের পাওয়ার প্লে ভালো কাটে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের কল্যাণে। ৬ ওভারে তারা তোলে ৪৭ রান।

তখন ১৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রুক। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক ওভার পরই গ্লেন ফিলিপসের বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের রান তোলার গতিও ধীর হতে থাকে, তারা হারায় উইকেটও। শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৩ রানের সমীকরণ।

সেখান থেকে কাজটা কঠিনই মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের এক ওভার থেকেই জ্যাকস ও রেহান আহমেদ মিলে নেন ২২ রান। টানা তিন বলে বাউন্ডারি হাঁকান জ্যাকস। বাকি দুই ওভারে ২১ রান নেওয়ার কাজটা আর কঠিন হয়নি ইংল্যান্ডের জন্য। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ আর রেহান ৭ বলে অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান
ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান, এএফপি
 

ইংল্যান্ডের জন্য রান তাড়ার কাজটা আরেকটু কঠিন হতে পারত নিউজিল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করালে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তুলে ফেলার পর সেই সম্ভাবনা জেগেছিলও। কিন্তু পরে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা আর ওই গতি ধরে রাখতে পারেননি।

তা আসলে হতে দেননি ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। একে একে নিউজিল্যান্ডের ৭ ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরান তাঁরা। কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউ তাই ফিফটি পাননি, ২৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপসে ৩৯ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

শেষ পর্যন্ত তাদের রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য। তবু অবশ্য সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডেরই এখনো জোরালো। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলটির নেট রান রেট এখনো ইতিবাচক (+১.৩৯০)। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে পাকিস্তানের পয়েন্টও ৩ হবে। তবে তাদের রান রেট আপাতত নেতিবাচক (–০.৪৬১)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (ফিলিপস ৩৯, সাইফার্ট ৩৫; রশিদ ২/২৮, জ্যাকস ২/২৩)

ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (জ্যাকস ৩২*, রেহান ১৯*; রবীন্দ্র ৩/১৯, ফিলিপস ১/৪৩)

ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: উইল জ্যাকস

ভারতের সহজ জয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের জয়টাই প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ২৫৬ রান তোলার পর। জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংটা খারাপ করেনি। রান তাড়ায় তারা করেছে ১৮৪। এরপরও দলটি হেরেছে ৭২ রানে।

ভারতের জয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে জিম্বাবুয়ে। সেমিফাইনালে উঠে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

আর ১ মার্চের ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ পরিণত হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে যারা জিতবে তারাই এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাবে।

৯৭ রান করেছেন বেনেট
৯৭ রান করেছেন বেনেটএএফপি

দল হারলেও দারুণ পারফর্ম করেছেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বেনেটের রান এখন ২৭৭, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আউট হয়েছেন মাত্র এক ইনিংস, তাই বেনেটের গড়টাও—২৭৭।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ২৫৬/৪ (অভিষেক ৫৫, পান্ডিয়া ৫০*; রাজা ১/২৯, মুজারাবানি ১/৪৩)। জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৮৪/৬ (বেনেট ৯৭*, রাজা ৩১; অর্শদীপ ৩/২৪, অক্ষর ১/৩৫)। ফল: ভারত ৭২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: হার্দিক পান্ডিয়া

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব