• Colors: Green Color

অর্থনীতিবিদদের টেবিলজুড়ে সব সময়ই থাকে যুদ্ধবিগ্রহের আঁচ, মূল্যস্ফীতির খতিয়ান কিংবা সামষ্টিক অর্থনীতির একঘেয়ে মারপ্যাঁচ। এই রুক্ষ হিসাব-নিকাশের খাতা থেকে একটু মুক্তি পেতে কে না চায়! চার বছর পরপর তাই তাঁরাও মেতে ওঠেন এক অদ্ভুত স্বস্তির খেলায়।

আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেমনি এক জরিপ চালিয়েছিল। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের নামীদামি ১৬০ জন অর্থনীতিবিদ। তবে জটিল সব তত্ত্ব দেওয়া এই পণ্ডিতেরা এবার অকপটে স্বীকার করেছেন এক মধুর সত্য—মূল্যস্ফীতির কঠিন হিসাব কষা যত না কঠিন, তার চেয়েও ঢের কঠিন বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বলা!

সে যাক, অর্থনীতিবিদদের সেই জটিল সব গাণিতিক মডেল আর মনের সহজাত অনুভূতি এবার এক সুরে গান গাইছে ফরাসিদের পক্ষে। তাঁদের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম, এএফপি
 

অর্থনীতিবিদদের এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, তবে দিদিয়ের দেশম ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব পেয়ে যাবেন। ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে গড়বেন দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর আবারও কোচ হিসেবে ট্রফি ছোঁয়ার অনন্য এক রেকর্ডও হয়ে যাবে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফরাসিরা যেখানে শীর্ষে, ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে স্প্যানিশরা ঠিক তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিনটি নামও বেশ চেনা—বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় থাকা আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।

ব্রাজিলের সমর্থকেরা এই জরিপ দেখে নির্ঘাত চোখ ফিরিয়ে নেবেন। কার্লো আনচেলত্তির মতো হাইপ্রোফাইল চাণক্য ডাগআউটে থাকার পরও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না বিশ্লেষকেরা। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে সেই যে বুক ভেঙেছিল সেলেসাওদের, সেই ক্ষতের দাগ এখনো দগদগে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদের চোখে এবার ব্রাজিলের কপালে জুটছে ‘সবচেয়ে বড় হতাশাজনক পরাশক্তি’র তকমা। ব্রাজিলের পেছনেই আছে ইংল্যান্ড ও জার্মানি।
অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন।
অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন। এএফপি

লন্ডনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি’র জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি ফরাসিদের এই রাজত্ব ফিরে পাওয়ার পেছনে দেখিয়েছেন নিরেট যুক্তি। তাঁর মতে, ২০২২ ফাইনালের সেই লুসাইল ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ফ্রান্স এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দলটিতে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার। পিএসজি থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ ফুটবলার দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আর সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড? কেনেডি মনে করিয়ে দিলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, তারা একদম ফুরফুরে মেজাজে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পাচ্ছে।’

কিলিয়ান এমবাপ্পেই এবার ‘গোল্ডেন বল’ আর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। বিশ্লেষকদের চোখে তাঁর ঠিক পেছনেই হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা কেইন এবার ইংলিশদের স্বপ্নসারথি। এই দুই মহাতারকার সামনেই নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১২টি, কেইনের ৮টি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে লিওনেল মেসির (১৩ গোল) সঙ্গে আছেন তাঁরাও।

কিলিয়ান এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

অর্থনীতিবিদদের এই অনুমানের পেছনে কি শুধুই খাতা-কলমের হিসাব, নাকি মনের ভেতরের লুকানো কোনো টানও আছে? জরিপে অংশ নেওয়া ৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অকপটে স্বীকার করেছেন, দেশের প্রতি অন্ধ ভালোবাসাই তাঁদের দিয়ে দল পছন্দ করিয়েছে। যেমন দুজনের চোখে চ্যাম্পিয়ন জাপান, একজন মেক্সিকো আর একজনের ভোট পড়েছে মরক্কোর বাক্সে। এসবের যেকোনো একটা সত্যি হলে এবারের বিশ্বকাপ সব রূপকথাকে ছাড়িয়ে যাবে! তবে ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদই জানিয়েছেন, কোনো যুক্তি নয়, তাঁরা মনের সহজাত অনুভূতি থেকেই এই অনুমান করেছেন।

বাকি প্রায় ২০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অবশ্য খাঁটি পেশাদার। তাঁরা কঠিন সব ডেটা ও বিশেষ গাণিতিক মডেলের ওপর নির্ভর করেছেন।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস
স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস, এএফপি
 

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

আর উদীয়মান তারকার ক্যাটাগরিতে যে মোট ৪৬ জন ফুটবলারের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের বাক্সে। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী বা ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয়ের লড়াইয়ে ফেবারিটের তালিকায় আছেন ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও স্পেনের উনাই সিমন।

 

অর্থনীতির গ্রাফের ওঠানামা হয়তো পৃথিবীর ভাগ্য বদলায়, তবে দিন শেষে মনে রাখতে হবে, ফুটবলের সবুজ মাঠে কোনো অর্থনৈতিক মডেল কাজ করে না। সেখানে শেষ কথা বলে জাদুকরের পায়ের জাদু। সব সমীকরণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে হয়তো ফুটবল তার নিজের পাণ্ডুলিপি নিজেই লিখবে।

তবে আপাতত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী মেনে নিয়ে ফরাসিরা বলতেই পারেন, ‘লা ভি এন রোজ’—জীবন আসলেই চমৎকার!

বিশ্বকাপমঞ্চে নামার আগে আজ ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রতিপক্ষও ছিল বিশ্বকাপেরই এক দল—মিসর।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে হওয়া ম্যাচটিতে আফ্রিকান দলটিকে ২–১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। গোল করেছেন ব্রুনো গিমারেস ও এনদ্রিক।

অন্যদিকে আজই প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ২–০ গোলে। লাওতারো মার্তিনেজ এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় গোল করেছেন গিলিয়ানো সিমিওনে।

ব্রাজিলের জয়ের ম্যাচে ওয়েসলির কান্না

মিসরের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই বাঁ কুঁচকির ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাইটব্যাক ওয়েসলিকে। ম্যাচের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোমায় খেলা ওয়েসলি এবারই প্রথম বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন। চোটের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ডাগআউটে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সে সময় সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন।

খেলা শেষে আনচেলত্তি ওয়েসলির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করেই বলেছেন, জাতীয় দলে ‘তাঁকে প্রতিস্থাপন করার মতো খেলোয়াড় আছে।’

মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করেছে ব্রাজিল। এর আগে পানামাকে ৬–২ গোলে হারিয়েছিল আনচেলত্তির দল।

ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লড়াই শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পর দর্শকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের
ম্যাচের পর দর্শকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের, এএফপি

মেসিবিহীন ম্যাচে আর্জেন্টিনার শক্তি পরীক্ষা

টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেননি লিওনেল মেসি। অবশ্য ছোটখাটো অস্বস্তির কারণে তাঁর না খেলার আভাস আগেই ছিল।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকো বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমিওনে। মার্তিনেজের ব্যাকহিল পাস থেকে গোললাইনের খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠান সিমিওনে।

মেসি পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন
মেসি পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন,
এএফপি

সিমেওনের এই গোলের পরপরই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে চারটি পরিবর্তন আনেন। জিওভান্নি লো সেলসো, থিয়াগো আলমাদা, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় নামানো হয় আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও হোসে লোপেজকে। তবে শেষ দিকে ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলেননি তাঁরা।

১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এই গ্রুপের বাকি দুই দল অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে তার আগে ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে স্কালোনির দল।

পাকিস্তানের মডেল ও অভিনয়শিল্পী মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের এমপি সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে। দেশটির প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের (পেকো) অধীনে মামলাটি দায়ের করেছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মোমিনা ইকবাল এনসিসিআইএ-তে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এ মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাকিব চাথার, তার স্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে মোমিনাকে সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার পাশাপাশি তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এই অভিনেত্রীর ওপর অবৈধ নজরদারি চালানো এবং তার আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে।

এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, সাকিব চাথার আগেই বিবাহিত—বিষয়টি জানতে পেরে তার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মোমিনা ইকবাল। এরপরই ওই আইনপ্রণেতা মোমিনার কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন এবং বিয়েতে রাজি না হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে (লিক) দেওয়ার হুমকি দেন।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৩ সালেও সাকিব চাথার এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন, যার কারণে মোমিনার আগের একটি বিয়ের কথাবার্তা ভেঙে যায়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মোমিনা ইকবাল, তার বর্তমান স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের ফোনে অনবরত হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হতো। একই ধরনের বার্তা পাঠানো হতো মোমিনার বোনের ফোনেও।

এজাহারে বলা হয়েছে, হুমকিমূলক বার্তাগুলো সাকিব চাথারের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে এসেছে বলে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া, ওই আইনপ্রণেতার পাঠানো ব্ল্যাকমেইলের ভিডিওগুলো মোমিনার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পেশায় আইনজীবী মোমিনার বোন এ হুমকির সপক্ষে একটি ভিডিও প্রমাণ এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে ওই ভিডিও এবং মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাকিব চাথার তার মোবাইল ফোনটি এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দেওয়ার আগেই ফোন থেকে সব ডেটা ও অ্যাপস মুছে (ডিলিট) ফেলেন।

এর আগে, হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে লাহোরের চুং থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়েছিলেন মোমিনা। সেখানে দেওয়া আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ওই আইনপ্রণেতা বারবার তার এবং তার তৎকালীন বাগদত্তা (যিনি এখন তার স্বামী) সঙ্গে যোগাযোগ করে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

মোমিনা আরও জানান, সাকিব চাথার তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ দিয়েও হুমকি দিতেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে মোমিনা তার আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে চুং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাহিম ইমদাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, মোমিনা ইকবালের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন এ বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

বাংলাদেশ ১:৩ ভারত

মেয়েদের সাফের প্রথম পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত। তবে ২০২২ ও ২০২৪ সালে হওয়া ষষ্ঠ ও সপ্তম আসরে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশকে হারিয়ে সাফের সিংহাসনে ফিরেছে ক্রিসপিন ছেত্রীর দল। সব মিলিয়ে এটি ভারতের ষষ্ঠ সাফ শিরোপা।

ফাইনালে ৪২ মিনিটে প্রথম গোল করেন ভারতের পেয়ারি জাজা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা।

ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের দিকে হেলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬ মিনিটে সানফিদার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর স্বাগতিকেরা ৮২ মিনিটে লিন্ডা কমের সৌজন্যে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে।

তাঁকে মেয়েদের টেনিসের ভবিষ্যৎ তারকা ভাবা হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। সেই ভবিষ্যৎ চলে এলো বলে!

প্রথমবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনে নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী রুশকন্যা মিরা আন্দ্রিভা। আজ রোলাঁ গারোর ফাইনালে পোল্যান্ডের মায়া চফালিনিয়েস্কাকে ৬–৩, ৬–২ সেটে হারিয়েছেন তিনি। এটি আন্দ্রিভার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে তিনিই গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপাজয়ী, যার জন্ম ২০০৫ সালের পরে।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে থাকা আন্দ্রিভা ফাইনাল শুরুর আগেই ফেবারিট ছিলেন। ১৫ বছর বয়সে প্রথম ডব্লিউটিএ ট্যুর ম্যাচ জেতা এই রুশ এরই মধ্যে ৫টি ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেছেন। খেলেছেন উইম্বলডনের চতুর্থ রাউন্ডেও।

বিপরীতে চফালিনিয়েস্কা এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু করেছেন ১১৪ নম্বরে থেকে। প্যারিসে আসার আগে ১৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাত্র ২টিতে কোয়ালিফাই করা এই পোলিশ এবারও খেলেছেন বাছাইপর্বে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠে এলেও তাঁর চেয়ে আন্দ্রিভাকেই ফেবারিট ধরা হচ্ছিল।

জয় নিশ্চিতের পর মিরা আন্দ্রিভা
জয় নিশ্চিতের পর মিরা আন্দ্রিভা, এএফপি
 

কোর্টেও শেষ পর্যন্ত রুশকন্যার দাপটই দেখা গেছে। দুই সেটেই জিতে নিয়েছেন ফাইনাল।

খেলা শেষে চফালিনিয়েস্কা তাঁর প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম আজ আপনারা আরও ভালো একটা ম্যাচ দেখতে পাবেন, কিন্তু মিরা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলেছে; আমার মনে হয় দোষটা ওরই! আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আমাকে ক্ষমা করবেন।’

ফ্রেঞ্চ ওপেনের ট্রফি হাতে নিয়ে আন্দ্রিভা বলেন, ‘আমি যখন অনেক অনেক ছোট, তখন থেকেই টিভিতে রোঁলা গারোর খেলা দেখছি। এই টুর্নামেন্ট জেতা সত্যিই অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে এখন আমি এই ট্রফিটা হাতে ধরে আছি!’

‎‎সান মারিনোর বিপক্ষে তাদেরই মাঠে গতকাল রাতে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। বাংলাদেশে দলের কোচ হিসেবে টমাস ডুলিরও প্রথম জয় এটি। তবে ডুলি কিন্তু তাতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনন্দের পাশাপাশি দলের কিছু দুর্বলতা ও ভুলও তুলে ধরেন এই কোচ।

ফিনিশিংয়ে দুর্বলতায় প্রচুর সুযোগ নষ্ট করা, এর পাশাপাশি ‘ফার্স্ট টাচ’, পাসিং ও রিসিভে পুরো নিখুঁত ছিল না বাংলাদেশ দল। রক্ষণ থেকে খেলা তৈরির সময়ও সহজেই বল হারিয়ে ফেলেছে। এই তিনটি বিষয়ে ঘাটতি চোখে পড়েছে ডুলির।

সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি হলেও সুযোগ হাতছাড়া করার পুরোনো অভ্যাসটি যে বাংলাদেশের এখনো রয়ে গেছে, তা মনে করিয়ে দেন ডুলি, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনো প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়।’

বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি
বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি, বাফুফে
 

‎খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিও কোচের নজর এড়ায়নি। ফুটবলে একদম মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশকে যে আরও খাটতে হবে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কোচ, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের ফার্স্ট টাচ ঠিকঠাক হয় না। তাই আমি দলের একদম বেসিক বা মৌলিক বিষয়গুলো, যেমন পাসিং ও রিসিভিং নিখুঁত করার জন্য অনুশীলন শুরু করাব।’

‎সান মারিনোর মতো শরীরনির্ভর ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণভাগে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কত বিপজ্জনক হতে পারত, সেটার কৌশলগত দিক ভালোভাবে জানা বাংলাদেশ দলের এই কোচের। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় খেলোয়াড়দের সহজ কিছু ভুলের সমালোচনাও করেন ডুলি, ‘রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার সময় আমরা কিছু সহজ বল হারিয়েছি, যা মাঠে একেবারেই কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করেছি।’

বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করবেন ডুলি। ছবিটি গতকাল রাতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের একটি মুহূর্তের
বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করবেন ডুলি। ছবিটি গতকাল রাতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের একটি মুহূর্তের, বাফুফে
 

অবশ্য বল হারানোর পেছনে গত দুই দিনে দলে যোগ দেওয়া নতুন চার খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাকিদের অনুশীলনের ঘাটতি ও বোঝাপড়ার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি। তাঁর চোখে এই ভুলগুলো স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। ডুলির মতে, এগুলো সহজেই শুধরে নেওয়া সম্ভব, যদি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন আনা যায়।

‎দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলার ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন হামজা-শমিতদের এই কোচ, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে, তারপর আমাদের অনুশীলনের ধরন বদলাতে হবে এবং সবশেষে আমাদের খেলার শৈলী পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা পুরোপুরি সম্ভব।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব