• Colors: Green Color

জয়ে শুরু মোহামেডানের

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে জিততে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে এবারের আসরের ফেবারিট মোহামেডানকে। শেষ ৪৮ বলে তাদের ৬১ রান দরকার ছিল। তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী জিতিয়েছেন দলকে। ৩৫ বলে ৩৪ রান করে অধিনায়ক হৃদয় আউট হলেও ২৩ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির।

৩৭ ওভারের ম্যাচে ১৯৫ রান তাড়া করার ভিতটা মোহামেডানকে গড়ে দেন ওপেনার এনামুল হক, ৮৮ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। এর আগে সাদিকুর রহমানের ৬৩ বলে ৫৬ রানে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল সিটি ক্লাব। মোহামেডানের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ নেন ৪ উইকেট।

প্রাইম ব্যাংকের জয়

৪ উইকেট নিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম
৪ উইকেট নিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম, বিসিবি

বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে দুই ব্যাংকের লড়াইয়ে জিতেছে এবারের আসরে শক্তিশালী দল গড়া প্রাইম ব্যাংক। বিকেএসপিতে ৩০ ওভারের ম্যাচেও ৫ বল আগেই ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক, সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম পান ৪ উইকেট।

এই রান তাড়া করতে নেমেও অবশ্য ৬ উইকেট হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। তাদের ৭ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিয়েছেন শামীম হোসেন (৩০ বলে অপরাজিত ২৪)। ৩২ বলে ৪৪ রান আসে ওপেনার তানজিদ হাসানের ব্যাট থেকেও।

৯৯-এ অপরাজিত আশিকুর

পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে ওপেনিংয়ে নেমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ইনিংসটা প্রায় একাই টানছিলেন আশিকুর রহমান। ৩৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের শেষ ওভারটা যখন শুরু হয়, তখন ৯৭ রানে অপরাজিত আশিকুর। প্রথম বলে তিনি স্ট্রাইক দেন মেহেদী হাসানকে।

টানা তিন বল বাউন্ডারি মারার পর শেষ বলে আবার আশিকুরকে স্ট্রাইক দেন মেহেদী। অন্তত ২ রান নিলে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ হতো আশিকুরের, কিন্তু তিনি নিতে পারেন ১ রান। ৮৪ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৯ রানেই অপরাজিত থাকতে হয় তাঁকে।

৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি
৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলিবিসিবি

১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড় তোলেন মেহেদীও, ৫১ বলে ৬০ রান আসে ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে—সব মিলিয়ে ৩ উইকেটে ২৮৩ রান করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। রান তাড়ায় ভালোই পাল্লা দেয় রূপগঞ্জ টাইগার্সও। ৪৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের ভিত তাদের দেন এবারই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা কালাম সিদ্দিকী। শেষদিকে ২৭ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চেষ্টা করেন মুক্তারও। কিন্তু ৭ উইকেটে ২৬১ রানের বেশি তুলতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স, ম্যাচ হারে ২২ রানে।

লেপার্ডের শিকার চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে হেরে গেছে নবাগত ঢাকা লেপার্ডের কাছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর টপ অর্ডারের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি, শেষদিকে ২৯ বলে ৫৫ রান করে তবু লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন সাব্বির রহমান।

কিন্তু ওই রান যথেষ্ট হয়নি আবাহনীর জয়ের জন্য। জাকির হাসানের ৬৬ বলে ৭৪ আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ৪০ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ বল আগেই জয় পায় লেপার্ড।

সাইফের ব্যাটে বসুন্ধরার জয়

পুরো ৫০ ওভার খেলা হয়েছে পূবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (পিকেএসপি)। এই মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৬ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (আগের ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)। আগে ব্যাট করা বসুন্ধরাকে ভালো শুরু এনে দেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলে মাহমুদের সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

৯৬ রানে রানআউট হয়েছেন সাইফ হাসান
৯৬ রানে রানআউট হয়েছেন সাইফ হাসান, বিসিবি
 

সাইফকে অবশ্য সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান আগেই বিদায় নিতে হয়েছে রানআউটে কাটা পড়ে। তাতে তাঁর দায়ই বেশি। ২ রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয় রানটা তিনি নিতে যান হেলেদুলে, তিনি ভেবেছিলেন থ্রোটা যাবে নন–স্ট্রাইক প্রান্তে। কিন্তু গুলশানের বিশাল চৌধুরীর থ্রোতে দ্রুতই স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিফ। ৩টি করে চার ও ছক্কার ইনিংসে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।

তাঁর আউটের দুই বল আগেই একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে এই ম্যাচে। গুলশানের তানভীরে ওভারে তুলে মারতে গেলে নুরুলের ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। নুরুলের দাবি ছিল, ক্যাচটি ধরার সময় তাঁর পা বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ছিল, রিপ্লেতে দেখেও তেমনই মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৪১ বলে ৪৩ রান করে আউট হতে হয় তাঁকেও।

২৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশানের টপ অর্ডার ব্যর্থ পুরোপুরি। ৬৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করে যা একটু প্রতিরোধ গড়েন জোবায়ের হোসেন। ৩ উইকেট করে পান বসুন্ধরার রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।

ব্রাদার্স অলআউট ৮২ রানে

দিনের সবচেয়ে কম রানের ম্যাচ হয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স আর ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচে। ইউল্যাব মাঠে ৩৬ ওভারের ম্যাচে ২৯.৪ ওভার খেলে ৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় ব্রাদার্স। তাদের তিনজন ব্যাটসম্যানই হন রান আউট, গাজী গ্রুপের স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ও লিয়ন ইসলাম নেন ৩ উইকেট করে। পরে নাঈম আহমেদের ৪৯ বলে ৪৮ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৪.৩ ওভারে সহজ জয় পায় গাজী গ্রুপ।

ভারতীয় ক্রিকেটে দলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যার জেরে বিরাট কোহলিদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্টও করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয় ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’।

বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাঁদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। দলের বাইরের কারও সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান।

এসব বিষয়ে বিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরও একটু সিরিয়াস হতে হবে।’

হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়
হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়, এক্স
 

ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন। তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন তিনি, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যাঁদের কেউ কেউ আগে বেটিং ওয়েবসাইটের প্রচারণায় সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে আইপিএলের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (এসিইউ) একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে নতুন এক বিতর্কিত ধারণা উঠে আসে। বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এসিইউর একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁদের স্ত্রী এবং “অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ডদের” একসঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে।’

বিসিসিআই কর্মকর্তা এতে বিস্ময় প্রকাশ করে এসিইউ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান যে এই ‘অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ড’ নিয়মটি কোথা থেকে এল। এসিইউ কর্মকর্তা উত্তর দেন, ‘স্যার, আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি।’

আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই, কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। যে কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে।

সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, এমন শঙ্কায় প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

রোববার (৩ মে) সকালে দলের প্রথম বহর ঢাকায় পা রেখেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগার মতো তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া প্রথম বহরটি এখন রাজধানীতে। তবে প্রথম ভাগে দলের সাথে দেখা যায়নি বাবর আজমকে।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আজ ফাইনাল থাকায় দলের বেশ কিছু সিনিয়র সদস্য এবং বাবর আজম প্রথম ভাগে আসতে পারেননি। পিএসএলের ব্যস্ততা শেষ করে দ্বিতীয় দফায় তাদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

পিসিবি ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে এবার বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন নতুন মুখ। অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি।

১৬ সদস্যের পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।

উল্লেখ্য, দুই ম্যাচের এই সিরিজটি মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দ'দল।

 

১৫ মার্চ, ২০২৬। এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সরফরাজ আহমেদ। ১৮ এপ্রিল, ২০২৬–এ তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

খেলা থেকে অবসরের এক মাস তিন দিন পরই টেস্ট দলের কোচ—কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা, অবসরের আগে থেকেই পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরফরাজ। এমনকি কাজ করেছেন পাকিস্তান দলের নির্বাচক হিসেবেও।

৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে প্রধান কোচ বানানোয় খোদ পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই সমালোচনা করেছেন। সেসব এক পাশে রেখেই সরফরাজ এখন টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভিনদেশে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন। এই দলের সঙ্গে এসেছেন সরফরাজও।

কয়েক বছর ধরে পিসিবি কোচ হিসেবে কারও ওপরই খুব একটা ভরসা করতে পারছে না। সরফরাজকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি কয়েক মাস শূন্যই ছিল। সাবেক ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে।

পরে তাঁর সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়ায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ।

পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি
পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি, এএফপি
 

তিনি আবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর। এত সব অদল–বদলই ঘটেছে ২০২৪ সাল থেকে। আর এঁদের সবাই খেলা ছেড়েছেন বেশ আগে, কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা অনেক।

প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচদের এই আসা–যাওয়ার মধ্যে হঠাৎ সরফরাজের মতো অপেক্ষাকৃত ‘নবীন’ একজন এলেন কীভাবে?

সরফরাজ পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এমনকি গত অক্টোবরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে এর পরপরই পিসিবির কোচিং–প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে  সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান
অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান, পিসিবি
 

গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে তদারকির দায়িত্ব দেয় পিসিবি। তাঁর কাজের আওতায় ছিল দলের কার্যক্রম পরিচালনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যা।

পিসিবি তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছিল, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় সিনিয়র দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক করে পাঠানো হয় সরফরাজকে। পাকিস্তানের দলটি ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সরফরাজের কোচিং–দক্ষতা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিসিবি। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান
সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, রয়টার্স
 

এমনিতে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটে সরফরাজেরও ভালো অবস্থান ছিল আগে থেকেই। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। সেটি ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের প্রথম ৫০ ওভারের আইসিসি ট্রফি। যদিও সরফরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন দল ছিল।  

পাকিস্তানের হয়ে সরফরাজ ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন ২১টি ফিফটি ও চারটি সেঞ্চুরিতে। ১১৭ ওয়ানডেতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। ১১টি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি আছে এ সংস্করণে। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে আছে ৮১৮ রান।

ভালো উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান, শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবং কোচিংয়ে সাফল্যের পরও সরফরাজকে এখনই টেস্ট দলের কোচ বানিয়ে দেওয়া কারও কারও পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভি অনুষ্ঠানে আলোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে কয়েক দিন আগে বলেছেন, ‘সাবেক ক্রিকেটার ও আমার আগের সহকর্মীদের নিজস্ব মতামত আছে। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি ইতিবাচক।’

পাকিস্তানের এই দুটি টেস্টে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে ঢাকায়, দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে সিলেটে।

নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে আবারও হারল ইন্টার মায়ামি। তবে এবারের হার লিওনেল মেসিদের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়কই। আজ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল মায়ামি।

কিন্তু আক্রমণভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভালো খেলতে পারেনি দলটির রক্ষণভাগে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত মায়ামি হেরেছে ৪-৩ গোলে। এর মধ্যে অরল্যান্ডো সিটির জয়সূচক গোলটি হয়েছে ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে।

ন্যু স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে মায়ামি এগিয়ে যায় তৃতীয় মিনিটে। তেলাস্কো সেগোভিয়ার বাড়ানো ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। ২৫ মিনিটের সময় লুইস সুয়ারেজ এবং মেসির বল দেওয়া-নেওয়ায় আক্রমণ থেকে গোলদাতার খাতায় নাম লেখান সেগোভিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ৩৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে ব্যবধান ৩-০ করেন মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ক্যারিয়ারে ৯০৬ নম্বর গোল এটি। ইন্টার মায়ামির হয়ে ৮৬তম।

ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসি
ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসিএএফপি
 

অরল্যান্ডো সিটি তিন গোল হজমের পর দৃশ্যপটে আসেন আরেক আর্জেন্টাইন মার্টিন ওজেদা। ২৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গার প্রথমার্ধের বিরতির আগে একটি গোল শোধ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে নামার পর মায়ামি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় অরল্যান্ডে মায়ামি রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ চাপ বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যান ওজেদা।

৭৯তম মিনিটে অরল্যান্ডে পেয়ে যায় পেনাল্টিও। যা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ৩-৩ সমতা এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওজেদা।

ম্যাচের এই জায়গা থেকে মায়ামি হারে যোগ করা সময়ের গোল হজমে। গোলের আশায় মায়ামির সবাই ওপরের দিকে থাকায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই গোল করেন অরল্যান্ডোর তাইরেস স্পাইসার। মায়ামির জন্য উৎসবে শুরু হওয়া ম্যাচে শেষপ্রান্তে হয়ে পড়ে বিষাদের।

ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে
ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে, এএফপি
 

এ নিয়ে ন্যু স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর থেকে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকল মায়ামি। এমএলএস পয়েন্ট তালিকায় ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে মেসিরা এখন তিন নম্বরে। এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউ ইংল্যান্ড। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাশভিল।

৮৮ রানের লক্ষ্য। তবে সেটি ছুঁতে যদি হাতে থাকে ৯ ওভার, তবে লক্ষ্যটাকে বড় বলতেই হবে। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের জন্য লক্ষ্যটা বড় তো বটেই। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে কখনোই ১৫০ রানের বেশি লক্ষ্য ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ সিলেটে আজ ৮৮ রানের লক্ষ্যটাও ছুঁতে পারেনি।

আশা জাগিয়েও আজ ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরেই তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে নিগার সুলতানার দল। বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হয়ে ৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬ উইকেটে ৮৭ রান। রান তাড়ায় সমান ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ৮৪ রানে।

আজকের হারের গল্পটাও আগের দুই ম্যাচের মতোই। প্রথম দুই ম্যাচেও রান তাড়া করতে হয়েছিল নিগারদের। ওই দুই ম্যাচেই ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দেওয়ার পরও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ২৫ ও ২১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল
আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল, বিসিবি

আজ অবশ্য জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তারের উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। ১.২ ওভারে ১৩ রান তোলার পর দিলারার বিদায়ে ভাঙে জুটি। জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারির দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০ বলে ৩০ রান যোগ করার পর জুয়াইরিয়ার (১১ বলে ১৫) বিদায়ে ভাঙে জুটি।

এরপর পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি। ষষ্ঠ ওভারে সোবহানা (১৫ বলে ২১ রান) যখন ফিরলেন ২০ বলে বাংলাদেশের দরকার ৩২ রান। এরপর স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মণিও ফিরে যাওয়ার পর শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ভরসা হয়ে টিকে থাকা অধিনায়ক নিগার চামারি আতাপাত্তুর করা ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। সুলতানা খাতুন পরের তিন বলে ২টি ডাবলস ও ১টি চার মেরে জয়টাকে হাতের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু আতাপাত্তুর অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়। পঞ্চম বলে মাত্র ১টি রানই নিতে পারেন সুলতানা। শেষ বলে ৫ রান দরকার, শারমিন সুলতানা নিতে পারলেন মাত্র ১ রানই।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, ছবি: টুইটার
 

১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার আতাপাত্তু বল হাতেও ছিলেন দলের সেরা। ব্যাটিং উদ্বোধন করে ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

বাংলাদেশের অফ স্পিনার সুলতানা খাতুন ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ৯ ওভারে ৮৭/৬ (আতাপাত্তু ৪১, দুলানি ১৯, দিলহারি ১৫; সুলতানা ৩/৮, সানজিদা ১/১৬)।
বাংলাদেশ: ৯ ওভারে ৮৪/৬ (সোবহানা ২১, জুয়াইরিয়া ১৫, নিগার ১৩; আতাপাত্তু ২/১৫, সুগান্দিকা ২/২২)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৩-০-তে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: চামারি আতাপাত্তু।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব