যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বর্তমান বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো, গ্রিন কার্ডের আবেদনগুলো যেন অভিবাসনের স্বাভাবিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সম্পন্ন হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ‘আইনি ফাঁকফোকর’ ব্যবহার করে স্থায়ী মর্যাদার আবেদন করার সময় বিদেশি নাগরিকেরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

গতকাল মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেছে, ‘যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।’

[caption id="attachment_274658" align="alignnone" width="1047"] যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড[/caption]

গতকাল শুক্রবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থা সাধারণত এমনভাবে তৈরি, যেখানে সাময়িক ভিসাধারীদের সফরের উদ্দেশ্য শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (কেস বাই কেস) মূল্যায়ন করবেন। এর অর্থ, গ্রিন কার্ডের নতুন নিয়ম সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর করা হবে না। প্রত্যেক আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও কাগজপত্র একজন অভিবাসন কর্মকর্তা আলাদা ও স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেমা ন্যাশনাল রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সিল
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেমা ন্যাশনাল রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সিল, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন মূল্যায়নকালে কিছু বিষয় কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান, অনুমতি ছাড়া চাকরি করা, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ও আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দেওয়া শর্তগুলো ঠিকমতো মেনে চলেছেন কি না ইত্যাদি।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। অর্থাৎ কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। তা ছাড়া সফরের উদ্দেশ্য শেষ হলে বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে—কংগ্রেসের এই প্রত্যাশাকেও এটি পরিবর্তন করে না।

যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।
 

সংস্থাটি আরও জানায়, এ নতুন ও পরিমার্জিত নির্দেশনার ফলে অন্যান্য অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ পাওয়া যাবে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা

অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ নিয়মের কারণে অনেক অসহায় মানুষ তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ বলেছে, এ নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়ার কিছু অংশ সম্পন্ন করার জন্য তাদেরও এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। এর অর্থ, কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।
 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে বড় ধরনের চেষ্টা চলছে, এ নির্দেশনা তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিদর্শক ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছিল। গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করে যে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

আল–জাজিরা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলায় জড়িতদের আজ শুক্রবার রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স (সহিংসতা) বেছে নেন, তাহলে আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ার করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে। আমাদের রক্ত গরম এবং বয়স কম হলেও আমরা বুঝি যে কখন কী করতে হবে, কখন দেশ গড়ার দিকে কাজ করতে হবে। কিন্তু যদি সরকারি দল ভায়োলেন্স চায়, সেটাকেই একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা যে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না- সেটা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপল’স বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) ঢাকার দুই মহানগরের ২২৯ জন নেতা–কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু তারা প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোকাবিলার একধরনের কৌশল নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।’

[caption id="attachment_274635" align="alignnone" width="701"] শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে[/caption]

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দল বারবার সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দল এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ। এরপর একসঙ্গে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও বিরোধী দল জানাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার এই সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে।’

সংঘাতের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি এটা করতে চান, এই লড়াইটা কোনো রাজনৈতিক দল, নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা আদর্শের সঙ্গে হবে না; এই লড়াইটা হবে পুরো একটা প্রজন্মের সঙ্গে। এই প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করার ভুলটা শেখ হাসিনা করেছিল। আশা করি, এই ভুলটা তারেক রহমান করবে না। আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর যারা হামলা করেছে, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সবার পরিচয় এসেছে। আজকে রাতের মধ্যে তাদের সবাইকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ করেন জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিকের নিরাপত্তা সংকট চরমভাবে বেড়েছে। আজকে আমাদের মা–বোনেরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি বলে মনে হয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না কিংবা করতে তাঁর মধ্যে একধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে থাকলে বাংলাদেশের জনগণ সামনের দিনে বাধ্য হবে এই সরকার ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসতে।’

‘দমনের চেষ্টা করলে তাদেরও খারাপভাবে পতন হবে’

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঝিনাইদহের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে জুমার নামাজের পরে মতবিনিময় করবেন। তখন তাঁর ওপর ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ চালায়। সেখানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক থেকে শুরু করে সেখানকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের আহ্বায়কেরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সাংবাদিক ভাইদের পিটিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই হামলার কোনো ধরনের বিচার হয়নি।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে এনসিপি নেতা সারজিস বলেন, ‘আমাদের বোনকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যার পর গতকাল আমরা দেখলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এই সহমর্মিতা যদি শুধু একদিনের ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার খেলা হয়, পরের ছয় মাসেও বিচারের কোনো দিশা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে এই সহমর্মিতার কার্ড আগামীর বাংলাদেশের জনগণ আর মেনে নেবে না।’

বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনার ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা অভ্যুত্থানে আমাদের সহযোদ্ধা ছিল। তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা–সম্মান দেখাতে চাই। কিন্তু তারা যদি আগের মতো ছাত্রলীগ–যুবলীগের কায়দায় আবার সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করে, তাহলে তার চেয়ে খারাপভাবে তাদের পতন হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো দল–মতের ওপর দমন–পীড়ন আর মেনে নেওয়া হবে না।’

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। সঞ্চালক ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে ইরান। এমনকি গত এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ড্রোন বানানোও শুরু করে দিয়েছে। এমন খবর পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্র সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতার কিছু অংশ ইতিমধ্যে পুনর্গঠন শুরু করেছে তেহরান। আরও চারটি সূত্র বলেছে, পুনরুদ্ধারের গতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি।

গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, চলমান সংঘাতের সময় ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র ও অস্ত্র কারখানা ধ্বংস হয়েছিল। এখন সেগুলো আবার সচল করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য ইরান এখনো বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে। কারণ আগে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জন্য তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে ভিন্ন ভিন্ন সময় লাগতে পারে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ইরান তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যতটা অনুমান করেছিল, ইরান তার চেয়েও দ্রুত অগ্রগতি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ এখন ড্রোন হামলা। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই দুই ধরনের অস্ত্রের নাগালের মধ্যেই পড়ে। ফলে ড্রোন দিয়ে এসব দেশে অনবরত হামলা চালানো ইরানের পক্ষে সম্ভব।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বিরতি শুরু হয় ৮ এপ্রিল থেকে। তারপর ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একদফায় আলোচনায় বসলেও তারপর ঝুলে যায়।

শান্তিচুক্তি না হলে ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে বোমা হামলা শুরু করা থেকে তিনি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন, গত মঙ্গলবার এমনটাই বলেছিলেন তিনি। যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের এই পুনর্গঠিত সামরিক সক্ষমতাগুলোই আবার সামনে চলে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ এখন ড্রোন হামলা। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই দুই ধরনের অস্ত্রের নাগালের মধ্যেই পড়ে। ফলে ড্রোন দিয়ে এসব দেশে অনবরত হামলা চালানো ইরানের পক্ষে সম্ভব।

ইরানের এত দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে। এর মধ্যে বড় হলো রাশিয়া ও চীনের সমর্থন। পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরান আসলে ধারণার চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া চলমান সংঘাতের মধ্যেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে গেছে। তবে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে এই সরবরাহ এখন কিছুটা কম।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ দিচ্ছে চীন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। অবশ্য এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন।

মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে; অর্থাৎ তেহরানকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না।

ইরানের এক অজ্ঞাত স্থানে সামরিক মহড়ার সময় ড্রোনের দৃশ্য
ইরানের এক অজ্ঞাত স্থানে সামরিক মহড়ার সময় ড্রোনের দৃশ্য, ছবি: রয়টার্স
 

তবে এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, তাঁদের কমান্ড গোয়েন্দা–সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকাশ করে না।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্ট যখন ও যেখানে চাইবেন, সেখানে অভিযান চালানোর সব সক্ষমতা আমাদের আছে।’ তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় অস্ত্রভান্ডারও রয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র অক্ষত রয়েছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা এখন দুই–তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়ে মাটিচাপা পড়া উৎক্ষেপণ যন্ত্রগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

এর আগে দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছিল, ইরানের হাজার হাজার ড্রোন এখনো অক্ষত রয়েছে, যা দেশটির মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে। কারণ, আগে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জন্য তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
 

গোয়েন্দা তথ্যে আরও উঠে এসেছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলায় ইরানের জাহাজে আঘাত হানলেও উপকূলীয় সামরিক স্থাপনাগুলোতে তেমন মনোযোগ দেয়নি। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই হরমুজ প্রণালি অচল করে রাখার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান হাতিয়ার।

সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করেছে ঠিকই, তবে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে, এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তারা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটি পুনর্গঠনেও ইরান আশাতীত অগ্রগতি দেখিয়েছে। অথচ গত মঙ্গলবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, ইরানের এই ঘাঁটিগুলো অনেকাংশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করেছে ঠিকই, তবে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে, এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তারা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।
 

হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে শুনানিতে কুপার বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং তাদের ৯০ শতাংশ সমরাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পুনর্গঠন করতে ইরানের বহু বছর লেগে যাবে।

তবে কুপারের এই বক্তব্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। দুটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, ইরানের সামরিক পুনর্গঠনের সক্ষমতা ও সময়সীমা নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে কুপারের দাবির কোনো মিল নেই।

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির এই ক্ষতি দেশটিকে বড়জোর কয়েক মাস পিছিয়ে দিতে পারে, কোনোভাবেই তা বছরে গড়াবে না। সূত্রটি আরও জানায়, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের কিছু অংশ এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত, যা নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করছে।

সিএনএন

কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা খুব কম।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ আনার এক দিন পর রুবিও এ কথা বলেছেন।

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন।

তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ রুবিওর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোটাই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।

রুবিও আরও বলেন, ‘আমি সত্যি কথাই বলছি। তবে বর্তমানে যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি, তাতে এমন সমাধানের সম্ভাবনা খুব একটা নেই।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।

তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

ব্রুনোর অভিযোগ, রুবিও সামরিক হামলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ‘নির্দয় ও পরিকল্পিতভাবে’ কিউবার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

বর্তমানে কিউবা তীব্র জ্বালানিসংকটে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কিউবার সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অনেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন।

সাংবাদিকেরা গতকাল মার্কো রুবিওর কাছে জানতে চান যে, রাউল কাস্ত্রোকে আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না বা করলে কীভাবে করা হবে। জবাবে রুবিও বলেন, ‘আমরা যদি তাঁকে এখানে আনার চেষ্টা করি, তবে সেই পরিকল্পনা আমি গণমাধ্যমকে কেন বলব?’

মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বুধবার মিয়ামিতে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ঘোষণা করেন। টড ব্লাঞ্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, কাস্ত্রো ‘নিজ ইচ্ছায় বা অন্য কোনোভাবে’ সেখানে হাজির হবেন।

গতকাল রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তার বোন। এ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দেশটির অর্থনীতির লাভজনক খাতগুলোর বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।

রুবিওর অভিযোগ, মোরেরা ফ্লোরিডায় বসবাস করলেও একই সঙ্গে হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে সহায়তা করছিলেন। তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে। বহিষ্কারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হেফাজতে থাকবেন।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ দেশ’। তাঁর প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকেরা নিজেদের দেশে ফিরে কিউবাকে সফল হতে সাহায্য করতে চান।

ট্রাম্প বলেন, ‘৫০-৬০ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টরা এ বিষয়ে কী করা যায়, তা ভেবেছেন। মনে হচ্ছে, আমিই হয়তো সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব। আর আমি সেটা করতে পারলে খুশি হব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মিত্রদেশ কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আর ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার ওপর যে চাপ তৈরি করা হচ্ছে তা ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ পর্যায়ের।

যুক্তরাষ্ট্রে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়।

ট্রাম্প বারবারই কিউবার ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়েও প্রকাশ্যে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কিউবার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তারা দেশটিতে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে কিউবার জ্বালানিসংকট আরও বেড়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

বিবিসি

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে’—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন মতামতকে সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব।

যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বিচারকেরা তাদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে  ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি আরব।

স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। আর কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে। উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল।

ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, এটি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা উচিত। কারণ ক্ষতি বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে আমাদের দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে বহু সম্প্রদায়।

তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী।

ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে।

তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। তারা ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে।

নাউরুর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। এই সুযোগটি ব্যবহার করেই ধনী বিদেশিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নাউরুর নাগরিকত্ব কিনছে, আর সেই টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ বা ‘বেঁচে থাকতে হলে ১.৫’ স্লোগানটি সেখান থেকেই এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সেখানকার প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের নিলেন।

১৯৭৯ সালে চীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের কোনো নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের বিষয়টিও তারা নাকচ করেনি।

২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়া তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছেন।

১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ পাস করে। এই আইনে উল্লেখ রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ‘আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ’ করতে পারবে। এই আইনের কারণেই ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ক্রমাগত অস্ত্র বিক্রি করে আসছে।

আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহে বাধ্য থাকলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সব সময় একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়।

গতকাল বুধবার তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি...আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে কাজ করব।’

একই সঙ্গে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এর আগে গত সপ্তাহে বেইজিং সফর শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথেও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি একটি সিদ্ধান্ত নেব। বর্তমানে তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন, আপনারা জানেন তিনি কে, তাঁর সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে।’

প্রতিরক্ষা জোরদারে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে রয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির প্রস্তাবিত চীন সফর আটকে দিয়েছে। চীনের দাবি, ট্রাম্প এই অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা না দেখা পর্যন্ত তারা এই সফরের অনুমোদন দেবে না।

বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময় চীন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে মার্কিন-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল ইস্যু হলো তাইওয়ান। সি চিন পিং সতর্ক করে বলেছিলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানো না গেলে দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘সংঘাত’ তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সি চিন পিং তাইওয়ান নিয়ে ‘খুবই কঠোর’ অবস্থানে আছেন। এ বিষয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো পক্ষকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।’

ট্রাম্প-সি বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাইওয়ান একটি ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ’ এবং তাইওয়ান প্রণালির শান্তিকে কোনো কিছুর বিনিময়ে ‘উৎসর্গ বা লেনদেন’ করা হবে না।

লাই চিং–তে জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অন্যতম ‘মূল চাবিকাঠি’।

অবশ্য ট্রাম্পের জন্য এমন কূটনৈতিক রীতি ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তাইওয়ানের তত্কালীন নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, যা নিয়ে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ করেছেন। এ কথা সত্য হলে সেটিও হবে মার্কিন নীতিমালার এক বড় লঙ্ঘন। কারণ, ১৯৮২ সালের এক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করবে না।

বেইজিং থেকে ফেরার পথে এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা তো অনেক আগের কথা।’ গত বছরের ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লাইয়ের অধীনে তাইওয়ান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে।

তাইওয়ানের অধিকাংশ নাগরিক নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করলেও, তারা মূলত বর্তমানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে; যার অর্থ হলো, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাও দেবে না, আবার চীনের সঙ্গে একীভূতও হবে না।

বিবিসি

ভারত সরকারের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব আইন সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) বুধবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ বুধবার তাঁর এ ঘোষণার ফলে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যাঁরা ভারতে ঢুকেছেন, তাঁরা সবাই অবৈধ বলে বিবেচিত হবেন।

শুভেন্দু বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অবৈধদের হস্তান্তর করবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে। তারা হস্তান্তর করবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির হাতে।

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্নতে বিএসএফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু বলেন, ভারত সরকার ২০২৫ সালের ১৪ মে একটি নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে পাঠায়। যাঁরা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, তাঁদের সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করার জন্য ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হস্তান্তর করার জন্য যে আইন তা–ও ভারত সরকারের পক্ষে আন্ডার সেক্রেটারি প্রতাপ সিং রাওয়াত পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ (নাগরিকত্ব) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বা আইন’ কাজে লাগায়নি বলে মন্তব্য করে শুভেন্দু বলেন, ‘আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। এর ফলে সিএএর অন্তর্ভুক্ত যারা…সিএএতে বলা আছে সাতটি সম্প্রদায় বা ধর্মপালন করা লোকদের কথা, যাঁরা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় আসবেন। যাঁরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোথাও হেনস্তা করতে পারবে না।’

সাতটি যে সম্প্রদায় সিএএর আওতায় আছে, তাদের মধ্যে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুসলমান সম্প্রদায় নেই। আইনটির কিছু পরিমার্জন ২০২৪ সালে করা হয়েছে। এ কারণে ভারতে আসা মানুষেরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রবেশ করলে তাদের আইনগতভাবে নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের মুসলমান মানুষের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।

অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে

অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘সিএএর আওতায় যাঁরা নেই, তাঁরা হলেন সম্পূর্ণভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে ও আটকাবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বিএসএফ বিডিআরের সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার (ফেরত পাঠানোর) ব্যবস্থা করবে, অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট (চিহ্নিতকরণ, মুছে দেওয়া এবং ফেরত পাঠানো)। এই শব্দগুলো পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ব্যবহার করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিচালক ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সন্নিহিত সমস্ত থানায় দেশের স্বার্থে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এই আইন আমরা আজ থেকে কার্যকর করলাম।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বুধবার কলকাতার নবান্নে বিএসএফ কর্মকর্তাদের হাতে জমির দলিল বুঝিয়ে দেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বুধবার কলকাতার নবান্নে বিএসএফ কর্মকর্তাদের হাতে জমির দলিল বুঝিয়ে দেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্যছবি: শুভেন্দু অধিকারীর ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএসএফকে ২৭ কিলোমিটার জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত চার হাজার কিলোমিটারের। এর মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাকি চারটি রাজ্যে (আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়) ওখানকার সরকার বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) চাহিদামতো পূর্ণাঙ্গ জমি হস্তান্তর করেছে। এ রাজ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া হয়েছে। আনুমানিক ৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। এ জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুততার সঙ্গে এই জমি হস্তান্তরপ্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছি। আজকে এর সূচনালগ্নে আমরা ২৭ কিলোমিটার এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি জমি, যা আমরা কিনেছি এবং যার সম্পূর্ণ অর্থ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের দিচ্ছেন…আমরা সেটার সূচনা করলাম।’

যেটুকু জমি বিএসএফকে দেওয়া দরকার, সেটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেবে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘যেখানে সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব, আমরা অতি দ্রুততার সঙ্গে তার ব্যবস্থা করব।’

চীনে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছান তিনি।

এসময় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

সফরে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রায় ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। 

পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ভ্লাদিমির পুতিনের এই সফরের মাত্র চার দিন আগে বেইজিং সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশেজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই সফর মস্কো–বেইজিং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস