নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৬০ দিন। ঠিক এই সময়ে এসে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বড় এক সুখবর দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে বসতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সর্বশেষ আসরের তুলনায় এবার প্রাইজমানি বাড়ছে ১০ শতাংশ। তাতে এবার মোট প্রাইজমানি দাঁড়াচ্ছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা)। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে বাড়ছে দলের সংখ্যাও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

কোন দল কত পাবে

চ্যাম্পিয়ন: ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

রানার্সআপ: ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

সেমিফাইনালিস্ট: প্রতি দল পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।

গ্রুপ পর্বে জয়: প্রতিটি জয়ের জন্য মিলবে ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার।

অংশগ্রহণকারী সব দল: প্রতিটি দল পাবে অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। ১২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন এবং রেকর্ড পুরস্কারের অর্থ আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। নারী ক্রিকেটারদের প্রভাব এখন বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে স্পষ্ট।’ তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্ট মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে।

লর্ডস থেকে ট্রফি ট্যুর

বিশ্বকাপের দামামা বাজিয়ে আজ থেকেই শুরু হয়েছে ‘আইসিসি ট্রফি ট্যুর’। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। লর্ডসের বিখ্যাত প্যাভিলিয়নের ওপর ট্রফির অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয় এক জাদুকরি প্রজেকশনের মাধ্যমে। এরপর ট্রফিটি পাড়ি জমাবে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে। মে মাসজুড়ে এটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আয়োজক শহর—লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটন ঘুরে বেড়াবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ট্রফির এই সফরের খুঁটিনাটি দেখতে পারবেন ইনস্টাগ্রামের @icctrophytour হ্যান্ডলে।

আগামী ১২ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ দল খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

প্যারিস

নাহ, উসাইন বোল্টের সেই ১৯.১৯ সেকেন্ডের রেকর্ড এখনো অক্ষত।

২০০৯ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ২০০ মিটার দৌড়ে জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের বিশ্ব রেকর্ড এখনো কেউ ভাঙতে পারেননি। তবে অনূর্ধ্ব–২০ বছর বিভাগে বোল্টকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন এক অস্ট্রেলিয়ান। গাউট গাউট নামের দক্ষিণ সুদান বংশোদ্ভূত এই অ্যাথলেট আজ অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন ১৯.৬৭ সেকেন্ডে। গাউটের বয়সে বোল্টের সেরা টাইমিং ছিল ১৯.৯৩।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ফক্স স্পোর্টস জানিয়েছে, গাউটের ১৯.৬৭ সেকেন্ড অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রেকর্ড, আর অনূর্ধ্ব–২০ বছর বয়সীদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা। ২০ বা তার কম বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ১৯.৪৯ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়ের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের এরিয়ন নাইটনের, ২০২২ সালে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেওয়া গাউট এর আগে গত বছর ১৯.৮৪ সেকেন্ডে ২০০ মিটার ছুঁয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল বাতাসের অনুকূলে। এবার কোনো সহায়তা ছাড়া বৈধ দৌড়ে আরও কম সময় নেওয়ার পর গাউট বলেন, ‘এ রকম টাইমিং করার মতো গতি ও শারীরিক সক্ষমতা আমার আছে—এটি জানতে পেরে আমার কাঁধ থেকে যেন বড় একটি বোঝা নেমে গেল। তাই এটি অবশ্যই দুর্দান্ত এক অনুভূতি, আমি আরও ভালো কিছুর জন্য প্রস্তুত।’

এত কম সময়ে দৌড় শেষ করতে পারবেন ভাবেননি গাউট গাউট
এত কম সময়ে দৌড় শেষ করতে পারবেন ভাবেননি গাউট গাউটইনস্টাগ্রাম/ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসইনস্টাগ্রাম/ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস

গাউটের কোচ ডি শেফার্ড তো টাইমিংয়ে বিস্ময়ই প্রকাশ করেছেন, এবিসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন ‘আমি এতটা আশা করিনি। আমি আশা করেছিলেন ২০ সেকেন্ডের নিচে হবে। কিন্তু এতটা কম সময়ে হবে, ভাবতে পারিনি।’

গাউটের ইতিহাস গড়া দৌড়ে ২০ সেকেন্ডের কমে দৌড়েছেন দ্বিতীয় হওয়া অ্যাইডেন মারফিও। ১৯.৮৮ সময় তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার ২০০ মিটার দৌড় ইতিহাসে দ্বিতীয়–দ্রুততম।

একজন এখন ধারাভাষ্যকার, অন্যজন চাকরি করেন বিসিবিতেই। তবে আতহার আলী ও মিনহাজুল আবেদীনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁরা জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। আরেকটি জায়গায়ও মিল আছে দুজনের—একসময় তাঁরা ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। এবার আতহার ও মিনহাজুল বিসিবিতে এসেছেন অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়ে।

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগের বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মিনহাজুল আবেদীন। অবসরের পর ২০০৫ সালে বিসিবিতে যোগ দেন কোচ হিসেবে। একসময় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ব্যাটিং কোচও ছিলেন তিনি, বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামেও কোচের ভূমিকায় ছিলেন।

মিনহাজুল ওই দায়িত্ব ছেড়ে চলে আসেন নির্বাচক প্যানেলে। সদস্য ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে এক দশকের বেশি সময় কাজ করেন। ২০২৪ সালে তাঁকে সরিয়ে গাজী আশরাফ হোসেনকে প্রধান নির্বাচক করে বিসিবি। এর পর থেকে মিনহাজুল বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
 

প্রায় দুই দশক যে বোর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে, সেটিই এখন চালানোর দায়িত্ব পাওয়ার পর মিনহাজুল বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছি। সবকিছু ভেতর থেকে দেখেছি। আশা করি, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আর আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠভাবে একটা নির্বাচন আয়োজন করা।’

বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পেয়েছে ৩ মাসের জন্য। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান মিনহাজুল আবেদীন। পরিচালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তিনি কাজে লাগাতে চান লম্বা সময়ের জন্য। এ জন্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর।

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে সবার সঙ্গেই আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেন ছাপ থেকে যায়।’

অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ছাড়া তাঁর কমিটিতে ক্রিকেটার হিসেবে আছেন শুধু আতহার ও মিনহাজুল আবেদীনই। আতহার অবশ্য এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবেই বেশি পরিচিত।

বাংলাদেশের যেকোনো খেলাতেই শোনা যায় তাঁর কণ্ঠস্বর। অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিনও তিনি পিএসএলে ধারাভাষ্য দিতে ছিলেন পাকিস্তানে। সেখান থেকে অনলাইনেই বোর্ড সভায় যোগ দেন গতকাল।

এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় দলের হয়ে ১৯ ওয়ানডেতে তিন ফিফটি করা আতহার একসময় বিসিবিতে নির্বাচক ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রথমে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬–১৭ সালে আতহারকে মেয়েদের নির্বাচক করা হয়। সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই আতহার সব মনোযোগ দেন ধারাভাষ্যে।

এবার মিনহাজুলের সঙ্গে আতহারও বিসিবিতে এলেন ভিন্ন ভূমিকায়। ক্রিকেট বোর্ড চালানোর এই চ্যালেঞ্জ তাঁরা কতটা নিতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

স্পোর্তিং লিসবন ০ : ১ আর্সেনাল

চ্যাম্পিয়নস লিগে আজকের রাতটি যেন প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের রাত। বায়ার্ন মিউনিখ যেমন রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে জিতেছে, তেমনি স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে দারুণ এক জয় পেয়েছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া ১-০ গোলের এ জয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। আর্সেনালের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।

স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল আর্সেনালই। কিন্তু সুযোগ তৈরিতে আর্সেনালকে ভালোভাবেই টেক্কা দিচ্ছিল লিসবন। প্রতিপক্ষের মাঠে ফিরতি লেগ বলেই হয়তো একটু বেশিই সতর্ক ছিল মিকেল আরতেতার দল। গোল করার চেয়ে ভুল না করাতেই যেন বেশি মনোযোগ ছিল তাদের।

ফলে প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ বলের দখল রেখেও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ‘গানার’রা। অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে কেবল একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে লিসবন। কিন্তু সেটি গোল আদায়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

বিরতির পরও আর্সেনালের লক্ষ্য ছিল নিজেদের রক্ষণ সুরক্ষিত রাখার দিকে। তবে গোলের জন্য তারা যে চেষ্টা করছিল না, তা–ও নয়। বল দখলে কিছু ছাড় দিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে তারা।

সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল
সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল, এক্স/আর্সেনাল

যদিও গোলের জন্য আর্সেনালকে অপেক্ষা করতে হয় একেবারে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির অ্যাসিস্টে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন বদলি নামা হাভার্টজ।

জার্মান তারকার গোলের আগে আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। ম্যাচের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তিনি।

১৫ এপ্রিল রাতে আসের্নালের মাঠ এমিরেটসে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও স্পোর্তিং লিসবন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঘোষিত এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব গঠন করা।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিসিবির কার্যক্রম পরিচালিত হবে এই আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে বোর্ডের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবেন কমিটির সদস্যরা।

ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাশনা ইমামের অন্তর্ভুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি পেশাগত জীবনে দেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং স্বনামধন্য ল’ ফার্ম ‘আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর ম্যানেজিং পার্টনার।

রাশনা ইমাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমামের কন্যা। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার সমৃদ্ধ কর্মঅভিজ্ঞতা। তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্ম ‘বেকার অ্যান্ড ম্যাকেঞ্জি’র লন্ডন অফিসে কোম্পানি ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত মিত্তাল গ্রুপ এবং শিন্ডলার ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানের আইনি প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার’ হিসেবে মনোনীত হন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিকে নিয়মিত আইনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে রাশনা ইমাম এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ-এর স্ত্রী। বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অন্তর্ভুক্তি দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বোর্ডের কাঠামোগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

ঢাকা

সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। লা লিগায় শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে হেরে এখন শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় আছে দলটি। বিশেষ করে গতকাল রাতে মায়োর্কার কাছে হারের পর পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। লিগে ৮ ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সেলোনা এখন এগিয়ে আছে ৭ পয়েন্টে। ৩০ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭৬ আর রিয়ালের ৬৯।

লিগ বিবেচনায় এই ব্যবধান অনেক বড়। নাটকীয় কিছু না হলে রিয়ালের জন্য ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। শুধু লা লিগাতেই নয়, রিয়ালের দুশ্চিন্তা আছে বায়ার্নের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ঘিরেও। এই ম্যাচের আগে দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অফ ফর্মও এখন রিয়ালের ভাবনা বাড়িয়েছে।

লা লিগায় এমবাপ্পে সর্বশেষ গোল করেছেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর রিয়াল লিগে ম্যাচ খেলেছে ৭টি, যার মধ্যে ৪টিতে এমবাপ্পে মাঠে নামেননি। হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন তিন ম্যাচে, আর অন্য ম্যাচটিতে ছিলেন বেঞ্চে।

আর যে তিন ম্যাচে খেলেছেন, সেগুলোতেও গোলের দেখা পাননি তিনি। আর এই ৭ ম্যাচের ৩টিতেই হার দেখেছে রিয়াল। এই হারগুলোই এখন লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে রিয়ালের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে
মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে, রয়টার্স

লা লিগার হিসাব বাদ দিলে এমবাপ্পে এখন সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে গোল পাননি। ফুটবলের তথ্যভিত্তিক পোর্টার স্ট্যাটস ফুট বলছে, এটাই রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পের দীর্ঘতম গোলখরা। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এমনটা ঘটেছিল।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচের মধ্যে দুটিতে চোটের কারণে খেলা হয়নি এমবাপ্পের। অন্য দুই ম্যাচে খেললেও পাননি গোলের দেখা। ফলে বায়ার্ন ম্যাচের আগে এমবাপ্পের গোলে ফেরার দিকেই এখন সবার চোখ। কারণ, তাঁর ছন্দহীনতার প্রভাব সামগ্রিকভাবে রিয়ালকে চাপে রেখেছে। এখন এমবাপ্পের গোলই পারে এই চাপ থেকে রিয়ালকে এবং তাঁকে বের করে আনতে।

খাগড়াছড়ির দরিদ্র পরিবার থেকে ফুটবলে এসেছিলেন দুই যমজ বোন আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি। সংসারে দুই বেলা খাবার জোগাড় হতো না। কিন্তু অদম্য দুই বোন থেমে থাকেননি। ২০১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে যোগ দেন তাঁরা। ২০২১ সালে সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন দুই বোনই। একমাত্র জয়সূচক গোল করেন আনাই মগিনি। অভিমান নিয়ে জাতীয় দল ছেড়েছেন দুই বোনই। আর আনাই মগিনি ফুটবলই ছেড়ে দিয়েছেন পুরোপুরি। ১০ হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন তিনি। বোন আনুচিং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচ। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে সময় নিলেন মাত্র ১০ মিনিট। নিজের নামাঙ্কিত ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এর সামনেই ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

যদিও জয়ের হাসি নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে পারেনি তাঁর দল। ঘরের মাঠে অস্টিন এফসির বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

মায়ামির প্রথম গোলটা মেসির পা থেকে এলেও ন্যু স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছেন অস্টিন ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর। ৬ মিনিটেই সফরকারীদের এগিয়ে দেন তিনি। এর চার মিনিট পরই দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০৩ নম্বর গোল।

সমতায় ফেরার পর মায়ামি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও অস্টিনের রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উল্টো ৫৩ মিনিটে পাল্টা–আক্রমণে জেইডেন নেলসনের গোলে আবারও লিড নেয় অস্টিন।

ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন ৭৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেজকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। মাঠে নামার ৮ মিনিট পরে গোল করে দলের হার বাঁচান এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে জর্মান বার্টারেম হেড করার পর খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ।

গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি
গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি, এএফপি

ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শেষ দিকে মেসি দারুণ একটা সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বলে জড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে সেটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চার ম্যাচ জয়হীন থাকল অস্টিন।

গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম হোম ম্যাচ। এ ছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ফোর্ট লডারডেলকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের পর এবারই প্রথম নিজেদের শহরের নামে গড়া স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেল তারা।

২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন ক্লাবের সহমালিক ডেভিড বেকহাম ও জর্জ মাস। খেলা শুরুর আগে আবেগপ্রবণ হয়ে বেকহাম বলেন, ‘মায়ামিতে এই স্টেডিয়াম চালু করার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করার পর আজ এটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ২০ বছর আগে এমএলএসে আসার সময় অনেক কথা দিয়েছিলাম। ১৩ বছর আগে মায়ামিতে আসার সময়ও সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিলাম। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।’

গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ও বেকহামের রিয়াল মাদ্রিদ–সতীর্থ রোনালদো নাজারিও।

ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘এটি দর্শনীয় স্টেডিয়াম, নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য; পুরো গ্যালারি একদম ঠাসা ছিল।’

আগামী সপ্তাহে নিজেদের এই নতুন মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি ধরে রাখা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয় রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।

বিলম্বিত বরণ

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে পৌঁছায় রাত পৌনে ১০টায়। খেলোয়াড়েরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চোটের কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়ে মঞ্চে আসেন এক খেলোয়াড়, এরপর আসেন সাফের সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। একে একে সব খেলোয়াড়কে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। ডেকলান সুলিভানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবার শেষে মঞ্চে আসেন রোনান সুলিভান। উপস্থাপক ট্রফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সেটি এনে মঞ্চের সামনে রাখা হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান ওঠে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, যিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। সাফের ফাইনালে গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকারে একটা শট সেভের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০০৩ সালে। যখন ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনিও একটি শট আটকান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
 

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশাল পর্দায় বাংলাদেশের সাফ জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো প্রদর্শিত হয়। পরপর দুবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর অধিনায়ক মিঠুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই দলই বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

মার্ক কক্স , কোচ, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দল

কোচের লক্ষ্য ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ছেলেরা চেষ্টা না করলে এই ট্রফি আসত না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।’ মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি এই ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্স
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্সশামসুল হক

আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা

শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির প্রধান ও বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদিকে খেলোয়াড়েরা সম্মান জানান। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোচ যেভাবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্নের কথা বলেছেন, আমাদের সেভাবেই এগোতে হবে এবং পাইপলাইন তৈরির কাজ করতে হবে।’

নাসের শাহরিয়ার জাহেদি রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং দলের অন্য সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা আজ রাতেই সবার হাতে পৌঁছানোর কথা। এ ছাড়া সমর্থকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম  খান প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আলাদা কোনো পুরস্কারের ঘোষণা দেননি। এর আগেও হাতিরঝিলে হওয়া মেয়েদের দুটি সংবর্ধনায় কোনো পুরস্কার ঘোষণা করেনি বাফুফে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। ৬ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সাফজয়ী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)
জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)শামসুল হক

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও জনসমাগম

এই সাফল্য উদ্‌যাপনে জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও আমজনতার উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম; গ্যালারির তিন ভাগের এক ভাগও পূর্ণ হয়নি। তবে আয়োজন ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। প্রবেশপথে ট্রফি জয়ের বড় বিলবোর্ড ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত বোর্ড ছিল। মঞ্চের পেছনে পর্দায় ছেলেদের সাফ জয়ের পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে নারী ফুটসাল জয়ের ছবিও দেখানো হয়, যা অনেকের কাছে কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মঞ্চের সামনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘CHAMPIONS’। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং ৩৪টি চেয়ারে সজ্জিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোর বিচ্ছুরণ পুরো পরিবেশকে বর্ণিল করে তুলেছিল।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চেষ্টা, দেশপ্রেম আর ঐক্য থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এখন বলতে পারি—উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন। তবে এটাই শেষ নয়, কোচ মার্ক কক্সের কথামতো ২০৩৬ (আসলে হবে ২০৩৪) সালে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রেনান-সুলিভানদের জন্য ছাদখোলা বাসে বর্ণিল সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফুটবলারদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে সাফজয়ী ফুটবলারদের বরণ করে নেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এরপর ছাদখোলা বাসে শুরু হবে ফুটবলারদের শোভাযাত্রা। বাফুফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই শোভাযাত্রা বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার গিয়ে শেষ হবে।

সেখানে সাড়ে ৭টার দিকে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাই সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

এদিকে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে টাকার অংক এখনও জানানো হয়নি।

এর আগে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ানো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে। গোলকিপার মাহিন ভাগ্য পরীক্ষার সেই মুহূর্তে একটি শট রুখে দেন। আর শেষ শটে পানেনকা কিকে গোল করে রোনান বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।