ইরানের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করায় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি আইআরজিসি’র একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমকিউ-১’ মডেলের একটি মার্কিন ড্রোন ইরানের ভেতরে একটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

আইআরজিসি জানায়, ড্রোনটি ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করা মাত্রই বিপ্লবী গার্ডের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট  আরও বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এত দিন ‘যুবরাজ’ বলে চিহ্নিত তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধর করা হয়েছে। আজ শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে হামলার শিকার হন লোকসভার সদস্য অভিষেক।

এ ঘটনার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, পরিকল্পনামাফিক এ ঘটনা রাজ্যের শাসক দল ঘটিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, কিছু লোক অভিষেককে যথেচ্ছভাবে কিল–চড়, ঘুষি মারছে। এ ঘটনা ঘটার সময় কাছ থেকে ডিম ছুড়েও তৃণমূল নেতাকে মারা হয়।

এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরের একটু আগে নারীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখান আর সোনারপুরে ঢোকার পরে শুরু হয় ডিমের বৃষ্টি। বহু মানুষ জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ধারাবাহিকভাবে ডিম ছোড়ার ফলে অভিষেকের পোশাক বেশ খানিকটা হলুদ হয়ে যায়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর বাইক ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তিনি মাথায় হেলমেট পরে নেন। সেটারই ওপরেই ডিমের বৃষ্টি চলতে থাকে। হেলমেট ও জামাকাপড় হলুদ হয়ে যায়। একপর্যায়ে মারতে মারতে তাঁর জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় দলীয় নেতা–কর্মী ও কিছু নিরাপত্তারক্ষী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরেছবি: ভাস্কর মুখার্জি

এরপরে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। অভিষেক বলেন, ‘এই হলো ডাবল ইঞ্জিন (সরকারের) নমুনা। সবাই চেয়েছিল, ডাবল ইঞ্জিন হোক (ডাবল ইঞ্জিন অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার) ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরোবে।’

হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি। কিন্তু এই পরিবারের ওপর হামলা হবে আমি বেরিয়ে যাওয়ার পরে। আমি এখন এদের ছেড়ে যেতে পারব না। নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে আগে এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ হামলায় অভিষেকের চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

‘অভিষেকের পুনর্জন্ম হলো’

এ হামলা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও অন্যতম মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এই একইভাবে হামলা চালানো হয়েছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ওপরে। অভিষেকের মতোই তাঁরও নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তার কী ফল হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি।’

‘এ হামলার ফলে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটল। এত দিন যাঁকে অভিহিত করা হতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে, আজ তাঁর ওপর আক্রমণ করে তাঁর নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হলো। আজকে যে লড়াই হলো…সেই স্নায়ুযুদ্ধকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতিক্রম করে গেছেন এবং এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।’

হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
 

হামলার নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শাসক ঘাতকে পরিণত হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এসবের মধ্যে বিজেপি নেই। এ ধরনের ঘটনা সুস্থ, স্বাভাবিক, গণতান্ত্রিক পরিবেশে হয় না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের ওপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের ওপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদেরা এখনো এ অবস্থায় আছেন। অন্য কোনো দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না।’

আবার উত্তপ্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ

এ ঘটনার পরে সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুইলচেয়ারে বসিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আজ রাতে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, শীর্ষস্থানীয় নেতার ওপর এ হামলার ঘটনাকে সামনে রেখে আপাতত তাঁরা প্রতিবাদের রাজনীতি শুরু করবেন।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে হকার উচ্ছেদ ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্তিকরণের বিষয়টি নিয়ে পথে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই মাস ধরে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোয় অর্থসহায়তা পাচ্ছেন না নারীরা, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই গরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের এখনো ৪০ শতাংশ ভোট রাজ্যে রয়েছে, তারা পথে নামলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

চীনের প্রত্যন্ত এক মরুভূমিতে সুবিশাল এক সামরিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগাম হামলা থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার রক্ষা করা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালালেও বেইজিং যেন নিশ্চিতভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানার সক্ষমতা চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আগে থেকেই রয়েছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ছবিতে দেখা যায়, সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব ঘাঁটিতে (সাইলো) রাখা আছে, সেগুলোর কাছেই নতুন স্থাপনা বানাচ্ছে বেইজিং। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (লঞ্চপ্যাড), বাংকার ও যোগাযোগের বিভিন্ন উপকেন্দ্রের বিশাল এক নেটওয়ার্ক।

মরুভূমির প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় হামি নামের একটি পারমাণবিক সাইলো রয়েছে। এর কাছেই ৮০টির বেশি উৎক্ষেপন কেন্দ্র ও অষ্টভুজাকৃতির তিনটি স্থাপনা তৈরি করেছে চীন।

রয়টার্সের হয়ে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাঁরা জানান, এই লঞ্চপ্যাডগুলো চীনের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া ছবিগুলোয় এমন কিছু স্থাপনা দেখা গেছে, যেগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার কাজে লাগতে পারে।

এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞের কথা আগে জানা যায়নি। ভূমিভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে পরিচালনা ও সুরক্ষিত রাখতে চীন যে ব্যাপকহারে দুর্ভেদ্য অবকাঠামো বাড়াচ্ছে, এটি তারই ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে এই নেটওয়ার্ক প্রমাণ করে, পাল্টা হামলার (সেকেন্ড-স্ট্রাইক) সক্ষমতা নিশ্চিতে বেইজিং অনেক দূর এগিয়েছে।

তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের পারমাণবিক প্রতিযোগিতাও যে তীব্র হচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

উৎক্ষেপণ সক্ষমতা

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবিতে কয়েক ডজন কংক্রিটের প্যাডের মধ্যে অন্তত দুটি দেখা গেছে। হাওয়াইভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ফোরামের অ্যাডজাংক্ট ফেলো আলেকজান্ডার নিল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাইলো এলাকার বাইরেও হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার মরুভূমিজুড়ে ব্যাপক পরিসরে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।’

এসব স্থাপনার প্রকৃত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিল আরও বলেন, ‘চীনের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা যে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বহুমুখী হচ্ছে, আমরা তারই প্রমাণ দেখছি।’

আগে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের পারমাণবিক কৌশল সাজিয়েছে চীন। তাদের লক্ষ্য হলো, একটি ক্ষুদ্র হলেও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা। আর এ লক্ষ্য অর্জনে মরুভূমিতে থাকা সাইলো রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করাটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সামরিক বাহিনী (পিপলস লিবারেশন আর্মি) সাবমেরিন ও বিমান থেকেও পারমাণবিক অস্ত্র ছুড়তে পারে। তবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চল ও গানসু প্রদেশে থাকা সাইলো এলাকাগুলোই তাদের পারমাণবিক বাহিনীর মূল কেন্দ্র।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকে এই পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি।

কিছু পশ্চিমা কূটনীতিকের অভিযোগ, বেইজিংয়ের এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। চীনের বিকাশমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

চীনের সামরিক নীতির একটি মূলভিত্তি হলো পারমাণবিক অস্ত্র ‘প্রথমে ব্যবহার না করা’। অর্থাৎ তাদের বাহিনী আগে পারমাণবিক হামলা শুরু করবে না। তবে পশ্চিমা কিছু জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের ধারণা ভিন্ন। তাঁদের মতে, তাইওয়ান নিয়ে কোনো সংঘাত বাঁধলে বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন পারমাণবিক অস্ত্রের ভয় দেখাতে পারে।

চলতি মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সি চিন পিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ ঠিকমতো সামলাতে না পারলে পরিস্থিতি ‘ভয়ংকর দিকে’ যেতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে আসা নতুন স্থাপনার বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

মরুভূমিতে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা

পূর্ব জিনজিয়াংয়ে গত ছয় বছরে অষ্টভুজাকৃতির দুটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এই দুটি স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই মরুভূমির নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। স্থাপনা দুটি হামি পারমাণবিক সাইলো এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এর একটির দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার, অন্যটি প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, অষ্টভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর ভেতরে কর্মীদের থাকার জায়গা ও বড় সামরিক যানের অবস্থান রয়েছে। এর দুই পাশে রয়েছে সাঁজোয়া বাংকার ও সুরক্ষিত অস্ত্রভান্ডার। এ ছাড়া সেখানে থাকা এয়ারফিল্ড ও রেলওয়ে টার্মিনালগুলো হামি সাইলোর সঙ্গে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোকে যুক্ত করেছে।

ছবিতে আরও দেখা যায়, চলতি মাসে ও গত এপ্রিলে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে বড় সামরিক যান নিয়ে মহড়া চলেছে। সাম্প্রতিক ছবিতে বড় বড় তাঁবু চোখে পড়েছে। দুজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এগুলো মরুভূমিতে লুকিয়ে রাখা ছদ্মবেশী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হতে পারে। এর কয়েকটিতে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

দক্ষিণের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশের স্থাপনা

স্যাটেলাইট ছবিতে এই স্থাপনার চারপাশে রেললাইন, একটি রেল টার্মিনাল, একটি এয়ারফিল্ড এবং জ্বালানি সংরক্ষণের সম্ভাব্য জায়গা ও সুরক্ষিত বাংকার দেখা গেছে।

অষ্টভুজাকৃতির এসব স্থাপনার অস্তিত্বের কথা আগেই নথিপত্রে উঠে এসেছিল। তবে এসব স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের বিশাল নেটওয়ার্কের খবর রয়টার্সই প্রথম প্রকাশ করল। পাশাপাশি একটি স্থাপনার আশপাশে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের বিষয়টিও তারা সামনে এনেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো থেকে ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা যেতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে মহড়া

স্যাটেলাইটের ছবিতে গত এপ্রিল ও মে মাসে ওই স্থাপনার আশপাশে বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রয়টার্স পাঁচজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁরা সবাই একমত, এই অবকাঠামো মূলত চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামরিক কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানা রয়ে গেছে।

যেমন চীন এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করবে? অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোতে ট্রাকে বহনযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হবে কি না, নাকি সেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত করার সুবিধা থাকবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে কুচকাওয়াজ করে চীনের সামরিক বাহিনী। সেখানে তারা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম এমন অস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে। এর মধ্যে সাইলোভিত্তিক ও ট্রাকে বহনযোগ্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন।

চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে পেন্টাগন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, চীনের ওয়ারহেড উৎপাদন ধীর হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ওয়ারহেড মোতায়েনের পথে এগোচ্ছে দেশটি। গত ডিসেম্বরের ওই প্রতিবেদনে আরও ধারণা দেওয়া হয়, চীন তাদের তিনটি প্রধান সাইলোতে ইতিমধ্যে ১০০টি আইসিবিএম প্রস্তুত রেখেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিজেদের আগাম সতর্কবার্তাব্যবস্থাও (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) জোরদার করছে চীন। এর কেন্দ্রে রয়েছে তাদের ‘হুয়োয়ান-১’ স্যাটেলাইট।

পেন্টাগন বলছে, এই ব্যবস্থায় কোনো আইসিবিএম ধেয়ে এলে তা উৎক্ষেপণের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে শনাক্ত করা যায়। আর তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তা কমান্ড সেন্টারে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। শত্রুর আঘাত হানার আগেই নিজেদের সাইলোভিত্তিক অস্ত্র থেকে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য এই সময়টুকুই চীনের জন্য যথেষ্ট।

‘অভাবনীয় এক উদ্যোগ’

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মরুভূমির অনেক দূর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ও ভূগর্ভস্থ যে নেটওয়ার্ক চলে গেছে, প্রতিটি অষ্টাভুজ স্থাপনা তার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। এসব রাস্তাগুলো কংক্রিটের প্যাডগুলোকে যুক্ত করেছে, যেগুলো পাথুরে এলাকা ও খালের শুকনা তলদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে।

তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, এসব প্যাড ভ্রাম্যমাণ আকাশ-প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের উপকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আর তুলনামূলক বড় প্যাডগুলো ভ্রাম্যমাণ আইসিবিএম লঞ্চার হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক তথ্যপ্রকল্পের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এমন বৈরী পরিবেশে এত বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে যে, ‘কোনো কিছুর সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।

ক্রিস্টেনসেন ও নিল জানান, অষ্টাভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর সঙ্গে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা ওই ভূগর্ভের সুরক্ষানলগুলোর ভেতরে যোগাযোগের জন্য ফাইবার অপটিক কেবল থাকতে পারে।

তিনজন বিশ্লেষক স্যাটেলাইট ডিশ ও দুটি বড় টাওয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একেবারে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনায় মহাকাশ বা মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগের সম্ভাব্য ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পারমাণবিক নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো টং ঝাও বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, অষ্টাভুজ কাঠামোগুলো এবং অদ্ভুত টাওয়ারগুলোর সঙ্গে সি–থ্রি (কমান্ড, কন্ট্রোল এবং কমিউনিকেশন)-এর যুক্ত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হামি আইসিবিএম সাইলো এলাকায় চীনের পারমাণবিক কার্যক্রমের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের সঙ্গেও এগুলো সম্পৃক্ত থাকতে পারে।’

লোপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের দক্ষিণে অষ্টভুজাকৃতির তৃতীয় একটি স্থাপনা রয়েছে। তবে এটি এখনো সেভাবে উন্নত করা হয়নি। মনে হচ্ছে, এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনুশীলনের জায়গা (টার্গেট রেঞ্জ) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে সেখানকার মাটি ক্ষতবিক্ষত ও ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের বিশ্লেষকেরা জানান, সেখানে পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের রেপ্লিকা বা নকল কাঠামোও রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

অনুশীলনের জায়গা হিসেবে তৃতীয় অষ্টভুজের ব্যবহার

স্যাটেলাইটের ছবিতে ওই এলাকায় নকল উড়োজাহাজ, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ক্ষতবিক্ষত মাটি দেখা গেছে।

সাইলোর কাছে এমন বিশাল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চীনকে সম্ভাব্যভাবে অন্যান্য প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে বেইজিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও অস্ত্র মজুত রয়েছে। তবে আগাম হামলা ঠেকাতে তারা বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না। এর বদলে তারা বিপুলসংখ্যক সাইলো, সেগুলোর বিচ্ছিন্ন অবস্থান এবং মজবুত অবকাঠামোর ওপরই বেশি নির্ভর করে।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে যে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ চলছে, তা দেখে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরাও অবাক হয়েছেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এটি অসাধারণ এবং অভাবনীয় এক উদ্যোগ।’

প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে আবারও একটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ গেছে অন্তত ৩ জনের। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা বলে দাবি মার্কিন সেনাবাহিনীর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্য এক্সে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, শুক্রবার বেআইনি তৎপরতার খবর পেয়ে একটি নৌযানকে তাড়া করে তারা। মাদক পাচারে জড়িত ছিল সেটি।

সাউথকম কমান্ডারের নেতৃত্বে যৌথ টাস্কফোর্স পরিচালনা করা হয় এই অভিযান। হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে মার্কিন বাহিনী।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। যার প্রধান টার্গেট ভেনেজুয়েলার নৌযান।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া শহরের অন্তত ২৫টি জায়গায় গাছ ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এসব গাছ বিভিন্ন এলাকার গাড়ির ওপর পড়লে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় কলকাতার হুগলি নদীর প্রিন্সেপ ঘাটের রেললাইনের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে রেললাইনের তারে আগুন ধরে যায়। এ সময় ভেঙে পড়া আমগাছ থেকে সড়কের ওপর ঝরে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাঁর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রেলের চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে গাড়ির ওপরে। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে গাড়ির ওপরে। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
 

এই ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লেন্স ডাউন, মুদিয়ালী, সল্টলেক, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, হরিস মুখার্জী রোড, ময়দান, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, পাতিপুকুর, কাঁকুড়গাছি, খিদিরপুর, পিজি হাসপাতাল, হাইল্যান্ড পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট, লেক গার্ডেন্স, টালা পার্ক এলাকায় গাছ ভেঙে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ঝড়ের কারণে শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কলকাতা বিমানবন্দরে পানি জমে যাওয়ায় বিমানের ওঠানামা এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে। বিভিন্ন এলাকার রেললাইনে পানি জমে যায়।

ঝড়বৃষ্টির কারণে পানি জমে যায় বিভিন্ন রাস্তায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
ঝড়বৃষ্টির কারণে পানি জমে যায় বিভিন্ন রাস্তায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
 

পানি জমেছে কলকাতার পিজি হাসপাতাল সড়কসহ আম হার্টস্টিটেও। হরিস মুখার্জী রোডে গাছ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়ায় গাড়িটি ভেঙে যায়। যদিও ড্রাইভার মুহূর্তের মধ্যে নিজে গাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁচেন। যাদবপুরে ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট ভেঙে পড়ে।

কলকাতা শহরে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে নেওয়ার জন্য নেমে পড়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। কর্মীরা গাছ কাটার করাত নিয়ে বড় বড় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করেন। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা জমে যাওয়া রাস্তার পানিনিষ্কাশনের জন্য চালু করে দেয় পাম্প মেশিন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কন্ট্রোল রুম খোলে রাজ্য সরকার।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানায়, এই অভিযানে তারা একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাসের পর মাস মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পরও ইরান পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের কাছে ড্রোনটি নামানো হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আরাশ-ই কামানগির’ নামক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি এই প্রথম কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সম্প্রতি বন্দর আব্বাসের কাছে একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল এই নৌপথে আলোচিত মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পাল্টা জবাবে তারা একটি ‘মার্কিন বিমানঘাঁটিতে’ হামলা চালিয়েছে।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মাসের পর মাস চলা ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর দেশটির সক্ষমতা আর কতটুকু টিকে আছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। বিশেষ করে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান নতুন কোনো আক্রমণ সামলাতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

‘ইউক্রেনের মতো ইরানও ক্ষেপণাস্ত্রের নকশায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক কৌশল বদলে দিচ্ছে। সস্তা ও সাধারণ ব্যবস্থা এখন অনেক জটিল ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।’
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন

ইরান কী বলছে

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘শত্রু’ গোয়েন্দা ড্রোন ঠেকাতে ‘আরাশ-ই কামানগির’ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার রাডার ফাঁকি দেওয়া যান বা ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তি শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এর কারিগরি বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানি গণমাধ্যমের বলছে, আকাশ ও জলসীমায় অবস্থান করা শত্রু বিমানের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তার মতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তেহরান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ফারস নিউজ জানায়, ‘গোপন সক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে।’

নতুন এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ফারসি অর্থ ‘তিরন্দাজ আরাশ’। পারস্যের পৌরাণিক এক বীরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। লোকগাথায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি একটি তির ছুঁড়ে ইরান ও মধ্য এশিয়ার সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন। বিদেশি আধিপত্যবিরোধী বীর হিসেবেও সাহিত্য ও কবিতায় তিনি সমাদৃত।

ইরানের সামরিক মহড়ার সময় উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র। ১৬ জানুয়ারি এ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রেভোল্যুশনারি গার্ডসের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজ
ইরানের সামরিক মহড়ার সময় উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র। ১৬ জানুয়ারি এ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রেভোল্যুশনারি গার্ডসের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজছবি: এএফপি

ইরানের দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেহরানের এই দাবি সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ, দেশটির সামরিক অগ্রগতির অনেক তথ্যই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা কঠিন।

কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আরাশ-ই কামানগির’ সম্পর্কে ‘নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা তথ্য খুব কম’। তবে এই হামলা ‘একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ’।

হিলবোর্ন আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের মতো ইরানও ক্ষেপণাস্ত্রের নকশায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক কৌশল বদলে দিচ্ছে। সস্তা ও সাধারণ ব্যবস্থা এখন অনেক জটিল ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।’

‘আরাশ-ই কামানগির’ আসলে কী

হরাইজন এনগেজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেইদা আল-জাজিরাকে বলেন, এই ব্যবস্থা সম্ভবত ইরানের অন্যান্য স্বল্পপাল্লার সমরাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এটি আগের কোনো ব্যবস্থারই উন্নত সংস্করণ।’

আলমেইদা আরও বলেন, ‘এটি প্রথাগত রাডারের স্থির নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে না। সম্ভবত এতে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল বা তাপ শনাক্তকরণ (হিট-সিকিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত এটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এমন এক ‘পপ-আপ’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যা খুব সহজে মোতায়েন ও উৎক্ষেপণ করা যায়।’

ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, এসব বহনযোগ্য ব্যবস্থার বড় সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো এগুলো দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়। এটি প্রমাণ করে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনো টিকে আছে।’

বিশ্লেষক আলমেইদা বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান এখনো এমন কিছু ব্যবস্থা ধরে রেখেছে যা ‘সীমিত ও নিম্নস্তরের আকাশ হুমকি’ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। এসব ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা বেশ কঠিন।

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রছবি : রয়টার্স

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ

গ্রাজিউস্কি বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল মূলত ‘সহনশীলতা, ধৈর্য ও গতিশীলতার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানের সাফল্য নিয়ে বাড়িয়ে বলছে।’

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের সমালোচনা করে গ্রাজিউস্কি বলেন, ‘পাশ্চাত্যের বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে ত্রুটিপূর্ণ বা অকার্যকর বলেন। কিন্তু শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ইরান আসলে তাদের নিজেদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে।’

আল–জাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থী ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানান।

এদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে সাক্ষাৎকার দেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, হামাসের ওপর ইসরায়েল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে।

কট্টরপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা এখন আমাদের হাতে। আগে আমরা ৫০ শতাংশ এলাকায় ছিলাম। সেখান থেকে আমরা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছি।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার নির্দেশ হলো ধাপে ধাপে এগোনো। প্রথমেই ৭০ শতাংশে যেতে হবে। আপাতত এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা শুরু করি।’

যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু এ কথার বলার সময় উপস্থিত উগ্রপন্থী ইহুদিরা দর্শকেরা পুরো গাজা দখলে নেওয়ার দাবি জানান।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কিছু মানচিত্র দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। সেসব মানচিত্রে দেখা যায়, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা আগে থেকেই ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজার আরও এলাকা ইসরায়েল দখলে নিলে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম বিপাকে পড়বেন। এই উপকূলীয় উপত্যকার সামান্য ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় তাঁদের গাদাগাদি করে থাকতে হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা ‘ইয়োলো লাইন’ (হলুদ রেখা) নামের একটি সীমানায় পিছিয়ে যায়। এর ফলে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ওই সীমানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে হামাস। মঙ্গলবার হামাস বলেছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রকাশ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা জোরপূর্বক নতুন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মূলত গাজার ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। এর ফলে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও সংঘাত কমানোর যেকোনো চেষ্টাই ব্যর্থ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত অক্টোবরে কার্যকর হয়। ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষেরই এই চুক্তির শর্ত মেনে চলার কথা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে এর বাস্তবায়ন থমকে আছে। এতে গাজা ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হলে এই ‘ইয়োলো লাইন’ একসময় সীমানাপ্রাচীর বা দেয়ালে পরিণত হতে পারে। এর ফলে গাজা স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

গাজার বর্তমান বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেন ম্লাদেনভ। তিনি বলেন, সেখানে ‘এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন’। ইসরায়েলি বিমান হামলার ‘ভয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো’।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তারা নিজেদের মতো করে অভিযোগ তুলেছে, হামাস নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের বাহিনীকে আবার সংগঠিত করছে। এর মধ্য দিয়ে হামাসই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

ফিলিস্তিনের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলের এসব হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের সামরিক শাখার নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর ১১ দিন পর আরেক হামলায় তাঁর উত্তরসূরিকেও হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলের আরেক উগ্রবাদী নেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘৭ অক্টোবরের হামলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে হত্যার শপথ নিয়েছিলাম আমরা। আর আমরা সেটাই করব। তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁদের মৃত্যুদণ্ড অবধারিত।’

ম্লাদেনভ আরও বলেন, হামাসও তাদের অস্ত্র সমর্পণ বা ধ্বংস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার এই প্রধান শর্তটির ওপর। শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এরপর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দখল করা এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবে।

বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাতে চেয়েছে। তবে ঠিক কবে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও কোনো অগ্রগতি নেই। এই সুযোগে গাজার আরও বেশি এলাকা ক্রমশ দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই ভূখণ্ডে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করছে।

সিএনএন

সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আজ শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার একটি ড্রোন আছড়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সর্বশেষ নজির এটি। রোমানিয়ায় হামলার ঘটনায় ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

রোমানিয়া সরকার রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকুসন ড্যান জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি এটিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ‘রোমানিয়ার ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে গালাতি শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোনটি আছড়ে পড়ে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ও ৫৩ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর থেকে রোমানিয়ায় বহুবার ড্রোন অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে এবারই প্রথম কোনো আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাতের ঘটনা ঘটল।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন আরও একটি সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরসুলা লিখেছেন, ‘আমরা রোমানিয়া ও এর জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ আরও জোরদার করা হবে।

মস্কোর আচরণকে ‘বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে ন্যাটো। পাশাপাশি রোমানিয়াকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা।

ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্যই বিপজ্জনক।’

মার্ক রুটে আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, মিত্র জোটের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে ন্যাটো।’

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাশিয়াকে ‘সবার জন্য বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মলদোভার অবস্থান রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝখানে। মলদোভাতেও এর আগে একাধিকবার ড্রোন অনুপ্রবেশ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৮ থেকে ২৯ মে রাতের মধ্যে ইউক্রেনের ভেতরে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রোমানিয়ার নৌ-সীমার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ওই ড্রোনগুলোর একটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে রাডারে শনাক্ত হয়। গালাতি শহরের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত ড্রোনটি রাডারে শনাক্ত হয়েছে। পরে এটি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছাদে বিধ্বস্ত হয়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।

ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান পাঠায়।

ইউক্রেনের আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কায় রাতভর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেনের দক্ষিণে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে এক হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় সমাধান করা বাকি আছে বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভ্যান্স আরও বলেন, দুই পক্ষ আদৌ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাবে কি না, বা কখন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তা এত তাড়াতাড়ি বলা সম্ভব নয়।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মূল জটিলতা থেকে গেছে। এ ক্ষেত্রে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে।

এর আগে গতকাল মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচকেরা এখনো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে আছে–‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ প্রশ্নটি।

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি এবং এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলে।

জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আশাবাদী সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে ইরান ‘আন্তরিকভাবে’ আলোচনা করছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তবসম্মত ফল পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর নেতা, ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য এমনকি কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যের কাছ থেকেও এমন চাপ আসছে। তাঁরা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে গতকাল প্রকাশিত পরস্পরবিরোধী খবরগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে আলোচনা এখনো কতটা অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।

দুই দেশই একে অপরের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়েছে। তারা প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একমত হয়েছে। সে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও বলেছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিবিসি