বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করায় হ্যামস গার্মেন্টসকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) লিড প্লাটিনাম সনদে (সার্টিফিকেশনে) ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর পেয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিএমইএ।

আজ শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানটি বিজিএমইএ এবং হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, পরিচালক ফারুক হাসান, ইউএসজিবিসির কনসালট্যান্ট অনন্ত আহমেদ, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)–এর অন্তর্বর্তী কমিটির কনভেনর এহসানুল করিম কায়সার প্রমুখ।

এ সময় বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে যে নম্বর পেয়েছে, তা বিশ্বের যেকোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর। এই সাফল্য সারা বিশ্বের কাছে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, জিএমইএর বর্তমান পর্ষদ যেভাবে পোশাকশিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিজিএমইএর এই সংবর্ধনা উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

বিজিএমইএর পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে, যা দেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যে এর সঠিক প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। উল্লেখ্য যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির অনুমানের তুলনায় যা অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

বুধবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে এডিবি এশিয়ান দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছে এডিবি।

এডিবি এর আগে চলতি অর্থবছরের জন্য চার দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রাক্কলনের কথা উল্লেখ করে এডিবির পূবাভাসের এপ্রিল সংস্করণে বলা হয়েছে, এ সময়ে অর্থনীতি ধীর গতিতে প্রসারিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিক্ষোভ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে উৎপাদন খাত স্থিতিশীল হওয়ায় পরবর্তী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুরি বা হারিয়ে যাওয়া আইফোনের তথ্য সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা–সুবিধা দিয়ে আসছে অ্যাপল। তবে আইফোন আনলক অবস্থায় চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কেউ গোপনে ব্যবহার করলে বা আইফোনের অবস্থান হঠাৎ পরিবর্তন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইফোন লক করে দেবে প্রযুক্তিটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি বা ছিনতাই হওয়া আইফোনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নতুন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। বর্তমানে আইফোনে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রোটেকশন’সহ বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা–সুবিধা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইফোন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি চুরি বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। বিশেষ করে অ্যাকসেলেরোমিটার সেন্সরের মাধ্যমে আইফোনের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করে সম্ভাব্য চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত করে লক করে দেবে প্রযুক্তিটি। ফলে চোর বা ছিনতাইকারী আইফোনটি ব্যবহার, রিসেট বা এর ভেতরে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পাবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের মধ্যকার দূরত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সেটিকে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমাতে একাধিক তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করবে প্রযুক্তিটি। আইফোন যদি হঠাৎ পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতা ছেড়ে অপরিচিত নেটওয়ার্কে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য চুরির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও ডিভাইসটির সুরক্ষাব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হতে পারে।

নতুন এ সুবিধা কবে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনে থাকা থেফট প্রটেকশন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিটি যুক্ত করা হবে।

সূত্র: নিউজ ১৮

মহাকাশের শূন্যতায় বা ভিনগ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ কি কখনো নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে পারবে? দীর্ঘমেয়াদি মহাজাগতিক যাত্রার প্রাক্কালে এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার এক অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বাইরে মানুষের প্রজনন ও প্রাথমিক বিকাশের রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে মানুষের কৃত্রিম ভ্রূণের মডেল। মহাশূন্যের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতিসামান্য মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাজাগতিক বিকিরণ মানুষের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক স্তরগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন চীনা গবেষকেরা। এই লক্ষ্যে তাঁরা মানুষের স্টেম সেল বা কোষ থেকে তৈরি বিশেষ কিছু কাঠামো চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম ভ্রূণ মডেলের পরীক্ষা। নমুনাগুলো তিয়ানঝৌ-১০ নামক একটি কার্গো মহাকাশযানের মাধ্যমে গত মে মাসের শুরুর দিকে তিয়াংগং স্টেশনে পৌঁছায়। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

মহাকাশে পাঠানো এই ভ্রূণ কিন্তু কোনো পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু বা ভ্রূণ তৈরিতে সক্ষম নয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে বলছেন কৃত্রিম ভ্রূণ মডেল, যা মানুষের স্টেম সেল থেকে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়েছে। এগুলো মূলত নিষিক্তকরণের পর থেকে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত একটি আসল ভ্রূণ যেভাবে বাড়ে, ঠিক সেই পর্যায়কে অনুকরণ করতে পারে। এই কোষগুলো নিজে নিজেই বিন্যস্ত হতে এবং বিভাজিত হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হবে না। এই সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের কারণেই বিজ্ঞানীরা কোনো ধরনের নৈতিক বিধিনিষেধ বা আইনি জটিলতা ছাড়াই আদিম মানববিকাশের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর সুযোগ পেয়েছেন।

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানী ইউ ল্যচিয়ান বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে রাখা নমুনার বিকাশের মধ্যে তুলনা করার মাধ্যমে আমরা মহাকাশের পরিবেশে মানুষের প্রাথমিক ভ্রূণের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলা উপাদানগুলো শনাক্ত করতে পারব। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ বসবাসের সময় মানুষ যেসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। এটি কোনো আসল মানুষের ভ্রূণ নয় এবং এর কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে এটি মানুষের প্রাথমিক বিকাশের ধাপগুলো অধ্যয়নের জন্য একটি চমৎকার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’

পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে এখানকার নির্দিষ্ট মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অধীনে। কিন্তু মহাকাশের কক্ষপথের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা ওজনহীনতা এবং উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর বিকিরণ মানুষের শরীরের কোষের বিন্যাস, জিনের প্রকাশ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যেহেতু মানুষ এখন মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘকাল থাকার এবং ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, তাই মানবদেহে এই প্রভাবগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প প্রধান ইউ ল্যচিয়ান জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, আর তা হলো মানুষ কি মহাকাশে বেঁচে থাকতে এবং প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মানুষের একদম শুরুর দিকের শারীরিক বিকাশের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বিজ্ঞানীরা একবার পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে এর যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতি প্রতিরোধ করার উপায়গুলোও সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

নিজেদের তৈরি একাধিক পুরোনো মডেলের আইপডসহ একটি মডেলের ম্যাকবুক ও অ্যাপল টিভি থেকে নিজেদের প্রযুক্তি সমর্থন সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যন্ত্রগুলোতে অ্যাপলের হালনাগাদ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা-সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে কারিগরি ত্রুটি হলে যন্ত্রগুলো মেরামতের সুবিধা মিলবে না। শুধু তা–ই নয়, সাইবার হামলা হুমকিতেও থাকবেন ব্যবহারকারীরা।

অ্যাপলের ‘ভিনটেজ’ ও ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০১৭ সালে বাজারে আসা ১৩ ইঞ্চির ম্যাকবুক এয়ার। ‘ভিনটেজ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পণ্যটি নষ্ট হলে অ্যাপল স্টোর বা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে কারিগরি সেবা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আইপ্যাড মিনি ৪–এর সব সংস্করণ এবং ৩২ গিগাবাইট সংস্করণের অ্যাপল টিভি এইচডিকে ‘অবসোলিট’ বা প্রযুক্তিগতভাবে অচল পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব ডিভাইসের জন্য অ্যাপল আর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার সেবা বা মেরামতসুবিধা দেবে না।

অ্যাপলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পণ্য পাঁচ বছরের বেশি সময় বাজারে বিক্রি না হলে সেটিকে ‘ভিনটেজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সাত বছরের বেশি সময় ধরে বিক্রি বন্ধ থাকলে সেটি ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আহসান হাবীব

নিজেদের তৈরি আকারে ছোট বিশেষ প্রযুক্তির হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে নাসা। এবার বড় পরিসরে মঙ্গল গ্রহের তথ্য সংগ্রহের জন্য হালনাগাদ প্রযুক্তির আকারে ছোট শক্তিশালী হেলিকপ্টার তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। মঙ্গল গ্রহে নাসার পাঠানো প্রথম হেলিকপ্টার ইনজেনুইটির রোটর ব্লেড বা পাখার গতি শূন্য দশমিক ৭ মাত্রার কম থাকলেও নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮–এর চেয়ে বেশি। এই অভাবনীয় গতি পরবর্তী প্রজন্মের হেলিকপ্টারের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা শানা উইথ্রো–মেসার বলেন, ‘হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতির সফল পরীক্ষা আরও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে উড্ডয়নের সম্ভাব্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা ভেবেছিলাম, ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৫ অর্জন করতে পারলেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করব, কিন্তু শেষ ধাপে আমরা ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮ গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এই হেলিকপ্টারগুলো সত্যিই বিস্ময়কর হতে যাচ্ছে।’

নাসার তথ্যমতে, একটি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি যখন ম্যাক শূন্য দশমিক ৮ অতিক্রম করে, তখন সেখানে শক ওয়েভ, বাতাসের প্রচণ্ড বাধা ও অস্থির বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এর ফলে হেলিকপ্টারের ওপর একধরনের চাপ তৈরি হয়। পৃথিবীতে এই সমস্যার সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হলেও মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ব্যবহার উপযোগী এমন হেলিকপ্টারের নকশা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যে সামান্য পার্থক্যও একটি বিমানের উড্ডয়নের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় অত্যন্ত পাতলা। ঘনত্বে যা পৃথিবীর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। রোটরের গতি বৃদ্ধির ফলে নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হেলিকপ্টারে বেশি ওজনের উন্নত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা যাবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষের দিকে স্কাইফল মিশনের আওতায় নতুন মডেলের তিনটি হেলিকপ্টার মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

ঈদের বাকি মাত্র কয়েক দিন। ঈদের কেনাকাটায় পছন্দের পোশাকের পাশাপাশি অনেকের তালিকায় থাকে স্মার্টফোন। ব্যবহার ও প্রয়োজন ভেদে এসব স্মার্টফোনের চাহিদাও হয় ভিন্ন রকমের। ঈদে স্মার্টফোনের বাজারে ৩০ হাজারের মধ্যে ভালো মানের কয়েকটি ফোনের খোঁজ নেওয়া যাক।

ওয়ালটন জেনন এক্স ২০

এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির সামনে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা রয়েছে।

রিয়েলমি সি৬৫

৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৫৭৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

স্যামসাং গ্যালাক্সি এম৩৫

এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৮০০ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ৫০, ৮ ও ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৬ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

ভিভো ওয়াই ২৯

১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৬৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা।

টেকনো ক্যামন ৩০

এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ২৫৬ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যামযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে ফোনটিতে।

রিয়েলমি সি৭৫

৬.৭২ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

অনার এক্স৭সি

এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ১০৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৭৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

অপ্পো এ৫ প্রো

এই ফোনের দাম ২৩ হাজার ৯৯০ টাকা। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ১২৮ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৫ হাজার ৮০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট

৬.৬৭ ইঞ্চি এফএইচডিপ্লাস পর্দার এই ফোনের দাম ২৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৫ হাজার ১১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে।

শাওমি রেডমি নোট ১৪ প্রো

৫ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ২০০, ৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের তিনটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর ফলে সহজেই ভালো মানের ছবি তোলা যায়। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির দাম ২৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

জাহিদ হোসাইন খান

বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিওয়াইডি সিল বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। আর তাই বাংলাদেশেও সিল মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিওয়াইডি। গাড়িগুলোর দাম কোটি টাকার কাছাকাছি হওয়ায় এবার কম দামে ‘বিওয়াইডি সিল ৬’ মডেলের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আনতে যাচ্ছে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। নতুন মডেলের গাড়িটি একবার চার্জে ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। শুধু তাই নয়, ৩০ মিনিটেই পুরো চার্জ হয়। আর তাই বাজারে আসার আগে হাতে–কলমে চালিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিওয়াইডি প্রদর্শনী কেন্দ্রে আমরা গিয়েছিলাম। এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ৩০০ ফুট রাস্তায় পূর্বাচল ক্লাব পর্যন্ত আমরা গাড়িটি চালিয়েছি। গাড়িটি চালিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকেই আজকের এই টেস্ট ড্রাইভ প্রতিবেদন।

সামনেও মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে
সামনেও মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে
 

প্রদর্শনী কেন্দ্রে ঢুকেই দেখা মিলল সাদা রঙের বিওয়াইডি সিল ৬ গাড়ির। গাড়ির বনেটের নকশার কারণে প্রথম দর্শনেই মনে হলো চালকের আসন থেকে সহজে গাড়ির সামনের মাপ নেওয়া যাবে। দুই পাশে এলইডি হেডলাইট ও বাম্পারের ভেতরে বাতাস চলাচলের সরু দুটি ফাঁকা স্থান রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে ফগলাইট হাউজিং। নম্বর প্লেটের নিচে বড় আকারে এয়ার ইনটেক্ট সিস্টেম বা বাতাস যাওয়া–আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঝখানে বিওয়াইডির লোগো। এটি যেহেতু সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেহেতু এটার বনেটের নিচেও মালামাল রাখার জন্য ৬৫ লিটার স্পেস রয়েছে। এর ফলে সামনে ও পেছনে দুটি মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে।

চালকের আসনে বসে এক্সপ্রেসওয়ে অভিমুখে যাত্রা শুরু করি আমরা। প্রায় নিঃশব্দে চলা গাড়িটির ভেতরের নয়েস ক্যানসেলেশন সিস্টেম সত্যিই প্রশংসনীয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সঙ্গে রয়েছে ২.৫ পিএম বাতাস বিশুদ্ধকরণের সুবিধা। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে মাল্টিমিডিয়া নিয়ন্ত্রণসহ ক্রুজ কন্ট্রোল রয়েছে। স্টিয়ারিংয়ের পেছনে ডান পাশে রয়েছে গিয়ার হাতল। গাড়ির স্টার্ট বাটনটা চালকের বাঁ পাশে রয়েছে। এখানে দুটি মুঠোফোন রাখার অপশন আছে। এর নিচে রয়েছে কিছু বাটন। তারপর আছে দুটি গ্লাস হোল্ডার। কফি খেতে খেতে গাড়িটি আরামসে চালানো যাবে। স্টিয়ারিংটিকে সামনে–পেছনে ও ওপর–নিচ করে সেট করার অপশন রয়েছে। চালকের প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্যের জন্য ৮.৮ ইঞ্চি ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য ১২.৮ ইঞ্চির প্রশস্ত পর্দা (ডিসপ্লে) রয়েছে। চালকের সামনের ডিসপ্লেতে গাড়ির গতি, ব্যাটারি কতটুকু খরচ হচ্ছে, কতটুকু চার্জ রয়েছে এবং এই চার্জে কত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে, তা দেখা যায়। অ্যাপল কার প্লে বা অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লেটি ব্যবহার করা যাবে। ডিসপ্লের পেছনে পুরো গাড়ির সামনের অংশে একটি উজ্জ্বল কালো রঙের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রথম দেখাতে ডিসপ্লে মনে হতে পারে। মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য গাড়িটির সামনে দ্রুতগতির চার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে।

পাশ থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
পাশ থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
 

গাড়ির আসনগুলো চামড়ায় মোড়ানো হওয়ায় বেশ আরামদায়ক। চালক ও প্রথম সারির যাত্রীর জন্য স্বয়ংক্রিয় আসন ব্যবস্থাপনা রয়েছে। পেছনের সারিতেও যথেষ্ট হেড ও লেগ রুম রয়েছে। সামনের যাত্রীর পাশাপাশি পেছনের যাত্রীর জন্য এসি ভেন্ট ও মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য ফাস্ট চার্জিং অপশনসহ ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে। পেছনের আসনগুলো নির্দিষ্ট। ড্রাইভ ট্রেইন না থাকার কারণে মাঝখানের যাত্রীও স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারবেন।

এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করে পূর্বাচল সড়কে যাওয়ার পর আমরা গাড়িটির গতি পরীক্ষা শুরু করি। যাত্রা শুরুর সময় গাড়িটির চার্জিং লেভেল ছিল ৬৭। সাধারণ গতিতে চালিয়ে পূর্বাচল আসার পর চার্জিং লেভেল কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। ৫ জন যাত্রীসহ গাড়িটিতে সর্বোচ্চ ১৩৪ কিলোমিটার গতিবেগে চালিয়েছি আমরা। গাড়িটির শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে সময় লাগে মাত্র ১২.৭ সেকেন্ড। নরমাল মোড ছাড়াও গাড়িটিতে আরও তিনটি মোড রয়েছে। ইকো, স্পোর্টস ও স্নো। ইকো মোডে গাড়িটিকে চালানো হলে সর্বোচ্চ মাইলেজ পাওয়া যাবে। আমরা স্পোর্টস মোডে দিয়েও গাড়িটির গতি পরীক্ষা করেছি। নিঃশব্দে গতি তোলার এই মেশিন আমাদের হতাশ করেনি। আশপাশের চালকেরা বেশ অবাক দৃষ্টিতেই গাড়িটির দিকে তাকাচ্ছিলেন। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ার কারণে এতে তাৎক্ষণিক টর্ক উৎপন্ন হয়। গাড়িটির সর্বোচ্চ শক্তি ৯৫ কিলোওয়াট, যা জ্বালানিনির্ভর গাড়ির ১২৮ অর্শ্ব শক্তির সমান। গাড়িটি ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। শুনতে কম মনে হলেও বৈদ্যুতিক গাড়িতে টর্ক লস না থাকার কারণে এই শক্তিতেই গাড়িটি দুরন্ত গতিতে ছুটে চলতে পারে।

পেছন থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
পেছন থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
 

বিওয়াইডি সিল ৬ পেছনের চাকার শক্তিতে চলে থাকে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৪ হাজার ৭২০, ১ হাজার ৮৬০ ও ১ হাজার ৪৯৫ মিলিমিটার। ভূমি থেকে উচ্চতা ১ হাজার ৬১০ মিলিমিটার। চাকার পরিধি ২ হাজার ৮২০ মিলিমিটার। ওজন ১ হাজার ৬৭০ কেজি। এতে বিওয়াইডি ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ক্ষমতা ৪৬ দশমিক ০৮ কিলোওয়াট/ঘণ্টা। দুই ধরনের চার্জিং পোর্ট রয়েছে। ফাস্ট চার্জিং সুবিধায় (সিসিএস ২, ৮০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) মাত্র ৩০ মিনিটে গাড়িটি পূর্ণ চার্জ করা যায়, যেখানে সাধারণ চার্জারে (৭ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং অপশন থাকার কারণে গাড়িটি চাকার ঘূর্ণনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে।

৫ আসনের গাড়িটিতে ২২৫/৫৫ আর ১৭ চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে ম্যাকপার্সন স্টার্ট ও পেছনে মাল্টি লিংক সাসপেনশন রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটির চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। ছয়টি এয়ারব্যাগ ও গান শোনার জন্য ছয়টি স্পিকার রয়েছে। মালামাল বহন করার জন্য গাড়ির পেছনে রয়েছে ৪৬০ লিটারের বুট স্পেস। অন্যান্য বিওয়াইডি গাড়ির মতো এই গাড়ির পেছনে দেখার ক্যামেরা বেশ স্বচ্ছ ও চালকের সহায়ক। গাড়িটির পেছনের দিকেও নান্দনিক উপস্থাপনা রয়েছে। পেছনের অংশজুড়ে রয়েছে এলইডি ব্যাকলাইট। তার নিচে বিওয়াইডির লোগো। ডান পাশে গাড়ির মডেলের নাম ও বাঁ পাশে ইভির লোগো। একদম নিচের অংশে দুই পাশে রয়েছে রিফ্লেক্টর। মাঝখানে গাড়ির নম্বর প্লেট।

এবার ফেরার পালা। ৩০০ ফিট রাস্তার প্রশস্ত লেনে আমরা ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলেছি। থ্রটলে আলতো চাপেই গাড়ি দ্রুততার সঙ্গে ছুটে চলেছে। গাড়িটির সাসপেনশন বেশ উন্নত হওয়ায় রাস্তার ছোটখাটো খানাখন্দ কেবিনের ভেতরে টেরই পাওয়া যায়নি। সাউন্ড কোয়ালিটি মুগ্ধ করার মতো। দূরের যাত্রায় বৃষ্টির সঙ্গে হালকা গানের শব্দ রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিবে। সড়কের মধ্যে হঠাৎ নেমে যাওয়া রাস্তায় আমরা গতির সঙ্গে গাড়ির সমন্বয়ের ক্ষমতা পরীক্ষা করলাম। উচ্চগতিতেও গাড়ির ব্যালেন্স ছিল চমৎকার। বিশেষ করে কর্নারিংয়ের সময় এর গ্রিপ আত্মবিশ্বাস জোগায়। আমরা যেহেতু হুটহাট থ্রটল আর ব্রেকের ব্যবহার করছিলাম, সেহেতু গাড়ির চার্জও কমেছে বেশ। ৬৭ শতাংশ থেকে ফেরার পথে গাড়ির চার্জ দেখাচ্ছিল ৩২ শতাংশ। তবে সাধারণভাবে থ্রটল চাপলে আমরা এর দ্বিগুণ মাইলেজ পেতাম।

বিওয়াইডি সিল ৬ সেডান বিভাগে অন্যতম সাশ্রয়ী গাড়ি হলেও একটি সানরুফ থাকলে গাড়িটিকে আরও সুন্দর লাগত। এ ছাড়া এতে নেই কোনো তারবিহীন চার্জ দেওয়ার সুবিধা। গিয়ারের হাতলটি অন্যান্য গাড়ির সংকেত প্রদানের হাতলের জায়গায় থাকার কারণে মনের ভুলে সংকেতবাতি জ্বালাতে গিয়ে গিয়ার হাতলে চাপ পড়ে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, তবে চালকের কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তি লাগতে পারে। লুকিং গ্লাসে রিয়ার ব্লাইন্ড মনিটরিং সিস্টেম ও ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা নেই। এলইডি লাইটে যদিও রাতের সড়ক বেশ স্বচ্ছ দেখা যায়, তবে শীতকালে বা ঘন কুয়াশায় ফগলাইটের অভাব অনুভূত হতে পারে।

গাড়িতে আমাদের যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন বিওয়াইডির পণ্য উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী নাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, শহরে নিত্যনৈমিত্তিক চলাচলের জন্য গাড়িটিতে সপ্তাহে একবার চার্জ দেওয়াই যথেষ্ট। আরামদায়ক যাত্রা ও চলাচলের খরচকে কমিয়ে দিতে সেডান ক্যাটাগরিতে বিওয়াইডি সিল ৬ তুলনাহীন। গাড়িটিতে ৬ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার (যেটা আগে আসে) পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, গাড়িটি চার্জ দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের বাসায় বিনা মূল্যে একটি চার্জার স্থাপন করে দেবে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। এ ছাড়া গাড়িকে যেকোনো স্থানে চার্জ দেওয়ার জন্য আরেকটি চার্জার দেওয়া হবে। গাড়িটির দাম ৫০ লাখ টাকার বেশি হবে না।

এস এম আলাউদ্দিন আল আজাদ

মহাবিশ্বে একটিমাত্র নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ছয় হাজারের বেশি গ্রহ আবিষ্কার করা হলেও দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে মাত্র ১৮টি। তবে এবার দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ২৭টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা। সন্ধান পাওয়া গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে ৬৫০ থেকে ১৮ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানী বেন মন্টেট জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক কিছুই খুব সহজে অনুমেয় নয়। যখন এই গ্রহগুলো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের পৃষ্ঠে ছায়া পড়ে এবং উজ্জ্বলতা কমে যায়, যা দেখে গ্রহের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। কিন্তু এটি কেবল তখনই সম্ভব, যখন পৃথিবী থেকে আমাদের দেখার রেখার সঙ্গে নক্ষত্র ও গ্রহের অবস্থান পুরোপুরি একই সমান্তরালে থাকে। ফলে অনেক গ্রহ নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মার্গো থর্নটন আরও বলেন, দুটি নক্ষত্রের ঘূর্ণন এবং মহাকর্ষীয় টানের মতো অন্য বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৫৯০টি নক্ষত্রব্যবস্থার মধ্যে ৩৬টিতে এমন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের আচরণ কেবল একটি তৃতীয় বস্তুর উপস্থিতির মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই ৩৬টির মধ্যে ২৭টি বস্তুর ভর একটি গ্রহের ভরের সমান হওয়া সম্ভব। তবে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মহাবিশ্বের অর্ধেকের বেশি নক্ষত্র বাইনারি বা একাধিক নক্ষত্রব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদ্যমান। সম্ভাব্য গ্রহগুলো নেপচুনের সমান বা বৃহস্পতির চেয়ে দশ গুণ পর্যন্ত ভারী হতে পারে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে গ্রহগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার অপারাধীরা প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান গার্ডিও। নতুন এই কৌশলকে ‘অ্যাকাউন্টডাম্পলিং’ নামে অভিহিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং হ্যাক করা অ্যাকাউন্টগুলো অবৈধভাবে অনলাইনে বিক্রি করছে।

গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়, এটি একটি ধারাবাহিক ও ক্রমবিবর্তিত অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত কৌশল এবং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে তা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যুক্ত থাকে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক বেশি। এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই–মেইলের মাধ্যমে। মূলত ফেসবুকের বিজনেস অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই–মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে এবং দ্রুত আবেদন না করলে অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই–মেইল পাঠানোর কারণে সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে তাদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যেখানে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গার্ডিও এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয়। সেখানে নকল ক্যাপচা যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীদের ফিশিং পেজে পাঠিয়ে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পিডিএফগুলো ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি করা। এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও হাতিয়ে নেওয়া হয়।। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে পরে তাঁদের হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডের নতুন হালনাগাদ উন্মুক্ত করেছে গুগল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের বারবার ট্যাব পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল জানিয়েছে, ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে যুক্ত নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে। নতুন হালনাগাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে ‘স্প্লিট-স্ক্রিন’ সুবিধা। সুবিধাটি চালুর ফলে এআই মোডে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সেটি আলাদা ট্যাবে না খুলে একই পর্দায় এআই উইন্ডোর পাশেই দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের আগের পাতায় ফিরে যেতে বা বারবার ট্যাব পরিবর্তন করতে হবে না।

নতুন হালনাগাদে ‘মাল্টি-মোডাল’ অনুসন্ধান সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের খোলা ট্যাব, ছবি বা পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে একসঙ্গে অনুসন্ধান করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সার্চ বক্সে থাকা নতুন ‘প্লাস’মেনুতে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা সাম্প্রতিক ট্যাব, ছবি বা ফাইল নির্বাচন করে সেগুলোকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে তথ্য একত্রিত করে জটিল অনুসন্ধান সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

গুগলের দাবি, ক্রোম ব্রাউজারের নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও সাবলীল করে তুলবে। এতে ব্যবহারকারীরা একই কাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলনা করতে পারবেন, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করার পাশাপাশি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফেরার সময় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষয় দেখা দিয়েছিল। এবার আর্টেমিস–২ অভিযানের সময়ও সেই উদ্বেগ ছিল। তবে সব উদ্বেগ পেছনে ফেলে আর্টেমিস–২ অভিযানের নভোচারীরা আজ শনিবার সকালে নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় অল্প সময়ের জন্য হিউস্টনে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ সময় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ামাত্রই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তি ফিরে আসে। মহাকাশযান থেকে পাওয়া তাঁর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করে, নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীর পথে ফিরছেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষকে ওয়াইজম্যান বলেন, ‘হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে। আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।’

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তিন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী। তাঁরা হলেন—ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার, জেরেমি হ্যানসেন ও রিড ওয়াইজম্যান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল—ভবিষ্যতে একটি বেজ স্থাপনসহ চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

এটি ছিল গত পাঁচ দশকের বেশি সময় পর প্রথম চাঁদের চারপাশে মানুষের ঘুরে আসার অভিযান।

মহাকাশযানের গতি ও তাপ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলছিল। এর তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ অবস্থায় এটির গতি ছিল শব্দের গতির ৩০ গুণের বেশি এবং তাপমাত্রা সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক।

ওরিয়ন ক্যাপসুলটি যখন প্রচণ্ড তাপের কারণে উত্তপ্ত লাল প্লাজমায় ঢেকে গেল, তখন হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। প্রায় ছয় মিনিট ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়টাতে সবকিছু নির্ভর করছিল জীবনরক্ষাকারী হিট শিল্ড বা তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।

একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগব্যবস্থায় রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সফল পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষে করতালির শব্দ শোনা যায়। সেখানে নভোচারীদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

[caption id="attachment_271481" align="alignnone" width="850"] নভোচারীদের নিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করছেছবি: নাসা[/caption]

২০২২ সালে আর্টেমিস–১ অভিযানের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে নভোযানের তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবারের অভিযানে ঝুঁকি কমাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৈচিত্র্যময় এক নভোচারী দল

আর্টেমিস–২ অভিযানে বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার রেকর্ড গড়েন। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে নাসার অ্যাপোলো অভিযানগুলোতে কেবল শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুরুষদের নিয়েই নভোচারী দল গঠন করা হয়েছিল।

আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ অভিযানের চেয়েও দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছেন তাঁরা।

এনডিটিভি