যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আঞ্চলিক একটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, লেবাননে নির্বিচার ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করা প্রসঙ্গে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা ও যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের মতে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রতিবাদে ইরানের আলোচক দল ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এবং তথ্য আদান–প্রদান বিনিময়’ স্থগিত করছে।

দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা দর–কষাকষি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কোনো তোয়াক্কা করবেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর একজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা পরস্পরের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবেন।

তাসনিম নিউজ জানায়, ইরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, এসব বিষয়ে ইরান ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবস্থানে সন্তুষ্টি না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এবং এ অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো এখন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া ও অন্যান্য ফ্রন্টকে সক্রিয় করার বিষয়টি এজেন্ডায় রেখেছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল এক্সে লিখেছেন, ‘একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। যেকোনো লঙ্ঘনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী।’

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখে ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা না থামিয়ে স্পষ্টভাবেই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। প্রতিটি পছন্দেরই একটা মূল্য আছে; আর সেই মূল্যটা একসময় চুকানোই লাগে।

এদিকে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এগুলো (ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা) শেষ হয়ে গেলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি মোটেও পরোয়া করি না।’

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে। বৈরুতে কোনো সেনা পাঠানো হবে না এবং যে সেনারা রওনা হয়েছিলেন, তাঁদের ইতিমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তাঁর ‘খুব ভালো কথা’ হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল পরস্পরের ওপর হামলা চালাবে না।

অবশ্য এ বিষয়ে ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

গতকাল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।

অন্যদিকে কুয়েত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, ইরানের সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য কুয়েতের যে ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা সেটি লক্ষ্য করেই এ প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে কুয়েতের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

তবে ইরান এ হামলাকে বৈধ আত্মরক্ষা বলে দাবি করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, যেসব আঞ্চলিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলোতে পাল্টা আঘাত করার আইনি অধিকার তেহরানের রয়েছে। কোনো দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিন্দার সমালোচনা করে একে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেন ইসমাইল বাঘাই।

লেবাননে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন রোডম্যাপ বা পথনকশা নিয়ে কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত ৪৮ ঘণ্টায় পৃথক বৈঠক করেছেন।

নতুন পথনকশা অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে আর কোনো হামলা চালাবে না।

তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হবে না।

সিএনএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, ইরানের হামলার পরিধি যতটা ব্যাপক বলে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিশানা করে ইরান। এতে এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ ও রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এসব ব্যাটারি একটি ‘অত্যন্ত জটিল’ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত বা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।মার্ক মেলেট, সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল, আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী

আর মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের হিসাবে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে তাঁর সামরিক বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ঘাঁটির জন্য এখন আর ‘নিরাপদ কোনো স্থান’ নয়।

অথচ হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে, ইরানের সামরিক বাহিনীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন স্থাপনাগুলোতে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, তা থেকে বোঝা যায়, তেহরানের পাল্টা হামলা মার্কিন কর্মকর্তাদের আগের স্বীকারোক্তির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল।

এ বিষয়ে বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানের পক্ষ থেকে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ‘নিরাপত্তার কারণে’ তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত-সংক্রান্ত স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সীমিত করার চেষ্টা করেছে। এ লক্ষ্যে প্রধান স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে তারা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানায়।

এ পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্ল্যানেট বলেছে, তারা চায় না তাদের স্যাটেলাইট ছবি ‘বৈরী পক্ষের’ হাতে পড়ে মিত্রদেশ ও ন্যাটো-অংশীদার বাহিনী কিংবা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে ব্যবহৃত হোক।

বিবিসি ভেরিফাই ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর রাখতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের স্যাটেলাইট চিত্রের পাশাপাশি প্ল্যানেটের পুরোনো ছবি ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক স্থাপনা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের হিসাবে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিবিসি ভেরিফাই যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, কোনো কোনো বিশ্লেষক এ সংখ্যা ২৮ পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মূল্যবান লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র আটটি ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ব্যাটারি রয়েছে বলে জানা যায়, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা আছে। এ ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) খরচ হয়। প্রতিটি ব্যাটারি পরিচালনায় প্রায় ১০০ সেনার একটি দল প্রয়োজন হয়। আর এটি থেকে উৎক্ষেপণ করা প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ (প্রায় ১২ দশমিক ৭ মিলিয়ন) ডলার।

সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই–৩এস উড়োজাহাজ
সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই–৩এস উড়োজাহাজ, ছবি: রয়টার্স
 

আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, এসব ব্যাটারি একটি ‘অত্যন্ত জটিল’ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত বা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহকারী ও নজরদারি বিমানে ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিমানবন্দর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও গর্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

ইরান যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে সংঘাতের শুরুর দিকে (যুক্তরাষ্ট্রের) যে পরিমাণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল, এবার তার সামান্য অংশ দিয়ে তা মোকাবিলা করতে হবে।কেলি গ্রিকো, স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভূস্থানিক ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মায়ারের (এমএআইএআর) একজন বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিমানকে ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রতিস্থাপন করতে ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

অন্য জায়গার মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজানেও হামলা চালিয়েছে ইরান। সংঘাতের সময়ে একাধিকবার আক্রান্ত হওয়া আলী আল সালেম ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্রে জ্বালানি মজুত রাখার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংকার, বিমানের হ্যাঙ্গার ও সেনাদের থাকার জায়গা শনাক্ত করেছেন মায়ারের বিশ্লেষকেরা।

পাশাপাশি ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি জেনস ক্যাম্প আরিফজানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আজ সোমবার ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তির ফলে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ৪১–এ।

আজ কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিকেলের দিকে নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন নতুন নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ, অর্জুন সিং, তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া দুধকুমার মণ্ডল, দীপক বর্মণ, মনোজ ওঁরাও এবং গৌরীশঙ্কর ঘোষও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং মালতী রাভা রায়।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জোয়েল মুর্মু, অশোক দিন্দা, আনন্দময় বর্মণ, কৌশিক চৌধুরী, গার্গী দাস ঘোষ, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামী ও সুমনা সরকার। এ ছাড়া বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং উমেশ রাইও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী।

অধিকারীর পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও অগ্নিমিত্রা পালও সেদিন শপথ নিয়েছিলেন।

সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার ফলে আগে বরাদ্দ দেওয়া দপ্তর কিছুটা রদবদল হতে পারে।

গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পর এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হলো।

সম্প্রতি শেষ হওয়া নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং পূর্ব ভারতে এটিই বিজেপির সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য।

ইরান তাদের ভূগর্ভে চাপা পড়া অস্ত্রভান্ডারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করেছে। এখন দেশটি ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই তৎপরতা মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে আগ্রাসন চালায়। তারা রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দেয় এবং সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশ করতে পারছিল না।

তবে সিএনএন কিছু স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখা যায়, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই ইরান ওই ব্যয়বহুল হামলার জবাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শুধু সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি আবার চালুর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন (পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ) স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারবে। এর জন্য তাদের কেবল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক (লঞ্চার) এবং কর্মী দরকার।

স্যাম লেয়ার আরও বলেন, ইরানের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। এই লঞ্চারগুলোকে অস্ত্রে সজ্জিত করতে বাধা দেওয়ার মতো কিছু নেই।

লড়াই চলার সময় ইরান চরম ঝুঁকি নিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খননের কাজ করেছে। খননকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হামলা চালিয়েছিল। ওই খননকাজের কারণেই তেহরান যুদ্ধাবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। তবে তখন হামলার মাত্রা বেশ কম ছিল। সাত সপ্তাহের বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকেই ঘাঁটিগুলো খননের কাজে ইরানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সিএনএন দেখতে পেয়েছে, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে ৫০টির বাধা ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলেছে ইরান। ঘাঁটির অন্যান্য অংশও মেরামত করেছে তারা। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের চলাচল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব রাস্তায় বোমা ফেলেছিল, সেগুলোও মেরামত করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, বোমার আঘাতে সৃষ্ট প্রায় সব গর্ত ভরাট করা হয়েছে। দুটি স্থানে নতুন করে রাস্তাও পাকা করা হয়েছে।

স্যাম লেয়ার বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগত সাফল্য অর্জনে বেশ দক্ষ। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে আটকে রাখা ও দমন করা তারই একটি চমৎকার উদাহরণ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর সঙ্গে যদি যুদ্ধে যুক্তিসংগত কৌশলগত লক্ষ্য এবং বিজয়ের বাস্তবসম্মত তত্ত্ব না থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত তা কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনের এসব তথ্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রেসিডেন্টের পছন্দমতো যেকোনো স্থান ও সময়ে অভিযান চালানোর মতো সবকিছুই তাদের রয়েছে।’

যুদ্ধের লক্ষ্য

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের একটি প্রধান কারণ হিসেবে বরাবরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের কথা উল্লেখ করেছেন। এই ভান্ডার ধ্বংস করা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। গত মার্চে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর এক পোস্টে ট্রাম্প যুদ্ধের পাঁচটি ‘উদ্দেশ্য’ নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া’।

ইরান ২০ বছরের বেশি সময় আগে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির নেটওয়ার্ক নির্মাণ শুরু করে। এটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ মঞ্চগুলোকে বেশ ভালো সুরক্ষা দেয়। কিছু স্থাপনা কয়েক শ মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত। এর ফলে এসব ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার সুযোগ বেশ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এ কারণে সংঘাতের প্রথম দিকের সপ্তাহগুলোতে দুই বাহিনী সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলোতে হামলার কৌশল নেয়। একই সঙ্গে তারা উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করার চেষ্টাও চালায়। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

এসব হামলায় ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেশির ভাগ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ঘাঁটিতে যাওয়ার রাস্তাগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। সিএনএন সেই সময়ের স্যাটেলাইট ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, অন্যতম প্রধান ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইসফাহান নর্থ মিসাইল বেসের মতো স্থাপনাগুলো একাধিক হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় এবং বাইরে থাকা উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলোও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) ধ্বংস করারও বিস্তৃত উদ্যোগ নিয়েছিল। ছোট ছোট ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে রকেটের জ্বালানি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো তৈরির স্থানগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছিল।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান এখন কেবল তাদের বেঁচে যাওয়া উৎক্ষেপণ যন্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুঁড়ে বের করছে। এসবের অভাব পূরণের কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। তোমাদের (ইরান) কোনো প্রতিরক্ষা শিল্প আর অবশিষ্ট নেই।’

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনো প্রায় ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। মাটির অনেক গভীরে থাকায় ভূপৃষ্ঠের এসব হামলায় এই ভান্ডারের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বিশেষ করে গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একইভাবে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৈমুর কাদেশেভ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধের জন্য তারা ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

মেরামতের জোর প্রচেষ্টা

ঘাঁটিগুলো আবার চালু করতে ইরান বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ ও মাটি কাটার সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফ্রন্ট-এন্ড লোডার (এমন একটি ভারী গাড়ি বা ট্রাক্টর, যার সামনের অংশে একটি বড় বালতি বা কোদাল আকৃতির পাত্র যুক্ত থাকে) দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর ডাম্প ট্রাকগুলো মাটি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করছে।

যুদ্ধের সময় ইসফাহানের বাইরের একটি ঘাঁটিতে চারটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বহুবার হামলা চালায়। ওই ঘাঁটির দুটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে অন্তত ১৮টি বোমার গর্ত দেখা যায়। সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করতে ঠিক কী পরিমাণ গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি তারই প্রমাণ।

মে মাসের শুরুর দিকের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গর্তগুলো ভরাট করতে একটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। গর্ত ও ধ্বংসস্তূপের কারণে অবরুদ্ধ বাকি দুটি প্রবেশপথ আগেই খুলে ফেলা হয়েছে। এমনকি বোমার আঘাতে ধ্বংস হওয়া রাস্তাগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

মধ্য এপ্রিলে খোমেনের বাইরের একটি ঘাঁটির ছবিতে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অন্তত ১০টি গাড়ি একটি প্রবেশপথ খোলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুনরুদ্ধার করে ঘাঁটিগুলো সচল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্ত্রভান্ডারের ধারাবাহিক হুমকিকে খাটো করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সরবরাহ কমে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যত দিন চায়, তত দিন তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে নাও হতে পারে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে চালানো হামলা খুব একটা কাজে আসছে না। ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও ঠিক এই কারখানাগুলোর কয়েকটিতে হামলা চালানো হয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো অনেক বেশি ব্যাপক হলেও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, গত বছরের জুনে নিশানা করা কিছু স্থাপনা ইরান ইতিমধ্যে পুনর্নির্মাণ করে ফেলেছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে তাদের মূল সামরিক সক্ষমতা আবার গড়ে তুলছে। তারা ড্রোন উৎপাদন আবার শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং উৎপাদন সক্ষমতাও প্রায় পুনরুদ্ধার করে ফেলেছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘পুনর্গঠনের জন্য যে সময়সীমা ধারণা করা হয়েছিল, ইরান তা পার করে অনেক আগেই সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।’

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৈমুর কাদেশেভের মতে, প্রযুক্তির এই পার্থক্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প ব্যবহারের কঠিন বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষতিসাধনের জন্য আপনাকে অত্যন্ত অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। অথচ সেগুলো মেরামতের পদ্ধতি অত্যন্ত সাধারণ—কেবল বুলডোজার।’

সিএনএন

মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে এমন তথ্য দিয়েছে।

চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউং তাত গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তবে অন্য কিছু প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা সামান্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) বলেছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টিএনএলএর বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৩০) নাগাদ এই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন; পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।

এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো বিমান হামলা। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’

ওই বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর নিজের বাড়িটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওই বাসিন্দা লিখেছেন, ‘মানুষ কান্নাকাটি করছিল, নিজেদের মা–বাবাকে খুঁজে ফিরছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’

কীভাবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণের এমন একটি স্থাপনা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিবার শান্তি পাবে না।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রমের অর্থ জোগাতে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সেখানে খনিধস অনেকটা নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।

বিবিসি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, রোববার (৩১ মে) দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

তবে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। এমন খবরকে 'মিডিয়া গেইম' আখ্যাও দিয়েছে। জানিয়েছে— ইরান ঐক্য ও সংহতির পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না।

মূলত, কয়েক মাস ধরেই ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদের দাবি করে আসছে মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। দাবির পক্ষে বিভিন্ন খবরও প্রচার করছে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম।

এর আগে, ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল— ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের বহু ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে এবং কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

এর ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনে।

এবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে একই গণমাধ্যম দাবি করছে, অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়ে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতাবা খামেনির কাছে চিঠি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

প্রতিবেদন বলছে, চিঠিতে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন— দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট শূন্যতার সুযোগে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে আইআরজিসি'র কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং নিজের আইনগত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

পদত্যাগপত্রের বিষয়টি সত্যি হলে তা ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে গভীর ও নজিরবিহীন বিভেদের ইঙ্গিত।

এদিকে, এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি বলেন, কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের 'মিডিয়া গেইম-এর ধারাবাহিকতা এমন খবর। দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি নিয়ে চলমান জল্পনাকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বলেন, ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের নিজেদের ইচ্ছা নিয়ে কবরে যেতে হবে।

পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াবেন না— এমন মন্তব্যও করেন মেহদি।

 

আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।  আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক দেবেন।

জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন- মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্ত মণ্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ ছাড়া গত বছর নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারায় পরিচালিত মিশনগুলোতে ২৭৭ জন নারীসহ ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কর্মরত আছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। মোট ১১৮টি দেশ ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে দেশটির রাডারসহ ড্রোন–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এই তথ্য জানায়। সেন্টকম বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ–১ ড্রোনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ ছিল।

এর আগে গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ–১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়।

আল–জাজিরা

গত মাসে গ্যাসের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক সঞ্চয় চার বছরের মধ্যে এপ্রিলেই হয়েছে সবচেয়ে কম।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার প্রভাবে এপ্রিল মাসে ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যসূচক (পিসিই) বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, মার্চে যা ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে এপ্রিলে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, মার্চে যা ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ মার্চের তুলনায় কিছুটা ধীর।

অর্থনীতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, এপ্রিলে তা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশ, সেখানে এই গতি তুলনামূলকভাবে কম। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। কর ফেরতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া অনেক পরিবার জ্বালানি দামের ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হবে।

নেশনওয়াইড মিউচুয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যাথি বোস্টজ্যানসিক বলেন, পরিবারগুলো এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করছে। এক মাসে ভোক্তাদের আয় ছিল প্রায় স্থির। কর-পরবর্তী আয় কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করার পর প্রকৃত আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

এই অবস্থায় মানুষ সঞ্চয় ভাঙিয়ে খরচ চালাচ্ছে। এপ্রিলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার নেমে এসেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে, ২০২২ সালের জুনের পর যা সর্বনিম্ন। চলতি বছরের শুরুতে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং লিখেছেন, আমেরিকানরা এখন আর্থিকভাবে চাপে আছে। মূল্যস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয় গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অনেকেই এখন আয় থেকে বেশি ব্যয় করছেন—বিষয়টি টেকসই নয়, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য।

মূল্যস্ফীতির আবারও উল্টো পথে

ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে মাসিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। ব্যয় বৃদ্ধিও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। গত মাসে ব্যয়ের বড় অংশই গেছে গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে—জ্বালানি, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও খাদ্য মিলিয়ে মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক এসেছে এসব খাত থেকে। তবে মানুষ এখনো ঐচ্ছিক খাতে ব্যয় কমায়নি; বিনোদন ও রেস্তোরাঁয় খরচ বরং বেড়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, ফলে তেল, গ্যাস, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এই যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, খাদ্যের দাম (বিশেষ করে তাজা পণ্যের) বাড়তে শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এলিজাবেথ রেন্টার বলেন, তেলের দামের ধাক্কা ও তার পরোক্ষ প্রভাব এবং শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কিন্তু আয় সেই হারে বাড়ছে না, ফলে ভোক্তারা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ছেন।

অর্থনীতিবিদেরা সাধারণত খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির খাত বাদ দিয়ে মূল্যসূচক পরিমাপ করে থাকেন। এতে মৌলিক মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বোঝা যায়। এই কোর পিসিই সূচক এপ্রিল মাসে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে; এটি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও বার্ষিক হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে।

ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন জুনো মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে এই চাপ বাড়ছে। নেশনওয়াইডের বোস্টজ্যানসিক বলেন, টেকসই পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে, এটি জ্বালানি ও খাদ্য ব্যতীত মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি, যেখানে সাধারণত এই খাতে দাম কমে থাকে।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, এর পেছনে আছে একদিকে শুল্কনীতি, অন্যদিকে চীনের পরিস্থিতিও দায়ী। তিনি বলেন, চীন এখন আর আগের মতো ডিফ্লেশন বা মূল্যহ্রাসের পর্যায়ে নেই; পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। রপ্তানিকারক হিসেবে তারা এত বড় যে মার্কিন শুল্কের কারণে বাণিজ্য কিছুটা কমলেও তাদের রপ্তানি বাণিজ্যের বদৌলতে মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।

ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অধীন সুদের হার কমবে, আপাতত তেমন সম্ভাবনা কম।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দীর্ঘ সময় ধরে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ করবে। বাণিজ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে সহায়তা কর্মসূচি কমে যাওয়ায় এক মাসে আয় কিছুটা কমেছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতিতে গড় মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি দ্রুত হারে বাড়ছে।

একই দিনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। সংশোধিত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, আগের পূর্বাভাস ছিল ২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি কিছুটা গতি পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।

সিএনএন

তেহরান