হোয়াটসঅ্যাপে জন্মদিন বা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের বার্তা পাঠান অনেকেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো বার্তা পাঠানো আর হয়ে ওঠে না। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে আগে থেকে লেখা বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

শিডিউলড মেসেজেস সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা আগে থেকে বার্তা লিখে নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বার্তা সঠিক সময়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো যাবে। প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত যেকোনো সময় বার্তা সম্পাদনা বা মুছেও ফেলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাট উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এ বেটা ইনফো জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৭.১০.৭২ সংস্করণের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপের বেটা আপডেটে শিডিউলিং টুল দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নির্বাচিত আইফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা পরীক্ষামূলকভাবে সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে শিডিউল কলস সুবিধার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কল করার আগাম তারিখ, সময় ও বিষয় জানিয়ে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করলেই শিডিউল কলসের বার্তা দেখতে পান। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে কথা বলতে পারেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তৈরি ‘এক্স৯ডি’ মডেলের স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করে স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হলো—

নকশা

হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মনে হলো, ফোনটি বেশ টেকসই। ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেল থাকায় খুব বেশি হাতের ছাপ পড়ে না ফোনটিতে। আইপি৬৮ ও আইপি৬৯কে রেটিং থাকায় ধুলাবালি, পানি এমনকি উচ্চচাপের পানির স্প্রে থেকেও নিরাপদ থাকে ফোনটি। শুধু তা–ই নয়, ফোনটিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড-মাউন্টেড বেশ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

পর্দা

৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দার ফোনটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ফলে স্ক্রল ও অ্যানিমেশন স্বচ্ছন্দে করা যায়। বেজেল এতটাই কম যে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ফোনটিকে একটি ফ্ল্যাগশিপ লুক দিয়েছে। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় সরাসরি রোদেও ভিডিও কনটেন্ট দেখতে অসুবিধা হয় না ফোনটিতে।

সক্ষমতা

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএসে চলা ফোনটিতে ৪ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৪ মডেলের প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে গেম খেলা যায়। তবে দীর্ঘ সময় আকারে বড় গেম খেলার ক্ষেত্রে সামান্য ফ্রেম ড্রপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে ফোনটিতে। অর্থাৎ ফোনটি সাধারণ ও মাঝারি পর্যায়ের গেম খেলার জন্য উপযোগী হলেও হার্ডকোর গেমের জন্য তেমন উপযুক্ত নয়।

ক্যামেরা

ফোনটির পেছনে থাকা ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে স্বাভাবিক রঙে ভালো মানের ছবি তোলা যায়। রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে উন্নত ‘নাইট মোড’, যা ছবির নয়েজ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ায়। সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ভালো মানের ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক মিড-রেঞ্জ ফোনে টেলিফটো লেন্স থাকলেও অনার এক্স৯ডি মডেলে লেন্সটি যুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং স্থিতিশীল হলেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মতো নয়।

ব্যাটারি

১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফলে একবার পুরো চার্জ করলে ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, ৬৬ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় দ্রুত চার্জও করা যায় ফোনটি।

পড়লেও ভাঙ্গে না

অনারের তথ্য মতে, ‘হাইয়েস্ট স্মার্টফোন ড্রপ’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো ফোনটি ৬.১৩৩ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। বিষয়টি পরখ করার জন্য ১৬ ফুট উচ্চতা থেকে ফোনটি ফেলে দেখা গেছে, পর্দায় ফাটল বা দাগ পড়েনি।

কানেকটিভিটি ও অডিও

ফোনটির ৫জি কানেকটিভিটি বেশ উন্নত। ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগেও তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। স্পিকার আউটপুট ভালো, তবে বেজ ততটা শক্তিশালী নয়। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

সোহানুর রহমান

প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শনিবার টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

টিআইবি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস। একই সঙ্গে শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। মতামত নিতে খসড়াটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে হবে। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পূর্বের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল; যা হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ নামে আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না; কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।’

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লিখিত খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা করেন, নতুন সংসদ গঠনের পর একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে, যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলো।’ পাশাপাশি বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরান ও লেবাননে হামলা চালাতে থাকে তেহরান ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর এবং শক্তিশালী’ জবাব দেবে।

সূত্র: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় তিনি এই বৈঠক ডাকবেন বলে একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক বেনামী সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বৈঠকটি হবে সীমিত পরিসরে। এতে অল্পসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অংশ নেবেন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

ইরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ইসরায়েলের নেভাতিম ও তেল নোফ বিমানঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, কিছু আগেই এসব হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসি বলছে, ইরানের তিনটি অঞ্চলে রাডার স্থাপনায় ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

তেহরান

টানা দুই দশকের সরকারি বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক এখন ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন নতুন করে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক।

এই তুরস্ক একসময় অস্ত্রের জন্য নির্ভরশীল ছিল বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর। এখন তারা উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৪০টি এবং ইউরোপেরও কিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ক্রেতাদের দৃষ্টিতে, তুরস্কের অস্ত্র তুলনামূলক সস্তা, দ্রুত হাতে পাওয়া যায় এবং সহজেই ব্যবহার করা যায়।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর অনেক মিত্রদেশ তুরস্ককে এখন কেবল এই সামরিক জোটের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না; বরং দেশটিকে সামরিকশিল্পের সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।

আগামী মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য নেতারা অংশ নেবেন। আঙ্কারা আশা করছে, এর ফলে পশ্চিমা বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের অস্ত্র বিক্রি ও যৌথ উৎপাদন প্রসারিত হবে।

এ ক্ষেত্রে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বাধা।

বাণিজ্য পরিসংখ্যান নিয়ে রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে তুরস্কের সমরাস্ত্র রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়ে গত বছর এক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনও রয়েছে। এই সময়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প কতটা পরিপক্ব হয়েছে। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাইকার ও টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরকা ডিফেন্স ও কাইলের মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সাফল্যের অংশীদার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ সরবরাহব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র তৈরির কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা ও বিপণন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার মতো জটিলতা রয়েছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ৮ মে ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের হুমকি ও সুযোগ

তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এই খাত থেকে আসা আয়ের মাধ্যমে তারা দেশের ঋণ শোধ করতে ও আরও উন্নয়নমূলক কাজের তহবিল জোগাড় করতে চায়।

উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরান—এই দুই বড় সংঘাতের মাঝে দেশটির অবস্থান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ইঞ্জিনের অভাবের কারণে তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে তারা এই ঘাটতি মেটাতে পারে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চান কাসাপোলু বলেন, আধুনিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন রপ্তানি করে তুরস্কের প্রতিরক্ষাশিল্প ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।

কাসাপোলু আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিল্পের সক্ষমতা ও স্থায়িত্বেরও প্রয়োজন আছে। আর এই জায়গায় তুরস্ক বেশ আস্থা অর্জন করেছে।

ইস্তাম্বুলের ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে তুর্কি প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি ড্রোন ‘কে২ কামিকাজে’। ৮ মে ২০২৬
ইস্তাম্বুলের ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে তুর্কি প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি ড্রোন ‘কে২ কামিকাজে’। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

নজরে ন্যাটো সম্মেলন

বিশ্বে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের ৬৫ শতাংশই সরবরাহ করে তুরস্ক। পাশাপাশি তারা গোলাবারুদ রপ্তানিতেও অন্যতম শীর্ষ দেশ।

এ ছাড়া তারা যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান তৈরি করছে বা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া গত বছর জানিয়েছে, তারা তুরস্ক থেকে ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যেগুলো তৈরির কাজ এখনো চলছে।

তবে তুরস্কের এই বড় লক্ষ্যের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ও সুনামের ঝুঁকিও রয়েছে।

গত মাসে ইস্তাম্বুলের এক প্রদর্শনীতে তুরস্ক নিজেদের তৈরি একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল দেখিয়েছে। এর প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর আমেরিকার দিকে ছোড়া হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।

তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতই হবে আলোচনার প্রধান বিষয়।

ন্যাটোপ্রধান মার্ক রাটে বলেছেন, এই সম্মেলনে প্রতিরক্ষাশিল্প নিয়ে যে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা হবে ন্যাটোর ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে সমন্বিত আয়োজন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির আসেলসান কোম্পানির তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ৮ মে ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির আসেলসান কোম্পানির তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় বাধা

ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জার্মানি থেকে হাজার হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপে তুরস্কের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তুরস্কের।

গত এপ্রিলে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি একটি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার। তিনি বলেন, ইউরোপের যেসব নিরাপত্তা চুক্তিতে তুরস্কের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের ন্যাটো সদস্যদের রাখা হয়নি, সেসব চুক্তি বাতিল করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও সক্ষমতার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সেনা কমালে যতটা ক্ষতি, এই নীতি তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ)’ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে একপ্রকার বাদই দেওয়া হয়েছে। যদিও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু দেশের সরকার তুরস্ককে এড়িয়ে চলছে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের ওপর আইনি দমন–পীড়নসহ গণতন্ত্রের অবনতি নিয়ে দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

এত কিছুর পরও পোল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি করেছে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ইতালির ‘পিয়াজ্জো অ্যারোস্পেস’ অধিগ্রহণ করেছে তুরস্কের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার। এ ছাড়া ড্রোন উৎপাদনের জন্য ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গেও তারা অংশীদারত্ব গড়েছে।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে তুরস্কের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’-এর মডেলের পাশে দাঁড়িয়ে এক দর্শনার্থী। ৮ মে ২০২৬
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে তুরস্কের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’-এর মডেলের পাশে দাঁড়িয়ে এক দর্শনার্থী। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয়ের হিড়িক

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার। এই সময়ে শুধু ইউরোপেই সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।

একই সময়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে নিজেদের অর্থায়নে চলা প্রকল্পের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা। দেশটিতে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪০০টির বেশি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আরদা মেভলুতোলু মনে করেন, রাজনৈতিক বাধাগুলো সামলানো গেলে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। সে ধরনের গভীর সহযোগিতার পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে।

মেভলুতোলু বলেন, ইউরোপের এখন এমন সমাধান দরকার, যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এই সহযোগিতাকে একটি স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে নিতে হলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাঁর মতে, তুরস্ক এখন ইউরোপ এবং ন্যাটো—উভয়ের সঙ্গেই নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন ও জোরদারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্স

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ রোববার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর–পশ্চিমে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪৩২ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়া, শেরপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।

এই ভূম্পিকম্পের প্রভাবে ভারত, নেপাল ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।

২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।

দেশটির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত কিম ইয়ো জংয়ের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাঁর মন্তব্যটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগমুহূর্তে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সি চিন পিং আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এ সফর মঙ্গলবার শেষ হবে।

চীন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বছর এটিই হবে সি চিন পিংয়ের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। গত মাসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টানা বৈঠক করেছেন।

এএফপি

সৌরভ কুশওয়াহা, বয়স মোটে ১৭ বছর। এক কাপড়েই বড় ভাইয়ের সঙ্গে ট্রেনে চেপেছিলেন এই কিশোর। ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে, গন্তব্য রাজধানী দিল্লি।

গতকাল শনিবার ভোরে দুই ভাই নয়াদিল্লি পৌঁছান। এরপর ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিতে থাকেন। আর থাকেন অপেক্ষায়, কখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষায় নানা অসংগতি এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেই ক্ষোভ অপ্রত্যাশিতভাবে রূপ নিয়েছে একটি অপ্রথাগত রাজনৈতিক দলে। সেটি হলো—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। মূলত ঠাট্টা-বিদ্রূপ আর ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে এ দলটির জন্ম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে তরুণদের এই ক্ষোভকেই আন্দোলনের শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করে। দলটি রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি দেশের একদল বেকার তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যা অনেকের কাছেই অপমানজনক ঠেকেছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি লেখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’

তাঁর এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ইন্টারনেটে আলোড়ন তোলে। সেখান থেকেই জন্ম ককরোচ জনতা পার্টির। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে এই নামকরণ।

দীপকের ব্যঙ্গাত্মক এ উদ্যোগটি দ্রুতই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ২০১৪ সাল থেকে ভারতে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির অনুসারীর প্রায় দ্বিগুণ।

কিন্তু মজা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন নিছক মজায় নেই। দীপকে এবং গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে জড়ো হওয়া শত শত মানুষ আন্দোলনে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

আমি প্রথমে মজা করেই তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই হয়তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারব।
সৌরভ কুশওয়াহা, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা এক কিশোর

বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে দীপকে বলেন, ‘মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে যাব না।’

শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহাও এই আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠেছেন। মধ্যপ্রদেশের এ শিক্ষার্থী সম্প্রতি ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরপত্রে ডিজিটাল মূল্যায়নসহ বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

কুশওয়াহা এখনো নিশ্চিত নন যে তিনি উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন কি না। কিন্তু তাঁর আরও বড় ক্ষোভ সেই সরকারের প্রতি, ‘যারা ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটে, অথচ এখন সেই জনগণের সমস্যার প্রতিই উদাসীন।’

স্কুল বোর্ডের এই বিতর্কের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে স্নাতক পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিবছরই ঘটে, কিন্তু এর জন্য রাজনৈতিকভাবে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) লোগো
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) লোগোছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে তরুণদের এই ক্ষোভকেই আন্দোলনের শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করেন।

দলটি রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কুশওয়াহা বলেন, ‘আমি প্রথমে মজা করেই তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই হয়তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারব।’

যদি সেটি ঘটে, তাহলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে ঘটা এ ধরনের প্রথম ঘটনা।

ভারতের জেন–জি প্রজন্মের বেশির ভাগই বড় হয়েছে শুধু মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসন দেখে। সমালোচকদের দাবি, ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকার ক্রমাগত ভিন্নমত দমন করেছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের অবস্থানেরও অবনতি হয়েছে।

আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই অপরাধী মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।
মোহাম্মদ আফতাব, দিল্লির বাসিন্দা এক যুবক

অভিজিৎ দীপকের আগমন

যুক্তরাষ্ট্রের শীতল আবহাওয়ার পরিবেশ থেকে সবে দেশে ফেরা অভিজিতের গায়ে ছিল কালো জিপ-আপ হুডি, মাথায় ক্যাপ।

চারপাশে অসংখ্য ক্যামেরা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। ভিড় ঠেলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দীপকে জনতার দিকে ইশারা করতেই চারদিক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। নয়াদিল্লির প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘামে ভিজে একপর্যায়ে তিনি হুডিটিও খুলে ফেলেন।

প্রথম বক্তব্যেই দীপকে আগের রাতের উদ্বেগপূর্ণ বিমানযাত্রার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার আশঙ্কা করছিল, দিল্লিতে নামার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

‘কিন্তু এই ভয় শুধু আমার মায়ের নয়’—এ কথা বলতেই জনতা সমস্বরে চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘লজ্জা! লজ্জা!’

দীপকে এরপর বলেন, ‘এ দেশের প্রতিটি মা–ই ভয় পান যে তাঁর সন্তান যদি রাজনীতি নিয়ে কথা বলে, যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।’

গত কয়েক বছরে মোদি সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতাকে বন্দী করা হয়েছে। বিরোধী দল ও সরকারের সমালোচকদের অভিযোগ, এটি দেশকে ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তারা কাজ করেছে।

৩০ বছর বয়সী দীপকে মাত্র দুই বছর আগে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। অথচ এখন হঠাৎ করেই নিজেকে একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে পাচ্ছেন। গত মাসে আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাঁর উদ্যোগ যে বিপুল সাড়া পেয়েছে, সেটির প্রতি তিনি একধরনের দায়িত্ববোধ অনুভব করেন।

প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে একসময় দীপকে মাইক্রোফোন অন্য একজনের হাতে তুলে দেন। তিনি দেয়ালে হেলান দিয়ে পানি পান করেন এবং হাতে থাকা বোতলের বাকি অংশ জনতার দিকে ছুড়ে দেন।

ভিড়ের মধ্য থেকে এক তরুণ চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘অভিজিৎ, আমরা তোমাকে ভালোবাসি!’

অনেক বিক্ষোভকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে এসেছিলেন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। আবার অনেকে বইও সঙ্গে এনেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপকের দল তাঁদের এমনটাই করতে বলেছিল।

অনেক বিক্ষোভকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে এসেছিলেন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। আবার অনেকে বইও সঙ্গে এনেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপকের দল তাঁদের এমনটাই করতে বলেছিল।

পরে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নীল জার্সি পরে আবার বক্তব্য দেন দীপকে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা মনে করেন ভারতের তরুণেরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, তাঁরা এখানে এসে এই দৃশ্য দেখে যান।’

এরপর আরও দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভাবছেন আমরা শুধু স্লোগান দিয়ে চলে যাব, আমি তাঁদের বলছি—আমরা তেলাপোকা। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।’

ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এ সময় তাঁর হাতে বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি দেখা যায়। ৬ জুন, ২০২৬
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এ সময় তাঁর হাতে বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি দেখা যায়। ৬ জুন, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

‘রাস্তায় নামতেই হবে’

অভিজিৎ দীপকেকে ভালোভাবে দেখার জন্য একটি গাছে উঠে বসেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফতাব। দিল্লির উপকণ্ঠের একটি স্যাটেলাইট শহরে তাঁর বসবাস।

আফতাব বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর পক্ষে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য মুদি পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। তাঁর কোনো সামাজিক নিরাপত্তা–সুবিধাও নেই।

তেলাপোকার মুখোশ পরে থাকা আফতাব আল–জাজিরাকে বলেন, ‘একদিন কাজ না করলে হয়তো রাতের খাবারের অর্থও জুটবে না। তারপরও আমি এখানে আসতে চেয়েছি।’

আফতাব আরও বলেন, ‘আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই অপরাধী মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে মোদি সরকার এখনো এই বিক্ষোভ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

বিক্ষোভস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন শিবানি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বড় মেয়ে এই বিক্ষোভে ছিল। তবে এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানান শিবানি। সরকারি আক্রোশের আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

শিবানি বলেন, ‘এই ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন।’

এরপর তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘একটা সময় তো আসে, যখন মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তাই না?’

আল–জাজিরা

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। তেহরান পৌঁছানোর পর সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনি তাঁকে স্বাগত জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের একটি ‘বিশেষ চিঠি’ নিয়ে তেহরান গেছেন। এ চিঠি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির কাছে পৌঁছে দেবেন তিনি।

তেহরানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মহসিন নকভি আরও বলেন, এই বিশেষ চিঠির পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি বার্তাও তিনি ইরানি নেতার কাছে হস্তান্তর করবেন।

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে হামলা চালাল ইসরায়েল।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় তাদের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন ও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের খারদালি–নাবাতিয়েহ সড়কে একটি সামরিক যানে হামলা হলে তাঁরা নিহত হন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চলাচলের জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের ইচ্ছাকৃত, বারবার চালানো এমন নৃশংস আগ্রাসনের ধারাবাহিকতার লক্ষ্য হলো কোনো সমাধানে পৌঁছানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া।

হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এ হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন–রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম একে তাঁর দেশ, দেশের সব জনগণের ওপর হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি জঘন্য অপরাধ।

এক বিবৃতিতে নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খুরি ও সেনাসদস্য হুসেইন ঘোজালের শোকসন্তপ্ত পরিবার–সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতিও সমবেদনা জানান।

গতকাল লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের কমান্ডার জেনারেল রুডল্ফ হায়কাল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

হায়কালের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই আলোচনায় লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

শনিবারের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। একই সঙ্গে তারা লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে ‘ওয়াশিংটনে শত্রুর দাবির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশকে রক্তপাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে লেবানন, দেশটির সেনাবাহিনী ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ এবং আগ্রাসনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায় না ইসরায়েল।

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোও। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতার।

আল–জাজিরা