দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী এই এমভিএনও

নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

এমভিএনওর ধরন

এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

গ্রাহকের লাভ

এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

 

চট্টগ্রাম থেকে

২১০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ জিতল ৫৫ রানে

শেষটা হলো সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বলে ফক্সক্রফটের বড় শট, লং অনে কিছুটা ডাইভ দিয়েই ক্যাচ নিলেন সাইফ। ৭২ বলে ৭৫ রান করা ফক্সক্রফটের বিদায়ে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

বাংলাদেশের ২৬৫ রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে অলআউট ২১০ রানে। বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে জিতল ৫৫ রানে, সঙ্গে ২–১ ব্যবধানে সিরিজও।

ম্যাচ শেষ!
ম্যাচ শেষ!

নিউজিল্যান্ড ম্যাচের শুরুটা করেছিল ভালোই। বাংলাদেশের প্রথম ৩২ রানে তুলে নিয়েছিল ৩ উইকেট। আবার শেষের দিকে দলটির দশম উইকেট জুটি মাত্র ৩১ বলে তুলেছে ৫০ রান। তবে কিউইদের শুরু ও শেষের ভালো বাদে ম্যাচের বাকিটা সময়ে এগিয়েছিল বাংলাদেশই।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিল। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো দলটিকে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন নিক কেলি। এই বাঁহাতি ওপেনার ৫৯ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। বাংলাদেশের হয়ে কিউইদের চাপের মধ্যে ফেলার মূল কাজটি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা এই পেসার ৪৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নাহিদ রানা ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইনিংস: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (নাজমুল ১০৫, লিটন ৭৬, তাওহিদ ৩৩, মিরাজ ২২; ও’রুর্ক ৩/৩২, লেনক্স ২/৫০, লিস্টার ২/৬২)।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫; মোস্তাফিজ ৫/৪৩, মিরাজ ২/৩৬, নাহিদ ২/৩৭)।
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন (১১৯ বলে ১০৫ রান)।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: নাহিদ রানা (৮ উইকেট)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

আবু হায়দার সেঞ্চুরি পাননি, সেঞ্চুরি পাননি ১৪৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী আশিকুর রহমানও। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় দিনটা তবু সেঞ্চুরিশূন্য থাকেনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরি পেয়েছেন উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমার ও আকবর আলী। দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরের অধিনায়ক আকবর ১২১ রানের আউট হয়ে গেলেও ১৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন উইকেটকিপার প্রিতম কুমার।

গতকাল ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণকে ৩১৪ রানে অলআউট করে উত্তর। বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করা উত্তর দ্বিতীয় দিনটা শেষে করেছে ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান তুলে। দলটি এগিয়ে ৬৫ রানে।

আজ দিনের তৃতীয় ওভারে উত্তরাঞ্চল ২৮ রানে হারায় প্রথম উইকেট। ৫৩ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধার করে প্রিতম ও আকবরের ২৩৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। ১৫৮ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রান করা আকবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সামীউন বাসির। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো, বিসিবি
 

চারে নামা প্রিতম পেয়েছেন এই সংস্করণে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১৮৪ বলে খেলা অপরাজিত ১৫১ রানের ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সী প্রিতমের সর্বোচ্চ ইনিংসও। তাঁর আগের সর্বোচ্চ ১৪৩, গত নভেম্বরে সর্বশেষ জাতীয় লিগে রাজশাহী বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে। এ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রিতমের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

পাশের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার ফেরেন আর কোনো রান যোগ না করেই। বাংলাদেশ টেস্ট দলের পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হায়দার। ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা আশিকুর ফিরেছেন ৮৬ রানে। পেসার ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনিও। ৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চল অলআউট ৩০৭ রানে। ৫৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইবাদত।

ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম
ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম, বিসিবি
 

প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে। উইকেটকিপার অমিত হাসান ৮৮ রানে ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। ফিফটি পেয়েছেন দলটির ওপেনার মাহমুদুল হাসানও, করেছেন ৬৪ রান।

ম্যাচের প্রথম বল হয়েছে বেলা এগারোটায়, ৫০ ওভারের ইনিংস শেষ হওয়ার কথা আড়াইটায়। কিন্তু বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করা কিউইদের ইনিংস আড়াইটার মধ্যে শেষ হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর সোয়া ৩টায় শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাও ৪৮.৪ ওভারে অলআউট না হলে সময় বেশি লাগত আরও।

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচটিতে এমন বিলম্বে বাংলাদেশ দলকে জরিমানা করেছে আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ ওভার কম করায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আজ আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।

গরমের মধ্যে চলা বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দুই ম্যাচেই প্রথম ইনিংস শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগেছে। গরমের কারণে একাধিক পানি পানের বিরতি, খেলোয়াড়দের ছোটখাটো চোটের কারণে অস্বস্তি আর পেসারদের দিয়ে বেশি বোলিংয়ের কারণে বিলম্বটা বেশি হয়েছে।

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
 

আইসিসি জানিয়েছে, সময়ের সব ছাড় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা যায়, মিরাজরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ওভার পিছিয়ে ছিলেন। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে মন্থর ওভার রেটের অভিযোগ আনেন।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিরাজ অপরাধ স্বীকার করে শাস্তির প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মোট ১০ শতাংশ জরিমানার আদেশ দেন।

বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় মুখোমুখি হবে দু্ই দল। এ ম্যাচের জন্য টিকিটের মূল্যতালিকা আজ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে পূর্ব গ্যালারির টিকিটের দাম সবচেয়ে কম—২০০ টাকা। পশ্চিম গ্যালারির টিকিটের দাম ৩০০ টাকা। শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড ও শহীদ শ্রাবণ স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ৬০০ টাকা করে।

পূর্ব ও পশ্চিমে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ২৫০০ টাকা করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ছাদের ওপর দুই প্যাভিলিয়ন এন্ডের টিকিটের দামও ২৫০০ টাকা করে। স্টেডিয়ামের এই চারটি জায়গার টিকিটের দামই সবচেয়ে বেশি।

[caption id="attachment_272100" align="alignnone" width="695"] বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডে টিকেটের মূল্য[/caption]

ওয়ানডে সিরিজে এরই মধ্যে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ২৬ রানে জেতে নিউজিল্যান্ড। একই ভেন্যুতে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। ২৭ ও ২৯ এপ্রিল দুটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। ২ মে তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। টি–টুয়েন্টি সিরিজে সব কটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২টায়।

‘খেলাধুলার অস্কার’খ্যাত লরিয়াস বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে এবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল টেনিস। শীর্ষ দুই পুরস্কারের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই টেনিস তারকা। বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার এ পুরস্কার পেলেন আলকারাজ ও সাবালেঙ্কা। মাদ্রিদের সিবেলেস প্যালেসে গতকাল রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। যেখানে বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার উঠেছে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের হাতে। ২০২৬ সালের এ আয়োজন উপস্থাপনা করেন ক্রীড়াজগতের দুই তারকা নোভাক জোকোভিচ ও আইলিন গু।

টেনিসে গত বছরটা দারুণ কেটেছে ২২ বছর বয়সী আলকারাজের। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন জিতেছেন। আর এ সাফল্যের কারণেই বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামাল। পুরস্কার পেয়ে আলকারাজ বলেছেন, ‘যাঁরা খেলাধুলা এত গভীরভাবে বোঝেন, তাঁদের কাছ থেকে এ স্বীকৃতি পাওয়া আরও বেশি অর্থবহ। এই রাত আমি কোনো দিন ভুলব না, হৃদয়ে গেঁথে থাকবে সব সময়।’

নারীদের শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কা গত বছর জিতেছিলেন ইউএস ওপেন। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গ্র্যান্ড স্লাম। পুরস্কার হাতে নিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি এখন কাঁপছি! আমার নামটা যেসব কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পাশে লেখা হবে, যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, যাঁদের অনুসরণ করেছি। বিষয়টা ভাবতেই একটু অবিশ্বাস্য লাগছে।’
বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস
বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস, এএফপি

বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের। আমি একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার পরিবারকে—আমার মা, যিনি আমার ভাইকে নিয়ে বাসায় আছেন, আমার বাবা, আমার দাদি, আমার সতীর্থরা এবং সেই দলকে, যারা সব সময় আমাকে সমর্থন দেয়।’

লরিয়াসে দুবার বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জেতা লিওনেল মেসিকেও স্মরণ করেন ইয়ামাল, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। সব খেলাধুলার মধ্যে তিনি সেরা কি না, জানি না, তবে না হলেও খুব কাছাকাছি আছেন। তিনি একজন আদর্শ। তিনি যা অর্জন করেছেন, তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করে।’

বর্ষসেরা দল নির্বাচিত হয়েছে পিএসজি। গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পথে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে ফ্রান্সের ক্লাবটি।

[caption id="attachment_272080" align="alignnone" width="622"] কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা, তরণ ক্রীড়াবিদ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল।[/caption]
 
 

৮৭ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।

আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডে ৮৭ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ৮ এবং তাওহিদ হৃদয় ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটপি গড়ে জেতান দুজন।

নিউজিল্যান্ডের ১৯৮ রান তাড়ায় ৪ ওভারের মধ্যে ২১ রানে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। ৭৬ রান করেন তানজিদ। নাজমুল ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

(অব্যবহৃত) বলের হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।

আজ বাংলাদেশের জয়ের ভিত ফিল্ডিংয়েই গড়ে দেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।

আগামী বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮ *; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।

বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ৪/১৯৯ (তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০, লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড: ৩৬.৩ ওভারে ১৪৫/৫

অবশেষে নিক কেলি থেকে মুক্তি মিলল বাংলাদেশের। শরীফুলকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। থামল কেলির ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস।

১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড। নতুন ব্যাটসম্যান জশ ক্লার্কসন, আগে থেকে আছেন ডিন ফক্সক্রফট।

সেঞ্চুরি বাবর আজম আগেও করেছেন। টি-টুয়েন্টিতে ক্রিস গেইলের পর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিই তাঁর। তবে ধীর ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচিত আর অফ ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া বাবর এবার টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরির নতুন এক কীর্তি গড়েছেন।

রোববার রাতে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন বাবর। ১৯২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে মাত্র একটি বল ডট দিয়েছেন তিনি, যা ৫০ বা এর চেয়ে বেশি বলের ইনিংসে সবচেয়ে কম।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা পেশোয়ারের হয়ে ওপেনিং করেন বাবর। প্রথম ওভারে নেন ১ বলে ১ রান। এরপর দ্বিতীয় ওভারে তিন বল খেলার সুযোগ পেয়ে নেন ৭ রান। এভাবে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে ৩১ বলে ফিফটিতে পৌঁছান বাবর। এবারের আসরে একবার ৮৭, আরেকবার ৭১ রানে অপরাজিত থাকা বাবর এবার দ্রুতলয়ে ঢুকে যান নব্বইয়ের ঘরে।

তবে সেঞ্চুরিটা এসেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। ইনিংসের শেষ বলে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ৯৮ রানে। আলজারি জোসেফের বল লং অনে পাঠিয়ে ডাইভে দ্বিতীয় রান পূর্ণ করে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন। পিএসএলে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি, টি-টুয়েন্টিতে ১২তম।

সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরের
সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরেরএক্স/পেশোয়ার জালমি

বাবরের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি ছক্কা, ৬টি চার। পাশাপাশি তিন রান নেন একবার, দু রান করে ৯ বার। সিঙ্গেল থেকে আসে বাকি ৩১ রান। সব মিলিয়ে ৫২ বলের ৫১টিতেই তিনি রান নিয়েছেন। যে বলটি ডট দিয়েছেন, সেটি ১৪তম ওভারের শেষ বলে। আলজারি জোসেফের ঘণ্টায় ১৪৬.৭ কিলোমিটার গতির বলটি ছিল বাউন্সার, বাবর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

বাবরের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরির ম্যাচটিতে পেশোয়ার ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে। এরপর কোয়েটাকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১১৮ রানের বড় জয় তুলে বাবরের দল।

ম্যানচেস্টার সিটি ২ : ১ আর্সেনাল

দৃশ্যটা চোখে লেগে থাকার মতো।

গ্যাব্রিয়েলের মুঠো থেকে আর্লিং হলান্ডের ছিঁড়ে যাওয়া জার্সির টুকরোটা খসে পড়ল। প্রিমিয়ার লিগের ট্রফিটাও কি ঠিক এভাবেই আর্সেনালের হাত থেকে ফসকে গেল?

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে লড়তে গিয়েছিল আর্সেনাল। যেটাকে বলা হচ্ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমের অলিখিত ফাইনাল। আর সেই ফাইনালে সিটি ২-১ গোলে হারিয়ে ভীষণ জমিয়ে দিল শিরোপা লড়াই। আপাতত ৩৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। অন্যদিকে ৩২ ম্যাচ খেলে সিটির পয়েন্ট ৬৭। কিন্তু সিটির হাতে একটা বাড়তি ম্যাচ মানে কার্যত দুই দল এখন সমান অবস্থানে। এই জয়ের পর মানসিকভাবে হয়তো সিটিই অনেকটা এগিয়ে।

ম্যাচশেষে যে ছবিটা ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে, তা হয়তো ওই এক টুকরো ছিঁড়ে যাওয়া কাপড়ের। মরিয়া হয়ে হলান্ডকে আটকাতে চেয়েছিলেন আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল। টানাটানিতে সিটির গোলমেশিনের গায়ের জার্সি ছিড়ে ওই কাপড়ের টুকরোটা চলে যায় তাঁর হাতে। হলান্ড অবশ্য কাজের কাজটা এর কয়েক মিনিট আগেই করে ফেলেছেন। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে ৬৫ মিনিটে গোল করে সেই যে এগিয়ে দিয়েছেন সিটিকে, সেই ব্যবধান আর ঘুচাতে পারেনি আর্সেনাল।

আর্লিং হলান্ডের গোল উদযাপন।
আর্লিং হলান্ডের গোল উদযাপন।প্রিমিয়ার লিগ

তবে ম্যাচের হাইলাইট হতে পারত রায়ান শেরকির সেই অবিশ্বাস্য গোল। বাঁ পায়ে অসাধারণ ড্রিবলিং করে গ্যাব্রিয়েল ও ডেকলান রাইসকে কাটিয়ে উইলিয়াম সালিবার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ডান পায়ে নিচু শট। যা দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল লিওনেল মেসির কথা।

হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে হতাশ সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।
হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে হতাশ সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।প্রিমিয়ার লিগ

হাইলাইট হতে পারত জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার সেই শিশুসুলভ ভুল। যে ভুলের সুযোগ নিয়ে ১৮ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান আর্সেনাল কাই হাভার্টজ। শেরকির গোলের ঠিক ১০৭ সেকেন্ড পরই! ৪৪১ দিন পর লিগে গোল পেলেন হাভার্টজ। সর্বশেষ গোল করেছিলেন সিটির বিপক্ষেই। মন্দ কপাল তাঁর, গোলটা কাজে লাগল না শেষ পর্যন্ত।

এর আগে মেজাজ হারিয়ে হলান্ডকে ঢুঁস মারার ভঙ্গি করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। হলান্ড মাটিতে পড়ে গেলে হয়তো লাল কার্ডই দেখতে হতো আর্সেনাল ডিফেন্ডারকে। ধাক্কা মারেন হলান্ডও। তবে দুজনেই হলুদ কার্ড দেখে পার পেয়ে যান।

 

যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে হাভার্টজ যখন গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করে মাথায় হাত দিলেন, ডাগআউটে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন মিকেল আরতেতা। ওই ভঙ্গিটাই যেন বলে দিচ্ছিল—লড়াইটা বোধহয় শেষ!

আগামী বুধবার বার্নলির বিপক্ষে জিতলেই শীর্ষে উঠবে সিটি। পুরো মৌসুমে মাত্র ৬ দিন যারা শীর্ষে ছিল, সেই সিটির হাতেই কি তবে উঠতে যাচ্ছে লিগের ট্রফি? উত্তরটা জানার জন্য খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।