মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বিজয়ীদের বরণ করে নেবে বাফুফে। আজ সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন দলকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে একটি বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে শহরে নিয়ে আসা হবে। দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম এই অর্জনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রাটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে গিয়ে শেষ হবে।

বাফুফে জানিয়েছে, আজ রাত ৭টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানাবেন।
দেশের ফুটবলে সাফল্য উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

বাংলাদেশে ছাদখোলা বাসে ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়া এখন জনপ্রিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার থেকে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটে ফেরার পর নারী ফুটবল দলকে একইভাবে ভোররাতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড থেকে সাফ নারী ফুটসালের শিরোপা জিতে ফেরার পর সাবিনা-কৃষ্ণাদেরও বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে রাজত্ব ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও জিতল শিরোপা। গত রাতে মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। মাঠের এই সাফল্যে একক কোনো বীরত্বের চেয়ে দলীয় সংহতি বড় হয়ে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টে আলো কেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। ১২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’ এবং খেলেছেনও সেই পজিশনেই।

বাংলাদেশের সাফল্যের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। গত ২৮ জানুয়ারি যশোরের শামসুল হক একাডেমিতে শুরু হওয়া প্রাথমিক ক্যাম্প চলে ১৪ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততায় মাঝপথে এক মাসের বিরতি পড়ে। দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই ঘরোয়া লিগের শীর্ষ দলগুলোতে খেলছেন। গোলকিপার মাহিন, মিডফিল্ডার কামাল ঢাকা মোহামেডানে, সেন্টার ব্যাক ইউসুফ, মিডফিল্ডার চন্দন বসুন্ধরা কিংসে। সেন্টার ব্যাক ও অধিনায়ক মিঠু ও লেফট উইঙ্গার মোর্শেদ ফর্টিস এফসিতে, মিডফিল্ডার ফয়সাল আর ফরোয়ার্ড মানিক পিডব্লুউডিতে। সেন্টার ব্যাক রিয়াদ ঢাকা আবাহনীতে খেলেন।

ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ
ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ, সাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
 

গত ১৬ মার্চ আবার শুরু হয় ক্যাম্প। ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের পর ১৮ মার্চ ক্যাম্পে যোগ দেন সুলিভান ভাইয়েরা। মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে রোনান বুঝিয়ে দেন, তিনি বিশেষ কিছুর জন্যই এসেছেন।

মালের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন রোনান। দলের ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই তাঁর। একটি দর্শনীয় ফ্রি-কিকে এবং অন্যটি নিখুঁত হেডে। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও অবদান ছিল তাঁর। রোনানের নেওয়া কর্নার থেকে সেন্টার ব্যাক রিয়াদ গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও সুলিভানের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল নজর কেড়েছে দর্শকদের।

দলের কোচিং স্টাফদের মতে, রোনানের বড় শক্তি হলো তাঁর ‘গেম সেন্স’ ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। নানি বাংলাদেশি হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়া এই তরুণের মধ্যে দেশের প্রতি টান চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি গোলের পর লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে তাঁর উল্লাস ছিল অকৃত্রিম। ফুটবল বোদ্ধাদের বিশ্বাস, রোনানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ‘নাম্বার নাইন’ বা স্ট্রাইকার সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলতে পারে।

সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন মালে থেকে ফোনে বলেন, ‘পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশের নাম্বার নাইন সংকট সে দূর করতে পারবে। একটা দেশে প্রথম এসেই ওর মধ্যে যে দেশাত্মবোধ দেখেছি তা অসাধারণ। গেম সেন্স খুব ভালো। সহজেই সবকিছু বুঝতে পারে। সত্যি বলতে, কারও মধ্যে দেশাত্মবোধ থাকলে খুব বেশি কোচিং লাগে না। মনে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল থাকলে আর কিছু লাগে না।’

বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনান
বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনানসাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
 

শুধু রোনান নন, ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজও সম্ভাবনাময় ফুটবলার। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ টুর্নামেন্টে শুধু প্রথম ম্যাচটা খেলেন। ফিটনেস সমস্যা ছিল তাঁর কিছুটা। টেকনিক্যালি খুব ভালো। রিদন বলেন, ‘ইব্রাহিম নেওয়াজের গেম নলেজ অত্যন্ত উঁচু মানের। বয়সভিত্তিক ক্যাম্পে তাদের আরও আগে আনা গেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’

সুলিভানের ভাই ডেকলান ফাইনালসহ দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা, আগামীতে এসব প্রবাসী ফুটবলারকে আরও আগে থেকে ক্যাম্পে যুক্ত করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে চাবিকাঠি ছিল দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া। বাফুফে এলিট একাডেমির এই দলটির ফুটবলাররা অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায় থেকেই একসঙ্গে খেলে আসছেন, যার ফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।

ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন
ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন, বাফুফে
 

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স গত ১২ মার্চ ঢাকায় আসেন। এরপর তাঁর হাতে দেওয়া হয় দলের দায়িত্ব। তবে মাঠের কৌশলে দেশীয় কোচ আকবর হোসেন রিদন ও আতিকুর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন তিনি। এ ছাড়া গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্যের অধীনে গোলরক্ষকদের আত্মবিশ্বাস এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সরাসরি তত্ত্বাবধান দলটিকে একটি পরিবারে পরিণত করেছে, এমনটাই বলছেন কোচিং স্টাফের সদস্যরা।

সাফের এই ট্রফি শুধুই একটি শিরোপা নয়, বরং রোনান সুলিভানের মতো উদীয়মান তারকাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর  ইঙ্গিত। হৃদয়ে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল ম্যাচ জয়ের জেদ থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব, অনূর্ধ্ব-২০ দল আরও একবার তা প্রমাণ করল।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে।

‘দ্য কিং ইজ ব্যাক!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাত থেকেই কথাটা ভাসছে। সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এক মাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। গতকাল রাতে আল নাজমার বিপক্ষে আল নাসরের ৫-২ গোলে জয়ের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। সেই ফেরাটাও হলো রাজার মতোই। জোড়া গোল করে ১০০০ গোলের আরও কাছে পৌঁছে গেলেন রোনালদো।

ম্যাচ ২-২ গোলে সমতায় থাকতে পেনাল্টি থেকে গোল করে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। ৭৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে করেন দ্বিতীয় গোল। জোড়া গোলে স্মরণীয় করে রাখলেন সৌদি প্রো লিগে নিজের শততম ম্যাচ। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ নিয়ে মোট ৯৬৭ গোল করলেন রোনালদো। হাজার গোলের দেখা পেতে তাঁর চাই আরও ৩৩টি গোল।

 

রোনালদোর মতোই জোড়া গোল করেন আল নাসরের সেনেগালিজ তারকা সাদিও মানে। জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে করা পোস্টে রোনালদো লেখেন, ‘ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাব।’ ২০২২ সালে সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম বড় শিরোপার খোঁজ করা রোনালদোর ক্লাবের জন্য জয়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রো লিগে ২৬ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় আল হিলালের সঙ্গে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে শীর্ষ স্থান ধরে রাখল আল নাসর। ২৭ ম্যাচে দলটির সংগ্রহ ৭০ পয়েন্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিগে আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস এরপর বলেছিলেন, রোনালদোর চোট তাঁদের ভাবনার চেয়ে ‘সিরিয়াস’। প্রো লিগে এরপর আল নাসরের তিনটি ম্যাচে খেলতে পারেননি রোনালদো। স্পেনে গিয়ে চিকিৎসা করান চোটের। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর বিপক্ষে পর্তুগালের প্রীতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি।

প্রো লিগে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনে উঠে এলেন রোনালদো। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ২৫ ম্যাচে ২৫ গোল নিয়ে শীর্ষে আল আহলি ফরোয়ার্ড ইভান টনি। সৌদি প্রো লিগে ১০০ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৭, গোল করিয়েছেন ১৮টি।

দুর্দান্ত লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার(৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হয় টাইব্রেকারের পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভানের সফল কিকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ভারত। তবে বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কিংবা গোলরক্ষক মাহিনকে খুব বেশি চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে।

দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট পর মাঠে নামানো হয় রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলানকে। নিজের প্রান্ত ধরে কয়েকটি কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দূর থেকে ভাই রোনানের উদ্দেশে দারুণ একটি পাসও বাড়ান ডেকলান। ভারতের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বল পেয়ে শট নেন রোনান, তবে ভারতীয় গোলরক্ষক এগিয়ে এসে তা প্রতিহত করেন।

মালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী সমর্থক। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে প্রাণভরে সমর্থন জানান।

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই টুর্নামেন্টে একই গ্রুপে ছিল। ফলে একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কে ছিল ভালো ধারণা। এ কারণে বাংলাদেশের আক্রমণের অন্যতম ভরসা রোনান সুলিভানকে শুরু থেকেই কড়া নজরদারিতে রাখে ভারত। তারপরও নিজের দক্ষতায় একাধিক শট নিয়ে ভারতীয় রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন তিনি।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও দুইবার বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি, তবু বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। অপরদিকে বাংলাদেশও প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে বাংলাদেশ।

 

টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।

চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।

ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’

সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।

২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়ল আর এক পরিচালকের পদত্যাগপত্র। আজ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত এই পরিচালক বিসিবির লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইয়াসির। এ নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হওয়া ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে একই কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ইয়াসিরও।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকেন। গত অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইয়াসির ও রুবাবা দৌলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

ইয়াসির আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘একদমই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এখানে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।’ তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে যে সংস্থা, সেই এনএসসি বিষয়টি জানে কি না, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘এখনো জানাইনি।’

বিসিবিতে লজিস্টিকস কমিটির প্রধান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ইয়াসিরের জবাব, ‘ভালো। অনেক কিছু শিখেছি।’ এ সময় তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবার বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বে ফিরতে পারেন।

গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত পরিচালক ইয়াসির।

বিসিবি অবশ্য আগের দুই পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে।

ঢাকা

২০০৬ সালের ৯ জুলাই। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের। ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এরপর?

না, এই ম্যাচের পরিসংখ্যান কিংবা বিশ্লেষণ তো নয়-ই। বরং সেই ফাইনালে 'ম্যাচের' চেয়েও বেশি আলোচিত জিদান বনাম মার্কো মাতেরাজ্জির 'ঢিসুম' কাহিনীও আলোচ্য বিষয় নয়। মূল ব্যাপার বৈশ্বিক আসরের একটি অংশে ইতালির উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যেখানে ইতালি 'দ্বিতীয় দফায়' আজ পর্যন্তও অনুপস্থিত।

বার্লিনের সেই ফাইনালের পর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি বিদায় নেয় আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ তারা।

বিশ্বকাপে আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার ঘটনা নতুন না। এই পরম্পরা যেন একবিংশ শতাব্দীতে আরও পোক্ত হয়েছে। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ২০০৬ এর ইতালি যে একই কাণ্ড করেছিল পরের আসরে, সেই আলাপ পুরোনো। এই আলোচনার গল্প ভিন্ন। এর অংশ আবার দুইটি। আগে 'দ্বিতীয় দফা' আলোচনা করা যাক।

২০০৬ ফাইনালের পর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। বার্লিনের সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের নকআউট কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি ইতালির। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচ খেলার মাঝে এত দীর্ঘ বিরতি নেই অন্য কোনো দলের, যা আছে ইউরোপের এই দেশটির।

৩১ মার্চ, ২০২৬। আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ইতালির। এবার প্লে অফে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ফের ব্যর্থ দলটি।

২০৩০ বিশ্বকাপে তারা যদি সুযোগও পায় এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তবে সেটির ব্যবধান হয়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই দশক।

তবে বর্তমান শতাব্দীর এই রেকর্ড ইতালির নিজেদেরই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কাছে কিছুই না। যদি ভেবে থাকা যায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আরেকটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান অনেক বেশি, তবে এর আরেকটি বড় ভার্সন খোদ ইতালিয়ানদেরই তৈরি। সেটিই হলো গল্পের 'প্রথম বা আদি দফা'। সেখানে কী করেছিল রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরিরা?

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই আসরের ফাইনালের পর আরেকটি নকআউট ম্যাচ খেলতে ইতালির অপেক্ষা করতে হয়েছে কতদিন? এর উত্তর হলো— ৩২ বছর। এতটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।

হ্যাঁ, আগের শতাব্দীতেও এমনভাবেই দীর্ঘ তিন দশকের বিরতি দিয়েছিল ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৩৮) হিসেবে অংশ নিয়ে তারা ব্যর্থ হয় ফাইনাল রাউন্ড তথা সেই আসরের প্রথম নকআউট স্টেজে উঠতে। ১৯৫৪ সালের আসরে ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাড়ির পথ ধরতে হয় তাদের। ১৯৫৮ সালের আসরে তারা মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারেনি।

ইতালির এই গ্রুপ পর্বের গোলকধাঁধা লম্বা হয় আরও এক যুগ। ১৯৬২ সালের আসরে পশ্চিম জার্মানি, চিলি ও সুইজারল্যান্ডের গ্রুপে ফের তৃতীয় হয়ে নকআউট স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ১৯৬৬ সালের গল্প যেন আরও পীড়াদায়ক ইতালি ভক্তদের জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিলি ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে থেকেও ফের গ্রুপ পর্বে বিদায় তাদের।

অবশেষে দীর্ঘ তিন দশক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৮ ফাইনালের পর ১৯৭০ সালের আসরে নকআউটে ওঠে তারা। উরুগুয়ে, সুইডেন ও ইসরায়েলের গ্রুপে টপার হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইতালি। সেবারের আসরে অবশ্য রানার্সআপ হয় তারা। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরে যায় ইতালি। সেই ফাইনাল জিতেই জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ব্রাজিল দলতো বটেই, কালো মানিক পেলে জেতেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

ইতালির ভক্তরা হয়ত বিশ্ব আসরের একটা নির্দিষ্ট অংশে নিজেদের প্রিয় দলকে মিস করেন। এমনকি তারা বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে প্রায় ১১ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে তো বিশ্বকাপে অনুপস্থিতই ইতালিয়ানরা।

তারা নিজেরাও একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালের ম্যাচে ইতালি বলে কোনো দেশের পতাকা ওঠেনি অনেক দিন-বছর-দশক। এরকম বিরতি গত শতাব্দিতেও হয়েছিল, ৩২ বছর।

 

মেহেদী হাসান রোমান

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল। রোনানকে আটকানোর সে চেষ্টায় তারা সফল হলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে মার্ক কক্সের দল।

এ নিয়ে সাফের অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০২২ সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ফাইনাল হেরেছিল যুবারা। তবে ২০২৪ সালে নেপালকে তাদের মাটিতে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

আজ রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ভুটান। সে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে ৩ এপ্রিল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল।

মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। পোস্টের দুই প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের তৈরি করা ক্রসগুলো সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে নেপাল। ১১ মিনিটে একটা ক্রসই আজ হয়েছে নেপালের জন্য! ডান প্রান্ত থেকে মোরশেদ আলীর ক্রসটি বক্সের মধ্যে পেয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মানিক।

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল
রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল, বাফুফে
 

এক মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন রোনান সুলিভান। তবে তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল ম্যাচে ফেরার উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য কঠিনই ছিল।

এক গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলও লড়াইয়ে ঢিলেমি দেয়নি। দ্বিতীয় গোলের সন্ধানে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ৩৬ মিনিটে নাজমুল হুদার রক্ষণ চেরা পাস থেকে রোনান শট নেওয়ার আগেই নেপালের গোলকিপার পেম্বা বল গ্লাভসবন্দী করে ফেলেন।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক, বাফুফে
 

দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। নিজেদের পায়ে বল রেখে মাঝেমধ্যেই আক্রমণ শানিয়েছে। ৫২ মিনিটে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়া মানিকের বদলে মাঠে নামেন জয় আহমেদ। ৫৬ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি নাজমুল। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলে অভিষেক হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনানের ভাই ডেক্লান সুলিভানের।

শেষ ১৫ মিনিট বাংলাদেশের গোলমুখে ভালোই চাপ তৈরি করেছে নেপাল; কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের খোঁজ  পায়নি তারা। এর মধ্যেই ৯৬ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের যুবারা। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও ডেক্লানের পাস কাজে লাগাতে পারেননি সুমন সরেন।

২০ বছর আগে শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে যে দলটার আন্তর্জাতিক ম্যাচে পদার্পণ হয়েছিল, তাদের ‘আসল’ পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে আজ অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপ দিয়ে। টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায়।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল এত দিন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই বন্দী ছিল, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে অনূর্ধ্ব–১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে রীতিমতো দাপটই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ছয়বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছে পাঁচবার। কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ের লড়াইটা কতখানি কঠিন, সেটা এত দিনেও টের পায়নি তারা। আজ থেকে এশিয়ান চ্যালেঞ্জটাও নেওয়া শুরু।

মূল চ্যালেঞ্জের আগে বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল। গত আগস্টে লাওসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয়ে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফঈদা–সাগরিকারা।

কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ
কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ, বাফুফে
 

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ। কাল থাইল্যান্ডে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক টুর্নামেন্টও হবে। যা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে তারা।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে দেশটি। এশিয়ান কাপে খেলাটাও প্রায় নিয়মিত। এ নিয়ে অষ্টমবার এ প্রতিযোগিতায় খেলবে থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশ কোচও স্বাগতিকদের নিয়ে সতর্ক। তাদের ফুটবল–দর্শনটাও বোধ হয় পড়ে রেখেছেন বাটলার। ম্যাচের আগে সেটাই মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘থাইল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ। তারা নারী দলের প্রতি খুবই মনোযোগী। আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল, বাফুফে
 

সাম্প্রতিক ফলাফলে চোখ রেখে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের আশা করতেই পারেন কোচ। অনূর্ধ্ব–২০ দল নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটিতে, গত আগস্টে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে থাইল্যান্ডের হার দুটি।

এটাও ঠিক, ফুটবলকে সব সময় রেকর্ডসের ছকেও বেঁধে রাখা যায় না। ধারেভারে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দিন শেষে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা থাকবেই। বাটলারও লড়াকু ম্যাচেরই আভাস দিলেন, ‘মেয়েরা বাছাইপর্বে যেমন লড়াই করেছে, আমার বিশ্বাস, এখানেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।’

চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে কাজটা আরও দুরূহ হওয়ার কথা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য যোজন যোজন। চীন অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দুবারের রানার্সআপ। এশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০৬ সালে। তাদের সঙ্গে ননতাবুড়ি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে শনিবার।

ভিয়েতনাম আসিয়ান অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যায়ে চারবার ফাইনাল খেলেছে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিয়ে ২০০৪ সালে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাদের বিপক্ষে ৭ এপ্রিল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া বড়দের এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপটা হতাশাজনকই কেটেছে তহুরা–ঋতুপর্ণাদের। প্রথমবার অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে মেয়েদের জাতীয় দল। বড়দের সেই হতাশা কি কমাতে পারবেন ছোটরা?

ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং স্টেডিয়ামে শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলল ব্রাজিল। তাতে ফল সন্তোষজনক। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। তাতে ব্রাজিলের খেলায় ধার ফিরতে শুরু করে। যদিও প্রথম গোলটি ব্রাজিল পেয়েছে একটু দেরিতে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন দানিলো।

ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, দানিলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিত। আজ তাঁর পারফরম্যান্সে ‍খুশিই হওয়ার কথা আনচেলত্তির। ম্যাচের ৮৪ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে হয়েছে আরও ৩ গোল।

৮৪ মিনিটে ফ্রুকের পাস থেকে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি করেন লাভরো মেজর। এর ৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন ইগর থিয়াগো। যোগ করা (৯২ মিনিট ) সময়ে করা গোলটি গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির। অর্থাৎ, ৫ মিনিটের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার জালে দুই গোল করেছে ব্রাজিল।

কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই
কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই, রয়টার্স
 

রদানিলোর গোলে বড় অবদান ভিনির। ম্যাথিয়াস কুনেহার পাস থেকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল বানান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ক্রোয়েশিয়া বিরতির পর একটু দাপট বিস্তার করে খেলেছে, গোলটি তারই ফল। তবে গোল হজম করার পর ব্রাজিল আবারও খেলার ধার বাড়ায়। ক্রোয়াটদের বক্সে এনদ্রিক ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কুনেহা ও জোয়াও পেদ্রো একাধিকবার ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের পরীক্ষা নেন।

বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ ম্যাচ বলেই হয়তো এ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটু বেশিই করেন আনচেলত্তি। আটজন বদলি নামান।

ফ্রান্স ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে নেইমারের নামে দর্শকদের স্লোগান। প্রথমার্ধে একটু কম হলেও বিরতির পর নেইমারের নামে স্লোগানে আওয়াজ বেড়েছে।

গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি
গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি, রয়টার্স

মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী ৩১ মে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে খেলবে শেষ প্রীতি ম্যাচ। এ দুটি ম্যাচে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা স্কোয়াড থেকে একাদশ গড়বেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে।

সেই লিওনেল মেসিই ‘এক্স ফ্যাক্টর’।

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন না মেসি। বিরতির পর মাঠে নামেন। ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতলেও ভালো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। আজ জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসিকে একাদশে খেলানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সে অনুযায়ী মেসি যেমন শুরু থেকেই খেললেন পুরো সময়, তেমনি আর্জেন্টিনার খেলায়ও ফিরেছে ছন্দে। আফ্রিকান দলটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্কালোনির দল।

দুই অর্ধে দুটি করে গোল করেছে আর্জেন্টিনা। অন্য গোলটি আত্মঘাতী। প্রথমার্ধে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও মেসি। বিরতির পর ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এর ১৮ মিনিট পর আত্মঘাতী গোল জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দা। যোগ করা সময়ে (৯৩) ভ্যালেন্টিন বারকো করেন ম্যাচের শেষ গোল।

বুয়েনস এইরেসে লা বোমবোনেরো স্টেডিয়ামে মার্চের দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেই জয় পেল আর্জেন্টিনা। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এ দুটোই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রীতি ম্যাচ।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি, এক্স

অন্য অর্থে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। সম্ভবত এ কারণেই আটজন বদলি নামান স্কালোনি। এমনকি ম্যাচের ৭৪ মিনিটে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে তুলে সুযোগ দেন হুয়ান মুসোকে।

৪ মিনিটে আলভারেজের প্রথম গোলটির উৎস মেসি। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের কাছ থেকে দূরপাল্লার পাস পেয়ে জাম্বিয়ার বক্সে ফেলেন বল। ডান পায়ের জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আতলেতিকো মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে গোল পান মেসি। জাম্বিয়ার বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে নিচু শটে গোল করেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের মাটিতে এটাই হতে পারে মেসির শেষ গোল। ৪০টি আলাদা জাতীয় দলের বিপক্ষেও গোল হয়ে গেল মেসির, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

৫০ মিনিটে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি পাওয়ার নেপথ্যে থিয়াগো আলমাদা। জাম্বিয়ার বক্সে ফাউলের শিকার হন তিনি। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোয় স্পটকিক ওতামেন্দিকে দিয়ে নেওয়ান মেসি। দেশের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই শেষ ম্যাচ ওতামেন্দির। আর্জেন্টিনা চতুর্থ গোলটি আদায় করেছে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে। শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে চান্দার পায়ে লেগে বল জালে ঢোকে।

বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনার কথা এর আগে জানিয়েছিল দেশটির সংবাদমাধ্যম। একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে সার্বিয়া নিশ্চিত হলেও অন্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ ‍যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।