যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উৎক্ষেপণ স্থলে ব্লু অরিজিনের কোম্পানি তৈরি একটি রকেট নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রকেটটি হঠাৎ করে বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছে এবং আশপাশের পুরো এলাকা আগুনে ঢেকে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্লু অরিজিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘হটফায়ার টেস্টের সময় একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে।’

তারা আরও বলেছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং সবাই নিরাপদ আছেন।

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ২০০০ সালে এই মহাকাশপ্রযুক্তি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেপ ক্যানাভেরালে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে ব্রেভার্ড কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

বেজোস বলেন, ‘এত আগে ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে না। তবে আমরা ইতিমধ্যে তা খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছি। আজকের দিনটি খুব কঠিন ছিল। কিন্তু যা কিছু আবার তৈরি করা দরকার, আমরা তা করব এবং আবার উড্ডয়নের কাজে ফিরে যাব। এটা জরুরি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মহাকাশ বিভাগ বলেছে, জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং কর্মকর্তারা ব্লু অরিজিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে ঘটনার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজাকম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, মহাকাশযাত্রা খুবই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। আর নতুন ভারী রকেট তৈরির কাজ অত্যন্ত জটিল। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য আমরা আমাদের সহযোগীদের সহায়তা দেব, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং আবার রকেট উৎক্ষেপণের কাজে ফিরব।’

বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসন (এফএএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা এই ঘটনার বিষয়ে জানে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘এই পরীক্ষা এফএএর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কার্যক্রমের আওতার মধ্যে ছিল না।’

তারা আরও বলেছে, এ ঘটনায় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।

গত মাসেই ব্লু অরিজিনের নতুন রকেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। তখন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় এফএএ।

বিবিসি

ওয়ারশ

ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় আজ বৃহস্পতিবার আবার মার্কিন হামলা পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি সৃষ্টি করা ইরানের চারটি ড্রোনও তাদের বাহিনী ভূপাতিত করেছে।

মার্কিন হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে (৭৩ দশমিক ১৫ পাউন্ড) পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল।

বিবিসি

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। খবর, সিএনএনের।

বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ইরান নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদন সত্য নয় এবং তারা যে এমওইউ প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যা প্রচার করছে তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। সত্য গুরুত্বপূর্ণ

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছিল, খসড়া সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশ থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রচারিত নথির অনেক তথ্য বাস্তব আলোচনার সঙ্গে মেলে না। যদিও ওয়াশিংটন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধুমাত্র এমন একটি চুক্তি করবেন যা আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো হবে এবং যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

উল্লেখ্য, চলমান আলোচনা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

খনিজ সম্পদ ও বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি কাঠামোগত সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

নয়াদিল্লিতে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। রুবিও বর্তমানে চার দিনের ভারত সফরে রয়েছেন।

নিরাপত্তা জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আগে রুবিও কয়েক দিন ভারতে অবস্থান করেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এই জোটের সদস্য। মঙ্গলবার কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও খনিজ সম্পদ নিয়ে আলাদা একটি কাঠামোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।

ঘোষিত এই কাঠামো এবং ভারতের খনিজ মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

অত্যাবশ্যকীয় খনিজ কী এবং এর গুরুত্ব কেন?

ব্যাটারি, ঘড়ি, সেমিকন্ডাক্টর ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে এসব খনিজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব উপাদান তাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে এসব খনিজের সরবরাহব্যবস্থা সহজেই ব্যাহত হতে পারে।

নিকেল, কোবাল্ট, লিথিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও জিংক—এ জাতীয় খনিজের মধ্যে অন্যতম। অন্তত ১২টি খনিজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া আরও ২৯টি খনিজের চাহিদার অন্তত অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে মেটায়।

অত্যাবশ্যকীয় খনিজের মধ্যে ১৭টি বিরল খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যায় সারণির ১৫টি ল্যান্থানাইডসহ স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদানের ১২টির মজুত চীনে রয়েছে। এসব বিরল খনিজের বিশেষ চৌম্বকীয় গুণ রয়েছে। স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এগুলো অপরিহার্য।

এই চুম্বক শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদক, ইলেকট্রনিকস এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির হার্ডওয়্যারের মূল যন্ত্রাংশ তৈরিতেও এসব বিরল খনিজ ব্যবহৃত হয়।

বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণের খরচ অনেক বেশি। এসব খনিজ উত্তোলনে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এতে বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হয়।

বর্তমানে বিশ্বের বিরল খনিজ সরবরাহের সিংহভাগই চীনের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বের ৬০ শতাংশ বিরল খনিজ চীনেই রয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে এসব খনিজ প্রক্রিয়াকরণের ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে দেশটি।

এসব খনিজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নির্ভরতা কমাতে চাইছে। তাই তারা আমদানির উৎস বৃদ্ধি করতে সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওডিশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ বা বিরল খনিজ অঞ্চল তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১ এপ্রিল থেকে এই অর্থবছর শুরু হয়েছে। এসব এলাকা হবে বিরল খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র।
 

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অত্যাবশ্যকীয় খনিজ কাঠামো চুক্তি কী

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই কাঠামোগত চুক্তির লক্ষ্য হলো খনিজ সম্পদ খাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এর আওতায় খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং এ–সংক্রান্ত বিনিয়োগ জোরদার করা হবে।

ভারতের এক বিবৃতিতে গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত একটি খনিজ সম্মেলনের কথা বলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সেই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। একই মাসে ভারত সেমিকন্ডাক্টর ও এআই সরবরাহব্যবস্থা–সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামের একটি উদ্যোগে যোগ দেয়।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা রক্ষা করতে কাজ করবে। বাজারে চাপ সৃষ্টি বা একক দেশের একচেটিয়া আধিপত্য কমানোই এর মূল লক্ষ্য।’

তবে বিবৃতিতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত বা এই সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ত্রী জ্যানেটকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২৩ মে, ২০২৬
ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ত্রী জ্যানেটকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২৩ মে, ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

ভারতের কাছে কোন কোন বিরল খনিজ রয়েছে

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারত সরকার ৩০টি খনিজকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে চিহ্নিত করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমনি, বেরিলিয়াম, বিসমাথ, কোবাল্ট, তামা, গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম, গ্রাফাইট, হাফনিয়াম, ইন্ডিয়াম, লিথিয়াম, মলিবডেনাম, নাইওবিয়াম, নিকেল, প্লাটিনাম গ্রুপ এলিমেন্ট, ফসফরাস, পটাশ, বিরল খনিজ, রেনিয়াম, সিলিকন, স্ট্রনশিয়াম, ট্যানটালাম, টেলুরিয়াম, টিন, টাইটানিয়াম, টাংস্টেন, ভ্যানাডিয়াম, জিরকোনিয়াম, সেলেনিয়াম ও ক্যাডমিয়াম।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টন মোনাজাইট রয়েছে। এটি বিরল খনিজের অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। ভারত সরকারের হিসাবে, এই মোনাজাইটে বিরল খনিজ অক্সাইডের (আরইও) পরিমাণ ৭২ লাখ ৩০ হাজার টন। বিপরীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, চীনের কাছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টন আরইও মজুত আছে। এটি বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক।

মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসন (আইটিএ) এ বছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে মাত্র চারটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উৎপাদন করে। এগুলো হলো তামা, গ্রাফাইট, ফসফরাস ও টাইটানিয়াম। আইটিএর মতে, খনিজ অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির অভাবে ভারত পিছিয়ে আছে।

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওডিশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১ এপ্রিল এই অর্থবছর শুরু হয়েছে। এসব এলাকা হবে বিরল খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র। এখানে গবেষণার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উচ্চমানের স্থায়ী চুম্বক তৈরি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে মাত্র চারটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উৎপাদন করে। এগুলো হলো তামা, গ্রাফাইট, ফসফরাস ও টাইটানিয়াম। আইটিএর মতে, খনিজ অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির অভাবে ভারত এ খাতে পিছিয়ে আছে।
 

কোয়াড বিরল খনিজ উদ্যোগ কী

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বহুপক্ষীয় নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে খনিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, কোয়াডভুক্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই উদ্যোগে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ঋণ, গ্যারান্টি, ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই তহবিল সংগ্রহ করা হবে। খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পে এই অর্থ খরচ করা হবে। মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোই এর মূল লক্ষ্য।

কোয়াড দেশগুলো খনিজ উত্তোলনের অনুমতি ও লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কারিগরি তথ্য বিনিময়েও একমত হয়েছে।

সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তারা খনিজ সম্পদ পুনরুৎপাদন ও পুনরুদ্ধারেও কাজ করবে। কোয়াডভুক্ত দেশ এবং সমমনা দেশগুলোর মধ্যে খনিজ পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র আর কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে

গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রিকো ডিকে খনিজ উত্তোলনে ১২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত খনিজ সম্পদবিষয়ক এক বৈঠকে ১১টি দেশের সঙ্গে কাঠামো চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, কুক আইল্যান্ডস, ইকুয়েডর, গিনি, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও উজবেকিস্তান।

এ ছাড়া গত এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ফালাবোরওয়া রেয়ার আর্থ প্রজেক্ট’-এ ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আল–জাজিরা

গাজা উপত্যকায় গতকাল মঙ্গলবার এক হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার নতুন কমান্ডার মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। এর কিছুদিন আগে একই ধরনের আরেক হামলায় তাঁর পূর্বসূরি নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গাজা নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ত বাজার এলাকাগুলোর একটিতে এক আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। এতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, কয়েক মাস ধরে ওদেহ–এর গতিবিধির ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। ওদেহ যেসব ভবনে আত্মগোপন করে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, হামলায় ওদেহ, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হয়েছেন।

অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই সহিংসতা চলছে।

মঙ্গলবার গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-কায়ালি ভবনের ওপরের তিনটি তলা হামলার শিকার হয়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তখন আশপাশের রাস্তাগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে প্রায় একই সময়ে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, হামলার আগে তিনি আকাশে একটি হেলিকপ্টারের চক্কর দেওয়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন আর আশপাশে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছেন।

ইসরায়েলের উগ্রপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ ও নিরাপত্তা বাহিনী শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ওদেহকে হত্যা করতে চালানো যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে থাকা কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। সেগুলো তাঁর আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাঁর এবং সংগঠনে থাকা সহযোগীদের চলাচল শনাক্ত করতে কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছিল।

পরে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে ওদেহ ও তাঁর স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ওদেহর ছেলে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজ বুধবার সকালে তিনি মারা যান।

এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওদেহ–এর পূর্বসূরি ইজ আদ–দীন আল–হাদ্দাদ নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একটি সূত্রের মতে, সেই হামলাও একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং এতে অন্তত তিনজন নিহত হন।

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা। তবে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি–সংক্রান্ত আলোচনা অটল আছে বলে মনে হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক কর্মকাণ্ড’ ও ‘যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, এই ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেওয়া হবে। তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে এখনো সরে আসেনি ইরান।

ওয়াশিংটন, তেহরান ও জেরুজালেমের কট্টরপন্থীরা এখন আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁরা নিজ নিজ দেশের আলোচকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছেন। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও তেমনই একজন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করা উচিত হবে না।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সর্বশেষ এ হামলায় ইরানের চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী হামলার জবাব দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, পাল্টা হামলার কারণে চুক্তির শেষ মুহূর্তের আলোচনায় কোনো বিঘ্ন ঘটুক, তা তারা চায় না। তবে নতুন করে সংঘাতের খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএএফপি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মেরিল্যান্ডের অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘ক্যাম্প ডেভিড’-এ মন্ত্রিসভার বিরল বৈঠক ডেকেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর এটি ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের দ্বিতীয় সফর।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল মঙ্গলবার দোহায় দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা এবং সেগুলো ইরানি অ্যাকাউন্টে ফেরত আনার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে আলাদাভাবে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেল বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বিনিময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের মতো করে নৌ চলাচলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাটাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে আলাদাভাবে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেলবন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বিনিময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের মতো করে নৌ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাটাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

এই স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হয়তো যুদ্ধের অবসান ঘটাবে, তবে তা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে না। তা ছাড়া এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ, সব পক্ষই এ চুক্তির মধ্য দিয়ে নিজ নিজ দেশের জনগণকে দেখাতে চাইবে, যুদ্ধের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি।

ওয়াশিংটন, তেহরান ও জেরুজালেমের কট্টরপন্থীরা এখন আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁরা নিজ নিজ দেশের আলোচকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছেন। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও তেমনই একজন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করা উচিত হবে না।

তবে চলতি সপ্তাহে বিপুল ভোটে আবারও স্পিকার নির্বাচিত হওয়া গালিবাফ আপাতত বিরোধীদের পাশ কাটিয়ে চলছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর মূল মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়ার ওপর। এটিই আপাতত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ বড় বিরোধ।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার চরম অভাব রয়েছে। গালিবাফের সহযোগীরা সাফ বলে দিয়েছেন, জব্দ করা অর্থ আগে ফেরত পেতে হবে। তা না হলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ বা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি,ফাইল ছবি: এএফপি
 

কাতারে অনুষ্ঠিত আলোচনায় জব্দকৃত অর্থের বিষয়টির বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আহমদ বাখশাইশ আরদেস্তানি দাবি করেছেন, কাতার থেকে রাশিয়ার একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ইরানে পাঠানোর একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তা ভন্ডুল করে দেয়।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছেন আরদেস্তানি। তিনি বলেন, ট্রাম্পের প্রধান আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ দোহা ও দুবাইয়ের যেসব হোটেলে থাকেন, সেগুলোর অবস্থান ইরান জানে। আবার যুদ্ধ শুরু হলে তাঁদের নিশানা করা হতে পারে।

লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জব্দ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাইছে তেহরান। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে লেবাননের উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। এতে যুদ্ধ থামার বদলে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

পবিত্র হজের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেন, ইতিহাস এখন ইরানের পক্ষে মোড় নিচ্ছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কাতারে আলোচনার শুরুর প্রাক্কালে ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে কাতারে গেছে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর হুমকি রুখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। তবে সেন্টকম এই হামলার বিস্তারিত তথ্য বা সুনির্দিষ্ট স্থানের কথা জানায়নি।

অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের এই শহর হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪২ মাইল) দূরে অবস্থিত।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্যেই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির বিষয়ে এখনো আশা থাকলেও এটি সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে।

গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া মতবিরোধের ‘বড় একটি অংশ’ তারা সমাধান করেছেন। তবে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না।

সর্বশেষ হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে

সোমবার রাতের শেষ ভাগে আল–জাজিরাকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স। এতে তিনি দাবি করেছেন, ‘হামলার নিশানার মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র। পাশাপাশি মাইন বসানোর চেষ্টায় থাকা ইরানি নৌকাগুলোও আমাদের নিশানায় ছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি তারা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারত সফরে আছেন। তিনিও জানিয়েছেন, মাইন বসানোর চেষ্টায় থাকা নৌকা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে এই হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে মাইন বসানোর জন্য ইরানের সামরিক বাহিনীকে দুষছে ওয়াশিংটন। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পারাপার হয়।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জয়পুরে বিমানে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। তিনি বলেন, বিশ্বের জ্বালানি চলাচলের অন্যতম প্রধান এই পথটি বর্তমানে ইরানের অঘোষিত অবরোধের মুখে রয়েছে। ‘যেভাবেই হোক’ এই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।

কূটনৈতিক দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘আরও কয়েক দিন লাগতে পারে’। তার এই কথায় দ্রুত সংঘাত অবসানের আশা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এতে লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবেই’ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হতে হবে। তা না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’

মাত্র কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দামও আকাশ ছুঁয়েছে। তাই ট্রাম্পের ওই ঘোষণায় দ্রুত যুদ্ধ শেষের আশা তৈরি হয়েছিল। এর পরপরই নতুন করে এই উত্তেজনা বাড়ল।

হামলা নিয়ে ইরান কী বলছে

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমান ও আরেকটি ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তবে এ ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ‘বৈধ এবং নিশ্চিত’ অধিকার ইরানের রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলের হরমুজগড় প্রদেশে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই আক্রমণাত্মক ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট সব পরিণতির জন্য মার্কিন প্রশাসন দায়ী থাকবে।

মঙ্গলবার হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনিও হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঢাল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য আর কাজে আসবে না। অশুভ শক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।

সারি সারি দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ভালিআসর স্কয়ার, তেহরান, ইরান। ২৬ মে, ২০২৬
সারি সারি দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ভালিআসর স্কয়ার, তেহরান, ইরান। ২৬ মে, ২০২৬, ছবি: এএফপি
 

সোমবার ইরানের বার্তা সংস্থাগুলো একটি খবর প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাহায্যে ‘শত্রুপক্ষের’ একটি স্টিলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল, তা তারা উল্লেখ করেনি।

ইরানি কয়েকটি সূত্র আল–জাজিরাকে একটি তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ হামলার আগেই সমুদ্রে একটি নৌযানকে নিশানা করেছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সূত্রগুলোর মতে, ওই হামলায় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনায় বেশ অগ্রগতি লাভ করেছে। তবে খুব শিগগির বড় কোনো সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তারা।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, ‘আলোচনায় থাকা বিষয়গুলোর বড় একটি অংশে আমরা একমত হয়েছি। এটি বলা একেবারেই সঠিক হবে। তবে এর মানে এই নয়, একটি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এমনটা কেউ দাবি করতে পারবে না।’

তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই আরও জানান, ‘এই মুহূর্তে’ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো পক্ষই আলোচনা করছে না। আপাতত যুদ্ধ থামানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

কূটনীতির মাঠে কী ঘটছে

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা এখনো চলছে।

চার দিনের চীন সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে রাজি করানো জরুরি। এ জন্য চীনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ দিচ্ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই শীর্ষ বৈঠকের আগেই তারা জানায়, বেইজিংয়ের সাহায্যের আর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই।

এর আগে সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছায়। স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে থাকা বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা সেখানে গেছেন। জানা গেছে, এই প্রতিনিধিদলে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আরও আছেন পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে একটি পোক্ত চুক্তি ছাড়া তিনি অন্য কিছু মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। দোহা সফররত এই প্রতিনিধিদলে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতিও রয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হতে হবে। তা না হলে কোনো চুক্তিই হবে না। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরব, গোলাগুলি চলবে। এবারের আক্রমণ হবে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী। আর কেউই এমনটা চায় না।’

শান্তি আলোচনার সঙ্গে আরেকটি বিষয়জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তিনি চাইছেন, সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান আব্রাহাম চুক্তিতে সই করার প্রতিশ্রুতি দিক। মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেই এই চুক্তির শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এমন হতে পারে, এক বা দুটি দেশের এটি না করার পেছনে হয়তো কোনো কারণ আছে। সেটি মেনে নেওয়া হবে। তবে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিকে একটি ঐতিহাসিক রূপ দিতে বেশির ভাগ দেশেরই প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম হওয়া উচিত।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তি সই হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তবে আরব দেশগুলো জানিয়েছে, ‘দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান’-এর আওতায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই কেবল তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে।

শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ তাহলে কী

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল–জাজিরার অ্যালান ফিশার খবর পাঠিয়েছেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছাতে উদগ্রীব। তবে এই হামলার কারণে যুদ্ধ শেষের চলমান আলোচনা লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফিশার বলেন, ‘এমন ছোটখাটো আরও বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ঠিক পরেই। তবে ট্রাম্প তখন জানিয়েছিলেন, এগুলোকে তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে ধরছেন না।’

ফিশার আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব সামান্যই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই অভিযানের মাত্রা ঠিক কতটা, তা আমরা জানি না। তাই, এই হামলা আসলেই কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা কি না, তা বলা কঠিন।’

আল–জাজিরা

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা ও এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চিরশত্রু দেশগুলোও এখন একটি শান্তিচুক্তির পক্ষে একজোট হয়েছে। ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে তেল আবিব সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি খসড়া চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এমন এক সময়েই ঘটছে, যখন ওই অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু ক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছে। বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে, হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক উন্মুক্ত করতে কিংবা তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অবশ্য এ অঞ্চলে তেহরানের বন্ধু খুব কমই আছে। তবে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে যাওয়ার কারণে প্রতিবেশীরা বাধ্য হয়েই তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতার পথ খুঁজছে।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। মুসানদাম, ওমান, ৬ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। মুসানদাম, ওমান, ৬ মে ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

লন্ডনের কিংস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্রে) লাখ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ওয়াশিংটন যেভাবে সবার আগে ইসরায়েলকে রক্ষা করেছে, এ ঘটনা তাদের হতবাক করেছে।

আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘আমরা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের শেষ দিনগুলো দেখছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার ওপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মোহ পুরোপুরি কেটে গেছে।’

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য গত সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারা ইরানে যান। তাঁদের এ চূড়ান্ত চেষ্টার পরই একটি খসড়া চুক্তিতে সবাই একমত হন। গত শনিবার আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাঁরা তাঁকে এমন একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হবে, হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ৬ মে ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ৬ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের আগে এসব দেশ ওয়াশিংটনের কাছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তির কাছে হেরে গিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে পেছনে ফেলতে পেরেছে। নেতানিয়াহুও একই দিনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন ঘোষণা দিয়েছেন যে চুক্তির বিষয়ে ‘অনেকটাই আলোচনা হয়ে গেছে’।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে ‘আমি যা বলব, তিনি তা-ই করবেন।’ গত সোমবার টাইমস অব ইসরায়েল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণী খবরের শিরোনাম ছিল, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিল, আর এখন সাইডলাইনে থেকে তা শেষ করছে’।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং নিজেরাও বিমান হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু এখন তারাও সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের পাশাপাশি শান্তিচুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ইরানে যুদ্ধ বন্ধে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদ
ইরানে যুদ্ধ বন্ধে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদছবি: রয়টার্স

এ অঞ্চলে একমত হওয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার প্রভাব বিস্তারের তিক্ত লড়াই কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে এ দুই দেশের শাসকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে।

যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ট্রাম্পের বিখ্যাত আব্রাহাম চুক্তিতে নতুন করে অন্য দেশগুলোর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা। গত শনিবার কনফারেন্স কলে ট্রাম্প যখন আরও দেশকে এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন সবাই চুপ ছিল বলে জানা গেছে। এ মধ্যস্থতাপ্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে পাকিস্তান (ইসলামাবাদ)। তারা বলেছে, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভেদ থাকলে তা কেবল ইসরায়েলেরই সুবিধা করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, ইসলামাবাদের আসল সাফল্য হলো, অন্যান্য দেশকেও শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারা। তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতার নিজ নিজ জায়গা থেকে এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন জুগিয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাজধানী তেহরানে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাজধানী তেহরানে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ছবি: রয়টার্স

মাসুদ খান বলেন, পাকিস্তান একা এ পথে এগোতে পারত না। নিজেদের মধ্যস্থতাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে তাদের চারপাশের সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে এক ডজনের বেশি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আছে এবং তা ভবিষ্যতেও থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন নিজেদের অঞ্চলে এবং এর বাইরে নতুন নিরাপত্তাসঙ্গীর খোঁজ করছে, যেখানে ইউরোপ আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যুদ্ধের সময় সৌদি আরবকে রক্ষায় সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।

অন্যদিকে, মিসরের সবচেয়ে বড় আর্থিক সহায়তাকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিসরের সৈন্য ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে একে অপরের ওপর হামলা না করার চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুল খালেক আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দেশ চেয়েছিল ইরানের কাছে যেন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন না থাকে, তারা যেন প্রক্সি যুদ্ধ না করে এবং তাদের কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম না থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা অসম্ভব বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানের হামলার পর জেবেল আলী বন্দর থেকে উড়ছে ধোঁয়া। দু্বাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের হামলার পর জেবেল আলী বন্দর থেকে উড়ছে ধোঁয়া। দু্বাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১ মার্চ ২০২৬ছবি: এএফপি

আবদুল্লাহ বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত খুবই বাস্তববাদী একটি দেশ। ইরান এখনো বড় এক হুমকি। তবে ২০ বছর ধরে আমরা যে ক্ষমতাশালী ইরানকে দেখেছি, তারা এখন আর তেমন নেই।’

আবদুল্লাহ বলেন, নতুন এক মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ঘটছে, যেখানে দুর্বল হয়ে পড়া তেহরানের শূন্যতা পূরণ করতে তুরস্ক, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছে।

নতুন উদীয়মান এক অক্ষ গড়ে উঠছে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে, যারা গত বছর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এ ব্যবস্থার মধ্যে তুরস্ক, কাতার ও মিসরকেও অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে, যাকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। অন্যপাশে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি জোট, যা ‘আইটুইউটু’ গ্রুপ নামে পরিচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: রয়টার্স

লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো হিসাব কষে দেখেছে যে তেহরানের সরকার বদল করাটা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। আর এমনটা কেবল ইসরায়েলই চেয়েছিল।

হেলিয়ার আরও বলেন, ট্রাম্পও ভালোভাবে বুঝে গিয়েছিলেন যে এ যুদ্ধ থেকে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত ফল পাবেন না। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাঁকে চুক্তি মানতে জোর করেনি। বরং এই চুক্তিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন আছে, ট্রাম্পকে শুধু এমনটা বলার সুযোগ করে দিয়েছে।

হেলিয়ার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে তৈরি হচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মুহূর্তে হয়তো ওয়াশিংটন তাদের পাশে থাকবে না।

দ্য গার্ডিয়ান

২০০৬ সালের ২৬ মে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফানা’। আজ সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্ণ হলো। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই দশক। সময়ের হিসেবে ২০ বছর। কিন্তু প্রেম, প্রতারণা, দেশপ্রেম আর ট্র্যাজেডির মিশেলে তৈরি এই ছবির আবেগ এখনো বলিউডপ্রেমীদের মনে একই রকম তাজা। একদিকে আমির খানের রহস্যময় আকর্ষণ, অন্যদিকে কাজলের আবেগঘন অভিনয়—সব মিলিয়ে ‘ফানা’ ছিল ২০০০–এর দশকের অন্যতম আলোচিত ও সফল চলচ্চিত্র।

দুই দশক পরও কেন বিশেষ ‘ফানা’
‘ফানা’ শুধু একটি প্রেমের গল্প ছিল না, এটি ছিল প্রেম আর আদর্শের সংঘাতের গল্প। বলিউডে তখন রোমান্টিক ছবির অভাব ছিল না, কিন্তু ‘ফানা’ দর্শকদের সামনে এমন এক নায়ককে হাজির করেছিল, যিনি একই সঙ্গে প্রেমিক, কবি এবং সন্ত্রাসী। সেই সময়ের মূলধারার বলিউডে এমন ধূসর চরিত্র খুব বেশি দেখা যেত না।
ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন কুনাল কোহলি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল যশরাজ ফিল্মস। আর ছবির গান, সংলাপ, কাশ্মীরি আবহ আর আবেগঘন নির্মাণ দ্রুতই এটিকে কাল্ট মর্যাদা এনে দেয়।

প্রেম, মিথ্যা আর বিশ্বাসঘাতকতার জটিলতা
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র রেহান কাদরি, যার ভূমিকায় ছিলেন আমির খান। দিল্লির এক পর্যটক গাইড রেহান নিজেকে পরিচয় দেয় হাসিখুশি, রোমান্টিক এক তরুণ হিসেবে। তার প্রেমে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাশ্মীরি তরুণী জুনি চরিত্রে কাজল।

দিল্লিতে কয়েক দিনের পরিচয় দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু সম্পর্কের ঠিক পরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। সবাই জানতে পারে, রেহান আসলে একজন জঙ্গি, যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। জুনির জীবন ভেঙে পড়ে।

‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

এরপর গল্প এগোয় বহু বছর পর। সবাই ধরে নেয় রেহান মারা গেছে। কিন্তু এক দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় সে আশ্রয় নেয় জুনির বাড়িতেই—যেখানে জুনি এখন এক সন্তানের মা। রেহান নিজের পরিচয় গোপন রাখে। কিন্তু ধীরে ধীরে পুরোনো প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর সত্য একসঙ্গে সামনে আসতে থাকে।
‘ফানা’র সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এখানেই—এটি শুধু প্রেমের গল্প নয়, বরং নৈতিক দ্বন্দ্বের গল্প। একজন মানুষ কি একই সঙ্গে ভালোবাসতে এবং ধ্বংস ডেকে আনতে পারে? এই প্রশ্নই ছবিটিকে অন্য মাত্রা দেয়।

আমির–কাজল জুটির জাদু
ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আমির খান ও কাজলের প্রথম জুটি। নব্বইয়ের দশকে কাজল তখন বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের পর তিনি অনেকটাই পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। ‘ফানা’ ছিল তাঁর বড় প্রত্যাবর্তন।
অন্যদিকে আমির খান তখন পরীক্ষাধর্মী চরিত্রে ঝুঁকছেন। রেহানের চরিত্রে তিনি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক—যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
দর্শক ও সমালোচকেরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছিলেন তাঁদের রসায়নের। ছবির আবেগঘন দৃশ্যগুলো আজও বলিউডের সেরা রোমান্টিক মুহূর্তের তালিকায় জায়গা পায়।

গানগুলো আজও জনপ্রিয়
‘ফানা’র গান ছিল ছবির আরেক বড় শক্তি। জতিন–ললিতের সুরে তৈরি গানগুলো তখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

বিশেষ করে ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘মেরে হাত মে’, ‘দেশ রংগিলা’ ও ‘দেখো না’—এই গানগুলো এখনো নস্টালজিয়ার অংশ।

‘চাঁদ সিফারিশ’ গানটি তো একসময় প্রায় প্রতিটি পুরস্কার জিতে নেয়। গানগুলোর ভিজ্যুয়াল, কাশ্মীরি লোকেশনের ব্যবহার এবং আবেগঘন কথাগুলো ছবির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

মুক্তির আগে বিতর্ক
ছবিটি মুক্তির আগেই বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আমির খান। নর্মদা বাঁধ ইস্যুতে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের গুজরাটে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এর প্রভাব পড়ে ‘ফানা’র ওপরও।
গুজরাটের অনেক সিনেমা হল ছবিটি প্রদর্শন করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় বলিউডে বিষয়টি বড় আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই বিতর্ক ছবির ব্যবসায় বড় ক্ষতি করবে।
কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটে। বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পায়।

বক্স অফিসে ঝড়
‘ফানা’ মুক্তির পরপরই ভারত ও বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সে সময়কার হিসাবে এটি বছরের অন্যতম সর্বোচ্চ আয় করা বলিউড ছবিতে পরিণত হয়।
ভারতে ছবিটি ৫০ কোটির বেশি ব্যবসা করেছিল, যা তখন বিশাল অঙ্ক হিসেবে ধরা হতো। আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ছবিটির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ১০৫ কোটি রুপির বেশি আয় করে।

পর্দার পেছনের কিছু গল্প
ছবির শুটিংয়ের বড় অংশ হয়েছিল পোল্যান্ড ও ভারতে। কাশ্মীরের আবহ ফুটিয়ে তুলতে নির্মাতারা ইউরোপের কিছু তুষারাচ্ছন্ন লোকেশন ব্যবহার করেছিলেন।
আরেকটি মজার তথ্য হলো ছবিতে রেহানের চরিত্রটি নিয়ে শুরুতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। আমির খান চরিত্রটিকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত করতে চেয়েছিলেন। ফলে স্ক্রিপ্টে কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়।
কাজলও ছবিটির জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর শরীরী ভাষা ও চোখের অভিব্যক্তি কীভাবে হবে, তা নিয়ে তিনি আলাদা করে কাজ করেছিলেন।

কী বললেন কাজল
এদিকে সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্তিতে স্মৃতিকাতর কাজল। নিজের ফেসবুকে সিনেমাটির কিছু স্টিল ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘“ফানা”র ২০ বছর…তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর, আর আমি ছিলাম...। তবে সবচেয়ে বেশি যা মনে পড়ে, তা হলো অপূর্ব সুন্দর পোল্যান্ড। মাইনাস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, দারুণ সব বন আর ফুটপাতে চলা স্লেজ। আর অবশ্যই, সেই সময় সবাই যখন মোটা গুজ ডাউন জ্যাকেট পরে ঘুরছিল, তখন আমি পাতলা সালোয়ার–কামিজ পরে শুটিং করছিলাম। সত্যিই, কী দারুণ এক স্মৃতি!’

আইএমডিবি ও বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

আরাফাত

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ‘আত্মরক্ষা’ এবং ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ জারি রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় এই হামলা চালাল, যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এই উপকূলীয় শহরটিতে ইরানের একটি বড় নৌ ঘাঁটি রয়েছে।

এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।

গত সপ্তাহান্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এর পরপরই তিনি সুর বদল করেন এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের এই বিষয়ে তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দেন।

বিবিসি