যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে (মসজিদ) গুলির ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ছিলেন। দুজনের বয়স ২০–এর নিচে। তাঁদের একজন নিজের বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।

সান ডিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় ওই মসজিদের অবস্থান। এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। ইসলামিক সেন্টারটিতে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে শিশুদের ইসলামি বিদ্যালয়।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার জোহরের নামাজের আগে গুলির এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই সেন্টারের নিরাপত্তাপ্রহরীসহ তিনজন নিহত হন। গুলিতে প্রাণ যায় সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীরও।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ বিবেচনায় নিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, আরেকজনের ১৯। দুজনই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ১৭ বছর বয়সের ওই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের গাড়িটিও নেই। সেই সঙ্গে কয়েকটি অস্ত্র খোয়া গেছে।

পুলিশপ্রধান বলেন, বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা দেখে প্রাথমিক তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন, ওই কিশোর অন্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কেননা, আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটি অস্ত্র নেবে না।

মায়ের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া এবং ‘বড় পরিসরে’ হুমকির বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশ ওই ‘নিখোঁজ কিশোর’কে (১৭ বছর বয়সী) খুঁজছিল বলেও জানান সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান।

গুলির ঘটনার পর পুলিশের সতর্ক অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোয়, ১৮ মে ২০২৬
গুলির ঘটনার পর পুলিশের সতর্ক অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোয়, ১৮ মে ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

স্কট ওয়াহল বলেন, ওই মা পরে তাঁর ছেলের রেখে যাওয়া একটি ‘চিরকুট’ (সুইসাইড নোট) খুঁজে পাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।

পুলিশপ্রধান স্কট বলেন, চিরকুটে কী লেখা রয়েছে, তা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।

সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর বিস্তারিত পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। এমনকি গুলির ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।

স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীদের পরিবারকে জানিয়েছি। এখনই তাঁদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।’

ইসলামিক সেন্টারটির বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের সবাই এ ঘটনায় অক্ষত আছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। তথ্য জানানোর জন্য একটি বিশেষ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিএনএন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার তিনি ইরানে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় তিনি হামলা থেকে সরে এসেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর অনুরোধেও তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে ইরান উপসাগরীয় দেশে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগেও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ বন্ধে তাঁর চুক্তির রূপরেখা ইরান প্রত্যাখ্যান করায় তিনি মঙ্গলবার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবারে ইরানের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করতে অনুরোধ জানায়। সমঝোতায় পৌঁছাতে এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে বলেও ট্রাম্প জানান।

তবে ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীকে তিনি ইরানে বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন। যদি চুক্তি না হয়, তাহলে এক মুহূর্তের নির্দেশে হামলার জন্য প্রস্তুতি রাখছেন মার্কিন সেনারা।

সিএনএনের খবরে জানানো হয়, গত শনিবার ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের এক দিন পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে ‘দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত এগোতে হবে। না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা পিছু হটতে প্রস্তুত। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। গুলিতে প্রাণ গেছে সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীরও। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ বিবেচনায় নিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর। আরেকজনের ১৯ বছর। দুজন আবার গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

[caption id="attachment_274264" align="alignnone" width="785"] ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের গুলির পর দ্রুত বের হয়ে আসছেন আতঙ্কিত অভিভাবক ও শিশুরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোয়, ১৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স[/caption]

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই এ বিষয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। তথ্য জানানোর জন্য একটি বিশেষ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

এফবিআইয়ের কর্মকর্তা মার্ক রেমিলি জানান, এ ঘটনায় পুলিশের দিক থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি।

সান ডিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় ওই ইসলামিক সেন্টারের অবস্থান। সেখানে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটি রয়েছে। আরও রয়েছে শিশুদের ইসলামি বিদ্যালয়। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার জোহরের নামাজের আগে গুলির এ ঘটনা ঘটে।

শহরের পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ‘যেকোনো সম্প্রদায়ের জন্যই এটি ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।’

ইসলামিক সেন্টারটির বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের সবাই এ ঘটনায় অক্ষত আছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের একজন ওই সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন।

গতকাল বিকেলে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন বিপদ কেটে গেছে। শিশুরা নিরাপদ আছে—এটা ভালো খবর।’

সাংবাদিকদের সামনে মেয়র আরও বলেন, ‘সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এ শহরে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের গুলির ঘটনায় পুলিশের সতর্ক অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোয়, ১৮ মে ২০২৬
ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের গুলির ঘটনায় পুলিশের সতর্ক অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোয়, ১৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় শার্প মেমোরিয়াল হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কতজন সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেই সংখ্যা জানাননি তিনি।

ইসলামিক সেন্টারটির পরিচালক ও ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনোই এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। এ মুহূর্তে আমরা দোয়া করছি এবং আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি। যেকোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।’

গুলিতে হতাহতের এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। প্রতিষ্ঠানটির সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রার্থনা কিংবা শিশুদের স্কুলে পড়ার সময় কাউকেই যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে না হয়।’

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসাম বলেছেন, ‘আজকের গুলির ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবার আর শোকসন্তপ্ত মানুষদের প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। আমরা কোনোভাবেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাস বা ভীতি–প্রদর্শন সহ্য করব না।’

ইসলামিক সেন্টারে গুলির ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেকও জানানো হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে ‘একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এ ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলসের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও উপাসনালয়ে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকার পরও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শহরের মসজিদসহ উপাসনালয়গুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কের পুলিশও।

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে একটি এয়ার শো চলাকালে মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান। সংঘর্ষের পর বিমান দুটি মাটিতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হলেও বিমানে থাকা চারজন ক্রু প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

রোববার (১৭ মে) আইডাহোর মাউন্টেন হোম এয়ার ফোর্স বেসে অনুষ্ঠিত ‘গানফাইটার স্কাইজ এয়ার শো’-তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আয়োজকদের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ঘাঁটির উত্তর-পশ্চিমে প্রায় দুই মাইল দূরে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে জড়ানো বিমান দুটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান। বিমান দুটিতে থাকা চারজন ক্রুই সময়মতো ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিমান দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে পড়ে যায়। মাটিতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় চারটি প্যারাশুট ধীরে ধীরে নিচে নামতে দেখা যায়।

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমান দুটি ওয়াশিংটনের হুইডবি আইল্যান্ড ঘাঁটিভিত্তিক ছিল।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই এয়ার শো বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সামরিক ঘাঁটিতে লকডাউন জারি করা হয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

ভারতের রাজস্থানে দিল্লিগামী ঐতিহ্যবাহী রাজধানী এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (১৭ মে) ভোর পৌনে ছয়টার দিকে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির বি-১ বগিতে এই আগুন লাগে। তবে চালক ও রেলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই আক্রান্ত বগিতে ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনের ভেতর ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেলকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে সব যাত্রীকে নিরাপদে বের করে ট্রেনের অন্য বগিতে স্থানান্তর করেন। এরপর আগুন যেন পুরো ট্রেনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি বাকি অংশ থেকে আলাদা করে সেটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত বগিটি থেকে তীব্র কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আগুনের তাপে লাইনের পাশের কয়েকটি গাছেও আগুন ধরে গেছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ট্রেনের বাকি বগিগুলোতে বসিয়ে কোটা স্টেশন পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ট্রেনটিতে নতুন একটি অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হবে। এরপর যাত্রীরা আবার নিজ নিজ আসনে বসে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।

১২৪৩১ নম্বরের এই রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শুক্রবার কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেনটির পৌঁছানোর কথা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে ট্রেনটি ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিল এবং গন্তব্য দিল্লি থেকে তখনো প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল। 

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, এই ভাইরাসে ‘মৃত্যুর হার অনেক বেশি’। তা ছাড়া এর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই।

অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রক্তক্ষরা জ্বরে এখন পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৩৩৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি আফ্রিকা) সর্বশেষ তথ্যে এ কথা জানিয়েছে।

চিকিৎসা সহায়তাকারী সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবকে তারা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। 

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা শনিবার বলেন, ‘ভাইরাসের এই বুনদিবুগিও ধরনের কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।’

‘এই ধরনে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।’

কর্মকর্তারা শনিবার জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন।

গত শুক্রবার রাতে উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও একই রকম একটি ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় মারা গেছেন। সপ্তাহের শুরুতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর দিনই তাঁর মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, উগান্ডায় মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি ইবোলার বুনদিবুগিও ধরনে আক্রান্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে এই ধরনটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল।

বর্তমানে কেবল ইবোলার জায়ারে ধরনের জন্য টিকা পাওয়া যায়। এটি ১৯৭৬ সালে শনাক্ত হয়েছিল। ওই ধরনে মৃত্যুর হার আরও বেশি, প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ।

সিডিসি আফ্রিকা জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুক্রবার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে।

এই অঞ্চলে এক দেশের মানুষের অন্য দেশে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। এ কারণে ভাইরাসটি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এএফপির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আইজ্যাক নিয়াকুলিন্দা নামের স্থানীয় নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা মানুষকে মরতে দেখছি।’

‘অসুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখার কোনো জায়গা নেই। মানুষ বাড়িতেই মারা যাচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরাই তাদের মৃতদেহ সৎকার করছেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাম্বা জানান, এই প্রাদুর্ভাবের প্রথম রোগী ছিলেন একজন নার্স। গত ২৪ এপ্রিল তিনি ইবোলার উপসর্গ নিয়ে প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ার একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, রক্তক্ষরণ এবং বমি হওয়া।

এমএসএফ জানিয়েছে, তারা এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং কর্মী পাঠাচ্ছে।

এমএসএফ-এর জরুরি কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ট্রিশ নিউপোর্ট বলেন, ‘এত অল্প সময়ে আমরা যত আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা দেখছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এর সঙ্গে ভাইরাসটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য অঞ্চলে এবং এখন সীমান্তের ওপারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি

 গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জয় ভট্টাচার্য শুক্রবার বলেন, ‘এটি অনেক বড় একটি প্রাদুর্ভাব।’

 টিকা ও চিকিৎসার উন্নতির পরও গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলার কারণে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত আগস্টে দেশটির মধ্যাঞ্চলে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।

সে সময় অন্তত ৩৪ জন মারা গিয়েছিলেন। পরে ডিসেম্বরে ওই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলার সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ধারণা করা হয়, ইবোলা ভাইরাসের উৎপত্তি বাদুড় থেকে। এটি একটি মারাত্মক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এর কারণে শরীরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয় এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, গত ৫০ বছরে ইবোলার প্রাদুর্ভাবগুলোতে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে।

এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শারীরিক তরলের মাধ্যমে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়। তবে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরই কেবল আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যদের মাঝে এটি ছড়াতে পারে। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা থেকে বিমানে করে পাঁচ টন সুরক্ষাসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জানায়, ‘রোগের অনিশ্চয়তা এবং ভয়াবহতার কারণে, আক্রান্ত এলাকায় এটি কতটা ছড়াতে পারে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

১০ কোটির বেশি মানুষের দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো। আয়তনে এটি ফ্রান্সের চেয়ে চার গুণ বড় হলেও এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাই এত বড় পরিসরে চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন করা এই দেশে বেশ কঠিন একটি কাজ।

এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা ও ইরানি বাহিনীর আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

হোয়াইট হাউস বলেছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও সি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন ব্যাঘাত ঘটছে। চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দেশটির জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও তখন থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফক্স নিউজের হ্যানিটি শোতে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত হস্তান্তরের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে জনসংযোগ ছাড়া এটি খুব প্রয়োজনীয় বলে মনে করি না। তবে এটি আমাদের হাতে থাকলে স্বস্তি বোধ করব।’

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফ্রিকা থেকে পশুবাহী একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ বুধবার ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায়। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল। ভারত এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, জাহাজটির ১৪ ক্রুকে ওমানের কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।

ব্রিটিশ সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বিস্ফোরণ ঘটে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক আরেক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে ‘অননুমোদিত ব্যক্তিরা’ উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বেইজিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সি চিন পিং হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে এ নৌপথ ব্যবহারে কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন সি চিন পিং। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সি তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তাই যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাইছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় চীন ইরানের ওপর খুব বেশি চাপ দেবে না।

বেইজিং থেকে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চীন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এটি চীনের নিজেদের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

রয়টার্স

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠক (দ্বিতীয় দিনের বৈঠক) শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে বেইজিং ছাড়ছেন ট্রাম্প।

বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখা এ বৈঠকটি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার ‘অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার’ সমাধান করা হয়েছে।

তবে দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এমন মূল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বৈঠকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন সি চিন পিং। সি স্পষ্ট করে বলেছেন, চীন-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানই হলো ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বৈঠকে তিনি এবং সি চিন পিং ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তেহরানের কাছে কোনো ধরনের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়—এ মূল বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, এটি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের মোটেও নেই, কিংবা অন্তত চীনের যতখানি প্রয়োজন, মার্কিনদের ততখানি প্রয়োজন নেই।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের যুদ্ধ ‘কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।’

বৈঠকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন সি চিন পিং। সি স্পষ্ট করে বলেছেন, চীন-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানই হলো ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’।

বেইজিং সফরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বেইজিং সফরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: রয়টার্স

সি ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ সংবেদনশীল বিষয়টি যদি কোনোভাবে ভুল উপায়ে মোকাবিলা করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্টের এমন হুঁশিয়ারির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে।

সিএনএন
রয়টার্স

সবজির বাজারে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির জন্য গুণতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ পাওয়া যেত ১২০ টাকায়, আজ শুক্রবার ছুটির দিনে এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। পেপে, বেগুন, শসার দামও শতকের ঘরে।

দোকানদারদের দাবি, বৃষ্টিতে দেশের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সবজির যোগান কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া আর চাষের পাঙ্গাস মিলছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা কেজিতে। চাষের রুই-কাতলার দাম হাকা হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা। মিঠা পানির মাছের জন্য গুণতে হবে ৬শ' থেকে হাজার টাকা কেজি। মানভেদে চিংড়ি মিলছে ৮শ' থেকে ১৬শ' টাকা কেজিতে।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজার ইলিশের দেখা মিলছে। তবে, খুব কম ক্রেতারই এই মাছ কেনার সামর্থ্য আছে। এক কেজি আকারের নদীর ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৭শ' থেকে ৮শ' গ্রামের ইলিশ নিতে চাইলে, দিতে হবে দুই হাজার টাকা বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে। তখন দামও নাগালের মধ্যে আসবে।

এদিকে, ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সমিতি। এছাড়া উৎপাদন কম আর বৃষ্টির অজুহাত তো রয়েছেই।

ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৪০ টাকা আর দেশি মুরগী বিকোচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকাতেই।