আকাশসীমায় ড্রোন সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। ‘স্টর্ম শিল্ড’ নামে নতুন এই ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ) সিস্টেম ড্রোনকে শত্রুপক্ষের আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

মূলত, রাফায়েল ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এবং বিদেশে রফতানির জন্য অস্ত্র, সামরিক এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশ এবং উৎপাদন করে থাকে।

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে আয়োজিত এওসি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সম্মেলনে প্রযুক্তিটি প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আনা হয়। মূলত, শত্রুপক্ষের রেডার ফাঁকি দিয়ে প্রবেশকরা ড্রোনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' বা ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর ড্রোন সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। 

মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ২৪টি 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোন হারিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলেরও এক ডজনের বেশি ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি অস্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের দাবি, 'স্টর্ম শিল্ড' সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম (সব ধরনের অদৃশ্য সিগন্যাল কিংবা তরঙ্গ) পুরো রেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করে শত্রুপক্ষের রাডার ও সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে। এরপর বিভ্রান্তিমূলক ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনকে নিরাপদ রাখে।

এতে ব্যবহৃত হয়েছে ট্রান্সমিটার ও ডিজিটাল আরএফ মেমোরি প্রযুক্তি। একই প্রযুক্তি রাফায়েলের ‘লাইট শিল্ড’, ‘স্কাই শিল্ড’ এবং ‘এক্স-গার্ড’ সিস্টেমেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নতুন সংস্করণটি আকারে ছোট ও হালকা হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ড্রোনে সহজে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় স্টর্ম শিল্ড নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

 

বার্লিন থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে তিনি মার্কিন আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁরা একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

আলোচনাধীন চুক্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিনে বাড়ানোর প্রস্তাব, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনার কথা বলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘গঠনমূলক’ আলোচনা এগিয়ে চলছে, তবে ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে’।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’। তাঁর এ বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছিল যে শিগগিরই কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

এ সপ্তাহান্তে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষই একই সঙ্গে ‘খুব কাছে’ এবং ‘খুব দূরে’ রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়; বরং এতে কিছু জটিল বিষয় পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, জব্দ করা ইরানি তহবিল মুক্ত করার আহ্বান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি।

খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। দলের কিছু সদস্য প্রকাশ্যে বলছেন, এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাব দিতে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

এপ্রিলের শুরুতে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হয়। যুদ্ধবিরতির পর হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ইরান এখনো প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পন্ন, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত হয়, নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারও উল্লেখ করেন যে ইরানকে ‘বুঝতে হবে’ তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। অন্যদিকে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ট্রাম্প রোববার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও পেশাদারপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে; তবে তাদের বুঝতে হবে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি বা অর্জন করতে পারে না।’

মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে ‘তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য’ ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প।

বিবিসি

চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় আজ সোমবার, ৮ জিলহজ। আজ আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীরা পবিত্র মক্কা নগর থেকে মিনায় যাচ্ছেন।

এর আগে গতকাল রোববার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সোমবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হাজিদের তাঁবুনগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় নিয়ে যেতে মাঠপর্যায়ের এবং সব ধরনের কার্যক্রমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ সোমবার ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (তারবিয়ার দিন) পালনের জন্য হজযাত্রীরা মক্কার নিজ নিজ বাসস্থান থেকে মিনায় যেতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ হজযাত্রী যোগ দেবেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে হজযাত্রীরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে ও আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে করতে আজ ভোর থেকে তাঁবুর নগরী মিনার দিকে রওনা হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের নিজস্ব ক্যাম্পে যাতায়াতব্যবস্থা সাজাতে এবং পবিত্র স্থানগুলোতে দেওয়া সেবার মান তদারক করতে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের থাকার জায়গা ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনায় যাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করা; তাঁবুতে তাঁদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা; নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া এবং ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করা।

মিনায় তাঁবুতে হজযাত্রীরা
মিনায় তাঁবুতে হজযাত্রীরা, ফাইল ছবি: এএফপি
 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় মিনার ভেতরে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসেবার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এসব প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের অবস্থানের শুরুর দিনগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।

জিলকদ মাসের শুরু থেকে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের সফর সম্পন্ন করেছে। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র এই পরিদর্শনের আওতাভুক্ত থাকছে। এতে তাদের কাজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, নির্ধারিত নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যায় এবং যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা যায়।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি শাটল ট্রেনে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৮২ জন আহত হয়েছেন। 

রোববার (২৪ মে) সকালে কোয়েটার চামান ফাটকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া পুলিশ সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী জাফর এক্সপ্রেস নামের ওই শাটল ট্রেনটি ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রওনা হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে চামান ফাটকের কাছে পৌঁছালে ট্রেনটি লক্ষ্য করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং দুটি বগিতে আগুন ধরে উল্টে যায়। এ সময় ট্রেনের আশপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭ জনকে একটি সামরিক হাসপাতালে এবং ২৫ জনকে কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাতে জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রাক ও একটি ত্রাণ ট্রেন পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ৭০ কেজির বেশি বিস্ফোরকভর্তি একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা ব্যবহার করে এই নৃশংস হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও এর পেছনে কোন গোষ্ঠী জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

 

টোকিও থেকে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও গত সপ্তাহেই দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসার কথা জানিয়েছেন।

যুদ্ধ বন্ধের এই চুক্তি হলে তাতে কী কী বিষয় থাকতে পারে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনা চলমান।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

# যুদ্ধবিরতির এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল আদায় করা হবে না। তা ছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান।

# ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞায় কিছু ছাড় দেবে ওয়াশিংটন।

# ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করবে না—সেই প্রতিশ্রুতি দেবে দেশটি। তা ছাড়া ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ আরও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাবে।

# অবরুদ্ধ করা ইরানের বিভিন্ন তহবিল থেকে দেশটিকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

# ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করবে মার্কিন বাহিনী। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন।

দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন পরও বাড়ানো যেতে পারে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব খবর স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতিও প্রস্তাবে রয়েছে।

বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং 'প্রায় চূড়ান্ত' পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর, আল জাজিরার। 

শনিবার (২৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। 

ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে তিনি বলেন, চুক্তিটি এখনো মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি লেখেন, চুক্তির শেষ ধাপ ও বিস্তারিত বিষয়গুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।

এর আগে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

গত সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্পের অবস্থানে নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন।

এরপর কখনও তিনি উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও চুক্তি খুব কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানের মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকার একটি ছবিও পোস্ট করেন।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির শনিবার (২৩ মে) ইরান সফর শেষে দেশে ফিরে গেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে সফরটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার পথে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।

তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই দুই দফায় ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে, তবে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত। 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমলে বিশ্ববাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়েছেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকধারীর গোলাগুলি চলে। এ ঘটনায় বন্দুকধারী ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বরাতে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গুলির সময় একজন পথচারীও আহত হন। তবে তাঁর অবস্থা কেমন, তা জানা যায়নি।

[caption id="attachment_274758" align="alignnone" width="747"] হোয়াইট হাউসের কাছে আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন অস্ত্রধারী সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬, ছবি: এএফপি[/caption]

হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তাচৌকিতে ওই বন্দুকধারী গুলি ছোড়েন। বিবৃতিতে বলা হয়, সিক্রেট সার্ভিসের পুলিশ কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি ছোড়েন। বন্দুকধারী গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সিএনএনের খবরে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ও সেভেন্টিনথ স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের মোড়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, এক ব্যক্তি গুলি ছুড়ছেন—এমন খবর পায় সিক্রেট সার্ভিস। এরপর তাদের কর্মকর্তারা সেখানে গেলে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

হোয়াইট হাউসের কাছে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান সিএনএনের সাংবাদিকেরা। এরপরই সেখানে লকডাউন জারি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা।

এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। ঘটনার সময় নর্থ লন এলাকায় থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁরা হোয়াইট হাউসের ভেতরের সাংবাদিকদের যে যাঁর জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন।

ঘটনার পরপরই রাইফেল হাতে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা নর্থ লন এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁরা হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম আটকে দেন। পরে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার পরপরই লকডাউন তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।

হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬
হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, ২৩ মে ২০২৬ছবি: এএফপি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হোয়াইট হাউসের বাসভবনেই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস, ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। সেখানে তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গুলি চলার পর আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। তাঁরা সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সাধারণ মানুষকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে থাকব।’

এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াং। ভিডিওটিতে গুলি চলার মুহূর্তটি দেখা যায়। এ সময় তিনি মাথা নিচু করে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন।

ওই পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, ‘আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আইফোনে ভিডিও করছিলাম। ঠিক তখনই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল, একসঙ্গে অনেক গুলি ছোড়া হচ্ছে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলেন। আমরা এখন সেখানেই আছি।’

এর আগে ৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের কাছে সশস্ত্র এক ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়।

ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গুলিতে তিনি আহত হন।

গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময় এর আগে গুলির ঘটনা ঘটে। এক মাস পার না হতেই নতুন করে এই ঘটনা ঘটল। আগের ওই ঘটনার সময়ও গুলি চললে সাংবাদিক ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা করেছিলেন।

আগের ওই গোলাগুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন কোল টমাস অ্যালেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি হাতে শটগান নিয়ে দৌড়ে একটি নিরাপত্তাচৌকি পার হন। এ সময় পেছন থেকে ধাওয়া করা সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সঙ্গে তাঁর গুলি বিনিময় হয়। ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে তিনি অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

সিএনএন

পশ্চিমবঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কমিয়ে দু-দিন থেকে একদিন করা হয়েছে। নতুন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একইসঙ্গে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ছুটির তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সদরদপ্তর নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপনের দিন পরিবর্তন হওয়ায় ছুটির দিনও বদলানো হয়েছে। তবে পূর্বের দুই দিনের ছুটি কমিয়ে এবার তা এক দিনে নামিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহকারী মুখ্যসচিব পিকে মিশ্রের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ নভেম্বরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ছুটিসংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, তাতে ২০২৬ সালের ২৬ ও ২৭ মে (মঙ্গলবার ও বুধবার) কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ বছর ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তাই আগের বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধন এনে কেবল ২৮ মে ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। পূর্বের ঘোষিত ২৬ ও ২৭ মের ছুটি বাতিল করা হলো। ওই দুই দিন সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা দুদিন ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভার ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।
সূত্র: আনন্দবাজার

 

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করছেন যা কয়েক মাসের মধ্যেই মানবদেহে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ভ্যাকসিনটি তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোভিড মহামারির সময় উদ্ভাবন করা হয়েছিল। খবর, বিবিসি'র।

ভ্যাকসিন তৈরির এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরই নতুন ভ্যাকসিনটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যবহারের জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে, এটি কার্যকর হবে কি না— তা জানতে প্রাণীদের ওপর গবেষণা ও মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

প্রাদুর্ভাবটি হঠাৎ যদি তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরীক্ষামূলক টিকার প্রয়োজন হয়, সেই আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্য বলছে, এই ভ্যাকসিনটি আগের তুলনায় দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। কারণ এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটি উপাদান, যা খুব অল্প সময়ে নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানিয়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষের দিকেই বড় আকারের ট্রায়াল শুরু করা হতে পারে।

মূলত, ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাস যা রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়। দ্রুত কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।

ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি রয়েছে। তবে, এদের মধ্যে মাত্র তিনটি মানুষের মধ্যে বড় আকারে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। এর একটি হলো বুন্দিবুগিও। ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে দুই দফায় বড় পরিসরে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। সবশেষ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এর দেখা মেলেনি। ইবোলার সাধারণ প্রজাতি জায়ারের জন্য টিকা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বুন্দিবুগিও’র জন্য কোনো টিকা নেই।

ইতোমধ্যেই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবে ৭৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোভিড মহামারির সময়ের মতো ইবোলার টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে, এগুলো রিং ভ্যাকসিনেশন নামক একটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এক্ষেত্রে যাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাদেরই টিকা দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ডিএনআই) প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করেছেন।

শুক্রবার (২২ মে) এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জনানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলসী গ্যাবার্ডের স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসারে (বোন ক্যানসার) আক্রান্ত হয়েছেন। মূলত এই কঠিন সময়ে অসুস্থ স্বামীর পাশে থেকে তার চিকিৎসা ও সেবা করার জন্যই তিনি সরকারি উচ্চপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৩০ জুন থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।

পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন এবং দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আমাকে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতিতে আমাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হচ্ছে।’

আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোয় তার স্বামী চিকিৎসাজনিত কারণে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন উল্লেখ করে গ্যাবার্ড আরও লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে জনসেবামূলক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, যাতে আমি সার্বক্ষণিকভাবে আমার স্বামীর পাশে থাকতে পারি এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারি। তিনি সবসময়ই আমার শক্তির জায়গা ছিলেন।’

উল্লেখ্য, সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড পরবর্তী সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে যোগ দেন। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ পদে গ্যাবার্ডকে বেছে নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তুলসী গ্যাবার্ডের এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।