কলকাতা

ওয়াশিংটন

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ শপথ হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ২৫ বৈশাখ সামনে রেখে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি এই দিন নির্ধারণ করেছে। অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশেষ মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। কলকাতা ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে।

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আজ কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ। তিনি নিউটাউনের একটি হোটেলে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে বিকেলে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম নিয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের পর বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণানের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজভবনে যেতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে যাঁর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সেই শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রচারে তাঁকে বিজেপির ‘লড়াকু মুখ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে একাধিকবার অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন ‘একজন বাঙালি ও ভূমিপুত্র’। সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

এবারের অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একসঙ্গে উপস্থিতি। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও উত্তর প্রদেশ, আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে জাতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বের একটি আয়োজন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার গঠন এবং মন্ত্রিসভার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে কলকাতায় শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা। এজন্য আজ শুক্রবার (৮ মে) সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

আজ দুপুরে কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। ওই বৈঠকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা চূড়ান্ত হতে পারে।

এরপর কাল শনিবার (৯ মে) ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার জমকালো শপথ অনুষ্ঠান।

রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে এখনও রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। এই পদের দৌড়ে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারী, নিশিথ প্রামানিক, অর্জুন সিং এবং গৌরি শঙ্কর ঘোষের। তবে দলীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।

এছাড়া, নির্বাচনে জয়ী বিধায়কদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ, উৎপল মহারাজ, রাজেশ কুমার ও দীপঞ্জন চক্রবর্তী। দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠনই মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

এদিকে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো চমক অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসীর জন্য।

  • দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে;
  • পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে;
  • কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না;
  • কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা বাংলাদেশই ঠিক করবে;

দিল্লি থেকে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে চন্দ্রনাথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাঁর গাড়িতে থাকা আরও এক যুবক গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি গাড়ির চালক, নাকি চন্দ্রনাথের সহকর্মী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই যুবককেও কলকাতার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ওই হাসপাতালেই চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথ অতীতে সরকারি চাকরি করতেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করেছিলেন।

এই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা
এই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, ছবি: সংগৃহীত
 

পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় একেবারে কাছ থেকে, কার্যত তার গাড়ির জানালার কাচে নল ঠেকিয়ে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাইকে বসে ছিল বলে জানা গেছে। তারা চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামিয়ে কিছুক্ষণ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের সংঘাতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুই দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণেই এই খুনগুলো হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা স্পষ্ট করে রাজ্য পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি। ব্যাপক হারে রাজ্যে লুটপাট, পার্টি অফিসে হামলা, আগুন লাগানো থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অনেকেই ঘরছাড়া। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে। অসংখ্য ব্যক্তিকে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রধান নেতার ব্যক্তিগত সহকারীকে খুনের জেরে সহিংসতা আগামী দিনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এ সময়ও ইরানের ওপর আরোপিত নৌ–অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা পরস্পর একমত হয়েছি যে অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকলেও প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। মূলত (শান্তি) চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে ট্রাম্পের এ বার্তার বিষয়ে আজ বুধবার সকালে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালিটি ছাড়তে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের চেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল–জাজিরা

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া সি জোসেফ বিজয়ের (থালাপতি বিজয়) দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ রাজ্যে পুরোনো ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে দল দুটিকে পরাজিত করে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসনের চেয়ে দলটি ১০ আসন পিছিয়ে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের জন্য বিজয়কে এখন ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ) অথবা এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএর সমর্থন নিতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিজয়ানন্দ জানান, সাধারণত রাজ্যপাল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান । এ ক্ষেত্রে ১০৮ আসন পাওয়া ছোট দলগুলোর সমর্থন টিভিকের নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে। যদি টিভিকে ব্যর্থ হয়, তবে রাজ্যপাল দ্বিতীয় বৃহত্তম জোটকে ডাকতে পারেন। টিভিকে জানিয়েছে আগামীকালই শপথ নেবেন বিজয়।

এদিকে আসনের ঘাটতি প্রসঙ্গে টিভিকের প্রচার সম্পাদক নানজিল পি সাম্পাত বলেন, বাকি সমর্থন ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই’ চলে আসবে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

এদিকে রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডকে অবহিত করেছেন দলটির তামিলনাড়ু রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ শোডনকার। গতকাল তিনি বলেন, সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। শোডনকার সাংবাদিকদের বলেন, তামিলনাড়ুতে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই দল থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।

হিন্দুস্তান টাইমস

প্যারিস

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রাণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে ইরানকে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়তে হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এ হুমকি দেন। হরমুজে কোনো জাহাজে হামলা না চালানোর জন্য তেহরানকে সতর্ক করে দেন তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম চলাকালে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে ইরানে ভারী হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রতি সরাসরি উপহার হিসেবে, আমরা হরমুজ প্রণালীতে একটি শক্তিশালী লাল, সাদা, এবং নীল গম্বুজ স্থাপন করেছি। কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে ইরানকে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে। ’ 

সূত্র: আল–জাজিরা।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ছয়টি দ্রুতগামী গানবোট লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের ছয়টি গানবোটই ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

মূলত, পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ পার করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, 'আমরা মোট ছয়টি 'ফাস্ট বোট' ধ্বংস করেছি। তাদের কাছে সম্বল হিসেবে এই কয়টি বোটই ছিল, তবে এখন আর নেই। 

মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। 

তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য বাংলাদেশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গতকাল সোমবার আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পল কাপুর এই ধন্যবাদ জানান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয়।

ওয়াশিংটন ডিসি সফররত বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজক ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল।

ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ঐতিহ্যবাহী ভবনের ছাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন পল কাপুর। তিনি যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) নিয়ে কথা বলেন। পল কাপুর বলেন, চুক্তিটি মার্কিন পণ্য প্রবেশসহ ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশল ঠিক করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বক্তব্য দেন। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

‘সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ২৫ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এখন ওয়াশিংটন ডিসি সফর করছে। সামিট হচ্ছে ৩ থেকে ৬ মে। সামিটে ১০০টির বেশি দেশের প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী ২ হাজার ৭০০ জন।