ক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আরও দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘দ্রুত পুনর্গঠন’ করার চেষ্টা করছে। মূলত হামলার কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বা আগে থেকে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলো উদ্ধারের দিকেই এখন বিশেষ নজর দিচ্ছে দেশটি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবেই ইরান এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এনবিসি নিউজের মতে, এসব কৌশলগত সামরিক সম্পদ উদ্ধারের মাধ্যমে ইরান মূলত তাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ফিরে পেতে চাইছে, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার যেকোনো পরিবর্তন মোকাবিলা করা যায়।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

  • ইরানে মার্কিন যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকান অভ্যন্তরীণ মহলে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় হামলা শুরু করতে প্রস্তুত।

ওয়াশিংটন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দেড় ঘণ্টার এক ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: সিএনএন ও আল–জাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হঠাৎ করেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক (ওপেক) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে—বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এটি বড় ঘটনা। ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই তারা ওপেকের সদস্য ছিল।

উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই সংগঠন কয়েক দশক ধরে উৎপাদন বাড়ানো-কমানো এবং সদস্যদের জন্য কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে ওপেকের ভূমিকার কল্যাণে বৈশ্বিক জ্বালানিনীতি আমূল বদলে যায়।

ওপেকের উৎপাদনে সৌদি আরবের প্রাধান্য থাকলেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে ইউএই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অর্থাৎ বাজারে দাম কমাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল তাদের। কিন্তু এ সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘদিন ধরে ইউএই তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে, কেননা তারা যে বিনিয়োগ করেছে, সেটা তারা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছে।

ওপেকের কোটা অনুযায়ী ইউএইকে দৈনিক ৩০–৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের মধ্যে থাকতে হতো। তারা মনে করছিল, এই কোটার কারণে ক্ষতি হচ্ছে। এই সদস্যপদের কারণে তাদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলমান যে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা, তার কারণে ইউএইএর পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গেও টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।

ওপেকের জন্যও আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা। এমন এক সময় ইউএই এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন জোটের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও ঐক্য প্রশ্নের মুখে। ইউএই যদি সমুদ্রপথ বা পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের তেল পুরোপুরি বাজারে আনতে পারে, তাহলে তারা দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবে। এর জবাবে সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধ শুরু করতে পারে। ইউএইর অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বহুমুখী; তারা সেই ধাক্কা সামাল দিতে পারলেও ওপেকের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সদস্যদের জন্য তা কঠিন হবে।

আমিরাতের নীতিনির্ধারকেরা আবুধাবির তেলক্ষেত্র থেকে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ফুজাইরাহ বন্দরে যাবে এই পাইপলাইন। বর্তমানে একটি পাইপলাইন আছে ঠিক, কিন্তু উৎপাদন বাড়লে বা উপসাগরে ট্যাংকার চলাচলের ব্যয় ও অনিশ্চয়তা স্থায়ী রূপ পেলে আরও সক্ষমতা প্রয়োজন হবে।

এ মুহূর্তে অবশ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধের কারণে বিষয়টি তেলের বাজারের জন্য প্রধান বিষয় নয়। তেল, গ্যাস, জ্বালানি, প্লাস্টিক ও খাদ্যের দামে এখনই তার প্রভাব পড়ছে।

বিশ্ববাজারে এখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, তেলের দাম আগামী বছরে ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৭০-এর দশকে যেমন ছিল, এখন বৈশ্বিক তেলবাজারে ওপেকের প্রভাব তেমন নয়। তখন আন্তর্জাতিক তেল–বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত তারা; এখন যা নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে। একইভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তেলের গুরুত্বও কমেছে। ওপেকের প্রভাব এখনো আছে, কিন্তু একচেটিয়া নয়; তারা আর আগের মতো বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

পালাবদলের ইঙ্গিত

সাবেক সৌদি তেলমন্ত্রী শেখ ইয়ামানির মন্তব্য এ প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ: পাথর ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে প্রস্তরযুগ শেষ হয়নি। তেলের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ বিশ্ব ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে ইউএইর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যায়। চীনে বিদ্যুতায়নে বড় বিনিয়োগের কারণে ইতিমধ্যে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। হিসাব অনুযায়ী, দেশটির যানবাহন ও রেলব্যবস্থার বিদ্যুতায়নের কারণে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা বাড়লে তেলের চাহিদা একসময় স্থিতিশীল হতে পারে।

এ বাস্তবতায় তেলের মজুত থেকে আয় বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশল অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন। ইউএইর শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও বহুমুখী অর্থনীতি এই কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কবে শেষ হবে এবং তারপর কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে ইউএইর এ সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোকেও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। এতে সৌদি আরবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হলে কিংবা নতুন পাইপলাইন নির্মাণে গতি এলে ওপেকের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ইউএইর তেল উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বর্তমান সংকটে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত ঠিক, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলবাজারের শক্তির ভারসাম্যই বদলে দিতে পারে।

বিবিসি

দীর্ঘ ৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ আবার সচল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানী তেহরানের এ প্রধান প্রবেশপথটি দীর্ঘ দিন অচল ছিল। তবে দুই দিন আগে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর আবার ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ১০ থেকে ১৫টিতে নেমেছে। তবে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ছে এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ফিরতে শুরু করেছে।

দেশজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এ বিমানবন্দর সচল করা হয়েছে। তেহরানের দ্বিতীয় বিমানবন্দর ‘মেহরাবাদ’ যুদ্ধে বারবার হামলার শিকার হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত হয় এ বিমানবন্দর। এছাড়া তাবরিজ ও উর্মিয়ার মতো দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

দীর্ঘ কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে বেশ কিছু যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের বিমান খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ইরানে মানুষের মনে রয়েছে শঙ্কা। যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তি আসবে, নাকি আবারও সংঘাত শুরু হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’কে টিকিয়ে রাখা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডকে (আইআরজিসি) সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে এ তথ্য। খবর রয়টার্সের। 

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তার মন্ত্রণালয়ের ‘বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে, নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দেশের— তা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি কিংবা ট্রেজারিমন্ত্রীর এক্সবার্তার কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর আগে থেকেই একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকই ইরানের তেল পৌঁছাচ্ছে এবং তেল বিক্রি থেকে দেশটির উপার্জনও অব্যাহত আছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একপ্রকার ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে ইরান। এই ব্যবস্থায় তৃতীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈশ্বিক গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে রাখা এবং সেসব হিসাব থেকে অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং এ বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসিকে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কাজ করে এই তৃতীয় পক্ষ।

ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপনন দেখভালের দায়িত্বে আছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং এ বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

যে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয়— তারা সবাই এই তৃতীয় পক্ষের অধীন, অর্থাৎ পরোক্ষ বা আড়ালে থেকে ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আছে ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপনন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এ ব্যাপারটিকে আরও উসকে দিয়েছে। গত ১২ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত এই অবরোধ থাকবে।

 

ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে—এমন খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার শেষ দিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

এ খবরের পর আজ বুধবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম টানা আট দিন ধরে বাড়ছে। জুন মাসের সরবরাহের জন্য এ তেলের দাম ৫২ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জুনের চুক্তির মেয়াদ এ সপ্তাহে শেষ হওয়ায় জুলাই মাসের সরবরাহের আগাম দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। গত আট কার্যদিবসের মধ্যে সাত দিনই এ তেলের দাম বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

গুগল, মেটা (ফেসবুক), অ্যামাজন ও চ্যাটজিপিটির মতো সব বিদেশি মালিকানাধীন ডিজিটাল কোম্পানি কাছ থেকে আয়কর আদায়ের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এ ছাড়া বাংলাদেশে কাজ করা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, অনলাইন বিক্রেতা, ফ্রিল্যান্সিং সেবা ও স্ট্রিমিং সেবাকেও আয়কর কাঠামোর মধ্যে আনার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে এ প্রস্তাব তুলে ধরে অর্থনীতি সমিতি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সভায় অর্থনীতি সমিতির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ আলম। এ সময় অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ্ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে ডিজিটাল খাতগুলো দ্রুততম হারে বাড়লেও সেগুলো প্রায় পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে করকাঠামোর বাইরে রয়েছে। যেমন বর্তমানে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা বা দারাজের বিক্রেতাদের মতো ই-কমার্স খাত; আপওয়ার্ক বা ফাইভভার থেকে প্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সিং আয়; ফেসবুক ও গুগল অ্যাডসের মতো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের মতো স্ট্রিমিং সেবাগুলো প্রচলিত করকাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে।

অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘গুগল, মেটা, অ্যামাজনের মতো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে আয় করে, কিন্তু তাদের কর পরিশোধ সীমিত। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, দেশে কর্মরত সব বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের জন্য কর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের মাধ্যম বা পেমেন্ট গেটওয়ে থেকেই যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর এবং ভ্যাট কর্তন করা যায়, সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা।’ এ জন্য এনবিআরে একটি ডিজিটাল ইউনিট তৈরি করে এসব আন্তর্দেশীয় ডিজিটাল সেবা ক্রয়-বিক্রয় তদারকের পরামর্শ দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে ইরান— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করেছেন।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান এইমাত্র আমাদের জানিয়েছে যে, দেশটি বর্তমানে “ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়” রয়েছে। দেশটিতে নেতৃত্বের সংকট সমাধানের চেষ্টা চলাকালীন (যা আমার বিশ্বাস তারা সফলভাবেই করতে পারবে!) তারা চায়, আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দিই।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ বিষয়ে ট্রাম্প অনেকবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টের মধ্যে বেশ কিছু পরে অসত্য বলে প্রমাণ হয়।

সর্বশেষ ইরানের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্পসহ তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। এই প্রস্তাবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত একটি উড়োজাহাজ পরীক্ষামূলকভাবে নিউইয়র্ক নগরের ম্যানহাটান থেকে একই নগরের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রা করেছে। গত শুক্রবার এ পরীক্ষা চালানো হয়। এ সেবা ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন শহর ও নগরে দৈনন্দিন পরিবহনব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী সংস্থা জোবি এভিয়েশন গত শুক্রবার নিউইয়র্ক নগরের দুই প্রান্তের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সির পরীক্ষামূলক উড়ান পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহজুড়ে এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে যাবে।

এ বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সিগুলো দেখতে অনেকটা বড় আকারের ব্যাটারিচালিত ড্রোনের মতো। এতে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন যাত্রী বহন করা যায়। এটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াখাড়িভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এগুলোর শব্দ হেলিকপ্টারের তুলনায় অনেক কম। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় চলাচলের সময় কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ হয় না।

এ ধরনের এয়ার ট্যাক্সি পরিচালনার লক্ষ্য হলো—লোয়ার ও মিডটাউন ম্যানহাটানের বিদ্যমান হেলিপোর্টগুলোকে সরাসরি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। বর্তমানে এই পথ গাড়িতে যেতে সময় লাগে এক থেকে দুই ঘণ্টা।

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের চেযারম্যান কেভিন ও’টুল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মানুষের সেবায় কীভাবে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ ফ্লাইটগুলো আমাদের কাজকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

হেলিকপ্টার রাইড শেয়ারিং সংস্থা ব্লেডের মালিক জোবি এভিয়েশন। সংস্থাটি আগে থেকেই প্রচলিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করে একই রুটে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির সঙ্গে ডেল্টা এয়ারলাইনস ও উবারের অংশীদারত্বও রয়েছে।

জোবি ২০২৩ সাল থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ফ্লাইট চালিয়ে আসছে। তবে এ ১০ দিনের ফ্লাইট কার্যক্রমটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ইভিটিওএল ইন্টিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ আটটি পাইলট কর্মসূচি নির্বাচন করে। এর আওতায় ইভিটিওএল বা খাড়াখাড়িভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণের সক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ নিয়ে পরীক্ষা করার কথাও বলা আছে।

এই পরীক্ষাগুলোর আওতায় শুধু শহুরে এয়ার ট্যাক্সি নয়, বরং আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহন, কার্গো পরিবহন, জরুরি চিকিৎসাসেবা, স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট এবং অফশোর জ্বালানি খাতের পরিবহন ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জোবি এভিয়েশন এ প্রকল্পে একাধিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে আছে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং টেক্সাস, ইউটাহ, ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনার পরিবহন বিভাগ।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) নতুন নিয়ম প্রকাশ করেছে। এর ফলে এয়ার ট্যাক্সি বাস্তবে ব্যবহারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এর পর থেকে জোবির মতো কোম্পানিগুলো অনুমতিপত্র পেতে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ গত মার্চে বলেছে, এসব পাইলট প্রকল্প একসঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্মের উড়োজাহাজ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। এসব প্রকল্প থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এফএএ নতুন নিয়ম তৈরি করবে, যেন এই ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিরাপদে বড় পরিসরে চালু করা যায়।

বর্তমানে জোবির বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সিটি এফএএর অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পাঁচ ধাপের প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বগুড়া থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে লুট হওয়া ৬০০ বস্তা চাল গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে লুট হওয়া প্রায় তিন হাজার কেজি চাল ও ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালিয়াকৈর বাজারের একাধিক গুদাম ও ফুলবাড়িয়া এলাকার কেএনবি বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন গুদাম মালিক লিটন সরকার (৪০) ও কর্মচারী সুমন সরকার (৪৬)। তাঁরা কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, বগুড়ার শেরপুর এলাকা থেকে ৬০০ বস্তা কাটারিভোগ চাল কিনে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সোমবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রাকটি সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কার দিয়ে রাস্তা আটকে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে অস্ত্রের মুখে চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে পাশের ধানখেতে ফেলে রেখে তারা চালভর্তি ট্রাকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিরাজগঞ্জের শিমলা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের এক পর্যায়ে ফুলবাড়িয়ার কেএনবি বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়। পরে কালিয়াকৈর বাজারের বিভিন্ন গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী চাল ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, বগুড়ার শেরপুর থেকে তিনি চাল নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা চালকসহ ট্রাক লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত সময়ে লুট হওয়া চাল উদ্ধার করেছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।