রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বইয়ের মার্কেট বাংলাবাজারে একটি বইয়ের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৬টার ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বাংলাবাজারের একটি বইয়ের দোকানে হঠাৎ আগুন লাগে। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘পুরো দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা চলছে, যেন মনে হয় ইরানই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজ জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’

পশ্চিমা দেশগুলোকে জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় সমর্থন দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো আইন লঙ্ঘন করছে।

নেবেনজিয়া আরও বলেন, ‘জলদস্যুরা যেমন জাহাজে কঙ্কাল আঁকা কালো পতাকা উড়িয়ে আক্রমণ করে, পশ্চিমা দেশগুলো তেমনটা করে না। তারা তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার (নিষেধাজ্ঞা) আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করছে।’

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তিনজনকে হত্যার অভিযোগে আকাশ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী। অভিযুক্তকে স্থানীয়রা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে তার বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে সে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আটকের সময় আকাশের কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যার ফলে তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, আকাশ হঠাৎ করে কোদাল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে আরও একজন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে অন্যতম সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে জাতিসংঘে বিতণ্ডায় জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের এ নির্বাচনকে এনপিটি চুক্তির প্রতি ‘উপহাস’ বলে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গেও পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

ইরান বলেছে, পরমাণু চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে মন্তব্য করার নৈতিক অধিকার বা গ্রহণযোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তারা যুক্তি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের দাবি তিনি নাকচ করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির বড় অংশই ইতিমধ্যে হারিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি।

গতকাল রোববার রাতে নিজের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি সমীকরণ তুলে ধরেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতা—হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও তেলের পাইপলাইন।

সমীকরণের অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ—কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প আছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার বেশ কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, ‘ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক: সরবরাহ কার্ড = চাহিদা কার্ড।’

তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্ড আংশিক ব্যবহার হয়েছে। বাব এল-মান্দেব কার্ড ব্যবহার হয়নি। পাইপলাইন কার্ডও ব্যবহার করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার’ দিকটি তুলে ধরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মাঠে নামছেন তাঁর দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। দেশটির দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ তাঁদের দল একীভূত করে চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গতকাল রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে কট্টরপন্থী বেনেট ও মধ্যপন্থী লাপিদ এ ঘোষণা দেন। বেনেটের রাজনৈতিক দল ‘বেনেট ২০২৬’ এবং লাপিদের ‘ইয়েশ আতিদ’ মিলে গঠিত নতুন জোটের নাম রাখা হয়েছে ‘টুগেদার’। এর নেতৃত্বে থাকবেন বেনেট নিজেই।

এক যৌথ টেলিভিশন ভাষণে বেনেট বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ রাতে আমার বন্ধু ইয়ার লাপিদের সঙ্গে মিলে আমরা দেশের জন্য সবচেয়ে দেশপ্রেমিক ও জায়নবাদী পদক্ষেপটি নিয়েছি।’

লাপিদ বলেন, ‘বেনেট ডানপন্থী, কিন্তু সৎ মানুষ। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করা এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইসরায়েলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

দুই দলের আদর্শিক মিল খুব একটা নেই। নেতানিয়াহুর বিরোধিতাই মূলত তাদের একসুতায় গেঁথেছে। বিচ্ছিন্ন বিরোধী দলগুলোকে এক ছাদের নিচে আনাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।

বেনেট ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিনটিতে কী কী ব্যর্থতা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। নেতানিয়াহু সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের ব্যর্থতার দাবি নাকচ করে আসছে।

আবারও একজোট

বেনেট ও লাপিদ এর আগেও হাত মিলিয়েছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁরা একজোট হয়ে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের ইতি টানেন। তবে সেই জোট সরকার টেকে মাত্র ১৮ মাস।

এর আগে ২০১৩ সালেও বেনেট ও লাপিদ জোট করে নেতানিয়াহুর সরকারে ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁদের কৌশলী চালের কারণে নেতানিয়াহু তাঁর পুরোনো বন্ধু কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোকে বাদ দিয়েই সরকার গড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় ফিরে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠন করেন নেতানিয়াহু। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওই হামলার জবাবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে ভয়াবহ হামলা শুরু করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেসব হামলা চালায়, তাতে নিরাপত্তারক্ষক হিসেবে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

এর পর থেকে হওয়া একের পর এক জনমত জরিপ আভাস দিচ্ছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ নাগাদ যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, তাতে নেতানিয়াহু হারতে চলেছেন।

৫৪ বছর বয়সী নাফতালি বেনেট একসময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ছিলেন। পরে প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে কোটিপতি বনে যান। সাম্প্রতিক নির্বাচনী জনমত জরিপগুলোতে তিনি নেতানিয়াহুর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন।

২৩ এপ্রিল ইসরায়েলের এন১২ নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে বেনেটের দল ২১টি আসনে জয়ী হতে পারে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২৫টি আসন।

ওই একই জরিপে দেখা গেছে, ইয়ার লাপিদের দল মাত্র ৭টি আসন পেতে পারে, যা তাদের বর্তমানে থাকা ২৪টি আসনের চেয়ে অনেক কম। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের আগের জরিপগুলোর সঙ্গেও এই ফলাফলের মিল রয়েছে। জরিপে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেনেটকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

সাবেক টিভি সংবাদ উপস্থাপক ৬২ বছর বয়সী ইয়ার লাপিদ দাবি করেন, তিনি ইসরায়েলের ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যবিত্তশ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে করের বোঝা এবং সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে এই শ্রেণিটি সরকারের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ।

আল–জাজিরা

হরমুজ প্রণালি আবার চালু করাসহ যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান এই প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

গতকাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। আজ রোববার জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার–১৯৭৩ সংশোধন বিল’ পাস হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। এর ফলে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি সংসদে পাস হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের সংশোধনীর বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। এখন রাষ্ট্রপতি বিলটি সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে।

বিলে পাসের মাধ্যমে আইনের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাসংক্রান্ত ধারা (৩সি) বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য তাঁর পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে, উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ছাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। এতে আরও বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি দল ও বিরোধী দল আগেই বলেছিল, তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা নেবেন না। সে অনুযায়ী আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অবশ্য সংসদ সদস্যরা সরকারি গাড়িসুবিধার দাবি তুলেছেন। সরকারও বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

* সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করা হয়েছে, তবে সরকারি গাড়িসুবিধার দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
* বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপারিশ দিতে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন।

বিশেষ কমিটি গঠন

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংসদ। বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন তিনি সরকারি দলের পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেন।

সে অনুযায়ী আজ সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সরকারি দলের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান। বিরোধী দলের সদস্যরা হলেন সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম, মো. আবদুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে শেষবারের মতো আরও ৬ মাস সময় বেধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও বিচারপতি সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির ও মঞ্জিল মোরশেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের আবেদন জানান।

হাইকোর্ট জানান, মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে পাঠিয়েছেন টাস্কফোর্স কমিটি। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ সময় রিটকারীদের পক্ষ থেকে ৩ মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও হাইকোর্ট ৬ মাস সময় মঞ্জুর করেন।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বহুল আলোচিত এই মামলায় ১৩ বছরেও চার্জশিট দাখিল করতে না পারা বেদনাদায়ক।

এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাসের সময় দিয়েছিলেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

 

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে থাকা প্রধান পাঁচ শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

পারমাণবিক কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে তেহরান এ দাবিতে রাজি নয়। তার ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।

ইউরেনিয়াম মজুত

ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ ও বন্দর অবরোধ

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

আটকা পড়া অর্থ

একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ

আলোচনায় ইরান এক বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে দিতে হবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছে’ এবং ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধের কারণে প্রতিদিন দেশটির লাখ লাখ ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছে! তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চাইছে—অর্থের জন্য হাহাকার করছে! প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বেতন পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে। এসওএস!!!’

১৩ এপ্রিল গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ শুরু করে। এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং সেটিকে জব্দ করেছে। তারা উন্মুক্ত সমুদ্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা কিছু জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ এবং ‘ডাকাতির সমতুল্য’ বলে অভিহিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নৌ অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে সব বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং একাধিক বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে। এর আগে ইরান ‘বন্ধুপ্রতিম’ বলে বিবেচিত কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিত।

১৯ এপ্রিল ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, বিনা খরচায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজা আরেফ লিখেছেন, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখে অন্যদের জন্য বিনা মূল্যে নিরাপত্তা আশা করা যায় না।

রেজা আরেফ আরও বলেন, বিষয়টা পরিষ্কার। হয় সবার জন্য তেলবাজার উন্মুক্ত থাকবে, না হলে সবাইকেই বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি নিতে হবে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর থাকা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ অবরোধ ইরানের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে তাঁরা মনে করেন, দেশটি ওই চাপ মোকাবিলা করার মতো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ও ইচ্ছাশক্তি রাখে।

গত বৃহস্পতিবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুদ্ধবিরতি–সংক্রান্ত আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এ অবরোধ ইরানের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে তাঁরা মনে করেন, দেশটি ওই চাপ মোকাবিলা করার মতো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ও ইচ্ছাশক্তি রাখে।

নৌ অবরোধ কীভাবে ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

ইরান সমুদ্রপথে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য পণ্য যেমন পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিসহ ইরানের বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপ থাকায় এসব পণ্য রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এই প্রণালিই হলো পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এ জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর পর থেকে ইরান প্রণালিটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তবে একই সঙ্গে তারা তাদের নিজস্ব জ্বালানি পণ্যগুলো এই পথ দিয়ে রপ্তানি করছে।

ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, মার্চে ইরান প্রতিদিন ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। এপ্রিল মাসের এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ২০২৫ সালের এ সময়টাতে দৈনিক তেল রপ্তানির গড় ছিল ১৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের অবস্থান নির্দেশকারী মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের অবস্থান নির্দেশকারী মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন,ছবি: রয়টার্স
 

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান মোট ৫ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ইরানি তেলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হলো—ইরানিয়ান লাইট, ইরানিয়ান হেভি এবং ফরোজান ব্লেন্ড। গত এক মাসে এ তিন ধরনের তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে নামেনি। অনেক দিনই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ধরে হিসাব করলেও গত এক মাসে তেল রপ্তানি থেকে ইরান অন্তত ৪৯৭ কোটি ডলার আয় করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩৪৫ কোটি ডলার আয় করেছিল।

সহজভাবে বলতে গেলে, গত এক মাসে যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় তেল রপ্তানি থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আয় করেছে ইরান। এ প্রবাহ থামানোই ইরানি বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের একটা বড় উদ্দেশ্য।

১৪ এপ্রিল আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের  নন–রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো ফ্রেডেরিক শ্নাইডার বলেন, আগের ছয় সপ্তাহ তেল খাতে ইরানের আয় বেশ লাভজনক ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে সে পরিস্থিতি বদলাবে।

ইরানের কাছে ভাসমান ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেলের একটি মজুত আছে। অর্থাৎ সমুদ্রে নোঙর করা জাহাজে তেল সংরক্ষণ করা হয়—যার পরিমাণ ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল ছিল। এ মজুতকে ‘বাফার’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এ মজুত জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য রপ্তানি চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।

তবে এর মানে এই নয় যে নৌ অবরোধ ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না।

বিশ্লেষক ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে থেকে একটি বড় আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। কারণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে সামরিক অভিযান চালাতে তাঁর এখতিয়ারে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে।

গত শুক্রবার আল–জাজিরাকে শ্নাইডার বলেন, ইরান মনে হচ্ছে ‘দীর্ঘমেয়াদি খেলা’ খেলছে এবং এ ধরনের সংঘাতের জন্য কিছুটা প্রস্তুতিও নিয়েছে।

শ্নাইডার আরও বলেন, নৌ অবরোধ অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। কারণ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেশ কিছু বেসামরিক জাহাজ আটক করা হয়েছে। তবে অবরোধ কতটা কঠোর, কতগুলো জাহাজ এখনো পার হতে পারছে এবং ট্রাম্প কত দিন এই অবরোধ বজায় রাখতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র কি দীর্ঘদিন এই অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে

বিশ্লেষক ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে থেকে একটি বড় আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। কারণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে সামরিক অভিযান চালাতে তাঁর এখতিয়ারে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে।

ফ্রেডেরিক শ্নাইডার আরও বলেন, অবরোধ চালিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি চীন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চীনের পণ্যবাহী জাহাজ আটকের ঘটনা অব্যাহত থাকলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

চীন ইতিমধ্যে বলেছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যের ওপর অবরোধ তারা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মনে করে।

এদিকে ইরান যদি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং তার মিত্রদেশগুলো ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে ইরান ধৈর্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে পড়ছেন।

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম ইরেলি আল–জাজিরার ‘দিস ইজ আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানি বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইরানি তেল বহনকারী জাহাজ জব্দ করার বিষয়টিকে ‘নীতিগতভাবে যুক্তিসংগত’ মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না–ও করতে পারে।

অ্যাডাম ইরেলি বলেন, ইরান এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা আছে। তেল সংরক্ষণ এবং বিক্রির ভিন্ন উপায়ও রয়েছে।

অ্যাডাম ইরেলি মনে করেন, ইরানের তেল শেষ হয়ে গেলেও তারা কঠিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা টিকিয়ে রাখার মতো সক্ষমতা রাখে।

ইরান কি আপাতত তেল সংরক্ষণ করতে পারবে

জ্বালানিবিষয়ক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এফজিই কনসালটেন্সির হিসাব অনুসারে, ইরানের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারের সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল। দেশটির তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত। খুজেস্তান থেকে তেল এবং দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস ও বুশেহর থেকে কনডেনসেট সংগ্রহ করা হয়।

ইরান ওপেকভুক্ত তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাদের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খারগ দ্বীপ হয়ে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে সরবরাহ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানকে এখন বেশি তেল সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে সংরক্ষণ সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষক মুয়ু জু আল–জাজিরাকে বলেন, এ অবরোধ ভবিষ্যতে ইরানের তেল রপ্তানি ধীর করে দেবে। এতে ধীরে ধীরে তাদের অভ্যন্তরীণ তেল মজুতের ওপর চাপ তৈরি হবে। তারা শেষ পর্যন্ত উৎপাদন কমাতেও বাধ্য হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সামরিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে ইরান। তারা গেরিলা কৌশল ব্যবহার করেছে, সাইবার হামলা চালিয়েছে, তাদের সমর্থনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়েছে এবং অন্যান্য পরোক্ষ উপায় ব্যবহার করেছে।

তবে মুয়ু জুর মতে, ইরানের স্থলভাগে এখনো প্রায় ২০ দিনের উৎপাদন ধরে রাখার মতো সংরক্ষণ সক্ষমতা আছে। তাই উৎপাদন কমানোর প্রভাব ধীরে ধীরে আসবে এবং মে মাসের দিকে তা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেলের চালান শনাক্তকারী সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকারস বলেছে, খারগ দ্বীপে তেল সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ইরান এনএসএইচএ (৯০৭৯১০৭) নামের পুরোনো একটি ট্যাংকার নতুন করে আবারও ব্যবহার করতে শুরু করেছে। অনেক বছর ধরে এটি খালি অবস্থায় নোঙর করা ছিল।

ইরান কি তেল থেকে রাজস্ব আয় করতে পারবে

হ্যাঁ। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিমধ্যে সমুদ্রপথে থাকা তেলের চালান থেকে ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত রাজস্ব আয় চালিয়ে যেতে পারবে।

ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ইরানবিষয়ক সাবেক বিশ্লেষক কেনেথ কাতজম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে ইরান নতুন তেল রপ্তানি করছে না। তবে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাহাজে ইরানের ১৬ কোটি থেকে ১৭ কোটি ব্যারেল তেল ‘সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায়’ আছে।

কাতজম্যান আল–জাজিরাকে বলেন, এই মজুতগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের আগে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে এবং শত শত ট্যাংকারে থাকা এসব তেল এখন বিতরণের অপেক্ষায় আছে।

কাতজম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও এ মজুতের ভিত্তিতে তেহরান আগস্ট পর্যন্ত রাজস্ব প্রবাহ বজায় রাখতে পারবে বলে তিনি একজন ইরানি অধ্যাপকের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।

ইরান আর কীভাবে রাজস্ব আয় করছে

তেল থেকে আয় ছাড়াও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা থেকেও রাজস্ব আয় করছে। দেশটি গত মার্চ মাসে এ ব্যবস্থা চালু করেছে।

বৃহস্পতিবার ইরানের পার্লামেন্টের উপস্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর আরোপিত এ টোল থেকে পাওয়া প্রথম রাজস্ব ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছেছে। তবে এ টোল থেকে ঠিক কত আয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের নেতৃত্ব কতটা স্থিতিশীল

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানিরা বুঝতে পারছে না যে তাদের প্রকৃত নেতা কে এবং তেহরানে সংস্কারপন্থী ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে।

তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার ঐক্যবদ্ধ।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যই আমাদের গণতন্ত্র। তবে সংকটের সময়ে আমরা এক পতাকার নিচে এক হাত।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঐক্য, লক্ষ্য এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করছে।

আব্বাস আরাগচি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি—দুটিই একই যুদ্ধের সমন্বিত অংশ। ইরানিরা এখন আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানে কোনো কট্টরপন্থী বা সংস্কারপন্থী নেই। আমরা সবাই ইরানি এবং বিপ্লবী। জাতি ও রাষ্ট্রের দৃঢ় ঐক্য এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আমাদের আনুগত্যের কারণে আগ্রাসনকারীরা অনুতপ্ত হবে।’

ইরান সামরিকভাবে কতটা শক্তিশালী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সামরিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে ইরান। তারা গেরিলা কৌশল ব্যবহার করেছে, সাইবার হামলা চালিয়েছে, তাদের সমর্থনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়েছে এবং অন্যান্য পরোক্ষ উপায় ব্যবহার করেছে।

যুদ্ধে ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি কোম্পানির তথ্যভান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানি বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ শুরু করার পর থেকে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তাঁদের দেশ আত্মরক্ষা করবে এবং যেকোনো মার্কিন হামলার জবাব দেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার দাবি করার পর এবং আরও বহু জাহাজকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ইরানও হরমুজ প্রণালির আশপাশে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাদের দাবি, ওই জাহাজগুলো নৌ চলাচলসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছে।

আল–জাজিরা