কেরালার রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি হয়েছে বামপন্থিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে জয় পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের প্রার্থী ফাতেমা তাহলিয়া। তিনি সিপিআই(এম) এর প্রবীণ নেতা রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জয়ী হন।

৩৪ বছর বয়সী ফাতেমা তাহলিয়া মোট ৬৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে ৪ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন নজির স্থাপন করেছেন।

কোজিকোড জেলার পেরুভায়ালে জন্ম নেওয়া তাহলিয়া ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কোজিকোড করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

পেশায় আইনজীবী ফাতেমা তাহলিয়া কোজিকোড সরকারি আইন কলেজ থেকে এলএলবি এবং ত্রিশুর সরকারি আইন কলেজ থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কালিকট জেলা আদালতে আইন পেশায় যুক্ত আছেন।

তবে নির্বাচনী লড়াই তার জন্য সহজ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি সাইবার হামলা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত একজন মুসলিম তরুণী হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানো হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও তিনি শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামপন্থিদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এই ফলাফল কেরালার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

নিউইয়র্ক

কলকাতা

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আগের তুলনায় আমাদের কাছে এখন অনেক উন্নত মানের প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের কাছে সেরা সব সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। সেগুলো সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেই সবকিছুই ব্যবহার করতে পারি এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান এখন ‘অনেক বেশি নমনীয়’ হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয়কে এত দিন পর্দায় দেখা গেছে নানা বীরোচিত ভূমিকায়। নায়ক চরিত্রে ক্ষমতাবানদের দম্ভ তিনি চূর্ণ করেছেন শৌর্যের স্বাক্ষর রেখে। এবার তিনি রাজনীতির ময়দানেও জয় করলেন মানুষের হৃদয়।

মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চমক দেখিয়েছেন তিনি। থালাপতি বিজয়ের আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ২০২৪ সালে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে দল গঠন করেছিলেন তিনি। তামিলনাড়ুর মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায়ও সোচ্চার হন তিনি। বিপুল জনসমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদি সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে অনলাইন জগতে।

রাজনীতির মাঠে সংগ্রামী চরিত্রের আভাস দেওয়া বিজয় এখন ভোটেও বিজয়ী হচ্ছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ইতিমধ্যে ৯৬টিতে জয় পেয়েছে তাঁর দল টিভিকে, এগিয়ে রয়েছে আরও ১১টি আসনে। এখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। একক দল হিসেবে টিভিকে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারলেও সবচেয়ে বেশি আসন তাদেরই হচ্ছে, এটা নিশ্চিত।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টিভিকে সরকার গঠন করতে না পারলেও অন্য এক বা একাধিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ বিজয়ের সামনে থাকছে। শেষ পর্যন্ত সেটা হলে ৪৯ বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথম চলচ্চিত্র তারকা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন তিনি। এর আগে ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে এসে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এম জে রামচন্দ্রন। ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত টানা ১০ বছর তামিলনাড়ু শাসন করেন তিনি।

এম জে রামচন্দ্রন অভিনেতা হিসেবে যে ভক্তকুল পেয়েছিলেন, তাঁদের ভালোবাসাকে রাজনীতিতে রূপান্তরিত করতে পেরেছিলেন। পরে জনকল্যাণমূলক কাজ করে ভোটারদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন তিনি।

[caption id="attachment_273194" align="alignnone" width="587"] বক্তব্য দিচ্ছেন থালাপতি বিজয়[/caption]

এর পর থেকে কোনো অভিনেতাই লাখ লাখ ভক্ত নিয়েও নির্বাচনের সেই শেষ বৈতরণি পার হতে পারেননি। এমনকি জয়ললিতার মতো বড় তারকাও নিজে কোনো নতুন দল গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হননি। বরং তিনি এমজিআরের গড়া দল সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগামের (এআইএডিএমকে) উত্তরাধিকারী হয়ে দলটিকে আরও সুসংহত করে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের একক নিয়ন্ত্রণে এনে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এবার সেই অচলায়তন ভাঙছেন থালাপতি বিজয়। তাঁর এই উত্থান অবাক করার মতো। কারণ, খুব অল্প সময়ে ও সুপরিকল্পিতভাবে তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। আগের অভিনেতাদের মতো তিনি অভিনয়জগৎকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতির ময়দানে নামেননি।

শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালে

বিজয় তাঁর ভক্তদের একজোট করার কাজ শুরু করেছিলেন ২০০৯ সাল থেকেই। তখন তাঁর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফ্যান ক্লাবগুলোকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি সংগঠনের পতাকাতলে নিয়ে আসেন। শুরুতে এটি শুধু সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন হিসেবে কাজ করত। তারা মানুষের বিপদে সাহায্য করা, শিক্ষাসামগ্রী বিলি করা এবং স্থানীয় নানা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার মধ্য দিয়ে একদম তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিতি তৈরি করে ফেলে।

২০১১ সালে এই সংগঠন এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেয়। এর মধ্য দিয়ে বিজয় প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক পক্ষে যোগ দেন। তিনি মূলত দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁর তারকা খ্যাতি দিয়ে ভোট টানা যায় কি না।

২০১০-এর দশকের শেষ এবং ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে সিনেমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিজয়ের উপস্থিতি ও কথাবার্তায় রাজনৈতিক বার্তা থাকতে শুরু করে। ২০১৯ সালে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ) নিয়ে তাঁর সমালোচনা এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তিনি চলচ্চিত্রের গণ্ডির বাইরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান।

বিজয়ের সিনেমার গান প্রকাশের অনুষ্ঠান (অডিও লঞ্চ), ভক্তদের সঙ্গে সভা এবং নানা সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানে পরীক্ষার চাপ, তরুণদের বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলো বেশি বেশি করে আলোচনা হতে থাকে। এ কথাগুলো নতুন ভোটার ও শহরের স্বপ্নবান তরুণদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।

দক্ষিণ ভারতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত
দক্ষিণ ভারতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত, ছবি: রয়টার্স

মনের ভেতর দাগ কেটেছিল

রাজনৈতিক দল ঘোষণার আগেই তাঁর সংগঠনের শক্তি প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁর সংগঠনের প্রার্থীরা যেসব আসনে লড়েছিলেন, সেগুলোর বেশির ভাগেই জয়লাভ করেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু লোক জড়ো করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ভোট টানতেও সক্ষম।

অবশেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক দল টিভিকের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। তিনি খুব পরিষ্কারভাবেই সবকিছু জানান। বিজয় বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দল একাই লড়বে। ভোটের আগে তারা কারও সঙ্গে জোট বাঁধবে না। রাজ্যের বড় দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে তারা একটি পরিচ্ছন্ন বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে চায়।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে চেন্নাইয়ের নীলাঙ্করাই করপোরেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ভোট দেন বিজয়। চেন্নাই, তামিলনাড়ু। ২৩ এপ্রিল
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে চেন্নাইয়ের নীলাঙ্করাই করপোরেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ভোট দেন বিজয়। চেন্নাই, তামিলনাড়ু। ২৩ এপ্রিলছবি: তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকেবিজয়) ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।

দল ঘোষণার পরপরই বিজয় সিনেমার জগৎ থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর তিন দশকের অভিনয়জীবনের অবসান ঘটে। এই সময়ে তিনি প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর বার্তাটি ছিল নির্ভুল—এটি (রাজনীতি) কোনো শখের বিষয় নয়।

টিভিকে পরবর্তী দুই বছরে একটি সাধারণ ফ্যান ক্লাব থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। তারা জেলা কমিটি, নির্বাচনী এলাকার ইউনিট ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক দল গঠন করে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির বিষয়গুলোকে তারা তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে। বিজয়কে গতানুগতিক বক্তা হিসেবে নয়, বরং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা একজন নেতা হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং খুব সুন্দরভাবে আয়োজন করা জনসভাগুলো এতে বড় ভূমিকা রাখে।

থালাপতি বিজয়
থালাপতি বিজয়ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে এই পথচলা একেবারে মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে কারও এলাকায় টিভিকের একটি অনুষ্ঠানে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এটি ছিল বিজয়ের জন্য প্রথম বড় সংকট। এ ঘটনা দলের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ ঘটনার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল পরিমিত, প্রকাশ্য ও ভুল শুধরে নেওয়ার মানসিকতার প্রকাশ। তখন এটা দেখে আগেভাগেই বোঝা গিয়েছিল, ভবিষ্যতে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণের মুখোমুখি হলে তা তিনি কীভাবে সামলাবেন। এখন পরিসংখ্যান বলছে, তাঁর এই ঝুঁকি নেওয়াটা কাজে লেগেছে।

আর ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বিধানসভার নির্বাচনে গেরুয়া–ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের সাজানো বাগান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা চলছে আজ সোমবার। সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফল জানা না গেলেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তৃণমূলের ‘দিদি’র শাসনের অবসান ঘটছে এই রাজ্যে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির দল গড়তে যাচ্ছে সরকার।

সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত দেখা গেছে, বিজেপি ৪০টি আসনে জয়ের পাশাপাশি ১৬৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি আসনে জয়ী হয়েছে, এগিয়ে আছে ৬৭টিতে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের চেয়ে বেশিই পাচ্ছে বিজেপি।

এক দশক ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ২০২১ সালের নির্বাচনেই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করেছিল। সেবার পদ্ম না ফুটলেও, বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৩ থেকে ৭৭–এ গিয়েছিল। এবার প্রত্যাশা ১৮৫টির বেশি আসনে জয়। সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাচ্ছে দলটি।

এই ফলাফলে বিজেপি নেতৃত্বও দারুণভাবে বিস্মিত। অভাবনীয় এই জয়ের পেছনে তাঁরা পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে।

বিজেপি ও তৃণমূলের লোগো
বিজেপি ও তৃণমূলের লোগো

১. নারী ভোট

কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের নারী সংরক্ষণ বিলের উদ্যোগ নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলগুলো ‘নারীবিরোধী’—বিজেপির এমন প্রচার সাধারণ মানুষের মনে সাড়া ফেলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপির পক্ষে নারী ভোট অন্তত ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।

২. সরকারি কর্মীদের মন জয়

বিজেপি সরকারি কর্মচারীদের ‘অধিকার হরণের’ অভিযোগ ঘিরে থাকা ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েছে। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি সরকারি কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। এটি প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিজীবী ভোটারের সংখ্যা বেশি।

৩. কেন্দ্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন

‘মোদি বনাম মমতা’ প্রচারই এবারের নির্বাচনে বাজিমাত করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া এবং পরিকাঠামোর অভাবকে হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ডজনের বেশি জনসভার প্রতিশ্রুতি মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের (২০-২৯ বছর বয়সী ১.৩১ কোটি ভোটার) ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

৪. নিরাপত্তা, বাহিনী মোতায়েন ও সরকারবিরোধী ক্ষোভ

রাজনৈতিক হিংসাপ্রবণ এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে। তা ছাড়া আর জি কর কাণ্ডসহ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচার শাসক দলের বিরুদ্ধে বড় প্রভাব ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নিরলস প্রচারও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৫. ভোটার তালিকা সংশোধন ও বহিরাগত ইস্যু

ভোটার তালিকা থেকে ‘বহিরাগত’ বা ভুয়া ভোটারদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছিল। ‘যৌক্তিক অসংগতি’র ভিত্তিতে ২৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া পড়ে ভোটার তালিকা থেকে। ভোটার তালিকা ‘স্বচ্ছ’ করতে বিজেপির এই প্রচার ভোটেও প্রভাব ফেলেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর আগুন ধরেছে। ফুজাইরার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইরান থেকে ড্রোন হামলার পর আমিরাতের পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ‘বড় আগুন লেগেছে’।

এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যার তিনটি প্রতিহত করা হয়েছে। একটি সমুদ্রে পড়েছে।

তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো এই রাজ্যে জয়ের পথে রয়েছে তারা।

সোমবার ( ৪ মে )  বিকেলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৯৪টি আসনে।

বিজেপির সম্ভাব্য বড় জয়ের আভাস পেয়ে দলটির কর্মী-সমর্থকরা রাজ্যজুড়ে বিজয় উল্লাস শুরু করেছেন। তবে সরকার গঠন করলে কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। তারা হলেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার, প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি সেই লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই পার করে যাচ্ছে। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খেলা শেষ এবং রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রেকর্ড গড়া জয়ের পেছনে দলের ‘অগণিত’ কর্মীর অবদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অগণিত কর্মীর প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় সম্ভব হতো না।

তিনি আরও লিখেছেন, আমি তাদের সবাইকে স্যালুট জানাই। বছরের পর বছর ধরে তারা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছেন এবং আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডা নিয়ে কথা বলেছেন। তারাই আমাদের দলের শক্তি।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোট গণনায় ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মধ্যে বিজেপি ২০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ৮২টি আসনে এগিয়ে আছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

সতর্ক উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) এ ঘটনা ঘটে।

এক প্রতিবেদনে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছে ছিল। তখন এটিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়। জাস্ক দ্বীপের কাছ দিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে।

তবে যুদ্ধজাহাজে ইরানিদের হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেছেন, তাদের কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইরান এ হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ আটকে আছে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে আসবেন তারা।

এরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা দিয়ে জানায়, যদি হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ করে তাহলে সেটিতে হামলা চালানো হবে।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে শুরু থেকেই এটি ভঙ্গুর ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এছাড়া আরব সাগর থেকে তাদের ট্যাংকার জাহাজও জব্দ করে।

যুদ্ধ বিরতির পর গত ১২ এপ্রিল দুই দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু তারা সেখান থেকে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

 

হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোকে তথ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র, তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ‘এসকর্ট মিশন’ কিংবা মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে 'না'।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ করে তোলা।

রোববার (৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়—এমন বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো চলাচলের সুযোগ পায়।

ট্রাম্প এই পদক্ষেপের নাম দিয়েছেন 'প্রজেক্ট ফ্রিডম'। বিষয়টিকে 'মানবিক' পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। 

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তথ্য দেওয়া অব্যাহত রাখবে।

তবে ইরান এর আগেই সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। 

হরমুজে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ উদ্যোগে তারা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ১০০টিরও বেশি স্থল ও নৌ-ভিত্তিক বিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে 'খুবই ইতিবাচক আলোচনা' চলছে। 

একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং তা বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। কার্যত যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সেটি লঙ্ঘন করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে লেবানন-ইসরায়েল।