একটা কথা আছে, প্রিয় নায়কদের কখনো খুব কাছ থেকে দেখতে নেই; তাতে মোহভঙ্গ হতে পারে।

কথাটা ব্রাজিলিয়ান কিশোর ‘দেল’কে বলতে যাবেন না। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ দল আর বাহিয়া ক্লাবের এই স্ট্রাইকারের কাছে ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড বিশাল এক অনুপ্রেরণা। এখন পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধ্যানজ্ঞানই হচ্ছে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে কাছ থেকে দেখা।

শৈশব থেকে যাঁকে ‘দ্রোনাচার্য’ ভেবে বড় হয়েছেন, সেই আর্লিং হলান্ডের কাছ থেকে যখন হঠাৎ ভিডিও বার্তা পেলেন,  দেলের রোমাঞ্চের পারদটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল, তা বোধ হয় অনুমান করাই যায়।

ঘটনাটা হচ্ছে, তাঁর প্রতি দেলের এমন অগাধ ভালোবাসার কথা কোনো না কোনোভাবে হলান্ডও জানতে পেরেছেন। তারপর সিটির সতীর্থ সাভিনিওর কাছ থেকে একটু তালিম নিয়ে হলান্ড ভাঙা ভাঙা পর্তুগিজে একটা ভিডিও বার্তাও পাঠালেন দেলকে। সেই বার্তায় বললেন, ‘দেল, ইতিহাদে খেলা দেখার জন্য তোমাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব–১৭ দলের হয়ে দারুণ খেলেন দেল
ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব–১৭ দলের হয়ে দারুণ খেলেন দেলদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

দেলের চোখেমুখে তখন রাজ্যের বিস্ময় আর আনন্দ। ফিরতি বার্তা পাঠালেন, ‘হলান্ড, তুমি ডাকলে আমি আসবই। তোমার গোল করা দেখতে আর তোমার কাছ থেকে শিখতে তর সইছে না।’ ভিডিওর শেষে হলান্ডের সেই বিখ্যাত ‘লোটাস’ বা পদ্মাসন ভঙ্গিটাও নকল করে দেখালেন দেল।

আরও অনেক ব্রাজিলিয়ানের মতো দেলের আসল নামটাও বড়সড়। ওয়েন্দেমন ওয়ান্দারলেই সান্তোস দি মেলো। ২০০৮ সালের জুনে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের সারজিপে রাজ্যে জন্ম তার। ঝোপঝাড়ে ঘেরা ধূসর প্রান্তরের এই এলাকাটি ব্রাজিলে ‘সেরতাও’ বা মরুভূমিসদৃশ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেই দেলের উঠে আসা, আর তাই ব্রাজিলের ফুটবলে তার নাম হয়ে গেছে ‘হলান্ড দো সেরতাও’ বা মরুভূমির হলান্ড।

ব্রাজিলের আধা পেশাদার লিগ থেকে উঠে এসে মাত্র ১২ বছর বয়সে দেল যোগ দেন বাহিয়া ক্লাবে। যে ক্লাব থেকে একসময় দানি আলভেসের মতো কিংবদন্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাহিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ৩৪ ম্যাচে ৪০ গোল করে হইচই ফেলে দেন তিনি। ইউরোপে তখন হলান্ডও গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করছিলেন। ব্রাজিলের ফুটবল হয়তো তখনই টের পেয়েছিল, তাদের দেশে নরওয়েজীয় গোলমেশিনের এক প্রতিচ্ছবি তৈরি হচ্ছে।

২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে দেল নিজেকে মেলে ধরলেন আরও দারুণভাবে। সেমিফাইনালে চিলির বিপক্ষে একমাত্র গোলটি তাঁরই। ফাইনালে স্বাগতিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিটাও নিলেন ঠান্ডা মাথায়। এই বয়সেই তাঁর স্নায়ু যেন ইস্পাত দিয়ে গড়া!

বাহিয়ার হয়ে সময়টাও মাঠে উপভোগ করলেন দেল
বাহিয়ার হয়ে সময়টাও মাঠে উপভোগ করলেন দেলদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

এরপর কাতার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। হন্ডুরাসের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে শুরু, এরপর জাম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক হেডে দলের মান বাঁচানো গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে যখন খেলা ১-১ সমতায়, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দেল দেখালেন তাঁর কারিশমা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে পাঠালেন শূন্য জালে। সত্যিকারের এক ‘নাম্বার নাইন’ গোল! যদিও সেমিফাইনাল আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিল টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়, কিন্তু টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে দেল তত দিনে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে দিয়েছেন।

কাতার থেকে ফিরে বাহিয়ার মূল দলে জায়গা করে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি দেলের। বাহিয়ার মূল দলের হয়ে ৯ ম্যাচে ৪ গোল করে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে বড় ভূমিকা রাখেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভিতোরিয়ার বিপক্ষে ডার্বিতে জয়সূচক গোলটিও তাঁর। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখতে হয়েছে দেলকে। সিরি-আ লিগে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের মুখে অনিচ্ছাকৃত আঘাত করে বসা—মাঠের আগ্রাসনটা বোধ হয় হলান্ডের চেয়ে একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল সেদিন!

দেল প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন তো
দেল প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন তোদেলের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

তবে এই হোঁচট হয়তো দেলকে থামাতে পারবে না। সামনেই কোপা লিবার্তোদোরেস, এরপর লিগের লম্বা মৌসুম। এর ফাঁকে সময় পেলে হয়তো হলান্ডের খেলা দেখতে ইতিহাদেও যাবেন। তবে তাঁর স্বপ্নটা এখন নিশ্চয়ই আরও বড় হয়েছে। শুধু ইতিহাদের গ্যালারিতে বসে হলান্ডের খেলা দেখা কেন, মাঠে হলান্ডের সতীর্থ হয়ে গোল উৎসব করতে পারলে মন্দ কী!

মরুভূমির হলান্ড এটুকু তো চাইতেই পারেন!

পাকিস্তানের প্রার্থনাই কাজে এল কি না কে জানে। ম্যাচটা নয়তো নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়ই ছিল প্রায় পুরো সময়। হঠাৎ উইল জ্যাকস এমন একটা ঝড় তুললেন, যা শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ভাগ্য।    

প্রেমাদাসায় ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে কারও ফিফটি ছাড়াও তাই ৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের এই জয় বিশ্বকাপে টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তানকেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলে তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ হবে, নয়তো শেষ চারে খেলবে নিউজিল্যান্ড।  

রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ৮ বলেই দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তবু তাদের পাওয়ার প্লে ভালো কাটে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের কল্যাণে। ৬ ওভারে তারা তোলে ৪৭ রান।

তখন ১৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রুক। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক ওভার পরই গ্লেন ফিলিপসের বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের রান তোলার গতিও ধীর হতে থাকে, তারা হারায় উইকেটও। শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৩ রানের সমীকরণ।

সেখান থেকে কাজটা কঠিনই মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের এক ওভার থেকেই জ্যাকস ও রেহান আহমেদ মিলে নেন ২২ রান। টানা তিন বলে বাউন্ডারি হাঁকান জ্যাকস। বাকি দুই ওভারে ২১ রান নেওয়ার কাজটা আর কঠিন হয়নি ইংল্যান্ডের জন্য। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ আর রেহান ৭ বলে অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান
ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান, এএফপি
 

ইংল্যান্ডের জন্য রান তাড়ার কাজটা আরেকটু কঠিন হতে পারত নিউজিল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করালে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তুলে ফেলার পর সেই সম্ভাবনা জেগেছিলও। কিন্তু পরে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা আর ওই গতি ধরে রাখতে পারেননি।

তা আসলে হতে দেননি ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। একে একে নিউজিল্যান্ডের ৭ ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরান তাঁরা। কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউ তাই ফিফটি পাননি, ২৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপসে ৩৯ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

শেষ পর্যন্ত তাদের রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য। তবু অবশ্য সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডেরই এখনো জোরালো। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলটির নেট রান রেট এখনো ইতিবাচক (+১.৩৯০)। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে পাকিস্তানের পয়েন্টও ৩ হবে। তবে তাদের রান রেট আপাতত নেতিবাচক (–০.৪৬১)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (ফিলিপস ৩৯, সাইফার্ট ৩৫; রশিদ ২/২৮, জ্যাকস ২/২৩)

ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (জ্যাকস ৩২*, রেহান ১৯*; রবীন্দ্র ৩/১৯, ফিলিপস ১/৪৩)

ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: উইল জ্যাকস

ভারতের সহজ জয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের জয়টাই প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ২৫৬ রান তোলার পর। জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংটা খারাপ করেনি। রান তাড়ায় তারা করেছে ১৮৪। এরপরও দলটি হেরেছে ৭২ রানে।

ভারতের জয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে জিম্বাবুয়ে। সেমিফাইনালে উঠে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

আর ১ মার্চের ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ পরিণত হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে যারা জিতবে তারাই এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাবে।

৯৭ রান করেছেন বেনেট
৯৭ রান করেছেন বেনেটএএফপি

দল হারলেও দারুণ পারফর্ম করেছেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বেনেটের রান এখন ২৭৭, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আউট হয়েছেন মাত্র এক ইনিংস, তাই বেনেটের গড়টাও—২৭৭।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ২৫৬/৪ (অভিষেক ৫৫, পান্ডিয়া ৫০*; রাজা ১/২৯, মুজারাবানি ১/৪৩)। জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৮৪/৬ (বেনেট ৯৭*, রাজা ৩১; অর্শদীপ ৩/২৪, অক্ষর ১/৩৫)। ফল: ভারত ৭২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: হার্দিক পান্ডিয়া

চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেও হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। দুই লেগের লড়াই ৫-৪ এর অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ঘরের মাঠে মোনাকোর সাথে খেলায় নাটক কম হয়নি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরা মোনাকো ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়।

মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখার পর মারকিনওস ও কাভারাস্কেইয়ার গোল পিএসজি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়।

শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বার্সেলোনা অথবা চেলসি। শুক্রবার ড্রতে জানা যাবে, পিএসজি কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে।

বড় ব্যবধানে হারল শ্রীলঙ্কা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানে হারল শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে দলটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা গুটিয়ে গেছে ১০৭ রানে। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা।

বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচেও একটা সময় এগিয়েই ছিল শ্রীলঙ্কা। ৮৪ রানেই নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিল তারা। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেছেন দুই অলরাউন্ডার ম্যাকনকি ও স্যান্টনার। ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েছেন এই দুজন।

৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র
৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র, এএফপি

ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্যান্টনার করেছেন ২৬ বলে ৪৭ রান। ২৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ম্যাকনকি।

রান তাড়ায় প্রথম বলেই উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকে ম্যাচের কোনো পর্যায়েই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র।

এই জয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে গতকাল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৮/৭ (স্যান্টনার ৪৭, রবীন্দ্র ৩২; তিকশানা ৩/৩০, চামিরা ৩/৩৮) শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১০৭/৮ (কামিন্দু ৩১, ভেল্লালাগে ২৯; রবীন্দ্র ৪/২৭, ফিলিপস ১/২১) ফল: নিউজিল্যান্ড ৬১ রানে জয়ী ম্যাচসেরা: রাচিন রবীন্দ্র

জমে উঠেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই। মাঠে চলছে ব্যাট-বলের খেলা, ড্রেসিংরুমে চলছে ক্যালকুলেটরের হিসাব। এরই মধ্যে গ্রুপ-২–এ টানা দুই জয় তুলে নিয়ে সবার আগে শেষ চারের টিকিট পকেটে পুরেছে ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকদের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে টিকে আছে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

অন্যদিকে গ্রুপ-১ এখনো বেশ উন্মুক্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জিম্বাবুয়ে—চার দলের সামনেই খোলা সেমিফাইনালের দরজা।

সুপার এইটে কোনো রিজার্ভ ডে নেই। ফলে বৃষ্টিতে কোনো ম্যাচ ভেসে গেলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হবে দুই দলকে। এই পর্বের প্রথম ম্যাচেই যেমন বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড।

ফলে শেষ পর্যন্ত একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে সুপার এইটে। তখন সেমিফাইনালে যাবে কোন দল? চলুন দেখা যাক টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনে কী বলা আছে।

সবার আগে শেষ চারের টিকিট পকেটে পুরেছে ইংল্যান্ড
সবার আগে শেষ চারের টিকিট পকেটে পুরেছে ইংল্যান্ড, এএফপি

সেমিফাইনালে যাবে কোন দল

১. পয়েন্ট:

প্রতিটি গ্রুপের চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দুই দল সেমিফাইনালে খেলবে।

২. জয়ের সংখ্যা:

যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, সে ক্ষেত্রে যে দল বেশি ম্যাচ জিতেছে, তারা ওপরে থাকবে।

৩. নেট রান রেট:

পয়েন্ট ও জয়—উভয়ই সমান হলে নেট রান রেটের মাধ্যমে অবস্থান নির্ধারিত হবে।

৪. মুখোমুখি লড়াই:

রান রেটেও যদি ফয়সালা না হয়, তবে দেখা হবে ওই দুই দলের নিজেদের মধ্যকার লড়াইয়ে কে জিতেছিল।

৫. আইসিসি র‍্যাঙ্কিং:

এরপরও যদি দলগুলোকে আলাদা করা না যায়, তাহলে দেখা হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আইসিসি টি-টুয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে কোন দল এগিয়ে ছিল।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার পুরস্কার পেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র‌্যাঙ্কিং তালিকায় টি-টুয়েন্টিতে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন রাজা।

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষস্থানে উঠে এলেন রাজা। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৯৪। সাইম আইয়ুবের রেটিং পয়েন্ট ২৮১। এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে ভারতের শিবম দুবে উঠে এসেছেন সাতে। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন আটে।

ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা
ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, এএফপি
 

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ইনিংসের দেখা পাননি ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হন। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রানে আউট হন। অভিষেক বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও এ সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন। ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ৬১ পয়েন্টের ব্যবধান।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এ পথ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন তৃতীয় অবস্থানে। তিন ধাপ এগিয়ে ভারতের ঈশান কিষান উঠে এসেছেন পাঁচে, ১০ ধাপ উন্নতি করে নয়ে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভাল্দ ব্রেভিস। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটে সেঞ্চুরি করে জেতানো ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১০ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ১৮তম অবস্থানে।

ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান
ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান, এএফপি
 

টি-টুয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের স্পিনার বরুন চক্রবর্তী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। সাতে উঠে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার ম্যাথু ফোর্ড উন্নতি করেছেন ২৩ ধাপ। ৭ ধাপ উন্নতি করে আটে ভারতের পেসার যশপ্রীত বুমরা। যৌথভাবে ২১তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুড়াকেশ মোতি উন্নতি করেছেন ১৭ ধাপ।

প্রথমবারের মতো নারী বিপিএল আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিন দলের এই টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ মার্চ। এরই মধ্যে স্থানীয় নারী ক্রিকেটারদের ক্যাটাগরি নির্ধারণের কাজ শুরু করেছেন নির্বাচকেরা।

ড্রাফটের জন্য স্থানীয় ক্রিকেটারদের মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি হিসেবে থাকবে ‘আইকন’, যেখানে জাতীয় দলের তিনজন তারকা ক্রিকেটারের একজন করে নেবে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা পাবেন ১০ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক।

আইকন হিসেবে অধিনায়ক নিগার সুলতানার থাকা প্রায় নিশ্চিত। তার সঙ্গে সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ও ব্যাটার সোবহানা মোস্তারিও বিবেচনায় আছেন।

স্থানীয়দের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন ৬ জন ক্রিকেটার। প্রতিটি দল এই ক্যাটাগরি থেকে দুজন করে খেলোয়াড় নেবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ১২ জন ক্রিকেটার পাবেন ৫ লাখ টাকা করে।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হবে প্রায় ২০ জন ক্রিকেটার, যাদের পারিশ্রমিক ৩ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে প্রথম ডাকে অবিক্রীত থাকা ক্রিকেটারদের আবার তোলা হবে ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে পারিশ্রমিক হবে দেড় লাখ টাকা। এখনো চূড়ান্ত হয়নি কারা কোন ক্যাটাগরিতে থাকবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ।

ড্রাফটের আগে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির সুযোগ পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আগ্রহ থাকলে তাদের ড্রাফটেও তোলা হতে পারে। বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে, এ ক্যাটাগরি: ৮ হাজার মার্কিন ডলার, বি ক্যাটাগরি: ৬ হাজার মার্কিন ডলার, সি ক্যাটাগরি: ৩ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রতিটি ম্যাচে একাদশে দুজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো বাধ্যতামূলক, আর স্কোয়াডে রাখতে হবে অন্তত চারজন বিদেশি খেলোয়াড়।

আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে নারী বিপিএলের ম্যাচগুলো। ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছাড়াও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু।

এদিকে তিন দলের এই টুর্নামেন্টের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা বিক্রির বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে বিসিবি। নারী বিপিএলে অংশ নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে ছেলেদের বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সত্ত্বাধিকারী নাবিল গ্রুপ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি টিভি স্বত্ব বিক্রি ও পৃষ্ঠপোষক খোঁজার কাজও শুরু করেছে বিসিবি।

বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২৬ নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে গ্রুপসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে নিগার সুলতানার দল। বাংলাদেশ খেলবে ১ নম্বর গ্রুপে। আইসিসি আজ বিশ্বকাপের গ্রুপিং ও সূচি ঘোষণা করেছে। ১২টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ২ নম্বর গ্রুপে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।

১২ জুন এজবাস্টনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের বিশ্বকাপের। দুই দিন পর এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন পাকিস্তান, ২৫ জুন ভারত ও ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে নিগার সুলতানার দল। এর মধ্যে শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে লর্ডসে।

এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা হবে বাংলাদেশ নারী দলের। বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানার তর সইছে না ইংল্যান্ডে খেলতে। আইসিসিকে বলেছেন, ‘আমরা আগে কখনো ইংল্যান্ডে খেলিনি, তাই একটু রোমাঞ্চিত। তবে জানি, বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। তবে এত বড় আসরে মাঠে নামার জন্য আমাদের তর সইছে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেব, সেরা ক্রিকেট খেলব এবং দেশের জন্য ম্যাচ জিতব।’

গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে চারটি দল খেলবে সেমিফাইনালে। ৩০ জুন ও ২ জুলাই ওভালে হবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ম্যাচ দুটি। ৫ জুলাই লর্ডসে হবে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল।

নারী টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ

তারিখ বিপক্ষে ভেন্যু সময়
১৪ জুন নেদারল্যান্ডস এজবাস্টন বেলা ৩-৩০ মি.
১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া হেডিংলি বেলা ৩-৩০ মি.
২০ জুন পাকিস্তান সাউদাম্পটন সন্ধ্যা ৭-৩০ মি.
২৫ জুন ভারত ওল্ড ট্রাফোর্ড সন্ধ্যা ৭-৩০ মি.
২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা লর্ডস বেলা ৩-৩০ মি.
 

‘ইশ্‌, ব্রুককে ফেরানো গেলেই…!’

পুরো ইনিংসজুড়ে পাকিস্তানের সমর্থকদের মনে হয়তো চাওয়া ছিল এমনই। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। ১৭তম ওভারে যতক্ষণে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ব্রুক বোল্ড হন, ততক্ষণে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন ব্রুক। ম্যাচ জেতাও প্রায় নিশ্চিত ইংল্যান্ডের।

সেই ‘প্রায়’ জয়টাও অবশ্য কিছুক্ষণের জন্য অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ব্রুক ফেরার পর ইংল্যান্ড ৫ রানের ব্যবধানেই যে হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। কিন্তু জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল আর কেবল ৪ রান। সালমান মির্জার শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে তা নিশ্চিত করে ফেলেন জফরা আর্চার।

তবে ইংল্যান্ডের এই জয় আসলে কাল প্রথমবার আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে তিনে ব্যাট করতে নামা ব্রুকের একারই এনে দেওয়া। কেন? ইংল্যান্ডের স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেও উত্তরটা পেয়ে যাওয়ার কথা। তিনি ছাড়া আর মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান পেয়েছেন। একজন ১৫ বলে ১৬ রান করা স্যাম কারেন, অন্যজন উইল জ্যাকস।

সেঞ্চুরির উদ্‌যাপন
সেঞ্চুরির উদ্‌যাপন, এএফপি

ব্রুকের জয়ে জ্যাকসের অবদানও অবশ্য কিছুটা আছে। ১০৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তাঁদের দুজনের ৩১ বলে ৫২ রানের জুটিতেই জয়ের পথে এগিয়েছে ইংল্যান্ড। ৫ বল আর ২ উইকেট হাতে রেখে পাওয়া সেই জয়ে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে ব্রুকের ইংল্যান্ড।

পাল্লেকেলের সুপার এইটের ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। পাঁচ ম্যাচ পর এই মাঠে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোনো অধিনায়ক। কিন্তু তাঁর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত আর ভালোর দিকে বদলে দিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা।

এক সাহিবজাদা ফারহান ছাড়া আর কেউই সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। বাকিদের মন্থর হওয়ার দিনে তাঁর হিসাবি ব্যাটিংই পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিল। ৪৫ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৩ রান করেছিলেন তিনি।

তাঁর বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ বল খেলেছিলেন বাবর আজম, তিনি করেছেন ২৫ রান। তাঁর এমন ব্যাটিংয়ে একটা ‘বাজে’ রেকর্ডও হয়েছে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্ট্রাইক রেট (১১১.৮) এখন তাঁর।

সাহিবজাদা ফারহান
সাহিবজাদা ফারহান, এএফপি
 

তবু এক বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ (১৯) ছক্কার রেকর্ড গড়া ফারহানের ফিফটি আর শেষ দিকে শাদাব খানের ১১ বলে ২৪ রানের ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে পাকিস্তান।

তাদের রান আরও বেশি বাড়তে না দেওয়ার বড় কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসনের—৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট পান এই বাঁহাতি স্পিনার। এই রান যথেষ্ট হয়েছে তাঁর দলকে সেমিফাইনালে তুলে দিতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ১৬৪/৯ ( ফারহান ৬৩, ফখর ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২)। ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০, উসমান ২/৩১)। ফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক

ভারতের সবচেয়ে বড় হার

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।

২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।

ভারত ১১১ রানে অলআউট, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী

৮৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারের ব্যবধান কমাতে ব্যাট চালিয়েছিলেন শিবম দুবে। কিছুটা সফলও হয়েছেন। তবে বেশি দূর দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। উনিশতম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি আউট হওয়ার পর পঞ্চম বলে বুমরার উইকেটটিও হারিয়েছে ভারত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কো ইয়ানসেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট ১১১ রানে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭৬ রানে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ ছিলো গ্রুপ-২ এর পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে ভেসে পরিত্যক্ত হয় সুপার এইটের এই ম্যাচটি। 

খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি কিছুটা থামলে টস হয়। টসে জিতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না থামায় ম্যাচটির ভাগ্য গড়ায় পরিত্যক্তর দিকে।

আইসিসি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের জন্য কোন রিজার্ভ ডে রাখেনি। ফলে ম্যাচটি অন্য দিনে মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই।

আইসিসির টি-টোয়েন্টি নিয়ম অনুযায়ী দু'দলের কমপক্ষে ৫ ওভার খেলার সুযোগ থাকলে ম্যাচটি মাঠে গড়াতো। সেটিও সম্ভব না হলে সুপার ওভার। কিন্তু বৃষ্টি বাঁধায় সুপার ওভারও সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে। 

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে দুইটি গ্রুপের প্রত্যেক দলই খেলবে ৩টি করে ম্যাচ।