হরমুজ প্রণালি দুই দিক থেকে অবরুদ্ধ হওয়া যুগান্তকারী ঘটনা, যার প্রভাব দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এটি দুর্ভোগ ডেকে আনছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্যও তা সংকট তৈরি করেছে।

বিষয়টি হলো, উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তেল বিক্রি করে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়েছে, কিন্তু এখন তাদের রপ্তানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিপরীতে, এই অঞ্চলের বাইরের জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য তা বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। বলে রাখা দরকার, তেল ও গ্যাস, অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি জ্বালানির সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এল পাইসের

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে তেল বিক্রি করতে পারছে। এই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এখন যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ করা প্রয়োজন, পৃথিবীতে বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদন প্রথম শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, সেই ১৮৫৯ সালে। পরবর্তী সময় তেল বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওপেকের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনও কমে যায়। কিন্তু এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দেশটি জ্বালানি ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার করেছে। সেই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল এখন তাদের হাতে। চলমান ইরান যুদ্ধের কল্যাণে তেল বাণিজ্যে তাদের এই আধিপত্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।

জিব্রাল্টার প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের পালে হাওয়া লেগেছে। ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহকারী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই প্রথম নিট অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে তারা উৎপাদনের কেবল একটি অংশ পরিবহন করতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইন বিশ্ববাজারে এক ব্যারেল তেলও বিক্রি করতে পারছে না। ফলে মার্কিন তেলের ক্রেতা পাওয়া এখন অনেক সহজ।

এল পায়াসের সংবাদে বলা হয়েছে, এশিয়া ও ইউরোপে মার্কিন তেলের রপ্তানি হঠাৎই অনেকটা বেড়ে গেছে। এই দুই মহাদেশ এখন পারস্য উপসাগরের বিকল্প খুঁজতে মরিয়া। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, ডিজেল ও কেরোসিনের চাহিদাও বেড়েছে, এসবের ঘাটতি এখন তীব্র। আর এ সবই বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপরেও পড়ছে। বিশ্বের অন্য দেশের মানুষের মতো তারাও এখন পেট্রলপাম্প থেকে গাড়িতে জ্বালানি ভরতে বা উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫০ ডলার, অর্থাৎ প্রতি লিটারে এক ইউরোর কিছু বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির তেল রপ্তানি দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, নতুন রেকর্ড। তেহরানে তারা যখন হামলা শুরু করল, তার আগের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। এরপরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এখন সেটি কার্যত পরিত্যক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি যুক্ত করলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, এটিও নতুন রেকর্ড। বিশেষ করে ইউরোপে ডিজেল রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় এই উল্লম্ফন। অথচ ২০১৪ সালের আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনো তেল রপ্তানিই করত না। এরপর ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির বিস্তার শুরু হয়। তখন বিশেষজ্ঞ মহলের বাইরের মানুষ এই প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানত না।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক আইরা জোসেফ এল পাইসকে বলেন, স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র যে লাভবান হচ্ছে, তা স্পষ্ট। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা কঠোর অবরোধের মুখে পড়েছে, ফলে তেলের দাম বেড়েছে। বিষয়টি মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারীদের জন্য বিশাল সৌভাগ্য।

তবে জোসেফ মনে করেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিস্তারের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবহন খাতে তেলের ব্যবহার কমে যাবে। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্যাটারির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কাতার কোণঠাসা

এদিকে গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। শিল্প ও গৃহস্থালির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এই গ্যাসের রপ্তানি বৃদ্ধির বড় কারণ, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতারের বাধ্য হয়ে পিছিয়ে পড়া। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশটি কার্যত রপ্তানি করতে পারছে না। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো এই পরিস্থিতির পুরো সুবিধা নিচ্ছে।

বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক কাতার যে শুধু রপ্তানি করতে পারছে না তা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় হামলা করেছে। এতে কাতারের ভবিষ্যৎ উৎপাদনসক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র রাস লাফান কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতার এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশটির রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারকই নয়; ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের রপ্তানিসক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। বিষয়টি হবে একধরনের জ্বালানি–বিপ্লব, এর প্রভাব অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই গভীর। অর্থনৈতিকভাবে মার্কিন শিল্প খাত বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম দামে প্রাকৃতিক গ্যাস পাচ্ছে। ভূরাজনৈতিকভাবে দেখলে, এ ঘটনায় তারা যে কৌশলগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেয়েছে, তা কল্পনাতীত।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের এই আমূল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে মূলত ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির কারণে। এই প্রক্রিয়ায় পানি, বালু ও রাসায়নিকের মিশ্রণ পাথরের স্তরে প্রবেশ করিয়ে শেল থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়।

ভবিষ্যতে মার্কিন এলএনজি রপ্তানি বাড়বে। কারণ হিসেবে এল পাইসের সংবাদে বলা হয়েছে, নতুন পাঁচটি বড় প্রকল্প চালু হবে, অর্থাৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। সমুদ্রপথের পাশাপাশি পাইপলাইনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে মেক্সিকোর সঙ্গে। মেক্সিকোও এখন এই প্রবণতা থেকে লাভবান হতে চায়।

মার্কিন প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটির নিট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি ১৮ শতাংশ বাড়বে। তবে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এবং কাতার আরও বেশি সময় কোণঠাসা থাকলে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে নিট রপ্তানি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারে পরাশক্তি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি তাঁর আছে প্রবল বিরূপ মনোভাব। সে কারণেই নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছেন, ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’— এখনকার যে ঘটনাপ্রবাহ, তার সঙ্গে এই স্লোগান সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর শূন্যতা পূরণে মার্কিন রপ্তানির এই উত্থান যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একটাই, ট্রাম্প-যুগের যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়; সে কথা যেমন ইউরোপের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি এশিয়ার জন্যও।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই পুরোদমে সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করে দিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)।

আজ রোববার শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশে সই করেছেন থালাপতি বিজয়। সেই অনুযায়ী, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তামিলনাড়ুর নতুন রাজ্য সরকার আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ বিনা মূল্যে দেবে।

সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করার আদেশ দিয়েছেন।

আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথ নেন নতুন সরকারের নয়জন মন্ত্রীও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।

তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে ছিল। এ কারণে গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি।

কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে ১২০ আসন নিশ্চিত করে জোট সরকার গড়েছে টিভিকে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন থালাপতি। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম কয়েকটি দল মিলে জোট সরকার গঠন করল।

হিন্দুস্তান টাইমস

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই চরম পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য। খরব প্রেস টিভির। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই কড়া বার্তা দেন। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে, তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বাহরাইনের মতো রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ; তাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না যাতে ইরান এটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। গত মাসেই একই ধরনের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তেহরানও ওই অঞ্চলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরান ইতোমধ্যেই তার শত্রু দেশগুলোর জন্য এই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে।

তেহরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন 'আইনি শাসন' চালুর পরিকল্পনা করছে ইরানের সংসদ। 

ইব্রাহিম আজিজি জানান, এই সংক্রান্ত একটি বিল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়া মাত্রই এটি স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হবে।

এদিকে ইরানের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত এই নতুন আইন অনুযায়ী ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী কোনো জাহাজকে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশের ক্ষেত্রেও একই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য দেশের জাহাজকে নির্দিষ্ট পরিমাণ 'টোল' বা মাশুল দিতে হবে। এই অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। এই হুঁশিয়ারির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মিয়ানমারের মোগোক অঞ্চল রত্নপাথরের জন্য আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এবার যা পাওয়া গেল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। দেশটির মান্দালয় অঞ্চলের সেই বিখ্যাত মোগোক উপত্যকায় পাওয়া গেছে ১১ হাজার ক্যারেটের বিশালাকৃতির একটি রুবি। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম রত্নপাথর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে। রঙের গুণমানের দিক থেকে এটি উচ্চমানের রত্ন হিসেবে স্বীকৃত।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার–এর একটি প্রতিবেদনে গত শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় দেখা গেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং তাঁর দপ্তরে বসে বিশাল এই পাথর খুঁটিয়ে দেখছেন। প্রায় ২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রত্নপাথরটিকে ‘ব্যতিক্রমী বড় ও বিরল’ বলে বর্ণনা করেছে জান্তা সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে। রঙের গুণমানের দিক থেকে এটি উচ্চমানের রত্ন হিসেবে স্বীকৃত। যদিও ১৯৯৬ সালে এ এলাকাতেই ২১ হাজার ৪৫০ ক্যারেটের আরও বড় একটি রুবি পাওয়া গিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পাওয়া পাথরটির স্বচ্ছতা ও রঙের গভীরতা আগেরটির চেয়ে অনেক বেশি। ফলে এর আর্থিক মূল্য হবে আকাশচুম্বী।

মোগোক উপত্যকার রুবিগুলো বিশ্বে ‘পিজিয়ন ব্লাড’ বা কবুতরের রক্তবর্ণের রুবি হিসেবে পরিচিত, যা রত্নবাজারে সবচেয়ে দামি। সম্রাট, রাজা থেকে শুরু করে যুদ্ধবাজ শাসকেরা যুগে যুগে এ উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছেন। কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মনীতি না থাকায় এসব খনির রত্ন অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে লাখো–কোটি ডলারে বিক্রি হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক জান্তার অধীনে থাকলেও, সম্প্রতি এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর মেয়াদের শুরুতেই এমন মহামূল্যবান রত্ন উদ্ধারকে দেশটির সরকারের জন্য বড় ধরনের ‘লটারি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এএফপি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রী বহনকারী একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ। এমভি হোন্ডিয়াস নামের প্রমোদতরিটি আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় এক মাস আগে যাত্রা শুরু করেছিল। হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ওই প্রমোদতরির তিনজন যাত্রী মারা গেছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এখন ওই প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে আর কেউ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ যাত্রীরা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইটে করে ফিরে গেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল শুক্রবার বলেছে, প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ছয়জনের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু (মৃত্যুহার ৩৮ শতাংশ) হয়েছে। ৮ মে পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফরাসি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, যাঁরা হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলোর সব কটিই ভাইরাসটির ‘আন্দেস’ ধরন। এ ধরনটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

অবশ্য স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই কম। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের আসলে এ ভাইরাস নিয়ে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?

এটি কোভিড নয়

বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ত্ববিদ মারিয়া ভ্যান কারকোভ আশ্বস্ত করে বলেন, এটি কোনো মহামারির সূচনাপর্ব নয়।

মারিয়া আরও বলেন, ‘এটি কোভিড নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়ায়।’

যদিও হামের মতো রোগগুলো খুব সহজে ও দ্রুত ছড়ায়, সে তুলনায় হান্টাভাইরাসের ‘আন্দেস ধরনটি’ ততটা সংক্রামক নয়। মানুষ থেকে মানুষে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কীভাবে শুরু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ায়। ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালার কণা মিশ্রিত বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

প্রমোদতরিটি দূরে বন্য প্রাণীর বসবাসের এলাকায় গিয়েছিল। তখন হয়তো কোনো যাত্রী ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন এবং জাহাজে উঠেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দেস ধরনের এই ভাইরাস আগের কিছু ঘটনায় খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়িয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এমভি হোন্ডিয়াসের ভেতরেও কিছু সংক্রমণ হয়তো মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আগের কিছু ঘটনার ভিত্তিতে দেখেছেন, খুব কাছাকাছি ও দীর্ঘ সময়ের সংস্পর্শে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের মধ্যে আন্দেস ধরনের হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিলাসবহুল প্রমোদতরিতেও অনেক সময় জায়গা সীমিত থাকে। যাত্রীদের অনেক সময় একই কেবিন ও ডাইনিং এলাকা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

কেউ যদি দীর্ঘ সময় খুব কাছাকাছি শারীরিক সংস্পর্শে থাকে, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

এমভি হোন্ডিয়াস প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের এক নারীও আছেন। গত ২৪ এপ্রিল এমভি হোন্ডিয়াস সেন্ট হেলেনা দ্বীপে পৌঁছালে তিনি জাহাজ থেকে নেমে যান। তিনি আগে তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই কেবিনে ছিলেন, যিনি ১১ এপ্রিল জাহাজের ভেতরেই মারা যান। তবে স্বামী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বলেছে, হান্টাভাইরাস সাধারণ সামাজিক মেলামেশা—যেমন বাইরে হাঁটা, দোকানে যাওয়া, কর্মস্থল বা স্কুলে যাওয়া–আসার মাধ্যমে ছড়ায় না।

হান্টাভাইরাসের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এক মাসের বেশি সময় পরেও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। জাহাজে, হাসপাতালে বা যাত্রীদের নেওয়া কোনো ফ্লাইটে থাকা মানুষ যদি সংক্রমণের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ইউকেএইচএসএ বলেছে, এমভি হোন্ডিয়াস থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের সব যাত্রীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫ দিন স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকতে বলা হবে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক রবিন মেই বলেন, এই প্রমোদতরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি ‘খুবই নগণ্য’ বা প্রায় নেই বললেই চলে।

আন্দেস ধরনের হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো হতে পারে। যেমন জ্বর, ক্লান্তি, শরীর ব্যথা। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। এই সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসহায়তা পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী দেওয়া হয়।

হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে (এইচপিএস) আক্রান্ত এক রোগীর যকৃতের টিস্যুর আণুবীক্ষণিক চিত্র
হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে (এইচপিএস) আক্রান্ত এক রোগীর যকৃতের টিস্যুর আণুবীক্ষণিক চিত্রছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা সংস্থার (ইউকেএইচএসএ) সংক্রমণ বিভাগের উপপরিচালক মীরা চাঁদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো খুবই কম। এ বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা জরুরি।’

এমভি হোন্ডিয়াসকে তিন দিন কেপভার্দের (পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের একটি দ্বীপপুঞ্জ) কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। এখন এটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের পথে আছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজে থাকা বাকি যাত্রী ও ক্রুরা নিজ নিজ দেশে উড়োজাহাজে করে ফিরবেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জাহাজে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

প্রমোদতরিতে থাকা যাত্রীদের জাহাজের ভেতরেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পুরো জাহাজটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।

ভ্রমণ সংস্থা ওশেনওয়াইড এক্সপিডিশনস গত বৃহস্পতিবার বলেছে, বর্তমানে জাহাজে থাকা কোনো যাত্রীর মধ্যেই কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। তারা আরও বলেছে, গত ২৪ এপ্রিল জাহাজটি সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নোঙর করেছিল। তখন যুক্তরাজ্যের সাতজন নাগরিকসহ ৩০ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমে গেছেন। তাঁদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বলেছে, সেন্ট হেলেনায় এমভি হোন্ডিয়াস থেকে নেমে যাওয়া যুক্তরাজ্যের দুই নাগরিক জোহানেসবার্গ থেকে ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তাঁরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দুজন এখন যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন এবং বর্তমানে তাঁদের কোনো উপসর্গ নেই।

ইউকেএইচএসএ আরও বলেছে, সেন্ট হেলেনায় নেমে যাওয়া যুক্তরাজ্যের অন্য পাঁচ নাগরিক এখনো দেশে ফেরেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ও অ্যারিজোনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, ওই প্রমোদতরি থেকে নেমে দেশে ফেরা তিনজন যাত্রীকে তাঁরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাঁদের কারও মধ্যেই এখন পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

এএফপি
বিবিসি

বাড়ি থেকে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়াতে বিশেষ আচার পালনের খবরে তদন্তে নেমে দীর্ঘ ৩৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি)। ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়া ফারজানা দোশু রাধানপুরী ওরফে শবনমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি বাড়ির ১৪ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল আমদাবাদের ভাটভা এলাকার কুতুবনগরের একটি বাড়ি থেকে ফারজানা ওরফে শবনমের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিবার তাদের বাড়িতে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়ানোর জন্য বিশেষ আচার পালন করছে, এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এরপর একটি পুরনো ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ২৯ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক দলের উপস্থিতিতে কুতুবনগরের ওই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে মানুষের হাড়, দাঁত ও চুল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পুলিশ মুম্বাই ও ধোলকা থেকে ফারজানার ভাই ও বোনকে খুঁজে বের করে। তাদের রক্তের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হাড়ের ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর গত ৮ মে ফরেনসিক বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি নিখোঁজ ফারজানারই দেহ। এরপরই পুলিশ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে।

পুলিশ এই ঘটনায় মোট চারজনকে অভিযুক্ত করেছে, তাদের মধ্যে দুইজন জীবিত এবং দুইজন মৃত। শামসুদ্দিন মুসাজি খেদাওয়ালা ও ইকবাল মুসাজি খেদাওয়ালা, এই দুই ভাই বর্তমানে জীবিত এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, আবদুল করিম ইয়াকুবজি জাওরাওয়ালা, যিনি অভিযুক্তদের বন্ধু বলে পরিচিত তিনি বর্তমানে মৃত। আরেকজনের নাম সালিয়া বিবি সামাতখান পাঠান, যিনি ওই বাড়ির মালিক তিনিও বর্তমানে মৃত।

তদন্তে জানা গেছে, সালিয়া বিবি মৃত্যুর আগে বাড়িটি দুই ভাগে ভাগ করে তার ছেলে ও মেয়েকে দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ফারজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিরে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি) জীবিত দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, আলামত নষ্ট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মৃতদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ রিপোর্ট দাখিল করা হবে জানিয়েছে ডিসিবি।

ওয়াশিংটন

ওয়াশিংটন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের পাঁচজন মন্ত্রীও।

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার বসেছিল শপথ অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা। তাঁরা হলেন—বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন।

ক্ষুদিরাম টুডু সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডাকে শপথ মঞ্চে দেখা গেছে।

শপথ অনুষ্ঠানের পুরোটাজুড়ে বাঙালি আবহ দেখা গেছে। আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী। বিশ্বকবির জন্মদিনে শপথ মঞ্চসহ পুরো ময়দানে বাজানো হয় রবীন্দ্রসংগীত। প্রধানমন্ত্রী মোদি মঞ্চে উঠেই কবিগুরুর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬
শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬, ছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে

ময়দানের ভিড়ে ছিল আদিবাসী, রায়বেশি, ছৌ নাচ। গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুর আর নাচে মাতিয়ে রাখেন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিল্পীরা। ছিল রসগোল্লা, লাড্ডু ও দইসহ বাংলার নানা মিষ্টিতে আপ্যায়ন। সঙ্গে ঝালমুড়ি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ।

আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি। দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ মে। তার বিদায়ের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানির নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টার পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এই পদে আছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারতের উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি। তারও আগে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন চিফ (জিওসি-ইন-সি) ছিলেন।

১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে পদাতিক রেজিমেন্ট 'দ্য গারওয়াল রাইফেলস'-এ কমিশন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এন এস রাজা সুব্রামানির সামরিক জীবন শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তার দীর্ঘ ৪১ বছরের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি দেশটির বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা, স্টাফ এবং প্রশিক্ষক পদেও নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষাগত জীবনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (আইএমএ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও পড়াশোনা করেছেন।

সুদীর্ঘ ও গৌরবময় পেশাগত জীবনে এন এস রাজা সুব্রামানি ৪টি বিশেষ পদক অর্জন করেছেন। পদকগুলো হলো—বিশিষ্ট সেবা পদক, সেনা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক।

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি। শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রীরা।

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার একটু পর রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে অভিবাদন জানান। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও এপিবি আনন্দের।

শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে
 

অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছাদ খোলা গাড়িতে মোদির পাশেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁরা তিনজন হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।

রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ দিনে শপথ মঞ্চে উঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

আগেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। শপথ মঞ্চে দেখা গেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান, জেপি নাড্ডাকে।

শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬।
শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬।ছবি: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকে
 

বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ।

আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সবগুলো জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তখন শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, ৯ মে ২০২৬ ছবি: এএনআই
 

তার আগে গতকালই কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ।

শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো হয়েছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলা হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে ইরানও বলেছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তাঁরা শুক্রবারের মধ্যে ইরানের জবাব পাওয়ার আশা করছেন। সেই জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’ যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর অর্থ হলো, এ অভিযান পরিচালনার জন্য দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।

হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকাতেও বিমান হামলা হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কেশম দ্বীপ, বন্দর খামির এবং সিরিক এলাকায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের একটি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হামলায় ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন এবং ৫ জন এখনো নিখোঁজ।

ইরানের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তাদের সেনারা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরান তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট নৌযান ব্যবহার করেছিল। তবে এসব হামলায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট ৭০টির বেশি জাহাজকে বাধা দিয়েছে। এসব বাণিজ্যিক জাহাজের মাধ্যমে ইরানের প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব ছিল, যার বাজারমূল্য ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ট্রাম্পের হুমকি ও বক্তব্য

সেন্টকমের অনুসরণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের হামলায় তাদের তিনটি ডেস্ট্রয়ার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী দ্রুত জবাব দিয়ে হামলাকারী নৌযান ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সহজে ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত আলোচনায় বসে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তেহরানের ভানাক স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালির ছবি রয়েছে
তেহরানের ভানাক স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালির ছবি রয়েছে, ছবি: রয়টার্স
 

যখনই কোনো ‘কূটনৈতিক সমাধান আলোচনার টেবিলে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘এটা কি কেবল চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল? নাকি কোনো ষড়যন্ত্রকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরেকটি জটিল সংকটে জড়িয়ে ফেলছে?’

প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার ইতালির রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবারের মধ্যে ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের জবাব পাবে বলে আশা করছে। যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা দেখব জবাবে কী আছে। আমাদের আশা, এতে এমন কিছু থাকবে, যা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে।
হরমুজ প্রণালিতে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা যেকোনো ‘আগ্রাসন ও দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাব দিতে প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ১৪ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তাদের অন্তত ১২ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, ইরানের আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলার সম্পদ মুক্ত করে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রাজনীতিবিশেষজ্ঞ নেগার মরতাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, সংঘাত শেষ হলে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবারও শুরু হচ্ছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্ট ফ্রিডম আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অভিযানের মাধ্যমে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনী।

গত সোমবার এ অভিযান শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পর স্থগিত করা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ চলবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এখন প্রজেক্ট ফ্রিডম আবার শুরুর পরিকল্পনা করছেন। কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এ সপ্তাহেই অভিযানটি আবার শুরু হতে পারে।

রয়টার্স এএফপি