মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল লোকসান কমাতে ভারতে আবারও বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।
আজ মঙ্গলবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি) পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারে ৯০ পয়সা করে বাড়িয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছিল, যা ছিল গত চার বছরের মধ্যে প্রথম মূল্যবৃদ্ধি। রাজ্যভেদে স্থানীয় করের ভিন্নতার কারণে তেলের চূড়ান্ত দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
আজ এই মূল্যবৃদ্ধির পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৬৪ রুপি এবং ডিজেল প্রতি লিটার ৯১ দশমিক ৫৮ রুপি।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ৩ রুপি দাম বাড়ানোর ফলে তেল কোম্পানিগুলোর দৈনিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি রুপি কমেছে। তবে এরপরও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), পেট্রল ও ডিজেল বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিক সম্মিলিত লোকসান প্রায় ৭৫০ কোটি রুপি। আজকের মূল্যবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও লোকসানের ধকল পুরোপুরি কাটছে না।
বাজার বিশ্লেষক ও ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক সেহুল ভাট বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে খুচরা মূল্যের ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় একবারে দাম না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানোর এই নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। এর ফলে এককালীন বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর এর চাপ থেকেই যাচ্ছে।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ রাধিকা রাও বলেন, ‘পেট্রল ও ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরাসরি মূল্যস্ফীতি ১৫ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। এর বাইরে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর একটি পরোক্ষ প্রভাবও পড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছর ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৭০ ডলারে বিক্রি হওয়া অপরিশোধিত তেল এ বছরের এপ্রিল মাসে গড়ে ১১৪ ডলারে পৌঁছায় এবং মে মাসে তা প্রায় ১০৭ ডলারে ওঠানামা করছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় চার বছর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে ওঠে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিলেন যে বর্তমান মূল্যস্তরে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনকারী সংস্থার সম্মিলিত লোকসান ১ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত মার্চে প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলে ১০ রুপি আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল, যার ফলে সরকারের মাসে প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপির রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি আমদানির ওপর চাপ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র:
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস