• Colors: Purple Color

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকারে গঠনের প্রক্রিয়া। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  

বিএনপি সরকারে কতজন মন্ত্রী থাকবেন এবং কে কোন দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলা হলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন দপ্তরে দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মন্ত্রিত্ব দিতে আগ্রহী দলটি।

এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পেতে চলেছেন, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।

বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন মুখ আসতে পারে।

তবে চূড়ান্তভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন, সে জন্য আরও দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশত্যাগ করেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (ইকে–৫৮৩) যোগে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন। তার সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজ আহমদ নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান ভোডাফোন জিংগো–তে সিনিয়র সফটওয়্যার সলিউশন আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠনের লক্ষ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়টি শূন্য হলে সে বছরের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ আহমদ। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে ‘পলিসি এডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়)’ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তার আকস্মিক দেশত্যাগকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামোও প্রায় চূড়ান্ত। এতে দলের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সংযোজন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি; এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন মন্ত্রীকেও এবারের মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে অতীতে যেসব মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ছিল এবং যেসব নেতার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে, তাদের নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখ, টেকনোক্র্যাট কোটায় চমক

মন্ত্রিপরিষদে একাধিক নতুন মুখ যুক্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি। এদের মধ্যে প্রায় সবাই অপেক্ষকৃত তরুণ বা কমবয়সী। এদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পাশাপাশি বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র (প্রতিমন্ত্রী) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটর সদস্য ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।

এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অথবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদকে আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে বিবেচনা করছে দলটি।

থাকবেন অভিজ্ঞরাও

বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ২০০১ সালে তিনি ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। যদিও তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে সেটি যেহেতু সময়সাপেক্ষ, তাই ততদিন হয়তো মন্ত্রিপরিষদেই রাখা হবে তাকে।

পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, মির্জা আব্বাসকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

আলোচনায় আরও যারা

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজ কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে আবদুস সালাম পিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে।

আলোচনায় আছেন সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

একইভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের নাম। এছাড়া বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, তাহসিনা রুশদীর লুনা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বঞ্চিত করা হচ্ছে না যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের

বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দমন-পীড়নের সময় সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করা দলগুলোকেও সুসময়ে বঞ্চিত করছে না বিএনপি। এ ব্যাপারে বিএনপি আগেই জানিয়েছিল যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে তারা। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা।

এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।

এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।

কে হবেন স্পিকার?

স্প্রিকার হিসেবে শোনা যাচ্ছে বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের নাম। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক স্প্রিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে।

সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথগ্রহণ করবেন। এরপর স্প্রিকার নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভায় কতজন থাকবেন বা সরকারের আকার ঠিক কতটা বড় বা ছোট হবে সেটি নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা। ওই দিন সকালে তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকার।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তবে, এরই মধ্যে এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক রহমানের দল বিএনপির নেতারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

কিন্তু, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি থাকায় নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারতে সফরে আসছেন ম্যাক্রোঁ এবং তার সফর শুরু হবে মুম্বাই থেকেই।

অবশ্য, মোদি না এলেও তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। খুব সম্ভবত উপ-রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় যেতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চায় না, যদিও সম্পর্ক তলানিতে নেমে যাওয়ায় তা পুনরায় পুনর্গঠন করা এখনও দিল্লির কাছে অগ্রাধিকার।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা কোন দফতর পাচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা। এই যখন অবস্থা, তখন ভোটে পরাজিত জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বললেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।

মূলত, ছায়া মন্ত্রিসভা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে বিরোধী দল থেকে একদল জ্যৈষ্ঠ সদস্য একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটি সরকারের মন্ত্রিসভার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এখানে, সরকারী মন্ত্রিসভার প্রতি সদস্যের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য থাকেন যিনি সরকারে থাকা মন্ত্রীর কাজকে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনে বিকল্প পথ তুলে ধরেন।

উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এর অস্তিত্ব রয়েছে যারা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেবল বিরোধী দল হয়েই সংসদে কথা বলেন না, সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে কিছুটা ছোট পরিসরে বিরোধী দলের একটা 'কেবিনেট প্ল্যাটফর্ম' রূপে কাজ করেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ ও জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। বাকিগুলোতে জিতেছে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য কিছু দলের প্রার্থীরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব