• Colors: Purple Color

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

আজ বুধবার বেলা দুইটায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী বা মেয়ের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষসহ সমাজে যাঁরা বেশি বাধা–বৈষম্য–লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নারী সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা–হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা নিয়ে যে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বসংস্থাটি সচেতন বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবন–সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মরত নারীরা জানাচ্ছেন, সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি ও ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে।

জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিশ্ব সংস্থাটির কার্যালয়। তারা আরও বলে, নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে জাতিসংঘ। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি–বৈষম্য–অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকারসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জাতিসংঘ বিশ্বাস করে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সব সময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করে এই বিশ্ব সংস্থাটি।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় বাসের চাপায় এক অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীর গ্রামীণ ব্যাংক রাস্তার মাথা নামের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইজিবাইকের চালকের নাম মো. তারেক (২১)। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বেলা একটার দিকে ইজিবাইক নিয়ে চালক মো. তারেক গ্রামীণ রাস্তা থেকে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী দ্রুতগামী পূরবী পরিবহনের একটি বাস তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের চালকের মৃত্যু হয় এবং ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

মালুমাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক তারেক নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইক পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাঁকে আটক করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বিকেলে বলেন, সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাঁকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।

এর আগে বেলা পৌনে একটার দিকে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।

পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তাঁর ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাঁকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাঁকে আটক করা হয়নি।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তাঁর (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) গুলিবিদ্ধ হওয়ার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন। নুরুল হক জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন এবং বর্তমানে নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

বিষয়টি নজরে আনা হলে নুরুল হক জানান, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেখেছেন। তবে বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে জড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা।

তবে নুরুল হকের অভিযোগ, তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের লোকজন। এতে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নুরুল হক দাবি করেন, হাসান মামুনের স্ত্রী প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছেন। এর ফলে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ফল পাচ্ছেন না বলে জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গতকাল রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বোনের বাসার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আজ বুধবার পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান নূর।

রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়, এ বিষয়টি স্বরণে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয় বরং দায়িত্ব। সবাই সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি। ব্যক্তিগত কষ্ট তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই ‘মহতী ব্যবস্থাকে’ সার্থক করে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে ভাষণে উল্লেখ করেছেন সিইসি। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। পরদিন শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে ইসি।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকায় আসা একাধিক বিদেশি সাংবাদিক। তাঁদের এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের শরিক দল অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচনের আগের দিন আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

বিবিসির একজন সাংবাদিক নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ দল কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না—এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর ছায়া পড়ছে কি না? বাংলাদেশে এমন মানুষ থাকতে পারেন, যাঁরা ওই দলকে সমর্থন করতে চান, কিন্তু আগামীকাল ব্যালট পেপারে তাঁদের সেই পছন্দ থাকবে না। নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন নয়—এ প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেড় দশক ধরে এই দেশ গণতান্ত্রিক ঘাটতির মধ্যে ছিল। এই সময়ে যাঁরা এখন ত্রিশের কোঠায়, তাঁরা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যাঁরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। সে কারণেই কিছু সত্তা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে এতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না—আপনারা আগামীকাল তা দেখবেন।’

সম্পূরক প্রশ্নে বিবিসির আরেক সাংবাদিক জানতে চান, তাহলে কি আপনি নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছেন? জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি বলছি, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের বিষয়। আমাদের জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।’

# আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার সম্ভাবনা দেখছে না ইসি
# নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সমান উৎসাহ রয়েছে। কিছুসংখ্যক মানুষ না-ও আসতে পারেন—এটি সব সময়ই ঘটে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষই ভোট দেবেন। আর যে দলের কথা বলছেন, তারা একা ছিল না—তাদের অন্য অংশীদাররা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সহিংসতার অভিযোগ আছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কি দুর্বল নয়—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আমি একটি পাল্টা প্রশ্ন করি—কেউ কাজ করছে কি না, তা কি সব সময় দৃশ্যমান হয়? আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন সব সময় ভালো—বাংলাদেশ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সফল নির্বাচন করেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে সরকারি প্রভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এটি অন্যতম সেরা পরিবেশ। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা সতর্ক। ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে—৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে, প্রথমবার ইউএভি, ড্রোন, বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ব্যবহার হচ্ছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর থেকে “অপারেশন ডেভিল হান্ট” শুরু হয়েছে; প্রায় ৯০০ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। সাধারণ কোনো হুমকি নেই। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘তবে আমরা এমন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিশেষ করে আজ রাতে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা সে বিষয়ে প্রস্তুত আছি। আর চরম পরিস্থিতিতে যদি কোনো কেন্দ্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে সেখানে ভোট নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সেদিনই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়াল। প্রতিটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকেল চারটার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে, শুধু সেগুলোই গণনা করা হবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা শুরু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই–তিন হাজার ভোট, দুই ধরনের ব্যালট—গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে।’

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) প্রশ্ন করা হয়েছিল আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কারাগারে। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরণতি তাঁকে ভাবায় কি না? সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি সে লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই কাজ করছি। আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব