• Colors: Purple Color

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর। তবে যেসব আসনে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোয় বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেসব আসনে ভোটের সমীকরণ নতুনভাবে গড়ে উঠছে। সারা দেশে এমন ৩০টির মতো আসন রয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, দলটি নির্বাচনে নেই। ফলে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের সমর্থন। ফলে এই আসনগুলোর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেতে নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

প্রথম আলোর বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর ও ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। কোথাও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও কবর জিয়ারত, আবার কোথাও নিরাপত্তা ও মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস—এসব কৌশল এখন নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, অনেকে কারাগারেও আছেন। অনেক এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিরা যেন নিরাপদে এলাকায় ফিরতে পারেন, সে ধরনের আশ্বাসও শোনা যাচ্ছে।

কোথাও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও কবর জিয়ারত, আবার কোথাও নিরাপত্তা ও মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস—এসব কৌশল এখন নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে।

মাদারীপুর: ভোটের নতুন হিসাব

মাদারীপুরের তিনটি আসনই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শাজাহান খান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় নূর-ই-আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) মতো প্রভাবশালী নেতারা এই জেলার রাজনীতিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। এবার এই জেলার আসনগুলোয় আওয়ামী লীগের ভোট পেতে বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নানা তৎপরতা চালিয়েছেন।

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন। ইলিয়াস আহমেদ হলেন লিটন চৌধুরীর বাবা। কবর জিয়ারতের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন নেতা প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান।

নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। যারা অপরাধ করেনি, তারা কেন পালিয়ে থাকবে?’

এই আসনে বিএনপির দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। যারা অপরাধ করেনি, তারা কেন পালিয়ে থাকবে?’

মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন সেখানকার বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। শাজাহান খান কারাগারে। তাঁর আত্মীয় ও অনুসারীরা গোপনে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে আলোচনা আছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পরিবার এই আসনের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে গোপনে সমর্থন করছেন বলেও আলোচনা আছে। নাছিম এখন আত্মগোপনে আছেন।

এ ছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীকে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

শরীয়তপুর: অবস্থান বদল

১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে গত দেড় মাসে এই জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

গত ৭ ডিসেম্বর সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও উত্তর তারাবনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মোল্যা সখিপুরের বিভিন্ন নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতা ফজলুর রহমান বলেন, দল থেকেও নির্বাচন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নেই। এলাকার শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

ইউনূছ আলী মোল্যা বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপিতে যোগদান ও প্রচারে অংশ নিয়েছি।’

গত ২৭ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গোসাইরহাট উপজেলার পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সঙ্গে সভা করেন। আওয়ামী লীগ নেতারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতা ফজলুর রহমান বলেন, দল থেকেও নির্বাচন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নেই। এলাকার শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ: প্রচেষ্টা থেমে নেই

গোপালগঞ্জকে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দুর্গ বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে জেলার তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। এই জেলায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।

তবে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিএনপি, খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানান চেষ্টা ও কৌশল অবলম্বন করছেন। কয়েকজন প্রার্থী টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি যাঁরা নিরীহ নিরপরাধ বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় আসামি হয়েছেন, তাঁদের মুক্ত করতে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে অনেক আওয়ামী লীগের নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা পালিয়েছে। কিন্তু অন্যদের আমি ফেলব কীভাবে?’

ফরিদপুর: পুরোনো ঘাঁটিতে নতুন বার্তা

ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ছিল। সম্প্রতি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপির প্রার্থীর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন। বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন, যাঁরা মামলার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়েছেন, তাঁরা ফিরে এলে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

ফরিদপুর-৪ আসনে অনেক আওয়ামী লীগের নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা পালিয়েছে। কিন্তু অন্যদের আমি ফেলব কীভাবে?’

বাগেরহাট ও ঠাকুরগাঁও: আশ্বাসের রাজনীতি

বাগেরহাটে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সভা-সমাবেশে বলেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না। ঠাকুরগাঁওয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তায় আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রার্থীরাই সংখ্যালঘুদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে সংখ্যালঘু ভোটারের আধিক্য রয়েছে। তাঁদের ভোট পেতে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই চেষ্টা করছে।

৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাশভাংগা কালীমন্দির চত্বরে বিএনপির মহাসচিব ও এই আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সবাইকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি, আপনাদের পাশে থাকব।’

এদিন কালীমন্দির চত্বরে হাজির হন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনিও বিপদে-আপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলছেন, হয়রানি এড়াতে তাঁরা বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

জামালপুর ও ময়মনসিংহ

জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। কেউ হয়রানির শিকার হবে না বলে আশ্বাস দেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক পদধারী নেতা প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন।

অন্যদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আফসার আলীকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে দলটির ভোট কীভাবে, কার দিকে এবং কতটা সরে যায়—তার ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করছে।

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলছেন, হয়রানি এড়াতে তাঁরা বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে দলটির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গড়াই তাঁর লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে দলটির ভোট কীভাবে, কার দিকে এবং কতটা সরে যায়—তার ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরিফুর রহমান বলেন, রুহুল কবির রিজভী জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এ কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে।

জানা গেছে, ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি।

আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন

জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, যে কোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

দেশব্যাপী বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি)। এ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে মাঠে থাকছে পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই, তবুও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের আশ্বস্ত করার কথা জানিয়ে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। পুলিশ আপনাদের পাশে রয়েছে।

কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা করছি না। সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে, পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ, নাগরিক পরিষেবা গ্রহণ এবং টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টিতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ও পারস্পরিক নেটওয়ার্ক জোরদারের লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপ ‘শুভেচ্ছা’ এবং যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়্যেব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই দুই ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংক্ষেপে প্ল্যাটফর্ম দুটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

‘শুভেচ্ছা’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই একশটিরও বেশি নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, উৎসব-উদযাপনের দিনসহ অন্যান্য সময়েও বাস, রেল ও বিমানযাত্রায় অনিয়ম রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম দুটি সফলভাবে চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকারের সব সেবা যেন ভোগান্তি ছাড়াই নাগরিকদের কাছে পৌঁছে যায় এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজ এই দুটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হলো। এটি কেবল একটি সূচনা। প্ল্যাটফর্ম দুটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে হবে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আশা করছি, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই দুটি উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেবে।

রাজধানীর ১৩টি আসনে ১৪শ' ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র আছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিটার্নিং অফিসার বলেন, এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। এছাড়া, অন্য কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই সিসিটিভির আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ন কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি আছে সরকারের।

এদিকে, ভোট গণনার সব কেন্দ্রেও থাকবে সিসিটিভি সুবিধা। কোনো কারণে বিদুৎ বিভ্রাট হলে আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব