• Colors: Purple Color

ঢাকা

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার পরই তাঁকে আটক করা হলো। ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলেরও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ রাতে বলেন, র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন বন্দরের কর্মচারীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দুজন। ইব্রাহিম খোকন ছাড়াও হুমায়ুন কবিরও এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করলেও পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা।

৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। পরে গত মঙ্গলবার লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরে আজ সোমবার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্কপের প্রতিবাদ

ইব্রাহিম খোকনকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর আজ আবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানিতে লিপ্ত হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকে সম্ভবত শেষ ব্রিফিং বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে আমরা সব সময়ই নিউজ যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সরকারের অবস্থা কী তা আমরা আপনাদের জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পেজে এমন কোনো নিউজ নেই, যেটা আমরা শেয়ার করিনি। পেজ ২০ কোটি বার ভিউ হয়েছে মিনিমাম, সবকিছু মিলিয়ে।

শফিকুল আলম বলেন, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সময় প্রেস কনফারেন্সের যত কোশ্চেন আপনাদের ছিল, সব কোশ্চেনই আমরা নিয়েছি।

এ সময় প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আশা করছি আমরা টেবিলের ওপারে আপনাদের সঙ্গেই থাকব।

আরেক সদস্য ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে বেশি ক্লোজ থেকেছি। সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নানা কারণে আমরা এক্সট্রা অর্ডিনারি অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। আমাদের কোনো আচরণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা সরি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) ১১–দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দেবেন, তবুও একটা ভোট চুরি হতে দেবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন।’

আজ সোমবার সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় জেলা শহরে জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীলনকশা কেউ যদি করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে।’

পঞ্চগড়ের জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, প্রতিটা জায়গায় তিন-চার-পাঁচজন করে নব্য স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে বলে জনসভায় অভিযোগ করেন সারজিস আলম। সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা দেখলাম, তাদের হাত দিয়ে পঞ্চগড়ে আবার চাঁদাবাজি হয়, মাদক ব্যবসা হয়, সিন্ডিকেট চলে, মামলা–বাণিজ্য চলে, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয়, বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়।’

সারজিস আরও বলেন, ‘আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশ আর চব্বিশের আগের বাংলাদেশকে আপনারা এক কাতার করে দেখবেন না। বিগত ষোলো-সতেরো বছরে এই বাংলাদেশে বাস্তববাদী রাজনীতি করার কোনো অভিজ্ঞতা আপনাদের নাই। এই কারণে ২০ বছর আগে আপনারা যেই ধরনের অপসংস্কৃতির নোংরা রাজনৈতিক কালচারের রাজনীতি করেছেন, আপনারা মনে করছেন এখনো সেই রাজনীতি করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন।’

বিএনপি নেতাদের ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, ‘তারা নাকি বলছেন, আমাদের বয়স তাদের সন্তানের চেয়ে কম, আমারা নাকি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত হইনি। আমি তাদের বলতে চাই, যাদের বয়স আমাদের বাবা-দাদাদের সমান, যারা তাদের নেতা, তারা বাংলাদেশকে মুক্ত করার সময়, এই অভ্যুত্থানের সময় কোথায় লুকিয়ে ছিল। তাদের চেহারাগুলো তো পঞ্চগড়ে দেখা যায় নাই, তাদের চেহারাগুলো তো ঢাকায় দেখা যায় নাই। গর্তের মধ্যে ঢুকে, রুমের মধ্যে ঢুকে নেতাগিরি করার দিন শেষ হয়ে গেছে বাছাধন।’

নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়ের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সারজিস আলম পঞ্চগড় পৌরসভাকে সবচেয়ে উন্নত মানের পৌরসভা, পঞ্চগড়ে আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু করা, বন্ধ চিনিকল চালু করা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, নদী সুরক্ষা বাঁধ তৈরি, মাদকমুক্ত পঞ্চগড় প্রতিষ্ঠা, পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পঞ্চগড়ের অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সেই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এবং পঞ্চগড়কে চোর–বাটপার–চাঁদাবাজমুক্ত পঞ্চগড় গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বিজয়ী হলে বিএনপির পরাজিত নিরপরাধ নেতা–কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মানের সাথে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সারজিস।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি আজ শেষ হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো—

আমি আমার দায়িত্ব পালনকালে এটাও জানতে পারি যে মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ছত্রচ্ছায়ার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর কিছু ব্যক্তি নিয়মিত ডিজিএফআইয়ের অফিস ভিজিট করে এবং সেখানে যে সাতটি মিটিং রুম ছিল, তার একটিতে তাদের কাজ করতে দেওয়া হতো। তারা বিভিন্ন সময়ে কিছু ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে তার তালিকা ডিজিএফআইয়ের কাছে দিত। এ লিস্টের ওপর ডিজিএফআই কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

সেনাপ্রধানের তথ্য পাওয়ার জন্য অনেক সূত্র রয়েছে। তার অধীনে আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট এবং ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স নামে দুটি ব্যক্তি/সংস্থা রয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাবের অফিসার এবং অন্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপের মাধ্যমে আমি অনেক তথ্য জানতে পারতাম। আমি এসব তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি যে আমাদের সেনাবাহিনীর জুনিয়র অফিসারদের মিসগাইড করা হচ্ছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি তিনটি ঘটনা উল্লেখ করব।

একজন কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন। র‍্যাব থেকে যারা ফিরে আসত তাদের আমি প্রথম প্রশ্ন করতাম যে তারা কতজন মানুষ হত্যা করেছে? এই অফিসারকে আমি একই প্রশ্ন করেছিলাম। সে উত্তরে বলল, ছয়জন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ছয়জনকে কি তুমি সরাসরি হত্যা করেছ? উত্তরে সে বলল, দুইজনকে সে সরাসরি হত্যা করেছে এবং বাকি চারজনকে হত্যার সময় সে সেখানে উপস্থিত ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, প্রতি হত্যার জন্য কত টাকা করে পেয়েছ? উত্তরে সে বলল, ১০ হাজার। আমি জিজ্ঞাসা করলাম টাকা নিয়ে কী করেছ? উত্তরে সে বলল, টাকাগুলো সে গ্রামের মসজিদে অনুদান হিসেবে দিয়েছে। আমি অনুধাবন করতে পারলাম যে এই কাজগুলো সে ইচ্ছার বিরুদ্ধে করেছে এবং অপরাধবোধ থেকে সে টাকাগুলো মসজিদে দান করেছে।

দ্বিতীয় ঘটনাতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার অফিসে আসেন। আমি তাকেও জিজ্ঞাসা করি কয়জনকে হত্যা করেছ? সে বলল, ছয়জন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন করেছ? উত্তরে সে বলল, ঊর্ধ্বতন অফিসারের আদেশ পালন করেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তোমার ঊর্ধ্বতন অফিসার কি না? সে বলল, ‘হ্যাঁ’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি আমার হাগু তোমাকে খেতে বলি খাবে কি না? সে বলল, ‘না’। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা এবং হাগু খাওয়ার মধ্যে কোনটা নিকৃষ্ট? সে বলল, নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা। আমি তাকে বললাম, তাহলে কেন করেছ? উত্তরে সে নিশ্চুপ থেকেছে।

তৃতীয় ঘটনাতে একজন মেজর, যে আগে আমার সাথে চাকরি করেছে। র‍্যাবে পোস্টিং হওয়ার কিছুদিন পর সে আমার সাথে সেনা ভবনে দেখা করে। তার আগের একটি ঘটনা আমার কর্ণপাত হওয়ার কারণে আমি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। ঘটনাটি ছিল হোটেল র‌্যাডিসনে চাকরিরত একটি মেয়েকে কিছু দুর্বৃত্ত রাতে বাড়ি ফেরার সময় ধর্ষণ ও হত্যা করে। র‍্যাব, যার মধ্যে ওই মেজরও ছিল, সে ব্যক্তিদের হত্যা করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি তুমি আইন নিজের হাতে কেন তুলে নিয়েছ? সে বলল, এই ব্যক্তিগুলো সমাজবিরোধী ব্যক্তি এবং তাদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি তাকে বললাম, তুমি যে আইন ভঙ্গ করে তাদের হত্যা করেছ, তুমিও তো সমাজবিরোধী ব্যক্তি। সে এরপর নিশ্চুপ হয়ে যায়। পরে আমি তাকে প্রতিজ্ঞা করাই, সে র‍্যাবে আর এই ধরনের কাজ করবে না। কিন্তু হতাশার সাথে দেখি কিছুদিন পর সে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে, যেখানে দেখা যায় যে শাপলা চত্বরের ধোঁয়াটে পটভূমিতে সে এবং কর্নেল জিয়া একে অপরের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। অসংখ্য ইন্টারভিউয়ের মধ্যে এগুলো ছিল অল্প কয়েকটি উদাহরণ।

শাপলা চত্বরের ঘটনাটি আমরা সবাই জানি। তবে সাল ও তারিখ মনে নেই। ওই দিন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলম, এটা তার পটভূমিতে তোলা ছবি।

আমি শুনেছি র‍্যাব যাদের হত্যা করত, তাদের পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে ইট–পাথর বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দিত।

র‍্যাবের এসব কর্মকাণ্ড দেখে আমি বিভিন্ন ডিভিশন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ভিজিট করতে থাকি এবং অফিসারদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে মোটিভেট করতে শুরু করি। একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যত কমান্ডিং অফিসার আছে, তাদের ঢাকায় এনে জুনিয়র অফিসারদের প্রতি তাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করি। তাদের স্মরণ করিয়ে দিই শেখ মুজিব এবং জিয়া হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে অনেক অফিসারের ফাঁসি হয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আরও কিছু সামরিক অফিসার ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে হাজতবাস করছে।

এত কিছুর পরও যখন বুঝতে পারি, ক্রসফায়ার থামছে না, তখন আমি ডিজিএফআই, বিজিবি এবং র‍্যাব থেকে অফিসার নিয়ে আসা এবং পোস্টিং করা বন্ধ করে দিই। আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেন যে আমি যা করছি তা বিদ্রোহের শামিল। আমার উত্তর একটাই ছিল যে হাশরের ময়দানে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। পোস্টিং বন্ধ করার প্রতিক্রিয়াও ছিল মারাত্মক। আমি প্রতিনিয়ত অফিসার পোস্টিং করার জন্য এমএসপিএমের কাছ থেকে টেলিফোন পেতে থাকি। একসময় র‍্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ আমার অফিসে আসেন এবং র‍্যাবে অফিসার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। আমি তাঁকে কোনো কথা দিইনি। চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশদের সাথে বৈঠককালে আমাকে ডেকে নেন এবং র‍্যাবে অফিসার দিতে বলেন। অফিসারের স্বল্পতার কারণে র‍্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর গ্রহণের আগপর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত ছিল। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।

র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু না করতে পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সুযোগ এসেছে, সেই করতে না পারার কাজটি সম্পন্ন করার। অনেকেই ভাবছেন, আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ ব্যাপারে আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমরা যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করি না কেন সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে। আমাদের উচিত হবে না আমাদের আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে, তা কোনো অবস্থাতেই হেলায় হারানো। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন হবে না, বরং সেনাবাহিনী গৌরবের উচ্চ শিখরে আসীন হবে। পুরো জাতি জানবে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং সম্মানের সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবৃত্তি দূর হবে। আমি চাই র‍্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার এবং সেটি সম্ভব না হলে সামরিক সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমি আরও চাই ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক। কারণ, এই সংস্থাটি আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পরে টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই আমার জবানবন্দি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময় ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসতে পারেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় পল কাপুরের পরিকল্পিত সফরের প্রসঙ্গটি তোলেন। আগামী ৬ থেকে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পল কাপুর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেন। পরে ট্রাম্পের এই মনোনয়ন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে অনুমোদন পায়। গত অক্টোবরে পল কাপুরের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

গত বছরের জুন মাসে সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শুনানিতে পল কাপুর বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি বৃহত্তর। মনোনয়ন নিশ্চিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন।

পল কাপুরের মতো ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনও তাঁর নিয়োগ নিয়ে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে চীনের প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা বলেছিলেন। আর গত মাসে ঢাকায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। এ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততার বিষয়ে ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সিনেটে ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ পাস আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) ঘোষণার পর চীনের সঙ্গে দেশটির দ্বৈরথের বিষয়টি বেশ স্পস্ট। ফলে নির্বাচনের পর পল কাপুর ঢাকায় এলে নতুন সরকারের কাছে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন নিয়ে অবস্থান বেশ খোলামেলাভাবেই তুলে ধরবেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প অভিবাসননীতি নিয়ে যা বলতেন, ভিসা বন্ডের মতো নানা পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। ফলে চীন নিয়ে কঠোর অবস্থানেই থাকবেন ট্রাম্প।

পল কাপুর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন।

২০২০-২১ সালে পল কাপুর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন।

এই দায়িত্ব পাওয়ার আগে পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজ থেকে স্নাতক করেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে করেন পিএইচডি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব